নিউ এইজ পত্রিকায় মেঘনা গ্রুপের বড় বিনিয়োগ, পরিবর্তনের ইঙ্গিত
গেল দুই দশকে ইংরেজি দৈনিকটি নিজেদের একটি স্বাধীন, প্রগতিশীল ও সমালোচনামূলক পত্রিকা হিসেবে পরিচিত করেছে। শীর্ষস্থানীয় করপোরেট মেঘনা গ্রুপের বিনিয়োগ কি ‘ইতিবাচক’ নাকি ‘হুমকি’?
মেরাজ মেভিজ
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএমআপডেট : ০২ মে ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
প্রখ্যাত সাংবাদিক, কূটনীতিবিদ এবং জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার সাবেক মন্ত্রী এজেডএম এনায়েতুল্লাহ্ খান ২০০৩ সালে পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠা করেন।
‘দ্য আউটস্পোকেন ডেইলি’ বা স্পষ্টভাষী দৈনিকের ট্যাগ লাইনে সুপরিচিত ইংরেজি পত্রিকা নিউ এইজ-এর মালিকানায় পরিবর্তন এসেছে। গণমাধ্যমটিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে মেঘনা গ্রুপ।
শনিবার থেকে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে মেঘনা গ্রুপের পথ চলা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পত্রিকার বেশ কয়েকজন কর্মী।
সম্পাদক হিসেবে নুরুল কবির দায়িত্বে থাকলেও পরের পদগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।
“এটা যদিও আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এ নিয়ে সংবাদ করার কিছু নেই। তাছাড়া এটা আমার জন্য নতুন কিছু নয়, বহুবার এমন পরিবর্তন হয়েছে,” আলাপ-কে বলেছেন ফরিদ আহমেদ।
নিউ এইজ-এর মালিকানায় বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকে ‘ইতিবাচক’ আবার ‘হুমকি’ হিসাবে দেখছেন অনেকেই।
এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমসহ মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে চলছে নানারকম আলোচনা।
যুগ পেরিয়ে নিউ এইজ
প্রখ্যাত সাংবাদিক, কূটনীতিবিদ এবং জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার সাবেক মন্ত্রী এজেডএম এনায়েতুল্লাহ্ খান ২০০৩ সালে পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠা করেন। গেল দুই দশকে নিউ এইজ নিজেদের একটি স্বাধীন, প্রগতিশীল ও সমালোচনামূলক ইংরেজি দৈনিক হিসেবে পরিচিত করেছে।
প্রয়াত এনায়েতুল্লাহ্ খানের ছোট ভাই ব্যবসায়ী এএসএম শহিদুল্লাহ খান বাদল ছিলেন পত্রিকাটির মূল অর্থায়নকারী। তার শেয়ারের বড় অংশটি সম্প্রতি কিনে নিয়েছে মেঘনা গ্রুপ।
এছাড়া আগের এইচআরসি গ্রুপসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে।
নিউ এইজ-এ মেঘনা গ্রুপের শেয়ার কত শতাংশ তা জানা না গেলেও এখনই তারা গণমাধ্যমটির ‘এডিটোরিয়াল পলিসিতে’ কোনো ধরনের পরিবর্তন আনতে চায় না।
“কবির ভাই (নূরুল কবির) এডিটর হিসাবে থাকছেন। এমনকি কোম্পানি চেয়ারম্যান হিসাবে বাদল সাহেবই আছেন। আমার নিজের কানে শোনা কথা থেকে আমি এটুকু নিশ্চিত করতে পারি, মেঘনা থেকে তাদের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে এডিটোরিয়াল পলিসিতে পরিবর্তন আসবে না। তবে এখানে স্বাভাবিকভাবেই নতুন অনেকেই আসবেন। সেক্ষেত্রে কয়েকজনকে সরে যেতেও হতে পারে,” নাম গোপন রাখার শর্তে আলাপ-কে বলেছেন মেঘনা গ্রুপ ও নিউ এইজের এই সমঝোতায় থাকা একজন।
নিউ এইজ-এর কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডেপুটি এডিটর ছাড়াও নিউজ এডিটর, ডেপুটি নিউজ এডিটর, চিফ রিপোর্টার পদে আগের অনেককেই ছেঁটে ফেলা হতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে নতুন অনেকেরই নাম শোনা যাচ্ছে সেই পদগুলোতে।
মেঘনা গ্রুপ সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দল নিরপেক্ষ রাখবে বলে মনে করেন জাতীয় দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর সম্পাদক মারুফ কামাল খান।
“আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে সুসম্পর্কের সুবাদে তাদের আশীর্বাদপুষ্ট থাকলেও মেঘনা গ্রুপ এখন পরিবর্তিত শাসন-প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগী এবং তারা তাদের মিডিয়াগুলোকে যতদূর সম্ভব দলনিরপেক্ষ রাখার পক্ষপাতী,” লিখেছেন মারুফ কামাল, যিনি একসময় প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মেঘনা গ্রুপ একাত্তর টিভি -এর “লায়ন শেয়ারের” পাশাপাশি আগামীর সময় নামে আরেকটি “বিগ বাজেটের” বাংলা দৈনিক প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে যা অচিরেই বাজারে আসছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মেঘনা গ্রুপ মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে যেভাবে বিনিয়োগ করছে তাতে সংবাদ প্রভাবিত করার শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন কলামিস্ট ও রাজনীতিবিদ একেএম রেজাউল করিম।
“মেঘনা গ্রুপ ইতোপূর্বে একাত্তর টিভি, আগামীর সময় এবং নাগরিক প্রতিদিন-এর মতো একাধিক মিডিয়া প্রজেক্টে যুক্ত। যখন গুটি কয়েক শিল্পগোষ্ঠীর হাতে বড় বড় সব গণমাধ্যমের মালিকানা চলে যায়, তখন তথ্যের বহুমুখিতা বাধাগ্রস্ত হয়। একে 'মিডিয়া কংগ্লোমোরেশন' বলা হয়, যা অনেক সময় জনমতকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অনুকূলে প্রভাবিত করতে ব্যবহৃত হতে পারে,” শুক্রবার এক ফেইসবুক পোস্টে বলেছেন তিনি।
তবে নিউ এইজ-এ মেঘনা গ্রুপের বিনিয়োগ কর্মীদের “নির্ভার করবে” বলেই মনে করছেন প্রতিষ্ঠানটির অনেকে।
“নিউ এইজ যখন বেতন দিতে পারছিল না তখন কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। আমার মনে হয় নতুন বিনিয়োগ বা মালিকানা পরিবর্তন কর্মীদের জন্য ভালো কিছু হবে। এতে বেতন নিয়ে যে শঙ্কা, তা সম্পূর্ণ কেটে যাবে,” আলাপ-কে বলেছেন পত্রিকাটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মী।
আবার অনেকেই এই মালিকানা পরিবর্তনকে 'রহস্য' হিসাবে দেখছেন ।
কবি, কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদ তার দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “একসময় ডিএফপির তালিকায় শেষ দিকে এর (নিউ এইজ) নাম আসতো। বিজ্ঞাপন বলতে কিছু ছিল না। তবু বাদল ভাই চালিয়ে গেছেন। নূরুল কবীর ভাই সম্পাদক হলেও পত্রিকার ম্যানেজমেন্ট, বিজ্ঞাপন, একাউন্টস, এডমিন, সার্কুলেশন সবই দেখতেন বাদল ভাই। নিউজ নিয়ে কিছু আগ্রহের বাইরে কবীর ভাই এগুলো নিয়ে আগ্রহ দেখাতেন না। বাদল ভাই পারিবারিক ঐতিহ্য হিসেবে কষ্ট করে এত বছর শত বাধা সহ্য করে পত্রিকাটি চালালেও এখন অনেকটা ইতিবাচক পরিস্থিতিতে পত্রিকাটির মালিকানা কেন ছেড়ে দিলেন সেটা বড় রহস্য হয়ে থাকবে।”
বরং বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এই সময়ে আরো ভালোভাবে ‘‘নিউ এইজ চালানো সম্ভব হতো’’ বলেই মনে করছেন তিনি।
নতুন বিনিয়োগ সম্পর্কে জানতে সম্পাদক নুরুল কবিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে আলাপ, তবে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মেঘনা গ্রুপের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার সাথে আলাপ-এর যোগাযোগ হলেও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
নিউ এইজ পত্রিকায় মেঘনা গ্রুপের বড় বিনিয়োগ, পরিবর্তনের ইঙ্গিত
গেল দুই দশকে ইংরেজি দৈনিকটি নিজেদের একটি স্বাধীন, প্রগতিশীল ও সমালোচনামূলক পত্রিকা হিসেবে পরিচিত করেছে। শীর্ষস্থানীয় করপোরেট মেঘনা গ্রুপের বিনিয়োগ কি ‘ইতিবাচক’ নাকি ‘হুমকি’?
‘দ্য আউটস্পোকেন ডেইলি’ বা স্পষ্টভাষী দৈনিকের ট্যাগ লাইনে সুপরিচিত ইংরেজি পত্রিকা নিউ এইজ-এর মালিকানায় পরিবর্তন এসেছে। গণমাধ্যমটিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে মেঘনা গ্রুপ।
শনিবার থেকে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে মেঘনা গ্রুপের পথ চলা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পত্রিকার বেশ কয়েকজন কর্মী।
সম্পাদক হিসেবে নুরুল কবির দায়িত্বে থাকলেও পরের পদগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।
ইতোমধ্যেই সরে দাঁড়াতে হয়েছে ডেপুটি এডিটর ফরিদ আহমেদকে। তালিকায় রয়েছেন আরও কয়েকজন।
“এটা যদিও আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এ নিয়ে সংবাদ করার কিছু নেই। তাছাড়া এটা আমার জন্য নতুন কিছু নয়, বহুবার এমন পরিবর্তন হয়েছে,” আলাপ-কে বলেছেন ফরিদ আহমেদ।
নিউ এইজ-এর মালিকানায় বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকে ‘ইতিবাচক’ আবার ‘হুমকি’ হিসাবে দেখছেন অনেকেই।
এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমসহ মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে চলছে নানারকম আলোচনা।
যুগ পেরিয়ে নিউ এইজ
প্রখ্যাত সাংবাদিক, কূটনীতিবিদ এবং জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার সাবেক মন্ত্রী এজেডএম এনায়েতুল্লাহ্ খান ২০০৩ সালে পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠা করেন। গেল দুই দশকে নিউ এইজ নিজেদের একটি স্বাধীন, প্রগতিশীল ও সমালোচনামূলক ইংরেজি দৈনিক হিসেবে পরিচিত করেছে।
প্রয়াত এনায়েতুল্লাহ্ খানের ছোট ভাই ব্যবসায়ী এএসএম শহিদুল্লাহ খান বাদল ছিলেন পত্রিকাটির মূল অর্থায়নকারী। তার শেয়ারের বড় অংশটি সম্প্রতি কিনে নিয়েছে মেঘনা গ্রুপ।
এছাড়া আগের এইচআরসি গ্রুপসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে।
পরিবর্তন আসছে
নিউ এইজ-এ মেঘনা গ্রুপের শেয়ার কত শতাংশ তা জানা না গেলেও এখনই তারা গণমাধ্যমটির ‘এডিটোরিয়াল পলিসিতে’ কোনো ধরনের পরিবর্তন আনতে চায় না।
“কবির ভাই (নূরুল কবির) এডিটর হিসাবে থাকছেন। এমনকি কোম্পানি চেয়ারম্যান হিসাবে বাদল সাহেবই আছেন। আমার নিজের কানে শোনা কথা থেকে আমি এটুকু নিশ্চিত করতে পারি, মেঘনা থেকে তাদের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে এডিটোরিয়াল পলিসিতে পরিবর্তন আসবে না। তবে এখানে স্বাভাবিকভাবেই নতুন অনেকেই আসবেন। সেক্ষেত্রে কয়েকজনকে সরে যেতেও হতে পারে,” নাম গোপন রাখার শর্তে আলাপ-কে বলেছেন মেঘনা গ্রুপ ও নিউ এইজের এই সমঝোতায় থাকা একজন।
নিউ এইজ-এর কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডেপুটি এডিটর ছাড়াও নিউজ এডিটর, ডেপুটি নিউজ এডিটর, চিফ রিপোর্টার পদে আগের অনেককেই ছেঁটে ফেলা হতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে নতুন অনেকেরই নাম শোনা যাচ্ছে সেই পদগুলোতে।
মেঘনা গ্রুপ সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দল নিরপেক্ষ রাখবে বলে মনে করেন জাতীয় দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর সম্পাদক মারুফ কামাল খান।
“আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে সুসম্পর্কের সুবাদে তাদের আশীর্বাদপুষ্ট থাকলেও মেঘনা গ্রুপ এখন পরিবর্তিত শাসন-প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগী এবং তারা তাদের মিডিয়াগুলোকে যতদূর সম্ভব দলনিরপেক্ষ রাখার পক্ষপাতী,” লিখেছেন মারুফ কামাল, যিনি একসময় প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মেঘনা গ্রুপ একাত্তর টিভি -এর “লায়ন শেয়ারের” পাশাপাশি আগামীর সময় নামে আরেকটি “বিগ বাজেটের” বাংলা দৈনিক প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে যা অচিরেই বাজারে আসছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
নতুন বিনিয়োগ স্বস্তি কতটা
মেঘনা গ্রুপ মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে যেভাবে বিনিয়োগ করছে তাতে সংবাদ প্রভাবিত করার শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন কলামিস্ট ও রাজনীতিবিদ একেএম রেজাউল করিম।
“মেঘনা গ্রুপ ইতোপূর্বে একাত্তর টিভি, আগামীর সময় এবং নাগরিক প্রতিদিন-এর মতো একাধিক মিডিয়া প্রজেক্টে যুক্ত। যখন গুটি কয়েক শিল্পগোষ্ঠীর হাতে বড় বড় সব গণমাধ্যমের মালিকানা চলে যায়, তখন তথ্যের বহুমুখিতা বাধাগ্রস্ত হয়। একে 'মিডিয়া কংগ্লোমোরেশন' বলা হয়, যা অনেক সময় জনমতকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অনুকূলে প্রভাবিত করতে ব্যবহৃত হতে পারে,” শুক্রবার এক ফেইসবুক পোস্টে বলেছেন তিনি।
তবে নিউ এইজ-এ মেঘনা গ্রুপের বিনিয়োগ কর্মীদের “নির্ভার করবে” বলেই মনে করছেন প্রতিষ্ঠানটির অনেকে।
“নিউ এইজ যখন বেতন দিতে পারছিল না তখন কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। আমার মনে হয় নতুন বিনিয়োগ বা মালিকানা পরিবর্তন কর্মীদের জন্য ভালো কিছু হবে। এতে বেতন নিয়ে যে শঙ্কা, তা সম্পূর্ণ কেটে যাবে,” আলাপ-কে বলেছেন পত্রিকাটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মী।
আবার অনেকেই এই মালিকানা পরিবর্তনকে 'রহস্য' হিসাবে দেখছেন ।
কবি, কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদ তার দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “একসময় ডিএফপির তালিকায় শেষ দিকে এর (নিউ এইজ) নাম আসতো। বিজ্ঞাপন বলতে কিছু ছিল না। তবু বাদল ভাই চালিয়ে গেছেন। নূরুল কবীর ভাই সম্পাদক হলেও পত্রিকার ম্যানেজমেন্ট, বিজ্ঞাপন, একাউন্টস, এডমিন, সার্কুলেশন সবই দেখতেন বাদল ভাই। নিউজ নিয়ে কিছু আগ্রহের বাইরে কবীর ভাই এগুলো নিয়ে আগ্রহ দেখাতেন না। বাদল ভাই পারিবারিক ঐতিহ্য হিসেবে কষ্ট করে এত বছর শত বাধা সহ্য করে পত্রিকাটি চালালেও এখন অনেকটা ইতিবাচক পরিস্থিতিতে পত্রিকাটির মালিকানা কেন ছেড়ে দিলেন সেটা বড় রহস্য হয়ে থাকবে।”
বরং বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এই সময়ে আরো ভালোভাবে ‘‘নিউ এইজ চালানো সম্ভব হতো’’ বলেই মনে করছেন তিনি।
নতুন বিনিয়োগ সম্পর্কে জানতে সম্পাদক নুরুল কবিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে আলাপ, তবে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মেঘনা গ্রুপের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার সাথে আলাপ-এর যোগাযোগ হলেও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।