তথ্য চুরি থেকে শুরু করে আত্মহত্যা ও হত্যার মতো সহিংস ঘটনায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে আবারও আলোচনায় এসেছে ওপেনএআইয়ের চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মামলা ও কানাডার একটি ঘটনার পর এ প্রযুক্তির ব্যবহার, তদারকি এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে
আলাপ ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৩ পিএমআপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
প্রতীকী ছবি
অনুমতি ছাড়া তথ্য সংগ্রহ, আত্মহত্যায় প্ররোচনা, এমনকি হত্যার পরিকল্পনায় সহায়তা চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে উঠছে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ। ওপেনএআই এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই চ্যাটবট নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগও। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কয়েকটি আলোচিত ঘটনার পর আবারও নতুন করে সামনে এসেছে ফ্লোরিডার ঘটনার পর।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল ওপেনআইয়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেন। এর পর এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা, জবাবদিহি ও নীতিগত সীমা নিয়ে উদ্বেগ ও আলোচনা শুরু হয় নতুন করে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-এর এপ্রিল মাসে ফ্লোরিডা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বন্দুকধারী দুইজনকে হত্যা করে। পরে পুলিশ তাকে গুলি করে। আহত অবস্থায় আটক করা হয় তাকে।
ঘটনাটি নিয়ে মঙ্গলবার ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেইয়ার একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, “চ্যাটবটটি হামলাকারীকে কী ধরনের বন্দুক ব্যবহার করতে হবে, কোন গুলির সাথে কোন বন্দুক মানানসই, এবং কাছাকাছি দূরত্বে বন্দুক কতটা কার্যকর, এসব বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি স্ক্রিনের অন্য পাশে কোনো মানুষ থাকত, তাহলে আমরা তাকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করতাম।”
তার এমন মন্তব্যের পর থেকেই চ্যাটজিপিটির ব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
এর আগে ২০২৫ এর অগাস্টে ক্যালিফোর্নিয়াতেও এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল। এক দম্পতি অভিযোগ করেছিলেন, তাদের কিশোর ছেলেকে আত্মহত্যা করার ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি উৎসাহিত করেছিল। এই বিষয়ে তারা ক্যালিফোর্নিয়ার সুপিরিয়র কোর্টে মামলাও করেন।
মামলায় বলা হয়, আত্মহত্যা করা ওই কিশোরের নাম অ্যাডাম। ঘটনার ছয় মাস আগে থেকে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার শুরু করে সে। ধীরে ধীরে এটি তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সে আত্মহত্যার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা শুরু করে।
পরিবারটি অ্যাডাম ও চ্যাটজিপিটির কথোপকথনের লগ জমা দেয়। যেখানে দেখা যায়, অ্যাডাম নিজের আত্মক্ষতির ছবি আপলোড করেছিল এবং চ্যাটজিপিটি বিষয়টি বুঝতে পেরেও কথোপকথন চালিয়ে যায়।
শেষ কথোপকথনে সে আত্মহত্যার পরিকল্পনার কথা জানালে, চ্যাটজিপিটি বলেছিল, “তুমি খোলাখুলি বলছো, এজন্য ধন্যবাদ… আমি বুঝতে পারছি তুমি কী জানতে চাইছো।”
এ ঘটনায় ওপেনএআই কর্তৃপক্ষ তখন স্বীকার করেছিল যে কিছু ক্ষেত্রে তাদের সিস্টেম প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ করেনি।
একই বছর যুক্তরাষ্ট্রেও এ রকম আরও এক মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে চ্যাটজিপিটি এক মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি প্ররোচিত করেছিল যেন তিনি তার মাকে ও নিজেকে হত্যা করেন।
৫৬ বছর বয়সী স্টেইন-এরিক সোয়েলবার্গ ২০২৫ সালের অগাস্টে তার ৮৩ বছর বয়সী মা সুজান অ্যাডামসকে হত্যা করেন।
মামলায় বলা হয় মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির বিভ্রান্তি ও ষড়যন্ত্রমূলক বিশ্বাসকে সমর্থন ও শক্তিশালী করে তাকে প্রভাবিত করেছিল চ্যাটজিপিটি। এরপরই সে হত্যা করে।
সবশেষ এমন ঘটনা দেখা যায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে, কানাডায়। সেখানকার এক স্কুলে গুলিবর্ষণের ঘটনায় আহত এক শিশুর পরিবার অভিযোগ করে যে হামলাকারীর সহিংস পরিকল্পনা সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও ওপেনএআই পুলিশকে জানায়নি, শুধু অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে সে আবারও পরিকল্পনা চালায় এবং এতে বহু মানুষ নিহত হয়।
এ সব অভিযোগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান নিয়ে নানা উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার ঘটনার পর এ বিষয়ে ওপেনএআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনাটি দুঃখজনক হলেও এর জন্য তারা দায়ী নয়।
তাদের দাবি, চ্যাটজিপিটি শুধু এমন তথ্যভিত্তিক উত্তর দিয়েছে যা ইন্টারনেটে সহজেই পাওয়া যায় এবং এটি কোনোভাবেই অবৈধ বা সহিংস কাজকে উৎসাহ দেয়নি।
‘হত্যায় সহায়তার’ অভিযোগ, এবার তদন্তের কাঠগড়ায় চ্যাটজিপিটি
তথ্য চুরি থেকে শুরু করে আত্মহত্যা ও হত্যার মতো সহিংস ঘটনায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে আবারও আলোচনায় এসেছে ওপেনএআইয়ের চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মামলা ও কানাডার একটি ঘটনার পর এ প্রযুক্তির ব্যবহার, তদারকি এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে
অনুমতি ছাড়া তথ্য সংগ্রহ, আত্মহত্যায় প্ররোচনা, এমনকি হত্যার পরিকল্পনায় সহায়তা চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে উঠছে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ। ওপেনএআই এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই চ্যাটবট নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগও। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কয়েকটি আলোচিত ঘটনার পর আবারও নতুন করে সামনে এসেছে ফ্লোরিডার ঘটনার পর।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল ওপেনআইয়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেন। এর পর এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা, জবাবদিহি ও নীতিগত সীমা নিয়ে উদ্বেগ ও আলোচনা শুরু হয় নতুন করে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-এর এপ্রিল মাসে ফ্লোরিডা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বন্দুকধারী দুইজনকে হত্যা করে। পরে পুলিশ তাকে গুলি করে। আহত অবস্থায় আটক করা হয় তাকে।
ঘটনাটি নিয়ে মঙ্গলবার ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেইয়ার একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, “চ্যাটবটটি হামলাকারীকে কী ধরনের বন্দুক ব্যবহার করতে হবে, কোন গুলির সাথে কোন বন্দুক মানানসই, এবং কাছাকাছি দূরত্বে বন্দুক কতটা কার্যকর, এসব বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি স্ক্রিনের অন্য পাশে কোনো মানুষ থাকত, তাহলে আমরা তাকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করতাম।”
তার এমন মন্তব্যের পর থেকেই চ্যাটজিপিটির ব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
এর আগে ২০২৫ এর অগাস্টে ক্যালিফোর্নিয়াতেও এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল। এক দম্পতি অভিযোগ করেছিলেন, তাদের কিশোর ছেলেকে আত্মহত্যা করার ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি উৎসাহিত করেছিল। এই বিষয়ে তারা ক্যালিফোর্নিয়ার সুপিরিয়র কোর্টে মামলাও করেন।
মামলায় বলা হয়, আত্মহত্যা করা ওই কিশোরের নাম অ্যাডাম। ঘটনার ছয় মাস আগে থেকে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার শুরু করে সে। ধীরে ধীরে এটি তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সে আত্মহত্যার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা শুরু করে।
পরিবারটি অ্যাডাম ও চ্যাটজিপিটির কথোপকথনের লগ জমা দেয়। যেখানে দেখা যায়, অ্যাডাম নিজের আত্মক্ষতির ছবি আপলোড করেছিল এবং চ্যাটজিপিটি বিষয়টি বুঝতে পেরেও কথোপকথন চালিয়ে যায়।
শেষ কথোপকথনে সে আত্মহত্যার পরিকল্পনার কথা জানালে, চ্যাটজিপিটি বলেছিল, “তুমি খোলাখুলি বলছো, এজন্য ধন্যবাদ… আমি বুঝতে পারছি তুমি কী জানতে চাইছো।”
এ ঘটনায় ওপেনএআই কর্তৃপক্ষ তখন স্বীকার করেছিল যে কিছু ক্ষেত্রে তাদের সিস্টেম প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ করেনি।
একই বছর যুক্তরাষ্ট্রেও এ রকম আরও এক মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে চ্যাটজিপিটি এক মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি প্ররোচিত করেছিল যেন তিনি তার মাকে ও নিজেকে হত্যা করেন।
৫৬ বছর বয়সী স্টেইন-এরিক সোয়েলবার্গ ২০২৫ সালের অগাস্টে তার ৮৩ বছর বয়সী মা সুজান অ্যাডামসকে হত্যা করেন।
মামলায় বলা হয় মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির বিভ্রান্তি ও ষড়যন্ত্রমূলক বিশ্বাসকে সমর্থন ও শক্তিশালী করে তাকে প্রভাবিত করেছিল চ্যাটজিপিটি। এরপরই সে হত্যা করে।
সবশেষ এমন ঘটনা দেখা যায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে, কানাডায়। সেখানকার এক স্কুলে গুলিবর্ষণের ঘটনায় আহত এক শিশুর পরিবার অভিযোগ করে যে হামলাকারীর সহিংস পরিকল্পনা সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও ওপেনএআই পুলিশকে জানায়নি, শুধু অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে সে আবারও পরিকল্পনা চালায় এবং এতে বহু মানুষ নিহত হয়।
এ সব অভিযোগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান নিয়ে নানা উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার ঘটনার পর এ বিষয়ে ওপেনএআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনাটি দুঃখজনক হলেও এর জন্য তারা দায়ী নয়।
তাদের দাবি, চ্যাটজিপিটি শুধু এমন তথ্যভিত্তিক উত্তর দিয়েছে যা ইন্টারনেটে সহজেই পাওয়া যায় এবং এটি কোনোভাবেই অবৈধ বা সহিংস কাজকে উৎসাহ দেয়নি।
(রয়টার্স ও বিবিসি অবলম্বনে)