যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কই শেষ ধাক্কা নয়, বাংলাদেশের সামনে আরেক পরীক্ষা
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জন্য বড় ঝুঁকি লুকিয়ে আছে অন্য এক তদন্তে। ‘ওভারক্যাপাসিটি’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনুসন্ধান বাংলাদেশের রপ্তানিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে?
মেরাজ মেভিজ
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৪ পিএমআপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিযোগ ম্যানুফ্যাকচারিং ওভারক্যাপাসিটি বা অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের ওপর ‘আপাতত’ বাড়তি চাপ তৈরি হয়নি বলে মনে করছেন রপ্তানি সংশ্লিষ্টরা।
তাদের যুক্তি, ১০ শতাংশ সাময়িক শুল্ক আরোপ থাকায় কয়েকমাস ধরেই বাড়তি শুল্ক দিয়ে আসতে হচ্ছিলো। তার বদলে একই হারে নতুন শুল্ক আরোপে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে না।
তবে অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে অন্য জায়গায়। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলছে আরও একটি তদন্ত। অনুসন্ধানের বিষয়, বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা।
বাংলাদেশের কারখানাগুলো কি বাজারের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পণ্য উৎপাদন করতে সক্ষম এবং তা করছে কিনা? আর সেই অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে কম দামের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঢুকে মার্কিন শিল্পকে কি চাপে ফেলছে?
তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর নতুন করে আরেকদফা শুল্ক বসতে পারে।
ফলে ২৪এ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন ১০ শতাংশ শুল্কই বাংলাদেশের জন্য শেষ ধাক্কা নয়। অপেক্ষা করছে আরও বড় শঙ্কা।
গত ১১ই মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি বা ইউএসটিআর ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের সেকশন ৩০১-এর আওতায় ১৫টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ও নতুন তদন্ত
অভিযোগ তোলা হয়েছে, দেশগুলো প্রয়োজনের তুলনায় বেশি উৎপাদন করছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে অতিরিক্ত পণ্য ঢুকছে। আর এতে মার্কিন শিল্প ও ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, সেটিই তদন্তের মূল বিষয়।
ম্যানুফ্যাকচারিং ওভারক্যাপাসিটি বা অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগটি সহজ করে বললে এমন- কোনো দেশের কারখানাগুলো যদি দেশটির নিজস্ব বাজারের চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি পণ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হয়, তাহলে সেই অতিরিক্ত পণ্য বিদেশের বাজারে পাঠানো হতে পারে। আর অতিরিক্ত পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে দাম কমে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এভাবে কম দামের পণ্য মার্কিন বাজারে ঢুকলে দেশটির স্থানীয় উৎপাদকরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারেন। এতে মার্কিন শিল্প ও ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
ধরা যাক, কোনো দেশে বছরে ১০ লাখ টি-শার্টের চাহিদা আছে। কিন্তু দেশটির কারখানাগুলো বছরে ৩০ লাখ টি-শার্ট উৎপাদন করতে পারে। অতিরিক্ত ২০ লাখ টি-শার্ট তখন বিদেশে (যুক্তরাষ্ট্রে) রপ্তানি করা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ মূলত এই অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে।
এ কারণেই ইউএসটিআর তদন্ত করছে। তদন্তে শুধু তৈরি পোশাক নয়; ইস্পাত, গাড়ি, ব্যাটারি, সেমিকন্ডাক্টর, সৌরশক্তি, যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন উৎপাদন খাতও বিবেচনায় রয়েছে।
ইউএসটিআর প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ার তদন্ত শুরুর সময় বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র আর এমন দেশগুলোর কাছে নিজেদের শিল্পভিত্তি বিসর্জন দেবে না, যারা অতিরিক্ত উৎপাদন ও সক্ষমতার সমস্যা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করছে।”
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখনো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
ইউএসটিআর মে মাসে ১৬টি অর্থনীতি নিয়ে শুনানি করেছে। তদন্তের ফলের ওপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যতে কোনো দেশের বিরুদ্ধে নতুন বাণিজ্যিক ব্যবস্থা বা শুল্ক নেওয়া হবে কি না।
তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে- চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (সদস্য দেশ ২৭টি), সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মেক্সিকো, জাপান ও ভারত।
যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তেই ঝুঁকি
এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো- ট্রাম্প প্রশাসন একের পর এক তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। যার দোহাই দিয়ে শুল্ক টিকিয়ে রাখা হচ্ছে।
জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে তদন্তের পর নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক এসেছে। এরপর উৎপাদন খাতের অতিরিক্ত সক্ষমতা নিয়ে তদন্ত চলছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রতিনিধিরা বলছেন, এই তদন্তই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। কারণ, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শ্রমের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেছেন, “আমাদের ক্ষেত্রে কোনো ফোর্সড লেবার পায়নি। এখন তারা বলছে, যেখানে ফোর্সড লেবার ইউজড হয়, সেখান থেকে আমরা র-মেটেরিয়ালস আমদানি করি। ইনডাইরেক্টলি অথবা ডাইরেক্টলি তারা চীনের কথা বলেছে।”
এই তদন্তে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে নতুন শুল্ক আসতে পারে। তখন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের দাম বাড়বে না।
একই সঙ্গে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থানও বদলে যেতে পারে। কারণ, এই তদন্তে বাংলাদেশের পাশাপাশি চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশও রয়েছে।
তবে এই তদন্তেও বাংলাদেশ সুবিধা পাবে না বলেই মনে করেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
তার ভাষায়, “বিশ্বমোড়লের এটা এক ধরনের ক্ষমতা প্রদর্শন। কারণ, ফোর্সড লেবার নিয়ে তারা আমাদের সতর্ক করেনি। এটাও হয়তো জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হবে। আর আমাদের কিছুই করার থাকবে না।”
বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা কোথায়?
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল আলাপ-কে বলেন, “ম্যানুফ্যাকচারিং ওভারক্যাপাসিটির অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুল্ক যোগ হবে। ওভারক্যাপাসিটির শুল্কও ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যেই হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিদ্যমান মোস্ট ফেভার্ড নেশন বা এমএফএন শুল্ক এবং নতুন করে জোরপূর্বক শ্রমের জন্য ১০ শতাংশের সঙ্গে সেটিও যোগ হবে।”
মোদ্দা কথা, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর গড় এমএফএন শুল্ক প্রায় ১৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। এর সঙ্গে জোরপূর্বক শ্রমের জন্য এখন নতুন করে যোগ হলো আরও ১০ শতাংশ শুল্ক। তাতে মোট শুল্ক হয়েছে প্রায় ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। এর সঙ্গে অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আরও ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক যোগ হবে।
এখানে এমএফএন সহজ করে বললে, কোনো দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে স্বাভাবিক বা সাধারণ আমদানি শুল্ক আরোপ করে, সেটিই এমএফএন শুল্ক।
সুতরাং, এর সঙ্গে ভবিষ্যতে ওভারক্যাপাসিটি তদন্তের ভিত্তিতে আরও শুল্ক যোগ হলে চাপ আরও বাড়বে।
তবে মহিউদ্দিন রুবেল এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
“এটা নিয়ে এখনই প্যানিক ছড়ানো ঠিক হবে না। তবে এই শুল্ক যোগ হলে সেটা চিন্তার বিষয়। রপ্তানিতে চাপ আসতে পারে।”
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমও একই জায়গায় উদ্বেগ দেখিয়েছেন।
তিনি বলেন, “উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদন বা ওভারক্যাপাসিটি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে তদন্ত করছে, সেটাই এখন আমাদের মূল উদ্বেগের বিষয়। সেখানে আমাদের শুল্ক যদি প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তবে আমরা ঝুঁকির মুখে পড়ব।”
তাই বাংলাদেশের জন্য মূল প্রশ্ন এখন শুধু ‘নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক কতটা ক্ষতিকর’ নয়, নতুন তদন্ত কতটা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে সেটা।
২৪এ জুলাই থেকে বাংলাদেশসহ ৬০টি অর্থনীতির ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করেছে।
