বিশ্বকাপে উত্থান–পতনের লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে এসেও লিওনেল মেসি কখনো করেননি তা। এখন, মানে আর সপ্তাহখানেক পরই যার বয়সটা ৩৯ হয়ে যাবে, তখন তিনি করলেন আরও একটা নতুন কিছু।
শিহাব আহসান খান
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ১০:০৯ এএমআপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৪ এএম
গল্পটা আপনার চেনা। বহু রাত পার করে দিয়েছেন হয়তো এমন কোনো দৃশ্য দেখতে দেখতে। কিন্তু গল্পটা আপনার প্রিয়, গল্পের নায়ক আপনার শৈশব–কৈশোর। একই সিনেমা তাই আপনার ভালো লাগে বারবার।
তবু এবার হয়তো আপনি (বিশ্বকাপ) সিনেমাটা দেখতে বসেছিলেন আশা না রেখেই। সত্যিই কী তাই? তেমন হলে তো লিওনেল মেসি এবার বিশ্বকাপটা খেলতেই আসতেন না। তিনি যখন এলেন, তখন বিশেষ কিছু না করলে কী করে হয়।
তিনি তা করলেন প্রথম ম্যাচেই। তা কী করলেন? হ্যাটট্রিক। বিশ্বকাপে উত্থান–পতনের লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে এসেও লিওনেল মেসি কখনো করেননি তা। এখন, মানে আর সপ্তাহখানেক পরই যার বয়সটা ৩৯ হয়ে যাবে, তখন তিনি করলেন আরও একটা নতুন কিছু।
বিশ্বকাপে তার আর কী পাওয়ার আছে, এই প্রশ্ন সঙ্গী করে তিনি যখন আজ আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামলেন প্রথমবার, মেসি তার উত্তর দিলেন হ্যাটট্রিক করেই। হয়তো একটা বার্তাও দিয়ে রাখলেন, সামনে আরও অনেক কিছু বাকি আছে।
তার সামনে আজ ছিলেন জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা জিদান। আলজেরিয়ার গোলপোস্ট সামলানোর ভারটা ছিল তার কাঁধে। রেয়াল মাদ্রিদের একাডেমিতে বেড়ে উঠেছেন, বয়সভিত্তিক দলগুলোতে খেলতেন ফ্রান্সের হয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি বেছে নিয়েছেন বাবার জন্মভূমি আলেজরিয়াকে।
জিনেদিনের শেষ বিশ্বকাপ ছিল ২০০৬ সালে, মেসির সেবারই শুরু। দুই দশকের পথ পাড়ি দিয়ে এসে মেসির জোরালো শটটা থামাতে না পারার হতাশায় লুকা যখন মুষড়ে পড়েন, তখন নিশ্চয়ই আপনার মনে বিস্ময় জাগে, সময়ের গল্পগুলোতে মেসি এত উজ্জ্বল হয়ে উঠেন।
বক্সের বাইরে থেকে গোল, ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় পৌঁছে শেষ ছোঁয়া, মেসি অপ্রতিরোধ্য হয়ে যান সবকিছুতে। নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে এসেছেন, আর্জেন্টিনার হয়ে দুইশতম ম্যাচও খেলতে নেমেছেন, সবই এখন মেসির জন্য রেকর্ড।
কিন্তু রেফারি বাঁশি বাজালেই হয়ে যাওয়া সেসব রেকর্ডে ঠিক তৃপ্তি মেলে না। প্রথম গোলটার কথাই ধরুন, বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া মেসির শটটা যখন লুকা থামাতে পারেননি, তখনই লেখা হয়ে গেল নতুন একটা ইতিহাস।
১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে এ পর্যন্ত হিসাব জানাচ্ছে, বক্সের বাইরে থেকে এই সময়ে বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির চেয়ে বেশি গোল নেই আর কারও, পাঁচটি। প্রথমার্ধ পেরিয়ে যায় এতোটুকুতেই। একটা গোল তো নিরাপদও নয় আর্জেন্টিনার জয়ের জন্য, তা মেসির চেয়ে ভালো আর কেইবা জানেন।
