আইএমএফের ঋণ না এলে অন্য দাতাদের ঋণ পাওয়াও কি কঠিন হবে
আইএমএফের ঋণ অনিশ্চয়তায় পড়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শুধু ডলারের সংকট নয়, আস্থার সংকটও ঘনীভূত হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ঋণ কর্মসূচি ভেস্তে গেলে বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও অন্যান্য দাতা সংস্থার বাজেট সহায়তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, যা বাড়তি আমদানি ব্যয় ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে সরকারকে আরও চাপে ফেলবে।
মেরাজ মেভিজ
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএমআপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
আইএমএফের ঋণ না এলে চাপে পড়তে হবে বাংলাদেশকে
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান ঋণ কর্মসূচির আওতায় ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ১৮৬ কোটি ডলার পাওয়ার কথা থাকলেও ‘সংস্কার কর্মসূচির’ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারার কারণে বাংলাদেশের সেই ঋণ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকার যখন বৈদেশিক ঋণের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে, তখন আইএমএফের কিস্তি অর্থনীতির লাইফলাইন হতে পারত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কিন্তু অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় এবং অতিরিক্ত দামে জ্বালানি কিনতে গিয়ে রিজার্ভ হারানোর শঙ্কায় পড়েছে দেশের পুরো অর্থনীতি।
শেষ পর্যন্ত আইএমএফের ঋণ না এলে বাংলাদেশ সরকারের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়বে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
তবে এখানেই শেষ না। বরং এর প্রভাবে অন্যান্য দাতাদের ঋণ ছাড়েও প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
ব্যয় নিয়ে শঙ্কা
চলমান সংকটে আগের চেয়ে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ বেশি দামে জ্বালানি কিনছে সরকার। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতির চাপে বাড়ছে আমদানি ব্যয়ও।
সবমিলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে আসছে প্রতিদিন। চাপ সামলাতে দুই মাস বিরতির পর আবারও বাজার থেকে ডলার কেনার পরিমাণ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
“বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিনে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ১২০ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে,” আলাপ-কে বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান। গেল ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিনেছে মোট ৫৬১ কোটি ৩৫ লাখ ডলার।
রিজার্ভ এখনও ‘স্বস্তিকর’ জায়গায় থাকলেও বাড়তি ব্যয়ভার বহনের জন্য বৈদেশিক ঋণ না এলে সরকারকে চাপে পড়তে হবে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।
“আইএমএফের লোনটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যখন আগের চেয়ে ৫০ শতাংশ, ১০০ শতাংশ বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে,” আলাপ-কে বলেছেন তিনি।
অন্যদের ঋণ নিয়ে ঝুঁকি
বাজেট সাপোর্ট বা সরাসরি অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে আইএমএফকে ‘লিড এক্সপার্ট’ হিসাবে ধরা হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।
“বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি, জাইকা এমনকি এআইআইবি’র মতো দাতা সংস্থাগুলোও বাজেট সাপোর্ট দেওয়ার আগে আইএমএফের কাছ থেকে পরামর্শ চায়। যখন তারাই ঋণ কর্মসূচি বাতিল করবে তখন অন্যান্যদেরও তারা কমফোর্ট লেটার কীভাবে দেবে?,” আলাপ-কে বলেছেন তিনি।
আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি থেকে সরে আসলে সেটা দাতাদের কাছে ‘নেগেটিভ সিগন্যাল’ দেবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ মোস্তাফিজুর রহমানও।
“যদি শেষ পর্যন্ত আইএমএফ কিস্তি ছাড় না করে, তবে সেটা দাতাদের কাছে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট নিয়ে চিন্তার কারণ হবে। এতে তারা ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী নাও হতে পারে।”
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ডামাডোলে ২০২২ সালে পুরো বিশ্বের সঙ্গে অস্থির হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশের অর্থনীতিও। তখনকার সরকার বাধ্য হয়ে ধরনা দিয়েছিল দাতা সংস্থাগুলোর কাছে।
বেশ কিছু শর্ত দিয়ে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করে আইএমএফ। যা পরে অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় বেড়ে দাঁড়ায় ৫৫০ কোটি ডলারে।
তবে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই আটকে যায় ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি। গত ডিসেম্বরে ছাড় হওয়ার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় সংস্কারে ব্যর্থতার জন্য তা ছাড় করেনি সংস্থাটি।
ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সরকার আশা করছিল, জুনে একসঙ্গে দুই কিস্তির মোট ১৩০ কোটি ডলার ছাড় হবে।