বাংলাদেশ রয়েছে ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায়। নতুন এই শুল্ক কাঠামোর পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেকশন ৩০-এর আওতায় হওয়া তদন্ত।
ইউএসটিআর বলছে, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করতে বা সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
বিষয়টি নতুন হলেও এখানে পুরোনো শুল্ক বাতিল হওয়ার বিষয় রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের ভাষ্য, “প্রকৃতপক্ষে শুল্ক পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। আগে যুক্তরাষ্ট্রে যে শুল্ক আরোপ করেছিল, তা আইনি বাধ্য বাধকতার কারণে ১৫০ দিনের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাবে। আগের শুল্ক মেয়াদোত্তীর্ণ হলে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। ফলে এটি নতুন শুল্ক আরোপ নয়, রিপ্লেসমেন্ট বা প্রতিস্থাপন। নতুন কোনো অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হয়নি। ফলে শুল্ক পরিস্থিতিতে বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আসছে না।”
অর্থাৎ, এটি আগের শুল্কের ওপর নতুন করে যোগ হওয়া অতিরিক্ত ১০ শতাংশ নয়। আগের ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একই হারে নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেলও বললেন একই কথা।
“ভিন্ন নামে হলেও শুল্কের হার আগের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। তাই এ নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই,” আলাপ-কে বলেছেন তিনি।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “শুক্রবার আগের ১০ শতাংশ সাধারণ শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর নতুন করে এই শুল্ক বসানো হয়েছে। যেহেতু এটি পুরোনো শুল্কেরই একটি নতুন রূপ, তাই আমাদের ওপর এর বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্ক উত্তেজনা শুরু হয় ২০২৫ সালে ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর।
২রা এপ্রিল ২০২৫ বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ৩৭ শতাংশ পালটা শুল্ক ঘোষণা করে।
পরে তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়। এক পর্যায়ে এই হার নেমে আসে ২০ শতাংশে।
এরপর ৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড বা এআরটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির পর বাংলাদেশের জন্য শুল্কহার নির্ধারিত হয় ১৯ শতাংশ।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের পারস্পরিক শুল্কের আইনি ভিত্তি বাতিল করার পর পরিস্থিতি বদলে যায়।
এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২ ব্যবহার করে ১০ শতাংশের একটি সাময়িক বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেন। আইন অনুযায়ী, এই শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫০ দিন বহাল থাকতে পারে।
সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২৪এ জুলাই ২০২৬ সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে।
অর্থাৎ, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুল্কের হার এখনই বাড়েনি। তবে আইনি কাঠামো বদলেছে।
আর সেকশন ৩০১-এর আওতায় ভবিষ্যতে নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। যার মধ্যে একটি হচ্ছে ম্যানুফ্যাকচারিং ওভারক্যাপাসিটি বা অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে চলা তদন্ত।
এখন প্রশ্ন- যদি উৎপাদন সক্ষমতা, জোরপূর্বক শ্রম, কাঁচামালের উৎস বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক অভিযোগে আরও শুল্ক আসে, তখন বাংলাদেশের পোশাক খাত সেই চাপ কতটা নিতে পারবে?
সেই কারণেই ব্যবসায়ীদের কাছে নতুন ১০ শতাংশ শুল্কের চেয়েও বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে সামনে অপেক্ষা করা দ্বিতীয় তদন্ত।
কারণ, ২৪এ জুলাইয়ের শুল্ক বাংলাদেশের ওপর নতুন চাপ তৈরি না করলেও, পরবর্তী তদন্তই ঠিক করতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জন্য পরের চাপ কতটা বড় হবে।
যদিও এখানে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। কারণ বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রায় সব দেশই এই তদন্তের আওতায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কই শেষ ধাক্কা নয়, বাংলাদেশের সামনে আরেক পরীক্ষা
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জন্য বড় ঝুঁকি লুকিয়ে আছে অন্য এক তদন্তে। ‘ওভারক্যাপাসিটি’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনুসন্ধান বাংলাদেশের রপ্তানিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে?
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের ওপর ‘আপাতত’ বাড়তি চাপ তৈরি হয়নি বলে মনে করছেন রপ্তানি সংশ্লিষ্টরা।
তাদের যুক্তি, ১০ শতাংশ সাময়িক শুল্ক আরোপ থাকায় কয়েকমাস ধরেই বাড়তি শুল্ক দিয়ে আসতে হচ্ছিলো। তার বদলে একই হারে নতুন শুল্ক আরোপে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে না।
তবে অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে অন্য জায়গায়। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলছে আরও একটি তদন্ত। অনুসন্ধানের বিষয়, বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা।
বাংলাদেশের কারখানাগুলো কি বাজারের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পণ্য উৎপাদন করতে সক্ষম এবং তা করছে কিনা? আর সেই অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে কম দামের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঢুকে মার্কিন শিল্পকে কি চাপে ফেলছে?
তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর নতুন করে আরেকদফা শুল্ক বসতে পারে।
ফলে ২৪এ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন ১০ শতাংশ শুল্কই বাংলাদেশের জন্য শেষ ধাক্কা নয়। অপেক্ষা করছে আরও বড় শঙ্কা।
গত ১১ই মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি বা ইউএসটিআর ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের সেকশন ৩০১-এর আওতায় ১৫টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ও নতুন তদন্ত
অভিযোগ তোলা হয়েছে, দেশগুলো প্রয়োজনের তুলনায় বেশি উৎপাদন করছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে অতিরিক্ত পণ্য ঢুকছে। আর এতে মার্কিন শিল্প ও ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, সেটিই তদন্তের মূল বিষয়।
ম্যানুফ্যাকচারিং ওভারক্যাপাসিটি বা অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগটি সহজ করে বললে এমন- কোনো দেশের কারখানাগুলো যদি দেশটির নিজস্ব বাজারের চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি পণ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হয়, তাহলে সেই অতিরিক্ত পণ্য বিদেশের বাজারে পাঠানো হতে পারে। আর অতিরিক্ত পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে দাম কমে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এভাবে কম দামের পণ্য মার্কিন বাজারে ঢুকলে দেশটির স্থানীয় উৎপাদকরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারেন। এতে মার্কিন শিল্প ও ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
ধরা যাক, কোনো দেশে বছরে ১০ লাখ টি-শার্টের চাহিদা আছে। কিন্তু দেশটির কারখানাগুলো বছরে ৩০ লাখ টি-শার্ট উৎপাদন করতে পারে। অতিরিক্ত ২০ লাখ টি-শার্ট তখন বিদেশে (যুক্তরাষ্ট্রে) রপ্তানি করা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ মূলত এই অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে।
এ কারণেই ইউএসটিআর তদন্ত করছে। তদন্তে শুধু তৈরি পোশাক নয়; ইস্পাত, গাড়ি, ব্যাটারি, সেমিকন্ডাক্টর, সৌরশক্তি, যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন উৎপাদন খাতও বিবেচনায় রয়েছে।
ইউএসটিআর প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ার তদন্ত শুরুর সময় বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র আর এমন দেশগুলোর কাছে নিজেদের শিল্পভিত্তি বিসর্জন দেবে না, যারা অতিরিক্ত উৎপাদন ও সক্ষমতার সমস্যা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করছে।”
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখনো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
ইউএসটিআর মে মাসে ১৬টি অর্থনীতি নিয়ে শুনানি করেছে। তদন্তের ফলের ওপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যতে কোনো দেশের বিরুদ্ধে নতুন বাণিজ্যিক ব্যবস্থা বা শুল্ক নেওয়া হবে কি না।
তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে- চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (সদস্য দেশ ২৭টি), সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মেক্সিকো, জাপান ও ভারত।
যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তেই ঝুঁকি
এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো- ট্রাম্প প্রশাসন একের পর এক তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। যার দোহাই দিয়ে শুল্ক টিকিয়ে রাখা হচ্ছে।
জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে তদন্তের পর নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক এসেছে। এরপর উৎপাদন খাতের অতিরিক্ত সক্ষমতা নিয়ে তদন্ত চলছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রতিনিধিরা বলছেন, এই তদন্তই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। কারণ, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শ্রমের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেছেন, “আমাদের ক্ষেত্রে কোনো ফোর্সড লেবার পায়নি। এখন তারা বলছে, যেখানে ফোর্সড লেবার ইউজড হয়, সেখান থেকে আমরা র-মেটেরিয়ালস আমদানি করি। ইনডাইরেক্টলি অথবা ডাইরেক্টলি তারা চীনের কথা বলেছে।”
এই তদন্তে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে নতুন শুল্ক আসতে পারে। তখন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের দাম বাড়বে না।
একই সঙ্গে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থানও বদলে যেতে পারে। কারণ, এই তদন্তে বাংলাদেশের পাশাপাশি চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশও রয়েছে।
তবে এই তদন্তেও বাংলাদেশ সুবিধা পাবে না বলেই মনে করেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
তার ভাষায়, “বিশ্বমোড়লের এটা এক ধরনের ক্ষমতা প্রদর্শন। কারণ, ফোর্সড লেবার নিয়ে তারা আমাদের সতর্ক করেনি। এটাও হয়তো জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হবে। আর আমাদের কিছুই করার থাকবে না।”
বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা কোথায়?
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল আলাপ-কে বলেন, “ম্যানুফ্যাকচারিং ওভারক্যাপাসিটির অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুল্ক যোগ হবে। ওভারক্যাপাসিটির শুল্কও ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যেই হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিদ্যমান মোস্ট ফেভার্ড নেশন বা এমএফএন শুল্ক এবং নতুন করে জোরপূর্বক শ্রমের জন্য ১০ শতাংশের সঙ্গে সেটিও যোগ হবে।”
মোদ্দা কথা, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর গড় এমএফএন শুল্ক প্রায় ১৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। এর সঙ্গে জোরপূর্বক শ্রমের জন্য এখন নতুন করে যোগ হলো আরও ১০ শতাংশ শুল্ক। তাতে মোট শুল্ক হয়েছে প্রায় ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। এর সঙ্গে অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আরও ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক যোগ হবে।
এখানে এমএফএন সহজ করে বললে, কোনো দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে স্বাভাবিক বা সাধারণ আমদানি শুল্ক আরোপ করে, সেটিই এমএফএন শুল্ক।
সুতরাং, এর সঙ্গে ভবিষ্যতে ওভারক্যাপাসিটি তদন্তের ভিত্তিতে আরও শুল্ক যোগ হলে চাপ আরও বাড়বে।
তবে মহিউদ্দিন রুবেল এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
“এটা নিয়ে এখনই প্যানিক ছড়ানো ঠিক হবে না। তবে এই শুল্ক যোগ হলে সেটা চিন্তার বিষয়। রপ্তানিতে চাপ আসতে পারে।”
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমও একই জায়গায় উদ্বেগ দেখিয়েছেন।
তিনি বলেন, “উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদন বা ওভারক্যাপাসিটি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে তদন্ত করছে, সেটাই এখন আমাদের মূল উদ্বেগের বিষয়। সেখানে আমাদের শুল্ক যদি প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তবে আমরা ঝুঁকির মুখে পড়ব।”
তাই বাংলাদেশের জন্য মূল প্রশ্ন এখন শুধু ‘নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক কতটা ক্ষতিকর’ নয়, নতুন তদন্ত কতটা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে সেটা।
নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক আসলে কতটা নতুন?
