ত্রিশ বছর আগের এক রোজার মাস। ২৯তম রোজার সন্ধ্যা। কোথাও ঈদের চাঁদ দেখা যায়নি। সরকারি ঘোষণাও আসেনি। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের বহু মানুষ তারাবি পড়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন। রাতে উঠে সেহরি খাবেন। পরদিন রোজা রাখবেন। তখন পর্যন্ত সবাই জানেন রোজা হতে যাচ্ছে ত্রিশটি। কিন্তু গভীর রাতে সিদ্ধান্ত হয় পরদিনই ঈদ। সকালে উঠে বাংলাদেশের বহু মানুষ জেনেছিলেন এই খবর। তারা রোজা ভেঙে ঈদের নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। অনেক স্থানে সরকারি ঘোষণা অমান্য করে ত্রিশটি রোজা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেবার বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর হয়েছিল দুই দিন।
রাহী নায়াব
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬, ১০:০৫ এএমআপডেট : ২১ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
ঈদ কবে হবে সেটা কীভাবে ঠিক করে চাঁদ দেখা কমিটি
২০১৯ সালের ঈদুল ফিতরের কথা মনে আছে? সন্ধ্যা পর্যন্ত চাঁদ দেখা কমিটির একটাই কথা ছিল - কোনো জেলায় চাঁদ দেখার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমান মানুষজন তারাবি নামাজ পড়ে বুধবার রোজা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, হঠাৎ রাত সোয়া এগারটায় ঘোষণা আসে - বুধবারই ঈদ!
একই কারণে প্রায় ত্রিশ বছর আগে ১৯৯৭ সালের রোজার ঈদকেও আজও স্মরণ করেন অনেকে। সেবার তো অনেকে তারাবি পড়ে ঘুমিয়ে সেহরির জন্য ওঠার পর আবিষ্কার করেছিলেন যে আরেকটু ঘুমিয়ে নিলে তেমন ক্ষতি হতো না, কেননা শেষ মুহূর্তে কোনো এক জেলায় চাঁদ দেখা গিয়েছিল, এবং কমিটি আজকেই ঈদ বলে ঘোষণা দিয়েছে।
বাংলাদেশের অনেকেই এমনটা মনে করেন যে, সৌদি আরবের পরের দিন আমরা ঈদ পালন করি। তবে ব্যাপারটা ঠিক তা নয়। সৌদি আরব ও বাকি অন্যান্য দেশে যেমন চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ঈদের দিন, বাংলাদেশেও তাই। তবে বাকি বিশ্বের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে এ দেশে নিজস্ব চাঁদ দেখা কমিটি দিয়েই ঈদের দিন নির্ধারিত হয়।
তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন, ঠিক কীভাবে চাঁদ দেখে এই কমিটি, কারা আছেন এখানে, এবং তাদের কাজটা আসলে কী? আলাপকে এসব প্রশ্নের উত্তর দেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক বুরহান উদ্দিন মুহাম্মদ আবু আহসান, যিনি বিভিন্ন জেলায় চাঁদ দেখা কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন।
তিনি জানান, কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটির অধীনে প্রতি জেলায় স্থানীয় চাঁদ দেখা কমিটি আছে। সেখানে থাকেন স্থানীয় আলেম, মসজিদের ইমাম, স্থানীয় আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, আবহাওয়াবিদ, জেলা তথ্য অফিসার ও স্থানীয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান। এই কমিটিগুলো প্রতি চান্দ্র মাসের ২৯ তম সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা নিয়ে স্থানীয় ডিসি অফিসে বৈঠক করেন।
এই জেলা কমিটিগুলোর ফোনের অপেক্ষায় বসে থাকেন ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটির সদস্যরা। পদাধিকারবলে এই কমিটির প্রধান থাকেন ধর্ম মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী।
তবে চাঁদটা তারা দেখেন ঠিক কীভাবে? ছাদে দাঁড়িয়ে খালি চোখে কি সবাই গলা বাড়িয়ে আকাশের দিকে চেয়ে থাকেন? না। চাঁদ “দেখা” কমিটির সদস্যরা কেউই আদতে চাঁদ দেখেন না, বরং কেন্দ্রীয় কমিটি যেমন জেলা কমিটির ফোনের অপেক্ষায় থাকে, তেমনই জেলা কমিটিও থাকে বিভিন্ন উপজেলার মানুষের ফোনের অপেক্ষায়।
জেলা চাঁদ দেখা কমিটিকে কেউ চাঁদ দেখলে যাতে জানান, সে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সদস্যদেরও নির্দেশ দেওয়া হয় চাঁদ দেখার যায় কিনা তা নিয়ে তৎপর থাকতে। কোনো একটি উপজেলা থেকে কেউ যদি জেলা চাঁদ দেখা কমিটির সাথে যোগাযোগ করে বলেন যে চাঁদ দেখা গেছে, তাহলে ধরে নেয়া হয়, সারাদেশেই ঈদ।
তাহলে ভাবুন, আপনি আপনার ঈদের ছুটি একদিন এগিয়ে আনতে চান, তাই দিয়ে দিলেন চাঁদ দেখা কমিটির নম্বরে ফোন, বললেন, আপনার এলাকার আকাশে আপনি চাঁদ দেখেছেন - এভাবে কি আপনি বা আমি ফোন দিয়ে চাঁদ দেখার দাবি করলেই বদলে যাবে ঈদের তারিখ?
চাঁদ দেখার দাবির সত্যতা যাচাই করার জন্য কিছু পদক্ষেপ নিয়ে থাকে চাঁদ দেখা কমিটি।
বুরহান উদ্দিন মুহাম্মদ আবু আহসান জানান, যদি সারাদেশে কোনো জায়গা থেকে চাঁদ দেখার দাবি না আসে, বরং শুধু একটি বা দু’টি উপজেলা থেকে আসে, তাহলে সেই দাবির সত্যতা যাচাই করার জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়ে থাকে জেলা পর্যায়ের চাঁদ দেখা কমিটিগুলো।
প্রথমত, যেই উপজেলা থেকে দাবি এসেছে, সেখানকার স্থানীয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয় সেখানে চাঁদ দেখা যাচ্ছে কিনা তা যাচাই করতে।
দ্বিতীয়ত, সেখানকার যেই ব্যক্তি চাঁদ দেখার কথা জানিয়েছেন, তার সাথে যোগাযোগ করা হয়, এবং সম্ভব হলে তাকে জেলা চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে নিয়ে আসা হয়, যাতে নানা প্রশ্ন করে তার চাঁদ দেখার ব্যাপারটা নিশ্চিত হওয়া যায়।
আপনি হয়তো এখন ভাবছেন, কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটি এবং তার অধীনে প্রতিটি জেলায় চাঁদ দেখা কমিটিগুলো, যেখানে স্থানীয় আলেম বাদেও আবহাওয়াবিদ, তথ্য অফিসার, মহাকাশবিদরা থাকেন, তাদের পুরো কাজটাই কি গলা বাড়িয়ে চাঁদ দেখে ফেলেছে এমন কোনো ব্যক্তির ফোনের অপেক্ষা করা? মোটা দাগে প্রক্রিয়াটি তাই।
কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে নেতৃত্ব দেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী। সেই বৈঠকে আবহাওয়াবিদ এবং মহাকাশ ও দূর অনুধাবন বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে চাঁদ কতক্ষণ দেখা যাবে, কখন দেখা যেতে পারে, দেশের কোন কোন স্থানে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, এসব তথ্য জানা হয়। এবং এরপর এসব তথ্য জেনে সবাই বসে অপেক্ষা করেন জেলা কমিটির ফোন কলের জন্য।
এদিকে জেলা কমিটির বৈঠকেও বসে অপেক্ষা করা হয় উপজেলাগুলো থেকে চাঁদ দেখেছেন এমন ব্যক্তির ফোনের জন্য।
সুতরাং সকল কমিটি গঠন, বৈঠক ও গবেষণার শেষে, দিনশেষে হয়তো আপনার-আমার ঈদ উদযাপন নির্ভর করছে নিজের বাড়ির জানালা দিয়ে গলা বাড়িয়ে থাকা কোনো ব্যক্তির দৃষ্টিশক্তির ওপর।
ঈদ কবে হবে সেটা কীভাবে ঠিক করে চাঁদ দেখা কমিটি
ত্রিশ বছর আগের এক রোজার মাস। ২৯তম রোজার সন্ধ্যা। কোথাও ঈদের চাঁদ দেখা যায়নি। সরকারি ঘোষণাও আসেনি। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের বহু মানুষ তারাবি পড়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন। রাতে উঠে সেহরি খাবেন। পরদিন রোজা রাখবেন। তখন পর্যন্ত সবাই জানেন রোজা হতে যাচ্ছে ত্রিশটি। কিন্তু গভীর রাতে সিদ্ধান্ত হয় পরদিনই ঈদ। সকালে উঠে বাংলাদেশের বহু মানুষ জেনেছিলেন এই খবর। তারা রোজা ভেঙে ঈদের নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। অনেক স্থানে সরকারি ঘোষণা অমান্য করে ত্রিশটি রোজা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেবার বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর হয়েছিল দুই দিন।
২০১৯ সালের ঈদুল ফিতরের কথা মনে আছে? সন্ধ্যা পর্যন্ত চাঁদ দেখা কমিটির একটাই কথা ছিল - কোনো জেলায় চাঁদ দেখার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমান মানুষজন তারাবি নামাজ পড়ে বুধবার রোজা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, হঠাৎ রাত সোয়া এগারটায় ঘোষণা আসে - বুধবারই ঈদ!
একই কারণে প্রায় ত্রিশ বছর আগে ১৯৯৭ সালের রোজার ঈদকেও আজও স্মরণ করেন অনেকে। সেবার তো অনেকে তারাবি পড়ে ঘুমিয়ে সেহরির জন্য ওঠার পর আবিষ্কার করেছিলেন যে আরেকটু ঘুমিয়ে নিলে তেমন ক্ষতি হতো না, কেননা শেষ মুহূর্তে কোনো এক জেলায় চাঁদ দেখা গিয়েছিল, এবং কমিটি আজকেই ঈদ বলে ঘোষণা দিয়েছে।
বাংলাদেশের অনেকেই এমনটা মনে করেন যে, সৌদি আরবের পরের দিন আমরা ঈদ পালন করি। তবে ব্যাপারটা ঠিক তা নয়। সৌদি আরব ও বাকি অন্যান্য দেশে যেমন চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ঈদের দিন, বাংলাদেশেও তাই। তবে বাকি বিশ্বের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে এ দেশে নিজস্ব চাঁদ দেখা কমিটি দিয়েই ঈদের দিন নির্ধারিত হয়।
তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন, ঠিক কীভাবে চাঁদ দেখে এই কমিটি, কারা আছেন এখানে, এবং তাদের কাজটা আসলে কী? আলাপকে এসব প্রশ্নের উত্তর দেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক বুরহান উদ্দিন মুহাম্মদ আবু আহসান, যিনি বিভিন্ন জেলায় চাঁদ দেখা কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন।
তিনি জানান, কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটির অধীনে প্রতি জেলায় স্থানীয় চাঁদ দেখা কমিটি আছে। সেখানে থাকেন স্থানীয় আলেম, মসজিদের ইমাম, স্থানীয় আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, আবহাওয়াবিদ, জেলা তথ্য অফিসার ও স্থানীয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান। এই কমিটিগুলো প্রতি চান্দ্র মাসের ২৯ তম সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা নিয়ে স্থানীয় ডিসি অফিসে বৈঠক করেন।
এই জেলা কমিটিগুলোর ফোনের অপেক্ষায় বসে থাকেন ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটির সদস্যরা। পদাধিকারবলে এই কমিটির প্রধান থাকেন ধর্ম মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী।
তবে চাঁদটা তারা দেখেন ঠিক কীভাবে? ছাদে দাঁড়িয়ে খালি চোখে কি সবাই গলা বাড়িয়ে আকাশের দিকে চেয়ে থাকেন? না। চাঁদ “দেখা” কমিটির সদস্যরা কেউই আদতে চাঁদ দেখেন না, বরং কেন্দ্রীয় কমিটি যেমন জেলা কমিটির ফোনের অপেক্ষায় থাকে, তেমনই জেলা কমিটিও থাকে বিভিন্ন উপজেলার মানুষের ফোনের অপেক্ষায়।
জেলা চাঁদ দেখা কমিটিকে কেউ চাঁদ দেখলে যাতে জানান, সে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সদস্যদেরও নির্দেশ দেওয়া হয় চাঁদ দেখার যায় কিনা তা নিয়ে তৎপর থাকতে। কোনো একটি উপজেলা থেকে কেউ যদি জেলা চাঁদ দেখা কমিটির সাথে যোগাযোগ করে বলেন যে চাঁদ দেখা গেছে, তাহলে ধরে নেয়া হয়, সারাদেশেই ঈদ।
তাহলে ভাবুন, আপনি আপনার ঈদের ছুটি একদিন এগিয়ে আনতে চান, তাই দিয়ে দিলেন চাঁদ দেখা কমিটির নম্বরে ফোন, বললেন, আপনার এলাকার আকাশে আপনি চাঁদ দেখেছেন - এভাবে কি আপনি বা আমি ফোন দিয়ে চাঁদ দেখার দাবি করলেই বদলে যাবে ঈদের তারিখ?
চাঁদ দেখার দাবির সত্যতা যাচাই করার জন্য কিছু পদক্ষেপ নিয়ে থাকে চাঁদ দেখা কমিটি।
বুরহান উদ্দিন মুহাম্মদ আবু আহসান জানান, যদি সারাদেশে কোনো জায়গা থেকে চাঁদ দেখার দাবি না আসে, বরং শুধু একটি বা দু’টি উপজেলা থেকে আসে, তাহলে সেই দাবির সত্যতা যাচাই করার জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়ে থাকে জেলা পর্যায়ের চাঁদ দেখা কমিটিগুলো।
প্রথমত, যেই উপজেলা থেকে দাবি এসেছে, সেখানকার স্থানীয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয় সেখানে চাঁদ দেখা যাচ্ছে কিনা তা যাচাই করতে।
দ্বিতীয়ত, সেখানকার যেই ব্যক্তি চাঁদ দেখার কথা জানিয়েছেন, তার সাথে যোগাযোগ করা হয়, এবং সম্ভব হলে তাকে জেলা চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে নিয়ে আসা হয়, যাতে নানা প্রশ্ন করে তার চাঁদ দেখার ব্যাপারটা নিশ্চিত হওয়া যায়।
আপনি হয়তো এখন ভাবছেন, কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটি এবং তার অধীনে প্রতিটি জেলায় চাঁদ দেখা কমিটিগুলো, যেখানে স্থানীয় আলেম বাদেও আবহাওয়াবিদ, তথ্য অফিসার, মহাকাশবিদরা থাকেন, তাদের পুরো কাজটাই কি গলা বাড়িয়ে চাঁদ দেখে ফেলেছে এমন কোনো ব্যক্তির ফোনের অপেক্ষা করা? মোটা দাগে প্রক্রিয়াটি তাই।
কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে নেতৃত্ব দেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী। সেই বৈঠকে আবহাওয়াবিদ এবং মহাকাশ ও দূর অনুধাবন বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে চাঁদ কতক্ষণ দেখা যাবে, কখন দেখা যেতে পারে, দেশের কোন কোন স্থানে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, এসব তথ্য জানা হয়। এবং এরপর এসব তথ্য জেনে সবাই বসে অপেক্ষা করেন জেলা কমিটির ফোন কলের জন্য।
এদিকে জেলা কমিটির বৈঠকেও বসে অপেক্ষা করা হয় উপজেলাগুলো থেকে চাঁদ দেখেছেন এমন ব্যক্তির ফোনের জন্য।
সুতরাং সকল কমিটি গঠন, বৈঠক ও গবেষণার শেষে, দিনশেষে হয়তো আপনার-আমার ঈদ উদযাপন নির্ভর করছে নিজের বাড়ির জানালা দিয়ে গলা বাড়িয়ে থাকা কোনো ব্যক্তির দৃষ্টিশক্তির ওপর।
বিষয়: