সরকারি কর্মচারীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নতুন নির্দেশিকা

আপডেট : ২০ জুন ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সরকারি কর্মচারীরা কটূক্তি, অপপ্রচার এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করলে তাদের চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

'সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯' এর পরিমার্জিত সংস্করণে বলা হয়েছে, সরকারি কাজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ‘সুষ্ঠু ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে’ই নতুন এই নির্দেশনা।  

নতুন নির্দেশ কেন এবং কোন কোন ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন তাও বলে দেওয়া হয়েছে। নাগরিক সেবা প্রদান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি জনবান্ধব প্রশাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, আওতাধীন দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণকর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে এই নির্দেশ।  

এতে বলা হয়েছে, দাপ্তরিক পেইজের ব্যানারে কোনো ব্যক্তির নাম বা পদবির পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো থাকতে হবে। প্রোফাইল বা ব্যানারে কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ছবি ব্যবহার করা যাবে না।

ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে কোনো ক্ষতিকারক কন্টেন্ট বা অপব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন এবং সেক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানাও হয়েছে এই নির্দেশনায়।

সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো পোস্ট আপলোড, কমেন্ট, লাইক কিংবা শেয়ার করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।

নির্দেশিকায় বেশ কিছু বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত প্রকাশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ‘জাতীয় ঐক্য ও চেতনার পরিপন্থী’ এবং ‘কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ লাগতে পারে এমন বিষয়াদি।

একই সাথে রাজনৈতিক মতাদর্শ বা আলোচনা-সংশ্লিষ্ট তথ্য, বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃ-গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যমূলক বা হেয় প্রতিপন্নকারী উপাদান, লিঙ্গ বৈষম্য বা এ সংক্রান্ত বিতর্কমূলক বিষয় এবং জনমনে অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো লেখা, অডিও বা ভিডিও প্রকাশ করা যাবে না।

এছাড়া যেকোনো ধরনের আত্ম-প্রচারণামূলক পোস্ট এবং ভিত্তিহীন, অসত্য ও অশ্লীল তথ্য প্রচার করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে হবে ।

এই নিয়মাবলি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে।