ভিএআর’র যে বিতর্কিত সিদ্ধান্তে জার্মানির বিশ্বকাপ যাত্রার সমাপ্তি

 

 

 

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ এএম

জার্মানি ভেবেছিল শেষ পর্যন্ত তারা বেঁচে গেছে। অতিরিক্ত সময়ের ১২ মিনিটে ডিফেন্ডার জনাথন তাহের হেডে দল ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। কিন্তু আনন্দ স্থায়ী হয়নি। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) হস্তক্ষেপ করে গোল বাতিল করে দেয়। আর সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত জার্মানির বিশ্বকাপ বিদায়ের অন্যতম বড় আলোচনায় পরিণত হয়।

কর্নার থেকে আসা বলে বক্সের ভেতরে প্রায় ফাঁকাই ছিলেন তাহ। শক্তিশালী হেডে তিনি বল জড়িয়ে দেন জালে। তবে গোলের ঠিক আগে জার্মানির ভালদেমার অ্যান্টনের সঙ্গে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের সংস্পর্শকে ফাউল হিসেবে দেখা হয়।

ঘটনায় দেখা যায়, কর্নার নেওয়ার সময় গিল মাটিতে পড়ে যান। পরে উঠে এসে তাহের হেড ঠেকানোর চেষ্টা করলেও ভিএআর’র পরামর্শে রেফারি জালাল জায়েদ মাঠের পাশের মনিটরে গিয়ে সিদ্ধান্ত বদলান এবং গোল বাতিল করেন।

এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার। বিবিসিকে তিনি বলেন, তিনি সিদ্ধান্তটির সঙ্গে একেবারেই একমত নন।

শিয়ারারের ভাষায়, গোলরক্ষক সামান্য স্পর্শে পড়ে গেছেন এবং ঘটনাটি খুবই হালকা ছিল। তিনি বলেন, ফুটবল তো শারীরিক সংস্পর্শের খেলা। তার মতে গোলরক্ষক রেফারি ও ভিএআরকে প্রভাবিত করতে পেরেছেন।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ম্যাচ ১-১ সমতায় থাকলে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোতে উঠে যায় প্যারাগুয়ে।

ম্যাচ শেষে জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমানও নিজের হতাশা লুকাননি। তার মতে, সেটি কোনোভাবেই প্রকৃত ফাউল ছিল না এবং গোল বাতিল হওয়াটা ছিল হাস্যকর।

প্রতিবাদ করতে গিয়ে নাগেলসমান হলুদ কার্ডও দেখেন। ম্যাচের পর তার ভবিষ্যত নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

এদিকে জার্মান টেলিভিশনের বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করা সাবেক লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপও সিদ্ধান্তটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তার বক্তব্য, যদি এই ধরনের গোল অবৈধ ধরা হয়, তাহলে আর্সেনালও ইংল্যান্ডের চ্যাম্পিয়ন হতে পারত না। কারণ মৌসুমে দলটির অনেক গোলই এসেছে এমন পরিস্থিতি থেকে। ক্লপের মতে, বল জালে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জার্মানি কার্যত ম্যাচ জিতে গিয়েছিল। তাই এই সিদ্ধান্ত দলের জন্য খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে সাবেক প্রিমিয়ার লিগ সহকারী রেফারি ড্যারেন ক্যানও মনে করেন সিদ্ধান্তটি খুব নরম ছিল। তার মতে, ছোটখাটো সংস্পর্শ থাকলেও সেটি গোল বাতিল করার মতো পর্যায়ের নয়।

বিবিসি রেডিওর বিশ্লেষক ও সাবেক স্কটল্যান্ড উইঙ্গার প্যাট নেভিনও বলেন, ঘটনাটি ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল। গোলরক্ষকের ওপর কিছুটা প্রভাব পড়েছিল কি না সেটি পরিষ্কার নয়। তাই এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থাকবেই।

বিশ্বকাপে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বহুদিন ধরেই আলোচনা চলছে। তবে জার্মানির জন্য এই ম্যাচটি হয়তো মনে থাকবে এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে থেমে যাওয়া এক স্বপ্নের গল্প হিসেবে।