রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির ‘শোন অ্যারেস্ট’ নির্দেশনা প্রত্যাহার

আপডেট : ০৪ মে ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম

জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অন্য মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) বিতর্কিত নির্দেশনা আইনি নোটিশের মুখে প্রত্যাহার করেছেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পক্ষ থেকে পাঠানো আইনি নোটিশে বলা হয়, “এ ধরনের নির্দেশনা সংবিধান, মানবাধিকার এবং প্রচলিত ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার পরিপন্থি। আসক-এর পক্ষে নোটিশ পাঠান অ্যাডভোকেট সৈয়দা নাসরিন ও অ্যাডভোকেট শাহীনুজ্জামান।

এ বিষয়ে সোমবার হাইকোর্টে আইনজীবী শাহীনুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, “শোন অ্যারেস্টের বিষয়টি পুরোপুরি আইনের ব্যত্যয় করে করা হচ্ছিল। এটি সংবিধান ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। একজন ব্যক্তি আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর সেই আইনি সুরক্ষা ভোগ করতে পারছেন না, যা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি।”

তিনি আরও বলেন, হাইকোর্টের জামিন আদেশকে কার্যত অকার্যকর করে দেওয়া হলে বিচার বিভাগের মর্যাদা ও নাগরিকের ন্যায়বিচারের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়। তার ভাষ্য, রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির নির্দেশনা প্রত্যাহার আইনের প্রতি শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।

মানবাধিকারকর্মী আবু আহমেদ ফয়জুল কবিরের ভাষ্যমতে, “জামিন কোনো দয়া নয়, এটি স্বীকৃত আইনি অধিকার। প্রশাসনিক কৌশলে সেই অধিকার খর্ব করার চেষ্টা ক্ষমতার অপব্যবহার ছাড়া কিছু নয়।”

তিনি আলাপ-কে বলেন, “এ ধরনের পদক্ষেপ বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা দুর্বল করে এবং রাষ্ট্রের ক্ষমতা প্রয়োগের সীমারেখা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে।”

তার মতে, নির্দেশনা প্রত্যাহার ইতিবাচক হলেও এটি একই সঙ্গে সতর্কবার্তা আইনশৃঙ্খলার নামে নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব করা যাবে না।

গত ২৪এ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক ‘বিশেষ নির্দেশনায়’ রাজশাহী রেঞ্জের আওতাধীন আট জেলার পুলিশ সুপারদের বলা হয়েছিল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও স্থগিত ‘ফ্যাসিস্ট’ সংগঠনের যেসব নেতা-কর্মী জামিনে মুক্তি পেয়ে দলকে পুনর্গঠনে সক্রিয় হতে পারেন, তাদের জামিনের পর অন্য মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখাতে হবে। তবে যাদের ক্ষেত্রে এমন আশঙ্কা নেই, তাদের বিরুদ্ধে আপাতত এ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়।

এই নির্দেশনা পাঠানো হয় রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে।

সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়ে পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছিল, নির্দেশনা প্রত্যাহার না হলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে। পরে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা প্রত্যাহার হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে রিটের প্রয়োজন পড়েনি বলে জানিয়েছে আসক।