ষোলো মাসে চার বার হামলার শিকার ধানমন্ডি ৩২এর বাড়ি
৫ই অগাষ্টের পর থেকে বাংলাদেশে যেকোনও ধরনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হলেই আলোচনায় উঠে আসে ধানমন্ডি ৩২। বিক্ষুব্ধ জনতা বুলডজার নিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে যায় অথবা অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে ধানমন্ডি ৩২এ।
আলাপ রিপোর্ট
প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:১৩ পিএমআপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:১৩ পিএম
আরও একবার হামলা ও ভাঙচুরের শিকার হলো ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার সড়কে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর যেটি একসময় ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবন।
এই নিয়ে চারবার হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হল ভবনটিতে। যদিও ভাঙচুর চালানোর মতো খুব বেশি কিছু আর অবশিষ্ট ছিল না।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয় এই ভাঙচুর। শুক্রবার সকালে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায় কিছু বিক্ষুব্ধ মানুষ বড় বড় হাতুড়ি নিয়ে ধ্বসে পড়া দেয়ালগুলোতে সমানে আঘাত করছে।
এবার এই ভবনটিতে হামলা করা হয় ওসমান হাদির মৃত্যুতে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ মিছিল নিয়ে রওনা হয় কারওয়ান বাজারের দিকে। সেখানে তারা প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার পত্রিকার কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ চালায়।
একই সময়ে আরেকটি দল স্লোগান দিতে দিতে ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানেও তারা ভাঙচুর চালায় ও অগ্নিসংযোগ করে।
৫ই অগাষ্টের পর থেকে বাংলাদেশে যেকোনও ধরনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হলেই আলোচনায় উঠে আসে ধানমন্ডি ৩২। বিক্ষুব্ধ জনতা বুলডজার নিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে যায় অথবা অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে ধানমন্ডি ৩২এ। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ষোলো মাসে এই নিয়ে চারবার হামলার লক্ষ্যে পরিণত হলো ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারের এই ভবনটি।
উপর্যুপরি হামলায় ভবনটির খুব বেশি কিছু আর এখন অবশিষ্ট নেই।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্যারিস প্রবাসী বাংলাদেশি ভ্লগার পিনাকী ভট্টাচার্য ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন,
“ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারের সিঁড়িটা খেয়াল রাখবেন। ওইটা থেকে গেলে মন্দির বানাবে। খেয়াল রাইখেন”।
এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গত জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অনেক মব আক্রমণ উসকে দেয়ার অভিযোগ আছে।
যেবার বুলডজার নিয়ে ৩২ নাম্বারের বাড়ি ভাঙতে গিয়েছিল উত্তেজিত জনতা সেবারও ফেইসবুকে টানা উৎসাহমূলক স্ট্যাটাস দিতে দেখা গেছে পিনাকী ভট্টাচার্যকে।
প্রথমবার ৫ই অগাষ্ট ২০২৪
৫ই অগাষ্ট ২০২৪ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উৎসুক জনগোষ্ঠী বিকালের দিকে ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারে অগ্রসর হয়। সেখানে তারা শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এবং ধানমন্ডি ৩ নাম্বারে দলটির সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়।
দ্বিতীয়বার ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ছয় মাস পর ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারে শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে দ্বিতীয়বার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বুলডজার দিয়ে ভবনটির একাংশ ভেঙে দেওয়া হয় সেদিন।
পাশাপাশি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে নারীসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করা হয়।
৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০২৫ আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজে জানানো হয়, রাত ৯টায় এক লাইভে শেখ হাসিনা ছাত্রদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন।
একই সময়ে কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারের বাড়িকে ঘিরে কর্মসূচির তথ্যও ছড়ায়। এতে ছাত্র-জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে সেখানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়।
ওই সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক পতনের পর ভারতে অবস্থানরত অবস্থায় শেখ হাসিনার কিছু উস্কানিমূলক মন্তব্য জনমানসে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং ধানমন্ডি ৩২-এর ভাঙচুরে তা একটি প্ররোচণা হিসাবে কাজ করে”।
তৃতীয়বার ১৭ই নভেম্বর ২০২৫
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হয় ১৭ই নভেম্বর ২০২৫।
রায় ঘোষণার পর ছাত্রজনতার মধ্যে মিছিল-স্লোগানে তৈরি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি।
মিছিল নিয়ে ছাত্রজনতা ধানমন্ডি ৩২ এর দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে পুলিশের সাথে ছাত্রজনতার সংঘর্ষ হয়।
বিক্ষুব্ধ জনগোষ্ঠী এরপর আবার হামলা চালায় ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারে।
চতুর্থবার ১৮ই ডিসেম্বর ২০২৫
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ওসমান হাদির মৃত্যুর সংবাদে সারা দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজমান।
হাদির মৃত্যুর খবর আসার পরপরই বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একদল রাত একটার পর হামলা ও অগ্নিসংযোগ চালায় ধানমন্ডি ৩২এ।
ষোলো মাসে চার বার হামলার শিকার ধানমন্ডি ৩২এর বাড়ি
৫ই অগাষ্টের পর থেকে বাংলাদেশে যেকোনও ধরনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হলেই আলোচনায় উঠে আসে ধানমন্ডি ৩২। বিক্ষুব্ধ জনতা বুলডজার নিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে যায় অথবা অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে ধানমন্ডি ৩২এ।
আরও একবার হামলা ও ভাঙচুরের শিকার হলো ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার সড়কে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর যেটি একসময় ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবন।
এই নিয়ে চারবার হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হল ভবনটিতে। যদিও ভাঙচুর চালানোর মতো খুব বেশি কিছু আর অবশিষ্ট ছিল না।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয় এই ভাঙচুর। শুক্রবার সকালে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায় কিছু বিক্ষুব্ধ মানুষ বড় বড় হাতুড়ি নিয়ে ধ্বসে পড়া দেয়ালগুলোতে সমানে আঘাত করছে।
এবার এই ভবনটিতে হামলা করা হয় ওসমান হাদির মৃত্যুতে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ মিছিল নিয়ে রওনা হয় কারওয়ান বাজারের দিকে। সেখানে তারা প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার পত্রিকার কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ চালায়।
একই সময়ে আরেকটি দল স্লোগান দিতে দিতে ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানেও তারা ভাঙচুর চালায় ও অগ্নিসংযোগ করে।
৫ই অগাষ্টের পর থেকে বাংলাদেশে যেকোনও ধরনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হলেই আলোচনায় উঠে আসে ধানমন্ডি ৩২। বিক্ষুব্ধ জনতা বুলডজার নিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে যায় অথবা অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে ধানমন্ডি ৩২এ। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ষোলো মাসে এই নিয়ে চারবার হামলার লক্ষ্যে পরিণত হলো ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারের এই ভবনটি।
উপর্যুপরি হামলায় ভবনটির খুব বেশি কিছু আর এখন অবশিষ্ট নেই।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্যারিস প্রবাসী বাংলাদেশি ভ্লগার পিনাকী ভট্টাচার্য ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন,
“ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারের সিঁড়িটা খেয়াল রাখবেন। ওইটা থেকে গেলে মন্দির বানাবে। খেয়াল রাইখেন”।
এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গত জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অনেক মব আক্রমণ উসকে দেয়ার অভিযোগ আছে।
যেবার বুলডজার নিয়ে ৩২ নাম্বারের বাড়ি ভাঙতে গিয়েছিল উত্তেজিত জনতা সেবারও ফেইসবুকে টানা উৎসাহমূলক স্ট্যাটাস দিতে দেখা গেছে পিনাকী ভট্টাচার্যকে।
প্রথমবার ৫ই অগাষ্ট ২০২৪
৫ই অগাষ্ট ২০২৪ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উৎসুক জনগোষ্ঠী বিকালের দিকে ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারে অগ্রসর হয়। সেখানে তারা শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এবং ধানমন্ডি ৩ নাম্বারে দলটির সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়।
দ্বিতীয়বার ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ছয় মাস পর ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারে শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে দ্বিতীয়বার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বুলডজার দিয়ে ভবনটির একাংশ ভেঙে দেওয়া হয় সেদিন।
পাশাপাশি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে নারীসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করা হয়।
৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০২৫ আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজে জানানো হয়, রাত ৯টায় এক লাইভে শেখ হাসিনা ছাত্রদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন।
একই সময়ে কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারের বাড়িকে ঘিরে কর্মসূচির তথ্যও ছড়ায়। এতে ছাত্র-জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে সেখানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়।
ওই সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক পতনের পর ভারতে অবস্থানরত অবস্থায় শেখ হাসিনার কিছু উস্কানিমূলক মন্তব্য জনমানসে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং ধানমন্ডি ৩২-এর ভাঙচুরে তা একটি প্ররোচণা হিসাবে কাজ করে”।
তৃতীয়বার ১৭ই নভেম্বর ২০২৫
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হয় ১৭ই নভেম্বর ২০২৫।
রায় ঘোষণার পর ছাত্রজনতার মধ্যে মিছিল-স্লোগানে তৈরি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি।
মিছিল নিয়ে ছাত্রজনতা ধানমন্ডি ৩২ এর দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে পুলিশের সাথে ছাত্রজনতার সংঘর্ষ হয়।
বিক্ষুব্ধ জনগোষ্ঠী এরপর আবার হামলা চালায় ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারে।
চতুর্থবার ১৮ই ডিসেম্বর ২০২৫
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ওসমান হাদির মৃত্যুর সংবাদে সারা দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজমান।
হাদির মৃত্যুর খবর আসার পরপরই বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একদল রাত একটার পর হামলা ও অগ্নিসংযোগ চালায় ধানমন্ডি ৩২এ।