বিশ্বকাপ খেললেই ১১০ কোটি টাকা: ২০২৬ বিশ্বকাপের রেকর্ড প্রাইজমানি নিয়ে যা জানা দরকার
আলাপ স্পোর্টস
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ১১:৪০ এএমআপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসরই নয়, এটি এখন বিশ্বের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক ইভেন্টও। ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপ সেই বাস্তবতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
এবারের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো অংশ নেবে ৪৮টি দল। ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে হবে ১০৪। আর সেই সঙ্গে বেড়েছে পুরস্কারের অর্থও।
ফিফা জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলের মধ্যে মোট ৬৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাইজমানি হিসেবে বিতরণ করা হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৮ হাজার ১০০ কোটিরও বেশি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)।
সবচেয়ে বড় চমক অপেক্ষা করছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য।
২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ী দল পাবে ৫ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ৬১০ কোটি টাকা। শুধু একটি ট্রফি জয় করেই একটি দেশ পাবে বাংলাদেশের অনেক বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আয়ের সমপরিমাণ অর্থ।
রানার্স-আপ দলের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০৩ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পাবে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার বা প্রায় ৩৫৪ কোটি টাকা। আর চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা প্রায় ৩২৯ কোটি টাকার সমান।
কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে বিদায় নেওয়া চারটি দলও পাবে মোটা অংকের পুরস্কার। প্রতিটি দল পাবে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২৩২ কোটি টাকা।
শেষ ষোলোতে পৌঁছানো দলগুলোর জন্য রয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা প্রায় ১৮৩ কোটি টাকা। রাউন্ড অব ৩২-এ বিদায় নেওয়া দলগুলো পাবে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা প্রায় ১৩৪ কোটি টাকার সমান।
সবচেয়ে অবাক করার মতো তথ্য হলো, গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্যও রয়েছে ৯০ লাখ ডলার বা প্রায় ১১০ কোটি টাকার পুরস্কার। অর্থাৎ একটি দল যদি একটি ম্যাচও না জেতে, তবুও তারা দেশে ফিরবে শত কোটির বেশি অর্থ নিয়ে।
২০২৬ সালের প্রাইজমানির প্রকৃত গুরুত্ব বোঝার জন্য ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের দিকে তাকানো যেতে পারে।
কাতার বিশ্বকাপে মোট প্রাইজমানি ছিল ৪৪০ মিলিয়ন ডলার। সেখানে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পেয়েছিল ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। রানার্স-আপ ফ্রান্স পেয়েছিল ৩ কোটি ডলার। তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ক্রোয়েশিয়া পেয়েছিল ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং চতুর্থ স্থান পাওয়া মরক্কো পেয়েছিল ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
অর্থাৎ মাত্র চার বছরের ব্যবধানে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের পুরস্কার বেড়েছে ৮০ লাখ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ৯৮ কোটি টাকা।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২২ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল ৩২টি দল। এবার অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দল। ফলে শুধু পুরস্কারের অর্থই নয়, বিশ্বকাপের অর্থনৈতিক সুযোগও অনেক বেশি দেশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে।
২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বিদায় নেওয়া দলগুলো পেয়েছিল ৯ মিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালেও সেই অংক অপরিবর্তিত থাকলেও দল সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মোট বিতরণকৃত অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কেন বাড়ছে বিশ্বকাপের অর্থ?
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, ডিজিটাল কনটেন্ট, টিকিট বিক্রি এবং বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব থেকে ফিফার আয় গত এক দশকে ব্যাপক হারে বেড়েছে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপকে ফিফা ইতিহাসের সবচেয়ে লাভজনক টুর্নামেন্ট হিসেবে দেখছে। বিশ্বের বৃহত্তম বিজ্ঞাপন বাজার, আধুনিক স্টেডিয়াম এবং বাড়তি ম্যাচ সংখ্যা ফিফার আয়কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
ফলে সেই আয়ের একটি বড় অংশ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
শুধু ট্রফি নয়, কোটি কোটি টাকার লড়াই
ফুটবল বিশ্বকাপ সবসময়ই ছিল গৌরব, ইতিহাস এবং জাতীয় মর্যাদার লড়াই। কিন্তু আধুনিক ফুটবলে এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক মূল্য।
২০২৬ বিশ্বকাপে যখন লিওনেল মেসির উত্তরসূরিরা, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, জুড বেলিংহ্যাম কিংবা লামিন ইয়ামালের মতো তারকারা মাঠে নামবেন, তখন তারা শুধু সোনালি ট্রফির জন্যই লড়বেন না। তাদের সামনে থাকবে শত শত কোটি টাকার আর্থিক পুরস্কারও।
এবং সেই কারণেই ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের নয়, অর্থনীতির ইতিহাসেও একটি নতুন অধ্যায় হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
বিশ্বকাপ খেললেই ১১০ কোটি টাকা: ২০২৬ বিশ্বকাপের রেকর্ড প্রাইজমানি নিয়ে যা জানা দরকার
ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসরই নয়, এটি এখন বিশ্বের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক ইভেন্টও। ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপ সেই বাস্তবতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
এবারের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো অংশ নেবে ৪৮টি দল। ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে হবে ১০৪। আর সেই সঙ্গে বেড়েছে পুরস্কারের অর্থও।
ফিফা জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলের মধ্যে মোট ৬৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাইজমানি হিসেবে বিতরণ করা হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৮ হাজার ১০০ কোটিরও বেশি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)।
সবচেয়ে বড় চমক অপেক্ষা করছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য।
২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ী দল পাবে ৫ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ৬১০ কোটি টাকা। শুধু একটি ট্রফি জয় করেই একটি দেশ পাবে বাংলাদেশের অনেক বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আয়ের সমপরিমাণ অর্থ।
রানার্স-আপ দলের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০৩ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পাবে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার বা প্রায় ৩৫৪ কোটি টাকা। আর চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা প্রায় ৩২৯ কোটি টাকার সমান।
কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে বিদায় নেওয়া চারটি দলও পাবে মোটা অংকের পুরস্কার। প্রতিটি দল পাবে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২৩২ কোটি টাকা।
শেষ ষোলোতে পৌঁছানো দলগুলোর জন্য রয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা প্রায় ১৮৩ কোটি টাকা। রাউন্ড অব ৩২-এ বিদায় নেওয়া দলগুলো পাবে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা প্রায় ১৩৪ কোটি টাকার সমান।
সবচেয়ে অবাক করার মতো তথ্য হলো, গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্যও রয়েছে ৯০ লাখ ডলার বা প্রায় ১১০ কোটি টাকার পুরস্কার। অর্থাৎ একটি দল যদি একটি ম্যাচও না জেতে, তবুও তারা দেশে ফিরবে শত কোটির বেশি অর্থ নিয়ে।
২০২৬ সালের প্রাইজমানির প্রকৃত গুরুত্ব বোঝার জন্য ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের দিকে তাকানো যেতে পারে।
কাতার বিশ্বকাপে মোট প্রাইজমানি ছিল ৪৪০ মিলিয়ন ডলার। সেখানে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পেয়েছিল ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। রানার্স-আপ ফ্রান্স পেয়েছিল ৩ কোটি ডলার। তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ক্রোয়েশিয়া পেয়েছিল ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং চতুর্থ স্থান পাওয়া মরক্কো পেয়েছিল ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
অর্থাৎ মাত্র চার বছরের ব্যবধানে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের পুরস্কার বেড়েছে ৮০ লাখ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ৯৮ কোটি টাকা।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২২ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল ৩২টি দল। এবার অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দল। ফলে শুধু পুরস্কারের অর্থই নয়, বিশ্বকাপের অর্থনৈতিক সুযোগও অনেক বেশি দেশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে।
২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বিদায় নেওয়া দলগুলো পেয়েছিল ৯ মিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালেও সেই অংক অপরিবর্তিত থাকলেও দল সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মোট বিতরণকৃত অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কেন বাড়ছে বিশ্বকাপের অর্থ?
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, ডিজিটাল কনটেন্ট, টিকিট বিক্রি এবং বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব থেকে ফিফার আয় গত এক দশকে ব্যাপক হারে বেড়েছে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপকে ফিফা ইতিহাসের সবচেয়ে লাভজনক টুর্নামেন্ট হিসেবে দেখছে। বিশ্বের বৃহত্তম বিজ্ঞাপন বাজার, আধুনিক স্টেডিয়াম এবং বাড়তি ম্যাচ সংখ্যা ফিফার আয়কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
ফলে সেই আয়ের একটি বড় অংশ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
শুধু ট্রফি নয়, কোটি কোটি টাকার লড়াই
ফুটবল বিশ্বকাপ সবসময়ই ছিল গৌরব, ইতিহাস এবং জাতীয় মর্যাদার লড়াই। কিন্তু আধুনিক ফুটবলে এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক মূল্য।
২০২৬ বিশ্বকাপে যখন লিওনেল মেসির উত্তরসূরিরা, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, জুড বেলিংহ্যাম কিংবা লামিন ইয়ামালের মতো তারকারা মাঠে নামবেন, তখন তারা শুধু সোনালি ট্রফির জন্যই লড়বেন না। তাদের সামনে থাকবে শত শত কোটি টাকার আর্থিক পুরস্কারও।
এবং সেই কারণেই ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের নয়, অর্থনীতির ইতিহাসেও একটি নতুন অধ্যায় হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
বিষয়: