মানি ম্যাটার্স

টাকা জমানোর যত উপায়

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম

ছোট বড় সবার জন্যই সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। আর কেউ যদি নতুন চাকরিতে ঢুকে বা ব্যবসা শুরু করে, তাদের জন্য কর্মজীবনের শুরু থেকে এই অভ্যাস গড়ে তোলা আরও বেশি জরুরি। ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করতে কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে সঞ্চয় করা অর্থ অনেক কাজে লাগতে পারে। 

কর্মজীবনের শুরু থেকে সঞ্চয় করার জন্য বেশ কিছু স্কিম আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় সঞ্চয় স্কিম হলো ডিপিএস বা ডিপোজিট পেনশন স্কিম। জনপ্রিয়তার কারণ হলো, এই সঞ্চয়ের জন্য ব্যক্তির কাছে প্রথমেই বড় অঙ্কের টাকা জমা থাকার প্রয়োজন নেই। মাসে মাসে যতটুকু সম্ভব টাকা ব্যাংকে জমিয়েই সঞ্চয় করা যায়। 

ডিপিএস-এর ক্ষেত্রে, কোনো একজন ব্যক্তি তার প্রতি মাসের বেতন বা আয় থেকে একটা অংশ নির্দিষ্ট একটা সময়ের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখবেন। জমানো টাকার ওপর ব্যাংক একটা নির্দিষ্ট হারে মুনাফা দিয়ে থাকে। 

আর এফডিআর বা ফিক্সড ডিপোজিট রিসিট হলো এককালীন টাকা জমানো। এটা আসলে যারা ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের টাকা জমিয়ে ফেলেছেন তাদের জন্য। ধরা যাক, কেউ ৫ লাখ টাকা জমালেন, সেটা হতে পারে ডিপিএস-এর মাধ্যমে কিংবা সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টে। এই টাকা কোনো একটা ব্যাংকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এফডিআর করালে মেয়াদ শেষে মুনাফাসহ ওই টাকা তোলা যাবে। এফডিআরের ক্ষেত্রে ভালোই মুনাফা পাওয়া যায়, যার কারণে মানুষ একটা সময় পর তার জমানো টাকা এফডিআর করতে আগ্রহী হয়। 

ডিপিএস এবং এফডিআরের ক্ষেত্রে মেয়াদ যত বেশি হবে, মুনাফাও তত বেশি। তবে মেয়াদপূর্তির আগে টাকা তুলে নিলে মুনাফার হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। এফডিআর হলে মেয়াদের আগে টাকা তুললে বড় অঙ্কের চার্জও দিতে হয়। 

এফডিআরের মেয়াদপূর্তির আগে যদি কারো টাকার প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে এফডিআর না ভেঙে তার বিপরীতে লোন নেওয়া যেতে পারে। এধরনের ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার তুলনামূলক কম থাকে।

সঞ্চয়ের আরেক মাধ্যম হলো সঞ্চয়পত্র। সরকারি সঞ্চয় মাধ্যম হওয়ায় অনেকের কাছেই এটি সঞ্চয়ের নিরাপদ মাধ্যম। এখানে অন্যান্য স্কিমের তুলনার মুনাফার হারও বেশি থাকে। সঞ্চয়পত্র কিনে আপনি মূলত সরকারকে একটা নির্দিষ্টসময়ের জন্য ঋণ দিচ্ছেন, যা মেয়াদ শেষে মুনাফাসহ ফেরত পাবেন। বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র আছে। যেমন, পাঁচ বছর মেয়াদি, তিন বছর মেয়াদি, পরিবার সঞ্চয়পত্র ইত্যাদি। এক একটার ক্ষেত্রে মুনাফার হার ও অন্যান্য সুবিধা এক এক রকম। 

আরেকটা হলো ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক মেয়াদি হিসাব। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ এটি পরিচালনা করে থাকে। এই স্কিম এফডিআরের মতোই কাজ করে। সরকারি হওয়ায় সঞ্চয়পত্রের মতো এটাকেও নিরাপদ বিনিয়োগ ভাবা হয়।

সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমের মধ্যে সম্প্রতি বন্ডও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যদিও বেসরকারি বা করপোরেট বন্ডও আছে। এখানেও বন্ড কিনে ক্রেতা সরকার বা ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে থাকে। এর পরিবর্তে নির্দিষ্ট হারে মুনাফাও পাওয়া যায়। অনেক ধরনের বন্ড আছে। সরকারি বন্ডের মধ্যে জনপ্রিয় ট্রেজারি বন্ড। দীর্ঘমেয়াদী এই বন্ড কিনলে ৬ মাস পর পর এর কুপন বা সুদের টাকা বিনিয়োগকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। সুকুক বন্ড নামে শরীয়াহ ভিত্তিক একটি বন্ডও আছে। 

বিনিয়োগের আরেকটা মাধ্যম হলো মিউচুয়াল ফান্ড। এখানে অনেকে একসাথে টাকা বিনিয়োগ করে শেয়ার, বন্ড বা অন্য কোনো সম্পদ কিনে থাকে। আর বিনিয়োগকারীরা মুনাফাও পায়। এটারও একটা মেয়াদ থাকে, তবে ওপেন-এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করলে যেকোনো সময় টাকা তুলে নেওয়া যেতে পারে। 

টাকা জমানো বা বিনিয়োগের আরও অনেক মাধ্যম ও উপায় আছে। আয়ের সীমা, মাসিক খরচ ও অন্যান্য সমীকরণ বুঝে সঞ্চয় বা বিনিয়োগ স্কিম বাছাই করতে হবে।