নারী, ক্ষমতা ও রাজনীতি: জামায়াত আমীরের বক্তব্যে যে প্রশ্ন উঠছে
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা যখন নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে, ঠিক তখনই জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মাহাদী হাসান
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:০২ পিএমআপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা যখন নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে, ঠিক তখনই জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, জামায়াতের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে কোনো নারী আসার সুযোগ নেই এবং এটিকে তিনি ‘অপরিবর্তনযোগ্য’ বাস্তবতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। একইসঙ্গে পার্লামেন্টে নারীর প্রতিনিধিত্ব ও কর্মঘণ্টা নিয়ে তাদের অবস্থান নতুন করে ভবিষ্যতে নারীর ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সেই সাক্ষাতকারে জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো নারী কখনো তাদের দলের আমির হতে পারবেন না, কেননা তার ভাষায়, আল্লাহ নারীদের ‘সেভাবে’ সৃষ্টি করেননি এবং এটা ‘পরিবর্তনযোগ্য নয়’।
তার দাবি, আসন্ন নির্বাচনে কোনো দলই ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যক’ নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি, কারণ এটা ‘বাংলাদেশের একটি সাংস্কৃতিক বাস্তবতা’ এবং বেশিরভাগ দেশই নারী নেতৃত্বকে ‘বাস্তবসম্মত মনে করে না’।
নারীদের নিয়ে একটি প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির জানান, এবার নির্বাচনে তাদের দল থেকে একজন নারীকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তবে তারা এ জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জামায়াতের প্রধান পদে নারী আসতে পারেন কি না, সে প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটি সম্ভব নয়।’
এর কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘আল্লাহ প্রত্যেককে তার নিজস্ব সত্তায় সৃষ্টি করেছেন। একজন পুরুষ কখনো সন্তান ধারণ করতে পারবে না বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবে না। আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন, আমরা তা পরিবর্তন করতে পারি না।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আছে, তারা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। কিছু শারীরিক অসুবিধা আছে, যা আমরা অস্বীকার করতে পারি না। একজন মা যখন সন্তান জন্ম দেন, তিনি কীভাবে এই দায়িত্ব পালন করবেন? এটি সম্ভব নয়।” এর আগে খালেদ মুহিউদ্দিনের টকশোতে জামায়াতের আমীরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে নারীরা দলের কোন পদ পর্যন্ত যেতে পারবেন, সেখানেও তিনি বলেছিলেন, তাদের দলে ৪৪ শতাংশ নারী সদস্য রয়েছেন। তারা কেন্দ্রীয় শুরা ও কর্মপরিষদে রয়েছেন। দলটির ওয়েবসাইটে নারীদের সাংগঠনিক স্তরে গিয়ে দেখা যায়, জেলা/মহানগরী, উপজেলা, ও পৌরসভা/ওয়ার্ড স্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণের উল্লেখ রয়েছে। সবশেষ পলিসি সামিটে নেওয়া সিদ্ধান্ত জামায়াতে ইসলামী তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে। সেখানে তারা নারী শিক্ষা নিয়ে বলছে, ইডেন, বদরুন্নেসা ও হোম ইকোনোমিক্স কলেজকে একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ ছাড়া নারী, তরুণ ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে ৫ লাখ উদ্যোক্তা তৈরির কথাও বলা হয়েছে সেখানে।
নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কলামিস্ট ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেছেন, বেশ কয়েকটি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। কিন্তু গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব কেউ নিশ্চিত করেনি। আর জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একজন নারীকেও নমিনেশন না দেওয়া দুঃখজনক মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এমনিতেই আমরা নারী নেতৃত্বশূন্য হয়ে যাচ্ছি। এই জায়গাটা আসলে ডেফিনেটলি চিন্তার বিষয়।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, স্পিকার ছিলেন। তারপরও সমাজে নারীদের অবস্থা সন্তোষজনক নয়।” মিতি সানজানা বলেন, “পঞ্চান্ন পার্সেন্ট ভোটার যারা তারা হচ্ছে নারী, ফোরটি ফাইভ পার্সেন্ট পুরুষ। এই নারী ভোটগুলো তারা যদি আশা করে, নারীদের নেতৃত্বের বিষয়টি অবশ্যই এটা মাথায় রাখতে হবে। নারীর নেতৃত্বকে সামনে আনতে হবে। সেটা যে দলই হোক।” “পার্লামেন্টে নারী না থাকলে, নারীবান্ধব পলিসি কীভাবে তৈরি হবে।” জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখসারির মুখ ও সবশেষ ডাকসু নির্বাচনে ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা বলেন, “আমি যেসব নারী জামায়াত কর্মীকে দেখেছি তারা অত্যন্ত অর্গানাইজড। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে তারা বেশি শ্রম দিচ্ছে। কিন্তু তাদেরই ওপরই জামায়াত ভরসা রাখতে পারছে না। ব্যাপারটা দুঃখজনক।” নারীদের নিয়ে এমন মন্তব্য ভোটারদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেই মনে করেন উমামা। আলাপকে তিনি বলেন, “যদি কোনো নারী জামায়াতের এমন অবস্থানের জেনে তাদের ভোট দেয় সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু আমার মনে হয় না সেটা হবে।” তবে জামায়াত সঠিক প্রক্রিয়ায় আছেন বলে মনে করেন নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর। তিনি বলেন, “অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রেও তো এই সংখ্যা খুব বেশি না। সেদিক দিয়ে জামায়াত আমিরের বক্তব্য স্পষ্ট। তারা নারীদের জন্য পরিবেশ তৈরি করে প্রার্থী দিতে চান। আমার মনে হয় এটা সঠিক প্রসেস।”
নারী অধিকার নিয়ে ধোঁয়াশা
নারীদের কর্মঘণ্টা কমানো নিয়ে জামায়াত আমীরের বক্তব্য নিয়ে মিতি সানজানা বলেন, “তার বক্তব্য স্পষ্ট নয়। আমি পুরোপুরি বুঝিনি। আশা করি ইশতেহার পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।” উমামা ফাতেমাও মনে করেন, নারীর কর্মঘণ্টা নিয়ে জামায়াত আমীরের বক্তব্য স্পষ্ট নয়। তিনি বলছেন, নারীর কর্মঘণ্টা নিয়ে বারবারই প্রশ্ন উঠছে এবং জামায়াত আমীর স্বয়ং বিষয়টির স্পষ্ট ব্যাখা দিতে পারেননি। আলাপকে তিনি বলেন, “জামায়াত আমীরের বক্তব্য অনুযায়ী নারীদের কর্মঘণ্টা কমানো হচ্ছে যেন তিনি পরিবারে সময় দিতে পারে। “আধুনিক সমাজে আমরা নারী-পুরুষ আলাদা এনটিটি মনে করি না। সবারই দায়িত্ব সমান। সেখানে এই বক্তব্য দেওয়া মানে নারীর গণ্ডি সেই স্বামীকেন্দ্রিক পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে দেওয়া।” তবে নারীর অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে জামায়াত আমীরের বক্তব্য স্পষ্ট মনে করেন সালাউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর। আলাপকে তিনি বলেন, “নারীর স্বাধীনতার ও সুরক্ষা আপনি নানাভাবে ব্যাখা করতে পারে, তাদের ক্ষমতায়ন বলতে পারেন। সোশাল জাস্টিস বলতে পারে, সোশ্যাল ফ্রিডম বলতে পারেন।” এ সব কিছুই ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে রয়েছে বলে মনে করেন এই বর্ষীয়ান সাংবাদিক। তিনি বলেন, “এখন অনেকে হিজাব পরে, অনেকে পরে না। এটা নিয়ে জামায়াত কোনো কমেন্ট করেনি। তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।’ “দিস ইজ দ্য নিউ ভারসন অব জামায়াতে ইসলামী। তারা বাস্তবভিত্তিক কথা বলে।”
নারী, ক্ষমতা ও রাজনীতি: জামায়াত আমীরের বক্তব্যে যে প্রশ্ন উঠছে
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা যখন নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে, ঠিক তখনই জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা যখন নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে, ঠিক তখনই জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, জামায়াতের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে কোনো নারী আসার সুযোগ নেই এবং এটিকে তিনি ‘অপরিবর্তনযোগ্য’ বাস্তবতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। একইসঙ্গে পার্লামেন্টে নারীর প্রতিনিধিত্ব ও কর্মঘণ্টা নিয়ে তাদের অবস্থান নতুন করে ভবিষ্যতে নারীর ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সেই সাক্ষাতকারে জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো নারী কখনো তাদের দলের আমির হতে পারবেন না, কেননা তার ভাষায়, আল্লাহ নারীদের ‘সেভাবে’ সৃষ্টি করেননি এবং এটা ‘পরিবর্তনযোগ্য নয়’।
তার দাবি, আসন্ন নির্বাচনে কোনো দলই ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যক’ নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি, কারণ এটা ‘বাংলাদেশের একটি সাংস্কৃতিক বাস্তবতা’ এবং বেশিরভাগ দেশই নারী নেতৃত্বকে ‘বাস্তবসম্মত মনে করে না’।
নারীদের নিয়ে একটি প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির জানান, এবার নির্বাচনে তাদের দল থেকে একজন নারীকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তবে তারা এ জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জামায়াতের প্রধান পদে নারী আসতে পারেন কি না, সে প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটি সম্ভব নয়।’
এর কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘আল্লাহ প্রত্যেককে তার নিজস্ব সত্তায় সৃষ্টি করেছেন। একজন পুরুষ কখনো সন্তান ধারণ করতে পারবে না বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবে না। আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন, আমরা তা পরিবর্তন করতে পারি না।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আছে, তারা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। কিছু শারীরিক অসুবিধা আছে, যা আমরা অস্বীকার করতে পারি না। একজন মা যখন সন্তান জন্ম দেন, তিনি কীভাবে এই দায়িত্ব পালন করবেন? এটি সম্ভব নয়।”
এর আগে খালেদ মুহিউদ্দিনের টকশোতে জামায়াতের আমীরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে নারীরা দলের কোন পদ পর্যন্ত যেতে পারবেন, সেখানেও তিনি বলেছিলেন, তাদের দলে ৪৪ শতাংশ নারী সদস্য রয়েছেন। তারা কেন্দ্রীয় শুরা ও কর্মপরিষদে রয়েছেন।
দলটির ওয়েবসাইটে নারীদের সাংগঠনিক স্তরে গিয়ে দেখা যায়, জেলা/মহানগরী, উপজেলা, ও পৌরসভা/ওয়ার্ড স্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণের উল্লেখ রয়েছে।
সবশেষ পলিসি সামিটে নেওয়া সিদ্ধান্ত জামায়াতে ইসলামী তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে।
সেখানে তারা নারী শিক্ষা নিয়ে বলছে, ইডেন, বদরুন্নেসা ও হোম ইকোনোমিক্স কলেজকে একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।
এ ছাড়া নারী, তরুণ ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে ৫ লাখ উদ্যোক্তা তৈরির কথাও বলা হয়েছে সেখানে।
নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কলামিস্ট ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেছেন, বেশ কয়েকটি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। কিন্তু গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব কেউ নিশ্চিত করেনি।
আর জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একজন নারীকেও নমিনেশন না দেওয়া দুঃখজনক মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এমনিতেই আমরা নারী নেতৃত্বশূন্য হয়ে যাচ্ছি। এই জায়গাটা আসলে ডেফিনেটলি চিন্তার বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, স্পিকার ছিলেন। তারপরও সমাজে নারীদের অবস্থা সন্তোষজনক নয়।”
মিতি সানজানা বলেন, “পঞ্চান্ন পার্সেন্ট ভোটার যারা তারা হচ্ছে নারী, ফোরটি ফাইভ পার্সেন্ট পুরুষ। এই নারী ভোটগুলো তারা যদি আশা করে, নারীদের নেতৃত্বের বিষয়টি অবশ্যই এটা মাথায় রাখতে হবে। নারীর নেতৃত্বকে সামনে আনতে হবে। সেটা যে দলই হোক।”
“পার্লামেন্টে নারী না থাকলে, নারীবান্ধব পলিসি কীভাবে তৈরি হবে।”
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখসারির মুখ ও সবশেষ ডাকসু নির্বাচনে ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা বলেন, “আমি যেসব নারী জামায়াত কর্মীকে দেখেছি তারা অত্যন্ত অর্গানাইজড। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে তারা বেশি শ্রম দিচ্ছে। কিন্তু তাদেরই ওপরই জামায়াত ভরসা রাখতে পারছে না। ব্যাপারটা দুঃখজনক।”
নারীদের নিয়ে এমন মন্তব্য ভোটারদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেই মনে করেন উমামা।
আলাপকে তিনি বলেন, “যদি কোনো নারী জামায়াতের এমন অবস্থানের জেনে তাদের ভোট দেয় সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু আমার মনে হয় না সেটা হবে।”
তবে জামায়াত সঠিক প্রক্রিয়ায় আছেন বলে মনে করেন নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর।
তিনি বলেন, “অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রেও তো এই সংখ্যা খুব বেশি না। সেদিক দিয়ে জামায়াত আমিরের বক্তব্য স্পষ্ট। তারা নারীদের জন্য পরিবেশ তৈরি করে প্রার্থী দিতে চান। আমার মনে হয় এটা সঠিক প্রসেস।”
নারী অধিকার নিয়ে ধোঁয়াশা
নারীদের কর্মঘণ্টা কমানো নিয়ে জামায়াত আমীরের বক্তব্য নিয়ে মিতি সানজানা বলেন, “তার বক্তব্য স্পষ্ট নয়। আমি পুরোপুরি বুঝিনি। আশা করি ইশতেহার পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।”
উমামা ফাতেমাও মনে করেন, নারীর কর্মঘণ্টা নিয়ে জামায়াত আমীরের বক্তব্য স্পষ্ট নয়। তিনি বলছেন, নারীর কর্মঘণ্টা নিয়ে বারবারই প্রশ্ন উঠছে এবং জামায়াত আমীর স্বয়ং বিষয়টির স্পষ্ট ব্যাখা দিতে পারেননি।
আলাপকে তিনি বলেন, “জামায়াত আমীরের বক্তব্য অনুযায়ী নারীদের কর্মঘণ্টা কমানো হচ্ছে যেন তিনি পরিবারে সময় দিতে পারে।
“আধুনিক সমাজে আমরা নারী-পুরুষ আলাদা এনটিটি মনে করি না। সবারই দায়িত্ব সমান। সেখানে এই বক্তব্য দেওয়া মানে নারীর গণ্ডি সেই স্বামীকেন্দ্রিক পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে দেওয়া।”
তবে নারীর অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে জামায়াত আমীরের বক্তব্য স্পষ্ট মনে করেন সালাউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর।
আলাপকে তিনি বলেন, “নারীর স্বাধীনতার ও সুরক্ষা আপনি নানাভাবে ব্যাখা করতে পারে, তাদের ক্ষমতায়ন বলতে পারেন। সোশাল জাস্টিস বলতে পারে, সোশ্যাল ফ্রিডম বলতে পারেন।”
এ সব কিছুই ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে রয়েছে বলে মনে করেন এই বর্ষীয়ান সাংবাদিক। তিনি বলেন, “এখন অনেকে হিজাব পরে, অনেকে পরে না। এটা নিয়ে জামায়াত কোনো কমেন্ট করেনি। তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।’
“দিস ইজ দ্য নিউ ভারসন অব জামায়াতে ইসলামী। তারা বাস্তবভিত্তিক কথা বলে।”
বিষয়: