মৃত্যুর মুখে এক ঐতিহ্যবাহী আন্তর্জাতিক মিডিয়া 

বিশ্বে যতগুলো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ভয়েস অফ আমেরিকা (ভিওএ)। ডনাল্ড ট্রাম্পের কলমের এক খোঁচায় ২০২৫ সালের ১৫ই মার্চ থেকে ভিওএ’র সব কার্যক্রম হঠাৎ থমকে যায়। প্রায় ১৩শ কর্মীকে তাৎক্ষনিক সবেতন ছুটিতে পাঠানো হয়। কেন এ াকাজ করলেন ডনাল্ড ট্রাম্প? ভিওএ কি চিরতরে বন্ধ করা হচ্ছে? এটির বেঁচে থাকার কি কোনো উপায় আছে? আলাপের জন্য লিখেছেন ভিওএ বাংলার সাবেক ব্যবস্থাপনা সম্পাদক। 

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪০ এএম

বিশ্বে যতগুলো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম, যুক্তরাষ্ট্রের ভয়েস অফ আমেরিকা তার যাত্রা শুরু করেছিল ১৯৪২ সালে। প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি, ইতালি এবং জাপানের প্রচারণার মোকাবেলা করা। কিন্তু ৮৩ বছর পর বিশ্বব্যাপী খ্যাতি আর প্রভাব অর্জনকারী এই সংবাদ সংস্থার চাকা হঠাই যেন থেমে গেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন-এর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে সরকারি পাড়ায় উইলিয়াম জে কোহেন ভবন। মাত্র আট-নয় মাস আগেও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত সাংবাদিকের হরেক রকমের ভাষার কথাবার্তায় মুখরিত থাকত ভবনটি। রেডিও, টেলিভিশন, ডিজিটাল - বিভিন্ন প্লাটফর্মের কর্মচাঞ্চল্যে প্রাণবন্ত ছিল হোয়াইট হাউস থেকে মাইল খানেক দূরে অবস্থিত এই কোহেন ভবন।   

তবে কোন প্রাকৃতিক কারণে ভিওএ-এর চাকা থেমে যায় নি। কোন অর্থের অভাবে কোহেন ভবন ফাঁকা হয়ে যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ইচ্ছায় এবং আদেশেই এই ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যম এখন মৃত্যুর মুখোমুখি। 

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দ্বিতীয় মেয়াদে ফেডেরাল সরকারের আয়তন ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্প্রচার সংস্থাগুলোর কার্যক্রম কমিয়ে আনার পদক্ষেপ তার পরিকল্পনারই অংশ। তাছাড়া, ট্রাম্প যে ভিওএ কে খুব একটা পছন্দ করেন না, সেটা তিনি কখনো লুকিয়ে রাখেননি। 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বছর মার্চ মাসের ১৪ তারিখ রাতে এক নির্বাহী আদেশ জারী করেন, যেখানে অন্যান্য কয়েকটি সরকারি সংস্থাসহ ভিওএ-এর তদারকি সংস্থা ইউএস এজেন্সি ফর গ্লোবাল মিডিয়া (ইউএসএজিএম) কে তার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে কমিয়ে আনার আদেশ দেয়া হয়। 

এই আদেশে ইউএসএজিএম সহ সাতটি সরকারি এজেন্সিকে বলা হয়, আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই এমন সব কার্যক্রম বন্ধ করতে। আর যেসব কার্যক্রমে আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেই কার্যক্রম এবং লোকবল আইন অমান্য না করে যতদূর কমানো যায়, ততটুকু কমিয়ে ফেলতে বলা হয়। 

প্রেসিডেন্টের কলমের এক খোঁচায় ১৫ই মার্চ থেকে ভিওএ’র সকল কার্যক্রম হঠাৎ থমকে গেল। প্রায় ১৩০০ কর্মীকে  - স্থায়ী  এবং চুক্তিভিত্তিক (কনট্রাক্টর) - তাৎক্ষনিক ছুটিতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তারা বেতন-ভাতা পাবেন ঠিকই, কিন্তু অফিসে আসতে পারবেন না, কোন কাজ করবেন না। 

ভয়েস অফ আমেরিকার ইংরেজি বিভাগ (নিউজ সেন্টার) সহ ৫০টি ভাষা বিভাগের কার্যক্রম থেমে গেল। তাদের ওয়েবসাইটে ১৫ই মার্চ হয়ে গেল শেষ আপডেটের তারিখ। 

ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই 

তবে কর্মী ছাঁটাই-এর প্রক্রিয়া ১৫ই মার্চ শুরু হয় নি। আটাশে ফেব্রুয়ারি এবং ৬ই মার্চ ভিওএ’সহ ইউএসএজিএম-এ যত স্টাফ তখনও তাদের প্রবেশন পর্ব শেষ করেনি, তাদের কয়েক মিনিটের নোটিশে চাকুরিচ্যুত করা হয়। প্রায় ৪০জন সাংবাদিক এবং প্রশাসনিক কর্মী, যাদের অনেকে দেড় থেকে দু বছর কাজ করেছেন, এই প্রক্রিয়ায় চাকরি হারান। 

কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ চ্যালেঞ্জ করে ভিওএ’র এক দল কর্মী আদালতে  মামলা করলে বিচারক ইউএসএজিএমকে সংস্থার কার্যক্রম পুনরায় চালু করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ইউএসএজিএম এই আদেশ অগ্রাহ্য করে ভিন্ন আদালত থেকে তাদের পক্ষে রায় নিয়ে আসে। 

মামলা আর পাল্টা মামলার এই খেলার মাঝে মে মাসে ৫০০ জন কনট্রাক্টরকে টার্মিনেশন নোটিশ পাঠানো হয়। অগাস্ট মাসে স্থায়ী ৫৩২ জন কর্মীকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু ত্রিশে সেপ্টেম্বর আদালত স্থায়ী কর্মীদের ছাঁটাই প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেয়। 

এই আইনগত লড়াই -এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এটা প্রমাণ করা যে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আন্তর্জাতিক সম্প্রচার সংস্থাগুলো বন্ধ করার কোন অধিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেই। 

ভয়েস অফ আমেরিকা যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের সংসদ ইউএস কংগ্রেসের একটি আইনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, তাই সেই প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ করার এখতিয়ার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেই। কিন্তু তিনি ইতোমধ্যে কংগ্রেসে তার দল রিপাবলিকান পার্টির নেতাদের আহবান জানিয়েছেন তারা যেন ২০২৬ সালে ভিওএ’সহ ইউএসজিএম-এর অধিনস্ত সকল সম্প্রচার সংস্থা বন্ধ করে দেয়।  

ভিওএ এবং প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা 

এ ধরনের কিছু একটা যে ঘটতে যাচ্ছে, তার আভাস কিছু দিন আগে থেকেই পাওয়া যাচ্ছিল। বলা যায়, গত বছর ৭ই নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয়ের পর থেকেই ভিওএ-তে ব্যাপক কাটছাঁটের আশংকা অনেকেই করছিলেন। কিন্তু ১৪ই মার্চের নির্বাহী আদেশে যে ব্যাপক আক্রমণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সেটা খুব কম লোকই ধারণা করতে পেরেছিলেন।

নির্বাচনের কিছু দিন পরেই ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, প্রাক্তন টেলিভিশন সাংবাদিক এবং অ্যারিজোনা রাজ্যের একজন রক্ষণশীল রাজনিতিক, ক্যারি লেইক’কে তিনি ভিওএ’র পরবর্তী পরিচালক হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কিন্তু আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভিওএ’র পরিচালক নিয়োগ করতে পারেন না। সেই ক্ষমতা রয়েছে ভিওএ’র তদারকি সংস্থা ইউএসএজিএম-এর প্রধান নির্বাহী বা সিইও’র হাতে।  

ইউএসএজিএম-এর সিইও অ্যামান্ডা বেনেট পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার দিন পদত্যাগ করেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময় (২০১৭-২০২১) বেনেট ভিওএ’র পরিচালক ছিলেন। কিন্তু ২০২০ সালের জুন মাসে ট্রাম্প ইউএসএজিএম-এর সিইও কে বরখাস্ত করলে বেনেট পদত্যাগ করেন। 

সাবির মুস্তাফা ভয়েস আমেরিকার বাংলা বিভাগে ম্যানেজিং এডিটর হিসেবে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

সেসময় ট্রাম্পের পদক্ষেপ অনেকে ভিওএ’র স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেছিলেন। ভিওএ’র ভেতরে একটি গল্প প্রচলিত ছিল যে, ২০২০ সালে চীনের উহান শহরের কোভিডকালীন লকডাউন ৭৬ দিন পরে তুলে নেয়া হলে বেইজিং সেটাকে মহামারির বিরুদ্ধে একটা বড় জয় হিসেবে প্রচার করে। অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মত ভিওএ উহানের কোভিডমুক্ত হবার খবর ইতিবাচক দৃষ্টিতে প্রচার করে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত করে তোলে।     

ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে পুনরায় হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ভয়েস অফ আমেরিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে যায়। 

ইলন মাস্ক আর ক্যারি লেইক 

এসব জল্পনায় প্রাণ সঞ্চার করেন ট্রাম্পের তৎকালীন ঘনিষ্ঠ সহযোগী, ধনকুবের ইলন মাস্ক। ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে মাস্ক ঘোষণা দেন যে, ভয়েস অফ আমেরিকাকে বন্ধ করে দেয়া উচিত। সেসময় মাস্ক ফেডেরাল সরকারের আকার-আয়তন কমিয়ে আনার কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। মাস্কের পোস্ট ভিওএ’র কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল ঠিকই, কিন্তু কেউ হয়ত বিশ্বাস করতে পারেনি ট্রাম্প ভিওএ’র মতো একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে পারেন। 

শুরুতে ক্যারি লেইক ভিওএ বন্ধ করে দেয়ার কথা ভাবছিলেন না। ফেব্রুয়ারি মাসের ২১ তারিখে রক্ষণশীলদের এক বার্ষিক সম্মেলনে ভাষণ দেয়ার সময় তিনি ভিওএকে আমেরিকার হাতে একটি “সফট পাওয়ার” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, বর্তমান বিশ্বের “তথ্যযুদ্ধে” সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হচ্ছে “সত্য” এবং তিনি মনে করেন ভিওএ সেই হাতিয়ার হতে পারবে। 

“কেউ কেউ ভিওএকে বন্ধ করে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন, সেখানে অনেক দুর্নীতি থাকার কারণে, আমি সেটা বুঝি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি ভিওএকে বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন,” ওয়াশিংটনে  সিপ্যাক সম্মেলনে ভাষণ দেয়ার সময় লেইক বলেন। “তুলনামূলকভাবে কম খরচে এবং সৎ রিপোর্টিং দিয়ে আমরা সারা বিশ্বে মুক্তির মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে পারি।”  

কিন্তু এর পর থেকেই ঘটনা প্রবাহ হঠাৎ গতি পেতে শুরু করে। ট্রাম্প এবং তার সহযোগীরা মনে করেন যে, আমেরিকান করদাতাদের টাকায় পরিচালিত ভিওএ এবং ইউএসএজিএম-এর অধিনস্ত অন্যান্য সংস্থা “অতি বামপন্থীদের” হাতে চলে গেছে। আমেরিকান রাজনীতির প্রেক্ষাপটে, রক্ষণশীলরা মূলত উদারপন্থীদের বামপন্থী হিসেবে গণ্য করে। লেইক নিজেও অভিযোগ করেন যে ভিওএতে ট্রাম্পের কোন সমর্থকের চাকরী পাওয়া অসম্ভব করে রাখা হয়েছে। তার ভাষায়, ভিওএকে “ট্রাম্প-প্রুফ” করা হয়েছে। “এই প্রতিষ্ঠানকে উদ্ধার করা সম্ভব না,” লেইক এক পর্যায়ে বলেন। 

জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্ব 

ক্যারি লেইক ইউএসএজিএম-এর “সিনিয়র অ্যাডভাইজার” হিসেবে ভবনে প্রবেশ করেন এবং একটি অফিস দখল করে জাঁকিয়ে বসেন। ভিওএ’র পরিচালক বা অন্য কোন সিনিয়র লোকের সাথে বৈঠক না করেই তিনি প্রতিষ্ঠানটি ভেঙ্গে চুরমার করার কাজ শুরু করে দেন।

জুলাইয়ের শেষে লেইক নিজেকে ইউএসএজিএম-এর ভারপ্রাপ্ত সিইও ঘোষণা করেন - যদিও এই পদ দখল করার তার কোন আইনগত অধিকার আছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক এখনো চলমান। লেইক-এর  ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেয়াটা ভবিষ্যতে আদালতে সফলভাবে চ্যালেঞ্জ করা হলে, এ সময় তার নেয়া সকল পদক্ষেপ প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে অনেক আইনজীবী মনে করেন।  

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের ফলে ভিওএ’র প্রায় ৪০ কোটি শ্রোতা-দর্শক-পাঠক তাদের পছন্দের গণমাধ্যমের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শূন্যস্থান পূরণ করতে অনেকে হয়তো বিবিসিকে বেছে নিয়েছেন। তবে আমেরিকায় অনেকে আশঙ্কা করছেন এই সুযোগে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক চ্যানেল ‘আরটি’ আর চীনের ‘সিজিটিএন’ তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।   

এর মধ্যে ইউএসএজিএম কর্তৃপক্ষ আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে সীমিত পরিসরে ভিওএ’র কার্যক্রম শুরু করে। জুন মাসের শুরুর দিকে ক্যারি লেইক কংগ্রেসকে জানান যে, তিনি ভিওএতে মাত্র চারটি ভাষায় সম্প্রচার পুনরায় চালু করবেন। এগুলো হচ্ছে আফগানিস্তানের জন্য পশতু এবং দারি, ইরানের জন্য ফারসি আর চীনের জন্য ম্যান্ডারিন। তাছাড়া, তিনি  কিউবার উদ্দ্যেশে স্প্যানিশ ভাষায় প্রচার করা রেডিও স্টেশন রেডিও মার্টি চালু রাখার কথা জানান। 

কিউবাসহ এই চারটি অঞ্চলকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেজন্য, এ চারটি দেশে তাদের ভাষায় আমেরিকার বক্তব্য সম্প্রচারকে ক্যারি লেইক ন্যূনতম আইনগত বাধ্যবাধকতা মেনে চলার প্রমাণ হিসেবে দেখাতে পারছেন। 

লোকবল নিয়ে তার পরিকল্পনাকে ‘ভয়ানক’ না বলে উপায় নেই। তার “রিডাকশন ইন ফোর্স” বা রিফ কর্মসূচী বাস্তবায়নের পর ভিওএ’র কর্মী সংখ্যা ১,৩০০ থেকে কমে হবে ৮১। তবে এই রিফ কর্মসূচির চূড়ান্ত পর্ব বাস্তবায়নের পথে এখন মূল বাধা হচ্ছে আদালত। 

অন্য দিকে, অনেকেই আশা করছেন কংগ্রেসের সকল বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক সদস্য এবং রিপাবলিকান দলের কিছু সদস্য এক যোগে কাজ করলে ইউএসএজিএম পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ার পরিকল্পনা আটকে দেয়া সম্ভব হবে। 

তাদের অনেকে আরও আশা করছেন যে, ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে কংগ্রেসের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা যদি সংসদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান, তাহলে হয়ত ভিওএ-কে, পুরোপুরি না হলেও, অনেকাংশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। 

তবে এসব ‘আশা’ কি শুধুই আশা, নাকি বাস্তব সম্ভাবনাও আছে, তা বুঝতে আরও অন্তত এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। 

(লেখক ভয়েস আমেরিকার বাংলা বিভাগে ম্যানেজিং এডিটর হিসেবে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ২০০১ সালের জুন থেকে ২০২৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিবিসি বাংলার সম্পাদক ছিলেন।)