প্রথমার্ধের বিরতি পেরিয়ে তিনি মাঠে ফেরেন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে। ম্যাক অ্যালিস্টারের শটটা থামিয়েই দিয়েছিলেন লুকা জিদান, হুট করেই বক্সের এক কোনায় দাঁড়িয়ে থাকা মেসি এমন দৌড় শুরু করলেন, পেছনে পড়া অসহায় ডিফেন্ডারের চাহনিতে অসহায়ত্ব বুঝতে পারার কথা যেকারও। আলতো স্পর্শে জোড়া গোল করা মেসি এবার আরেকটা ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে, বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছেন দুবার, একবার চ্যাম্পিয়নও। এমন অনেক সময় গেছে যখন দলকে তিনি টেনে নিয়ে গেছেন একাই। কিন্তু বিশ্বকাপে কি না তার হ্যাটট্রিক নেই।
এই অপূর্ণতা নিয়েই কি ক্যারিয়ারটা শেষ হয়ে যাবে? বক্সের বাইরে থেকে হুট করে ভেতরে ঢুকে যান মেসি, শটও নেন, কিন্তু লুকার স্পর্শে তা মাথার উপরে দিয়ে চলে যায়। তাহলে? এবারও কি হ্যাটট্রিক হবে না।
আপনার মনেও হয়তো সংশয় জাগে। তা কাটাতে মেসির দরকার হয় স্রেফ কয়েক মিনিটের। নিকো গঞ্জালেসের কাছে বলটা বাড়িয়ে দেন মেসিই। সেটি আবার ফেরত পেয়ে বাঁ পায়ের শটটা চলে যায় আলজেরিয়ার গোলপোস্টের কোনা দিয়ে, গোল, হ্যাটট্রিকও।
মেসির অপূর্ণতা ঘুচল। আরও একটা রেকর্ডেও লেখা হলো তার নাম। ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সের মেসিই এখন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক করা ফুটবলার।
সংখ্যায় হয়তো আপনার কিছু যায় আসে না, মেসির তো আরও নয়। কিন্তু এটা ভেবে কী অবাক হন না, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছর কিংবা যুগ পেরিয়ে গিয়েও কীভাবে তিনি এমনভাবে ফুটবল খেলেন। যেন আপনি রাত জাগতে পারেন আরও একবার, হয়তো আরও অনেকবার।
হ্যাটট্রিক ও সময়ের গল্পে মেসি
বিশ্বকাপে উত্থান–পতনের লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে এসেও লিওনেল মেসি কখনো করেননি তা। এখন, মানে আর সপ্তাহখানেক পরই যার বয়সটা ৩৯ হয়ে যাবে, তখন তিনি করলেন আরও একটা নতুন কিছু।
গল্পটা আপনার চেনা। বহু রাত পার করে দিয়েছেন হয়তো এমন কোনো দৃশ্য দেখতে দেখতে। কিন্তু গল্পটা আপনার প্রিয়, গল্পের নায়ক আপনার শৈশব–কৈশোর। একই সিনেমা তাই আপনার ভালো লাগে বারবার।
তবু এবার হয়তো আপনি (বিশ্বকাপ) সিনেমাটা দেখতে বসেছিলেন আশা না রেখেই। সত্যিই কী তাই? তেমন হলে তো লিওনেল মেসি এবার বিশ্বকাপটা খেলতেই আসতেন না। তিনি যখন এলেন, তখন বিশেষ কিছু না করলে কী করে হয়।
তিনি তা করলেন প্রথম ম্যাচেই। তা কী করলেন? হ্যাটট্রিক। বিশ্বকাপে উত্থান–পতনের লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে এসেও লিওনেল মেসি কখনো করেননি তা। এখন, মানে আর সপ্তাহখানেক পরই যার বয়সটা ৩৯ হয়ে যাবে, তখন তিনি করলেন আরও একটা নতুন কিছু।
বিশ্বকাপে তার আর কী পাওয়ার আছে, এই প্রশ্ন সঙ্গী করে তিনি যখন আজ আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামলেন প্রথমবার, মেসি তার উত্তর দিলেন হ্যাটট্রিক করেই। হয়তো একটা বার্তাও দিয়ে রাখলেন, সামনে আরও অনেক কিছু বাকি আছে।
তার সামনে আজ ছিলেন জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা জিদান। আলজেরিয়ার গোলপোস্ট সামলানোর ভারটা ছিল তার কাঁধে। রেয়াল মাদ্রিদের একাডেমিতে বেড়ে উঠেছেন, বয়সভিত্তিক দলগুলোতে খেলতেন ফ্রান্সের হয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি বেছে নিয়েছেন বাবার জন্মভূমি আলেজরিয়াকে।
জিনেদিনের শেষ বিশ্বকাপ ছিল ২০০৬ সালে, মেসির সেবারই শুরু। দুই দশকের পথ পাড়ি দিয়ে এসে মেসির জোরালো শটটা থামাতে না পারার হতাশায় লুকা যখন মুষড়ে পড়েন, তখন নিশ্চয়ই আপনার মনে বিস্ময় জাগে, সময়ের গল্পগুলোতে মেসি এত উজ্জ্বল হয়ে উঠেন।
বক্সের বাইরে থেকে গোল, ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় পৌঁছে শেষ ছোঁয়া, মেসি অপ্রতিরোধ্য হয়ে যান সবকিছুতে। নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে এসেছেন, আর্জেন্টিনার হয়ে দুইশতম ম্যাচও খেলতে নেমেছেন, সবই এখন মেসির জন্য রেকর্ড।
কিন্তু রেফারি বাঁশি বাজালেই হয়ে যাওয়া সেসব রেকর্ডে ঠিক তৃপ্তি মেলে না। প্রথম গোলটার কথাই ধরুন, বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া মেসির শটটা যখন লুকা থামাতে পারেননি, তখনই লেখা হয়ে গেল নতুন একটা ইতিহাস।
১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে এ পর্যন্ত হিসাব জানাচ্ছে, বক্সের বাইরে থেকে এই সময়ে বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির চেয়ে বেশি গোল নেই আর কারও, পাঁচটি। প্রথমার্ধ পেরিয়ে যায় এতোটুকুতেই। একটা গোল তো নিরাপদও নয় আর্জেন্টিনার জয়ের জন্য, তা মেসির চেয়ে ভালো আর কেইবা জানেন।
প্রথমার্ধের বিরতি পেরিয়ে তিনি মাঠে ফেরেন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে। ম্যাক অ্যালিস্টারের শটটা থামিয়েই দিয়েছিলেন লুকা জিদান, হুট করেই বক্সের এক কোনায় দাঁড়িয়ে থাকা মেসি এমন দৌড় শুরু করলেন, পেছনে পড়া অসহায় ডিফেন্ডারের চাহনিতে অসহায়ত্ব বুঝতে পারার কথা যেকারও। আলতো স্পর্শে জোড়া গোল করা মেসি এবার আরেকটা ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে, বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছেন দুবার, একবার চ্যাম্পিয়নও। এমন অনেক সময় গেছে যখন দলকে তিনি টেনে নিয়ে গেছেন একাই। কিন্তু বিশ্বকাপে কি না তার হ্যাটট্রিক নেই।
এই অপূর্ণতা নিয়েই কি ক্যারিয়ারটা শেষ হয়ে যাবে? বক্সের বাইরে থেকে হুট করে ভেতরে ঢুকে যান মেসি, শটও নেন, কিন্তু লুকার স্পর্শে তা মাথার উপরে দিয়ে চলে যায়। তাহলে? এবারও কি হ্যাটট্রিক হবে না।
আপনার মনেও হয়তো সংশয় জাগে। তা কাটাতে মেসির দরকার হয় স্রেফ কয়েক মিনিটের। নিকো গঞ্জালেসের কাছে বলটা বাড়িয়ে দেন মেসিই। সেটি আবার ফেরত পেয়ে বাঁ পায়ের শটটা চলে যায় আলজেরিয়ার গোলপোস্টের কোনা দিয়ে, গোল, হ্যাটট্রিকও।
মেসির অপূর্ণতা ঘুচল। আরও একটা রেকর্ডেও লেখা হলো তার নাম। ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সের মেসিই এখন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক করা ফুটবলার।
সংখ্যায় হয়তো আপনার কিছু যায় আসে না, মেসির তো আরও নয়। কিন্তু এটা ভেবে কী অবাক হন না, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছর কিংবা যুগ পেরিয়ে গিয়েও কীভাবে তিনি এমনভাবে ফুটবল খেলেন। যেন আপনি রাত জাগতে পারেন আরও একবার, হয়তো আরও অনেকবার।
বিষয়: