বিলিয়ন ডলারে ইউএই’র সাথে কী সমঝোতা করছে ইরান

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড় দিতে রাজি হয়েছে। তবে এই অর্থ কোথা থেকে আসছে এবং কী শর্তে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা আছে।

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পিএম

কয়েক সপ্তাহ আগেও ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন হামলার অভিযোগ করে আসছিলো। এই দুই দেশই এবার সমঝোতা করছে বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড় দিতে রাজি হয়েছে। তবে এই অর্থ কোথা থেকে আসছে এবং কী শর্তে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা আছে।

চারটি সূত্রের রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে ইরানের হামলার শিকার হওয়ার পর ইউএই এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়।

দুটি আঞ্চলিক সূত্র দাবি করেছে, ইউএই মোট ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড় দিতে রাজি হয়েছে। এর মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি এরই মধ্যে দেওয়া হয়েছে।

তবে ভিন্ন দুটি সূত্র বলছে, এই অর্থের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তাদের মতে, ইউএইর ওপর হামলা বন্ধ করার বিনিময়েই এই সমঝোতা হয়েছে।

যদিও এই খবর প্রকাশ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতি দিয়ে পুরো বিষয়টিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের কোনো জব্দ বা স্থগিত তহবিল ইউএইর মাধ্যমে ছাড়, স্থানান্তর কিংবা ব্যবস্থাপনা করা হয়নি। এর বাইরে আর কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেয়নি আবুধাবি।

বিষয়টি সম্পর্কে জানে এমন একটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স বলছে, অর্থ ছাড়ের বিনিময়ে ইরান ইউএইর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।

এমনকি গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি। একই ধরনের সমঝোতার জন্য ইরান অন্তত আরও দুটি উপসাগরীয় দেশের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে।

একদিকে যুদ্ধ, আরেকদিকে সমঝোতা

যুদ্ধের বেশিরভাগ সময়জুড়ে ইউএই ও ইরানের প্রকাশ্য সম্পর্ক ছিল বৈরিতাপূর্ণ। ইরানি হামলার কারণে দুবাইয়ের হোটেলগুলো খালি হয়ে যায়, বহু প্রবাসী দেশ ছাড়েন এবং নিরাপদ ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে ইউএইর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তাই ইউএইর জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুবাইয়ের অর্থনৈতিক অবস্থান রক্ষা করা এখন বড় অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।

কয়েক সপ্তাহ আগে আলোচনা শুরু হলেও গত সপ্তাহে ইরানের প্রভাবশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কর্মকর্তারা আবুধাবি সফর করার পর আলোচনা গতি পায়।

দুবাইয়ের ব্যাংকে আটক ইরানি অর্থ

দুবাই দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে। ইউএইর ব্যাংকগুলোতে ইরানের বিপুল পরিমাণ আমানত রয়েছে, যার বড় অংশ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত।

তবে আলোচিত এই বিলিয়ন ডলার সেই অর্থের অংশ কি না, নাকি অন্য কোনো উৎস থেকে আসছে তা স্পষ্ট হয়নি।

এই খবর অবশ্য নাকচ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও। তিনি বলেছেন, কোনো বৈঠক বা চুক্তিতে অংশ নেওয়ার বিনিময়ে ইরানকে সরাসরি অর্থ দেওয়া হবে না। তার ভাষায়, “সম্ভাব্য চুক্তি এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যাতে ইরান নিজেদের অঙ্গীকার পূরণ করলেই কেবল অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে।”