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের ছয় দিনের বসন্তকালীন বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নতুন করে আরও ঋণ চাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছিল।
কিন্তু ব্যাংক খাত, রাজস্ব আদায়, জ্বালানিতে ভর্তুকি, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নিশ্চিতসহ নানান সংস্কার বাস্তবায়ন করতে না পারায় চলমান ঋণটি চালিয়ে যেতে আগ্রহী নয় আইএমএফ।
সংস্থাটির এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেছেন, “এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো করেনি। এটি (রাজস্ব আদায়) নিম্নস্তরে রয়েছে এবং গত তিন বছরে তা আরও খারাপ হয়েছে।”
নতুন কর্মসূচিতে বাড়বে সময় ও শর্ত
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের ছয়দিনের বসন্তকালীন বৈঠক শেষ হবে শনিবার। এর পরই আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে, বাংলাদেশে সংস্থাটির চলমান ৫৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির অবস্থান।
তবে বারবার এই ঋণের শর্ত পূরণে বাংলাদেশ সরকারের ব্যর্থতায় তারা যে সন্তুষ্ট নয়, সেটা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজস্ব, ব্যাংক ও বিনিময় হার খাতে ব্যাপক সংস্কার দরকার বলে মনে করছে আইএমএফ।
“কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য পরে জানানো হবে,” বলেছেন আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন।
অন্যদিকে আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, “আইএমএফ না করেছে কি না, এটা তো তারা বলতে পারবে। আমি কীভাবে (উত্তর) দিব? সবার অ্যাটিচিউড এখানে খুবই পজিটিভ; এক কথায় বলতে গেলে। তবে প্যাকেজটা কী হবে, সেটা অপেক্ষা করতে হবে। সেটা তো এখন আমি বলতে পারব না।”
আইএমএফের সঙ্গে আলোচনাকে চলমান প্রক্রিয়া বলেও মন্তব্য করেছেন আমির খসরু।
এর অর্থ বাংলাদেশ আশা ছাড়ছে না বলিই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আগের ঋণ কর্মসূচি স্থগিত হয়ে গেলেও নতুন করে ঋণ চাইবে বাংলাদেশ।
আর এই চেষ্টা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে জোর দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরাও।
তবে নতুন করে কোনো ঋণ কর্মসূচিতে গেলে সেটা সময় সাপেক্ষ এবং আরও কঠিন শর্ত নিয়েই আসবে বলে মনে করেন জাহিদ হোসেন।
“নতুন করে ঋণ নিলে সেটার শর্ত সহজ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ সংস্কার না হওয়াতেই তো আগেরটা স্থগিত করবে। তা ছাড়া নতুন ঋণ প্রসেসিং অনেক সময় নেবে।”
আইএমএফের ঋণ না এলে অন্য দাতাদের ঋণ পাওয়াও কি কঠিন হবে
আইএমএফের ঋণ অনিশ্চয়তায় পড়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শুধু ডলারের সংকট নয়, আস্থার সংকটও ঘনীভূত হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ঋণ কর্মসূচি ভেস্তে গেলে বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও অন্যান্য দাতা সংস্থার বাজেট সহায়তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, যা বাড়তি আমদানি ব্যয় ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে সরকারকে আরও চাপে ফেলবে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান ঋণ কর্মসূচির আওতায় ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ১৮৬ কোটি ডলার পাওয়ার কথা থাকলেও ‘সংস্কার কর্মসূচির’ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারার কারণে বাংলাদেশের সেই ঋণ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকার যখন বৈদেশিক ঋণের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে, তখন আইএমএফের কিস্তি অর্থনীতির লাইফলাইন হতে পারত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কিন্তু অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় এবং অতিরিক্ত দামে জ্বালানি কিনতে গিয়ে রিজার্ভ হারানোর শঙ্কায় পড়েছে দেশের পুরো অর্থনীতি।
শেষ পর্যন্ত আইএমএফের ঋণ না এলে বাংলাদেশ সরকারের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়বে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
তবে এখানেই শেষ না। বরং এর প্রভাবে অন্যান্য দাতাদের ঋণ ছাড়েও প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
ব্যয় নিয়ে শঙ্কা
চলমান সংকটে আগের চেয়ে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ বেশি দামে জ্বালানি কিনছে সরকার। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতির চাপে বাড়ছে আমদানি ব্যয়ও।
সবমিলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে আসছে প্রতিদিন। চাপ সামলাতে দুই মাস বিরতির পর আবারও বাজার থেকে ডলার কেনার পরিমাণ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
“বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিনে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ১২০ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে,” আলাপ-কে বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।
গেল ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিনেছে মোট ৫৬১ কোটি ৩৫ লাখ ডলার।
রিজার্ভ এখনও ‘স্বস্তিকর’ জায়গায় থাকলেও বাড়তি ব্যয়ভার বহনের জন্য বৈদেশিক ঋণ না এলে সরকারকে চাপে পড়তে হবে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।
“আইএমএফের লোনটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যখন আগের চেয়ে ৫০ শতাংশ, ১০০ শতাংশ বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে,” আলাপ-কে বলেছেন তিনি।
অন্যদের ঋণ নিয়ে ঝুঁকি
বাজেট সাপোর্ট বা সরাসরি অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে আইএমএফকে ‘লিড এক্সপার্ট’ হিসাবে ধরা হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।
“বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি, জাইকা এমনকি এআইআইবি’র মতো দাতা সংস্থাগুলোও বাজেট সাপোর্ট দেওয়ার আগে আইএমএফের কাছ থেকে পরামর্শ চায়। যখন তারাই ঋণ কর্মসূচি বাতিল করবে তখন অন্যান্যদেরও তারা কমফোর্ট লেটার কীভাবে দেবে?,” আলাপ-কে বলেছেন তিনি।
আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি থেকে সরে আসলে সেটা দাতাদের কাছে ‘নেগেটিভ সিগন্যাল’ দেবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ মোস্তাফিজুর রহমানও।
“যদি শেষ পর্যন্ত আইএমএফ কিস্তি ছাড় না করে, তবে সেটা দাতাদের কাছে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট নিয়ে চিন্তার কারণ হবে। এতে তারা ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী নাও হতে পারে।”
সংস্কারে ব্যর্থতা কোথায়
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ডামাডোলে ২০২২ সালে পুরো বিশ্বের সঙ্গে অস্থির হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশের অর্থনীতিও। তখনকার সরকার বাধ্য হয়ে ধরনা দিয়েছিল দাতা সংস্থাগুলোর কাছে।
বেশ কিছু শর্ত দিয়ে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করে আইএমএফ। যা পরে অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় বেড়ে দাঁড়ায় ৫৫০ কোটি ডলারে।
তবে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই আটকে যায় ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি। গত ডিসেম্বরে ছাড় হওয়ার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় সংস্কারে ব্যর্থতার জন্য তা ছাড় করেনি সংস্থাটি।
ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সরকার আশা করছিল, জুনে একসঙ্গে দুই কিস্তির মোট ১৩০ কোটি ডলার ছাড় হবে।
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের ছয় দিনের বসন্তকালীন বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নতুন করে আরও ঋণ চাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছিল।
কিন্তু ব্যাংক খাত, রাজস্ব আদায়, জ্বালানিতে ভর্তুকি, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নিশ্চিতসহ নানান সংস্কার বাস্তবায়ন করতে না পারায় চলমান ঋণটি চালিয়ে যেতে আগ্রহী নয় আইএমএফ।
সংস্থাটির এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেছেন, “এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো করেনি। এটি (রাজস্ব আদায়) নিম্নস্তরে রয়েছে এবং গত তিন বছরে তা আরও খারাপ হয়েছে।”
নতুন কর্মসূচিতে বাড়বে সময় ও শর্ত
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের ছয়দিনের বসন্তকালীন বৈঠক শেষ হবে শনিবার। এর পরই আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে, বাংলাদেশে সংস্থাটির চলমান ৫৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির অবস্থান।
তবে বারবার এই ঋণের শর্ত পূরণে বাংলাদেশ সরকারের ব্যর্থতায় তারা যে সন্তুষ্ট নয়, সেটা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজস্ব, ব্যাংক ও বিনিময় হার খাতে ব্যাপক সংস্কার দরকার বলে মনে করছে আইএমএফ।
“কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য পরে জানানো হবে,” বলেছেন আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন।
অন্যদিকে আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, “আইএমএফ না করেছে কি না, এটা তো তারা বলতে পারবে। আমি কীভাবে (উত্তর) দিব? সবার অ্যাটিচিউড এখানে খুবই পজিটিভ; এক কথায় বলতে গেলে। তবে প্যাকেজটা কী হবে, সেটা অপেক্ষা করতে হবে। সেটা তো এখন আমি বলতে পারব না।”
আইএমএফের সঙ্গে আলোচনাকে চলমান প্রক্রিয়া বলেও মন্তব্য করেছেন আমির খসরু।
এর অর্থ বাংলাদেশ আশা ছাড়ছে না বলিই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আগের ঋণ কর্মসূচি স্থগিত হয়ে গেলেও নতুন করে ঋণ চাইবে বাংলাদেশ।
আর এই চেষ্টা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে জোর দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরাও।
তবে নতুন করে কোনো ঋণ কর্মসূচিতে গেলে সেটা সময় সাপেক্ষ এবং আরও কঠিন শর্ত নিয়েই আসবে বলে মনে করেন জাহিদ হোসেন।
“নতুন করে ঋণ নিলে সেটার শর্ত সহজ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ সংস্কার না হওয়াতেই তো আগেরটা স্থগিত করবে। তা ছাড়া নতুন ঋণ প্রসেসিং অনেক সময় নেবে।”
বিষয়: