কক্সবাজারের লাইসেন্সবিহীন হোটেল, রিসোর্টগুলো কি বন্ধ হবে

নিয়মের তোয়াক্কা না করে গড়ে ওঠা স্থাপনা, ফায়ার সার্ভিসের সতর্কবার্তা এবং প্রভাবশালী মহলের দাপট–সব মিলিয়ে কক্সবাজারের এক একটি রিসোর্ট যেন একেকটি ‘মৃত্যুপুরী’। বছরের পর বছর ধরে চলা এই অনিয়মের খেসারত চুকাতে হবে আর কত প্রাণ দিয়ে?

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

ঝুঁকিপূর্ণ একটি রিসোর্টে মুহুর্তের আগুনেই ১০টি প্রাণ ঝরে যাওয়ার পর প্রশ্ন উঠছে, ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন ছাড়াই কক্সবাজারে আরো যেসব শত শত হোটেল-রিসোর্ট ব্যবসা চালাচ্ছে, তাদের কী হবে? 

ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে শনিবার ভোর সাতটায়। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যাওয়া ১৮ জন পর্যটক উঠেছিলেন সেখানে। 

কিন্তু ভোরে আলো ফুটতে না ফুটতেই সেখানে ঘটে যায় মর্মান্তিক এক ঘটনা। আগুনের লেলিহান শিখায় মুহূর্তেই ঝলসে যায় রিসোর্ট থাকা প্রায় সবাই। 

রিসোর্ট থেকে উদ্ধার করা হয় দশজনের অগ্নিদগ্ধ মরদেহ। চারজন এতটাই পুড়েছিলেন যে, তাদের মরদেহ চোখে দেখে শনাক্ত করার উপায় নেই। নিহত হন পাঁচ বছরের একটি শিশু এবং একই পরিবারের ছয়জন। আহত সাতজনকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। 

এই ঘটনায় আবারো সামনে এসেছে সেই পুরোনো প্রশ্নগুলো। নিয়ম না মেনে ব্যবসা চালানো রিসোর্টে আগুনে ১০ জনের মৃত্যুর দায় নেবে কে? মামলা ও আসামিদের সাজা হলেই কি শোকে স্তব্ধ পরিবারগুলোর কাছে ফিরবে কোনো স্বস্তি? তাদের অপূরণীয় ক্ষতির মূল্য পূরণই হবে কীভাবে?

কর্মজীবনের ক্লান্তি কাটাতে একটু স্বস্তি পেতে যারা বেড়াতে গিয়ে আহত বা নিহত হলেন, তারা কি কখনো ভেবেছিলেন কতটা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন? 

এটা তাদের ভাবার কথাও না। তাহলে এই মৃত্যুর দায় নেবে কে?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন ছাড়াই দেশের সবচেয়ে বড় পর্যটনকেন্দ্রে কীভাবে চলছে অসংখ্য হোটেল, রিসোর্ট? 

বাংলাদেশে প্রতিবছর কয়েক হাজার আগুনের ঘটনায় প্রাণহানি ছাড়াও পুড়ে যাচ্ছে শত শত কোটি টাকার সম্পদ। অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের উপায় কী? 

লাইসেন্সবিহীন হোটেল, রিসোর্টে ভরা কক্সবাজার

কাঠ ও অন্যান্য দাহ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা ছিলো আগে থেকেই।

কক্সবাজারে অভাব নেই লাইসেন্সবিহীন হোটেল, রিসোর্টের। তারপরও সেগুলো কীভাবে চলছে সেটাই একটা বিরাট প্রশ্ন। 

আবার ইকো টুরিজমের নামে সেখানে গড়ে উঠছে কাঠ, বাশের বিভিন্ন স্থাপনা। যেগুলো রয়েছে আগুনের উচ্চ ঝুঁকিতে।  

১০ জনের মৃত্যুপুরী টুপটুপ রিসোর্টের কাঠামোতে ছিলো কাঠের ব্যবহার।   

ইনানীর পাটুয়ারটেকে মেরিন ড্রাইভের পাশে সৈকতসংলগ্ন অবস্থান টুপটুপ রিসোর্টের। প্রায় ২০ শতক জমির ওপর তিনতলা ভবনের চারপাশের দেয়াল ও খুঁটি ইট-পাথরের। প্রথম ও দ্বিতীয় তলার মেঝে তৈরি কাঠের তক্তা দিয়ে, সিঁড়িতেও লোহার কাঠামোর ওপর কাঠের তক্তা বসানো। তিনতলার ছাদ টিনের।

ভবনের পশ্চিম পাশে কাঠ দিয়ে সম্প্রসারিত অংশে রেস্তোরাঁ। গাছের খুঁটির ওপর তৈরি ওই অংশের বেশিরভাগ খুঁটি ঝাউ ও আকাশমণি গাছের।

নিচতলার কয়েকটি কক্ষে রান্নাঘর, গুদাম ও কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা। রিসোর্টটির পেছনে সুপারিবাগান।

কাঠ ও অন্যান্য দাহ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি রিসোর্টির অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা ছিলো আগে থেকেই।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সতর্কতার কোনো তোয়াক্কাও করেনি টুপটুপ রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ। তাদের প্রভাবের কারণে অধিদপ্তরেও গা ছাড়া ভাব ছিলো বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। 

গত জুন মাসে পরিদর্শনের পর রিসোর্টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতার নোটিশ দেয় ফায়ার সার্ভিস। কিন্তু রিসোর্টটি ত্রুটি সারায়ানি এবং কার্যক্রমও বন্ধ করেনি। আবার তাদেরকে লাইসেন্স নিতে বাধ্য করতেও পারেনি ফায়ার সার্ভিস। 

রিসোর্টটির ফায়ার লাইসেন্স ছিলো না বলে নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। 

তবে নিয়ম মেনে না চলার কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন, সেই বিষয়ে কোনো উত্তর মেলেনি তার কাছ থেকে।

সুলতানুল আফরীন জুনাইদের তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটি নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছিলো না। ভবনটির নিচতলায় রেস্তোরাঁ ছিল, যেখানে খাবার তৈরি করা হতো। দোতলা ও তিনতলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিলো। প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছিলো।

টুপটুপে অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। ঘটনার পর রিসোর্ট মালিক তানভীর আহমদকে প্রধান আসামি করে হয়েছে মামলা। ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকেও আসামি করা হয়েছে ওই মামলায়। 

টুপটুপের মতো অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছাড়াই লাইসেন্স বিহীনভাবে চলছে কক্সবাজারের অসংখ্য হোটেল। তাদেরকে নিয়ম মানতে বাধ্য করতে ব্যর্থ হচ্ছে প্রশাসন। 

এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের ৮০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা রয়েছে প্রায় হাজারখানেক। এর মধ্যে ২৫০টি হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরের মতো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই। 

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, তাদের সমিতিতে নিবন্ধিত হোটেল ও মোটেলের সংখ্যা ৪৫০টিরও বেশি। 

তবে সমিতির সদস্যদের বাইরেও মেরিন ড্রাইভসহ বিভিন্ন সৈকত পয়েন্টে গড়ে উঠেছে শত শত কটেজ, রিসোর্ট। কক্সবাজারের আবাসন ব্যবস্থাগুলোতে ভরা মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮০ হাজার পর্যটকের থাকার সুবিধা রয়েছে।

সেখানকার অবস্থা কতটা করুণ, তা ফুটে উঠেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লাইসেন্স শাখার কক্সবাজার ইনস্পেক্টর শফিকুল ইসলামের দেওয়া তথ্যে। 

তিনি জানান, চলতি বছরে ফায়ারের লাইসেন্স নবায়ন করেছে মাত্র ৫০টি হোটেল। আবেদন জমা পড়েছে ১০০টির মতো। এর আগে ফায়ারের লাইসেন্স ছিলো প্রায় ২০০টি হোটেলের। 

এই তথ্য থেকে পরিষ্কার হয়ে উঠছে যে, কক্সবাজারের সিংহভাগ হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট চলছে লাইসেন্স বিহীনভাবে। আর অনুমোদনহীন সেইসব ‘মৃত্যুপুরীতে’ থাকতে বাধ্য হচ্ছে অবকাশ যাপন করতে যাওয়া পযটকরা। 

পুরো বাংলাদেশে আগুনের চিত্র  

গত ১২ই অক্টোবর পুরান ঢাকার চকবাজারে মনজুর খান প্লাজা মার্কেটে আগুন লাগার নিয়ন্ত্রণে আসে ১২ ঘণ্টা পর।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের গত তিন বছরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে বছরে গড়ে ২৭ হাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটে। এতে পুড়ে যায় ৬০০ কোটির বেশি টাকার সম্পদ।

সবচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটে ঢাকা বিভাগে। মাসভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আগুন লাগে মার্চে।

ফায়ার সার্ভিসের ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই বছর দেশে ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৭ হাজার ৮৬৪ টাকার সম্পদ পুড়ে যায়। 

২০২৪ সালে ২৬ হাজার ৬৫৯টি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতি হয় ৪৪৬ কোটি ২৮ লাখ ৩ হাজার ৬৯৭ টাকার সম্পদ। 

২০২৩ সালে ২৭ হাজার ৬২৪টি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের মূল্য ছিল ৭৯২ কোটি ৩৬ লাখ ৮২ হাজার ১৮ টাকা।

তবে চলতি বছর কতটি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।  

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ আলাপ-কে বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের পর নেভানোর চেয়ে প্রতিরোধে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, একটি অগ্নিকাণ্ডে শুধু সম্পদের ক্ষতি হয় না, মানুষের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য সতর্কতা ও যথাযথ অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।

“জীবনরক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে আমাদের সক্ষমতা যত বাড়বে, ততই মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় কাজ করতে পারবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স,” বলেন মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। তাই এখানে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মার্কেট ও কারখানায় নিয়মিত অগ্নিনির্বাপণ মহড়া আয়োজন করা প্রয়োজন। আগুন লাগলে কীভাবে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে হবে এবং প্রাথমিকভাবে কী পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে মানুষের প্রশিক্ষণ থাকা দরকার।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান আলাপ-কে বলেন, অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, শিল্পকারখানা, হাসপাতাল, বিপণিবিতান ও রাসায়নিক গুদাম পরিদর্শন, অগ্নিঝুঁকি নিরূপণ, প্রশিক্ষণ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ সম্পদ রক্ষাও করেছে ফায়ার সার্ভিস। সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন বছরে আগুনের হাত থেকে ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পদ রক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে প্রায় ৩ হাজার ২৬৩ কোটি, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৯৭৪ কোটি এবং ২০২৩ সালে ১ হাজার ৮০৮ কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা করা হয়।

সবচেয়ে বেশি আগুন ঢাকায়

গত তিন বছরের অগ্নিকাণ্ডের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি আগুন লেগেছে ঢাকা বিভাগে। শুধু ২০২৫ সালেই ৭ হাজার ১৭৯টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ঢাকার পর সবচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে রংপুর বিভাগে। এরপর রয়েছে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ। সবচেয়ে কম অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে।

ঢাকাতে বেশি ঘটনা হরেও আগুন নিয়ন্ত্রণে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয় ফায়ার সার্ভিসকে।

গত ১২ই অক্টোবর পুরান ঢাকার চকবাজারে একটি মার্কেটে আগুন লাগার পর তা পুরোপুরি নেভাতে প্রায় ৩৭ ঘণ্টা সময় লাগে। রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি, সরু গলি, পানির অপর্যাপ্ততা ও বায়ু চলাচলের সীমাবদ্ধতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাপণের কাজে বেগ পেতে হয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের।

১৪ই অক্টোবর টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ওষুধ কারখানায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিটের চেষ্টায় প্রায় চার ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। 

আগুন নেভানোর কাজে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরাও যোগ দেন। তবে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ হয় রাত সাড়ে দশটার দিকে।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার বলেন, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ঘটলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সরু রাস্তা, যানজট ও ভবনের অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

বৈদ্যুতিক গোলযোগে আগুন বেশি

২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি আগুনের ঘটনা ঘটেছে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে। এ কারণে প্রতিবছর গড়ে ৯ হাজারের বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে, ২০২৫ সালে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে ৯ হাজার ৩৯২টি আগুন লাগে, যা ওই বছরের মোট অগ্নিকাণ্ডের ৩৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৬৯টি বা মোট ঘটনার ৩৪ শতাংশ। ২০২৩ সালে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে ৯ হাজার ৮১৩টি অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যা ওই বছরের মোট ঘটনার ৩৫ দশমিক ৫২ শতাংশ।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কারণ বৈদ্যুতিক গোলযোগ ও নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবহার।” 

আগুনের হটটাইম মার্চ

ফায়ার সার্ভিসের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত তিন বছরের সম্মিলিত হিসাবে সবচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে মার্চ মাসে। ২০২৫ সালে মার্চে ৩ হাজার ৫২২টি, ২০২৪ সালে ৩ হাজার ৪২১টি এবং ২০২৩ সালে ৩ হাজার ৩৩৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

মাসভিত্তিক হিসাবে মার্চের পর রয়েছে এপ্রিল। অন্যদিকে, ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে তুলনামূলক কম অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের স্টেশন অফিসার তালহা বিন জসিম বলেন, “এ সময় অসতর্কতা, বৈদ্যুতিক ত্রুটি কিংবা আগুনের উৎস থেকে অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। তাই মার্চসহ শুষ্ক মৌসুমে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। আগুন প্রতিরোধে সচেতনতার পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর রাখাও জরুরি।”

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “তদারকি ও আইন প্রয়োগের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অসচেতনতা, বিধিবিধান প্রতিপালনে অনীহা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের সীমাবদ্ধতা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোবাইল কোর্টসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”