চট্টগ্রাম বিভাগে অতিবৃষ্টির কারণে হওয়া ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
১৪ই জুলাই সচিবালয়ে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
ত্রাণমন্ত্রী জানান, এই বন্যায় প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার ৪৪১টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ পাহাড়ধসে মারা গেছেন।
তিনি জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা দ্রুত মেরামত এবং দুর্গত মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করার কাজ চলছে।
অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য তিন জেলা, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা বন্যার কবলে পড়ে। পরে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটের কিছু এলাকাতেও এর প্রভাব দেখা যায়। অনেক এলাকায় এখন পানি কমতে শুরু করেছে। তাই বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ঘরবাড়ি, কৃষি ও অন্যান্য ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্যার পর ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী।
ত্রাণমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, আটটি জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৬৮টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য সরকার ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি শুকনা খাবারও বিতরন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি জেলায় ২০ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও রান্না করা খাবার ও শুকনা খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার কাজে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড কাজ করছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য স্পিডবোট ও রাবার বোট পাঠানো হয়েছে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত ঠিক করা হবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ নিজ নিজ এলাকার রাস্তা মেরামত করবে। এছাড়া কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ সড়ক সংস্কার করা হবে।
আসাদুল হাবিব দুলু জানান, চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় চলতি বছরের এটি সবচেয়ে বড় বন্যাগুলোর একটি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
ত্রাণমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বুধবার থেকে তিনি নিজে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করবেন। এ জন্য মঙ্গলবার চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।



