ফুটবল মাঠে আবারও মৃত্যু, দে মিগুয়েলের ট্র্যাজিক বিদায়ে স্তব্ধ ফুটবল বিশ্ব

ম্যাচের তখন একেবারে অন্তিম মূহুর্ত, অতিরিক্ত সময়ে ৯৭ মিনিটের খেলা চলছে। টেনেরিফ আর এফসি অ্যান্ডোরার ম্যাচে তখন ২-২ সমতা। শেষ মূহুর্তে নিজেদের মাঠে দলকে জেতাতে মরিয়া মিগুয়েল গোল করার আশায় প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের দিকে ছুটছিলেন। কিন্তু দ্রুতগতিতে নিজের দলকে বাচাতে মাঝমাঠে চলে আসেন অ্যান্ডোরার গোলরক্ষক হেসুস অয়োনো। আর সেখানেই দুদিক থেকে ছুটতে থাকা মিগুয়েল আর অয়োনোর সংঘর্ষ। 

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম

ফুটবল খেলে নিজেকে মেলে ধরতে কে না চায়! সবাই চায় সারা পৃথিবী তাকে চিনুক, জানুক। তবে হেসুস দে মিগুয়েল আলামেদার মতো করে নিশ্চয় নয়! 

খেলতে খেলতেই ফুটবল মাঠে মাত্র ৩০ বছর বয়সে থেমে গেল তার প্রাণ। এরই মধ্যে গোটা ফুটবল দুনিয়া জেনে গেছে তার নাম। স্পেনের ২য় বিভাগের দল টেনেরিফের স্ট্রাইকার দে মিগুয়েল আর নেই। 

সোমবার নিজেদের মাঠে খেলার একেবারে শেষ মূহুর্তে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের সাথে খান ধাক্কা। সাথে সাথে মাঠেই লুটিয়ে পড়েন। সেখানেই মিনিট পাচেকের প্রাথমিক চিকিতসার পর তাকে নেয়া হয় হাসপাতালে। কিন্তু সেই যে জ্ঞান হারিয়েছেন, সেই জ্ঞান আর ফিরলো না। 

তার ক্লাব মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, "তীব্র বেদনাগ্রস্ত হৃদয়ে, রুদ্ধ কণ্ঠে, এমন এক নির্মম সত্য যা এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না, সেটাই সিডি টেনেরিফ জানাচ্ছে যে —আমাদের প্রিয় হেসুস দে মিগেল আলামেদা আর নেই।" 

ম্যাচের তখন একেবারে অন্তিম মূহুর্ত, অতিরিক্ত সময়ে ৯৭ মিনিটের খেলা চলছে। টেনেরিফ আর এফসি অ্যান্ডোরার ম্যাচে তখন ২-২ সমতা। শেষ মূহুর্তে নিজেদের মাঠে দলকে জেতাতে মরিয়া মিগুয়েল গোল করার আশায় প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের দিকে ছুটছিলেন। কিন্তু দ্রুতগতিতে নিজের দলকে বাচাতে মাঝমাঠে চলে আসেন অ্যান্ডোরার গোলরক্ষক হেসুস অয়োনো। আর সেখানেই দুদিক থেকে ছুটতে থাকা মিগুয়েল আর অয়োনোর সংঘর্ষ। 

ইকুয়েটেরিয়াল গিনির এই গোলরক্ষকের হাটু আর শরীরের জোর ধাক্কা লাগে মিগুয়েলের মাথায় আর বুকে। লুটিয়ে পড়েন তিনি। বন্ধ হয়ে যায় খেলা। রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখান অ্যান্ডোরার গোলরক্ষককে। মেডিক্যাল টিম এসে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করে মিগুয়েলের। কিন্তু ততক্ষণে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় তার। পাচ মিনিটের মধ্যেই অ্যাম্বুলেন্সে করে নেয়া হয় সান্তা ক্রুজের হাসপাতালে। 

 এরপর থেকেই চলছিল প্রতীক্ষা আর প্রার্থনা। রাতে তার অবস্থা সঙ্কটজনক হলেও স্থিতিশীল ছিল বলে জানানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাইকে শোকে স্তব্ধ করে পরপারে পারি জমান মিগুয়েল। 

১৯৯৬ সালে মাদ্রিদে জন্ম নেয়া যে ফুটবলার ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটা সময় স্পেনের অপেশাদার লিগ এবং ৩য় ও ২য় টায়ারের দলগুলোতে খেলেছন, তার মৃত্যুতে এখন বন্ধ স্পেনের ফুটবল। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন মঙ্গলবারের সমস্ত সূচি স্থগিত করেছে। লা লিগার প্রেসিডেন্ট হ্যাভিয়ের তেবাসও শোক জানিয়েছেন এবং মিগুয়েলের পরিবারের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। 

এই ঘটনায় সবচেয়ে আলোচনায় স্পেন ও বার্সেলোনার সাবেক ফুটবলার জেরার্ড পিকে। এফসি অ্যান্ডোরার সিংহভাগ মালিক তিনিই। অ্যান্ডোরা তো শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেই, পিকে তার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “আমার দু:খ প্রকাশের ভাষা নেই। রেস্ট ইন পিস হেসুস।”

দে মিগুয়েলের পরিচিত হয়ে উঠছিল ছোট দলের বড় তারকা হিসেবে। ক্যাস্টেলন থেকে টেনেরিফে এসে ক্লাবকে ৩য় বিভাগ থেকে ২য় বিভাগে তুলতে রাখেন বড় ভূমিকা। টেনেরিফের হয়ে ৩৪ ম্যাচে ১১ গোল তার। ক্যাস্টেলনকেও ২য় বিভাগে টেনে তুলতে হয়েছিলেন দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। 

এখন সবাই শোক জানাচ্ছে, নানান আয়োজন-আনুষ্ঠানিকতাও চলবে দে মিগুয়েলকে ঘিরে, কিন্তু এর কোনকিছুই যেমন দে মিগুয়েল আর দেখতে পারবেন না, তেমনি তার পরিবার বিশেষ করে ১ বছর বয়সী তার শিশুকন্যা তার অভাবও কোনদিনই ভুলতে পারবে না। 

ফুটবল মাঠে খেলতে খেলতে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঘটনা ঘটে প্রায়শই। গত বছর স্পেনেই ৫ম বিভাগের এক লিগে অনেকটা একইরকম ভাবে প্রতিপক্ষের ফুটবলারের সাথে সংঘর্ষে প্রাণ হারান রাউল রামিরেজ। ফুটবলে নানা নিয়ম কানুন পরিবর্তন ও চিকিতসা বিজ্ঞানের উন্নতির পরও মাঠে কখনো কখনো এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যায় না, যা হয়তো নতুন করে ভাবাতে পারে ফুটবল নিয়ন্ত্রকদের।