মুভি রিভিউ

‘দম: আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ’, হৃদয়ে বাংলাদেশ নিয়ে বেঁচে ফেরার গল্প

বিদেশে যেয়ে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে কেউ যদি বিপদে পড়ে তাহলে তার পরিবারে যে সীমাহীন দুর্দশা নেমে আসে তা নিয়ে রেদওয়ান রনির তৃতীয় সিনেমা

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম

বাংলাদেশকে হৃদয়ে ধারণ করে বেঁচে ফেরার এক ছবি দম: আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ । প্রতিকূল পরিস্থিতিতে হার না মানার এক অদম্য ছবি দম: আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ । জনপ্রিয় এক দৈনিকের ঈদ সংখ্যায় প্রকাশিত সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ছবি দম: আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ

চোরাবালি  এবং আইসক্রিম -এর পর রেদওয়ান রনির তৃতীয় ছবি দম: আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ । তালেবানদের উপস্থিতি নিয়ে নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম ছবি ‘দম: আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ

বিদেশে যেয়ে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে কেউ যদি বিপদে পড়ে তাহলে তার পরিবারে যে সীমাহীন দুর্দশা নেমে আসে সেই দুর্দশা প্রকাশের এক ছবিও দম: আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ

আফরান নিশোর অভিনয়, কিংবদন্তি গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারকে স্মরণ আর সাবিনা ইয়াসমীনের ভালো লাগা পুরোনো এক গানের ছবি দম: আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ

শাহজাহান ইসলাম নুর স্থানীয় এক এনজিওতে কাজ করে। সে সদ্য বিবাহিত। ঘরে মা ও তার স্ত্রী ছাড়া আর কেউ নেই। চাকরিতে সুবিধা ও নিজের ভাগ্য উন্নয়নে আফগানিস্তানে কাজ করতে যায় শাহজাহান ইসলাম নুর। তার কপাল ভয়াবহ খারাপ। তালেবানদের হাতে বন্দি হয় সে। দম -এর কাহিনির শুরু এখান থেকেই।

শাহজাহান ইসলাম নুর এর চরিত্রে আফরান নিশো। আর তার স্ত্রীর ভূমিকায় পূজা চেরী রায়, মায়ের চরিত্রে ডলি জহুর; সুজিতের চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরী, অফিসের সবচেয়ে বড় কর্মকর্তার চরিত্রে আবুল হায়াত, মন্ত্রীর চরিত্রে জাহিদ হাসান, এনজিও এর স্থানীয় এক কর্মকর্তার চরিত্রে বরুণ এবং তালেবানদের চরিত্রে কয়েকজন বিদেশি অভিনয় করেছেন।

ডলি জহুরের অভিব্যক্তি, নিশোর বেঁচে থাকার লড়াই, নিশোকে বাঁচানোর জন্য চঞ্চল চৌধুরীর চেষ্টা ভালো লাগবে মানুষের। পূজা চেরিও চেষ্টা করেছেন সাধ্যমতো। সবার অভিনয় এই ছবির ভালো দিক।

ছবিতে মোট চারটি গান রয়েছে। গাজী মাজহারুল আনোয়ার এর লেখা এবং আনোয়ার পারভেজ এর সুরে মানসী  ছবির সেই বিখ্যাত গানের একটা অংশ কয়েকবার ব্যবহৃত হয়েছে দম  ছবিতে। “তুমি চোখের আড়াল হও/কাছে কিবা দূরে রও” গানটি নতুন করে গেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমীন এবং মোমিন বিশ্বাস। “কোথায় পাবো তাহারে” শিরোনামের গানটির সুর পারশা মাহজাবীন পূর্ণী এবং গানটি গেয়েছেন তিনি ও ইমরান মাহমুদুল।

এছাড়া “দিন যে কাটে না’ শিরোনামের একটি এবং বেঁচে ফেরার চরম মুহুর্তে ব্যবহৃত হয়েছে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই অমর গান “দুর্গমগিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার হে।“ ছবিতে সুরকার হিসেবে নাম রয়েছে আরাফাত মহসীন নিধির।

দম  ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন চারজন; সৈয়দ আহমেদ শাওকি, আল আমিন হাসান নির্ঝর, মো. সাইফুল্লাহ রিয়াদ ও রবিউল ইসলাম রবি। প্রযোজক রেদওয়ান রনি, শাহরিয়ার শাকিল এবং মহেন্দ্র সোনি। প্রযোজনা সংস্থা চরকি, এসডিএফ স্টুডিওস এবং আলফা আই।

ছবির আরেকটি ভাল দিক এর সিনেমাটোগ্রাফি; ছিলেন কাজাখাস্তানের মিখাইল সিরিয়ানভ। যদিও ছবির শুটিং শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কাজাখাস্তানে ও পরে বাংলাদেশের পাবনায়। পাবনার অংশের শুটিংয়ে একই ব্যক্তি সিনেমাটোগ্রাফার ছিলেন কি না সেটা স্পষ্ট নয়।

এবার ছবির কিছু প্রশ্নবোধক দিক। যেমন সাবটাইটেল না থাকা। আফগানিস্তানের অংশে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ করে ইংরেজি ও পশতুন সেখানে সাবটাইটেল দিলে সাধারণ জন্য ভালো হতো।

ছবির প্রথম ও শেষের দিকে কিছু অংশ ধীরগতির। অনর্গল দোয়া পড়ার কারণে নিশোকে কতল না করা আর ভিলেন রুপী তালেবান ওই নেতার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে টেনে আনাটা খানিক আরোপিত মনে হয়েছে।

তবু বেঁচে ফেরার অদম্য গল্প নিয়ে এমন ছবি নির্মাণের জন্য রেদওয়ান রনিকে ধন্যবাদ জানানো যেতে পারে।

জয় হোক বাংলা ছবির!