২৪এ জুলাই থেকে বাংলাদেশসহ ৬০টি অর্থনীতির ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করেছে।
বাংলাদেশ রয়েছে ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায়। নতুন এই শুল্ক কাঠামোর পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেকশন ৩০-এর আওতায় হওয়া তদন্ত।
ইউএসটিআর বলছে, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করতে বা সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
বিষয়টি নতুন হলেও এখানে পুরোনো শুল্ক বাতিল হওয়ার বিষয় রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের ভাষ্য, “প্রকৃতপক্ষে শুল্ক পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। আগে যুক্তরাষ্ট্রে যে শুল্ক আরোপ করেছিল, তা আইনি বাধ্য বাধকতার কারণে ১৫০ দিনের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাবে। আগের শুল্ক মেয়াদোত্তীর্ণ হলে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। ফলে এটি নতুন শুল্ক আরোপ নয়, রিপ্লেসমেন্ট বা প্রতিস্থাপন। নতুন কোনো অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হয়নি। ফলে শুল্ক পরিস্থিতিতে বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আসছে না।”
অর্থাৎ, এটি আগের শুল্কের ওপর নতুন করে যোগ হওয়া অতিরিক্ত ১০ শতাংশ নয়। আগের ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একই হারে নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেলও বললেন একই কথা।
“ভিন্ন নামে হলেও শুল্কের হার আগের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। তাই এ নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই,” আলাপ-কে বলেছেন তিনি।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “শুক্রবার আগের ১০ শতাংশ সাধারণ শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর নতুন করে এই শুল্ক বসানো হয়েছে। যেহেতু এটি পুরোনো শুল্কেরই একটি নতুন রূপ, তাই আমাদের ওপর এর বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।”
বাংলাদেশের ওপর শুল্কের ইতিহাস
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্ক উত্তেজনা শুরু হয় ২০২৫ সালে ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর।
২রা এপ্রিল ২০২৫ বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ৩৭ শতাংশ পালটা শুল্ক ঘোষণা করে।
পরে তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়। এক পর্যায়ে এই হার নেমে আসে ২০ শতাংশে।
এরপর ৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড বা এআরটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির পর বাংলাদেশের জন্য শুল্কহার নির্ধারিত হয় ১৯ শতাংশ।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের পারস্পরিক শুল্কের আইনি ভিত্তি বাতিল করার পর পরিস্থিতি বদলে যায়।
এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২ ব্যবহার করে ১০ শতাংশের একটি সাময়িক বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেন। আইন অনুযায়ী, এই শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫০ দিন বহাল থাকতে পারে।
সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২৪এ জুলাই ২০২৬ সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে।
অর্থাৎ, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুল্কের হার এখনই বাড়েনি। তবে আইনি কাঠামো বদলেছে।
আর সেকশন ৩০১-এর আওতায় ভবিষ্যতে নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। যার মধ্যে একটি হচ্ছে ম্যানুফ্যাকচারিং ওভারক্যাপাসিটি বা অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে চলা তদন্ত।
এখন প্রশ্ন- যদি উৎপাদন সক্ষমতা, জোরপূর্বক শ্রম, কাঁচামালের উৎস বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক অভিযোগে আরও শুল্ক আসে, তখন বাংলাদেশের পোশাক খাত সেই চাপ কতটা নিতে পারবে?
সেই কারণেই ব্যবসায়ীদের কাছে নতুন ১০ শতাংশ শুল্কের চেয়েও বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে সামনে অপেক্ষা করা দ্বিতীয় তদন্ত।
কারণ, ২৪এ জুলাইয়ের শুল্ক বাংলাদেশের ওপর নতুন চাপ তৈরি না করলেও, পরবর্তী তদন্তই ঠিক করতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জন্য পরের চাপ কতটা বড় হবে।
যদিও এখানে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। কারণ বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রায় সব দেশই এই তদন্তের আওতায় রয়েছে।
বিষয়: