জেলায় জেলায় এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা রাজনীতিতে কী বার্তা দিচ্ছে?

জেলায় জেলায় এনসিপি নেতাদের ওপর ধারাবাহিক হামলা—গোপালগঞ্জ, নোয়াখালী, ঝিনাইদহ, হবিগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, সিলেট। এগুলো কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি বাংলাদেশের রাজনীতি আবারও ফিরছে পুরোনো সংঘাত ও মাঠের আধিপত্যের পথে? 

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম

বাংলাদেশের রাজনীতি কি সেই পুরোনো চক্রেই বৃত্তাকার হয়ে ঘুরছে? জেলায় জেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ওপর ধারাবাহিক হামলা এবং বিশেষ করে সিলেট বিভাগজুড়ে গত তিনদিন ধরে চলা টানা উত্তেজনার মধ্যে এই প্রশ্ন আবার নতুন করে ফিরেছে।

মঙ্গলবার হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’কে কেন্দ্র করে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের ওপর আক্রমণ। বুধবার শ্রীমঙ্গলে গাড়িবহর অবরোধ এবং পুলিশের সাথে দলটির নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা। 

বৃহস্পতিবার সিলেটের গোলাপগঞ্জে ইট-পাটকেলের আঘাতে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর।

পরপর তিন দিনের এসব ঘটনা কি বাংলাদেশের ভবিষ্যত রাজনীতির ‘গভীর অস্থিরতার’ সংকেত?

সাম্প্রতিক সংঘাতের পেছনে প্রকট হয়ে উঠেছে পারস্পরিক রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থতা দাবি করে সরকারকে ‘চাঁচাছোলা’ সমালোচনা এবং সামনের স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপিকে বর্জন করতে খোলাখুলি আহ্বান জানাচ্ছেন এনসিপির নেতারা।

তাদের এই ‘আক্রমণাত্মক’ অবস্থানকেই বিশৃঙ্খলা ও উসকানি হিসেবে দেখছে স্থানীয় ছাত্রদল ও অন্যান্য বিরোধীরা। তাদের দাবি, রাজনৈতিক শিষ্টাচার ভেঙে আপত্তিকর মন্তব্য করায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছে।

অন্যদিকে এনসিপির অভিযোগ, বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করতে ‘সুপরিকল্পিতভাবে’ গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে।

তরুণদের হাত ধরে উঠে আসা নতুন রাজনৈতিক শক্তির ওপর অব্যাহত আক্রমণ কি একথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, ক্ষমতার পালাবদল হলেও মাঠের আধিপত্যবাদের সংস্কৃতি বদলায়নি?

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরীর মতে, রাজনীতি আবার সেই “পুরানো ধারায়” ফিরে যাচ্ছে।

জেলায় জেলায় এনসিপির ওপর হামলা

এনসিপির ওপর হামলার প্রথম বড় ধরনের ঘটনাটি ঘটে গোপালগঞ্জে। গত বছরের ১৬ই জুলাই এনসিপির সমাবেশ শেষ হওয়ার পরপরই গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে একদল লাঠি, রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সমাবেশস্থলে হামলা চালায় স্থানীয়রা। তারা মঞ্চ ভাঙচুর করে, চেয়ারে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সাউন্ড সিস্টেম নষ্ট করে।

সমাবেশের আগেই সকালের দিকে উলপুর-দড়িসাড়ক এলাকায় পুলিশের একটি গাড়ি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িতে হামলা চালানো হয়।

হামলাকারীরা এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরের পথ আটকে দেয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী টিয়ার গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এনসিপির নেতাদের সুরক্ষিত এপিসিতে তুলে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। 

ওই ঘটনার তিনদিনের মাথায় ২০২৫ সালের ১৯এ জুলাই কক্সবাজারের চকরিয়ায় এনসিপির সমাবেশে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয় পথসভার মঞ্চ। 

ওই ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে এনসিপির নেতারা। 

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদকে ঘিরে দফায় দফায় হামলা ঘটে নোয়াখালীতে। 

২০২৫ সালে ২৪এ মার্চ হাতিয়ার জাহাজমারা বাজারে হান্নান মাসউদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। গত ৩০এ জানুয়ারি হাতিয়ার নলচিরা ফেরিঘাটে ‘মহানন্দা’ ফেরি উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে কৃতিত্ব দাবি করা নিয়ে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এনসিপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে ডিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। 

গত ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন হাতিয়ার বুরিচর ইউনিয়নের আসাদিয়া ভোটকেন্দ্রের কাছে হান্নান মাসউদের স্ত্রী ও ভাইয়ের ওপর হামলা চালানো হয়।

এরপর ২৫এ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দেখতে গেলে হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকায় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের গাড়িবহরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও হামলা করা হয়। গত ২রা মার্চ নোয়াখালী সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক ও এনসিপি নেতা মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাতের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। 

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী হামলার শিকার হয় ঝিনাইদহে। গত ২২এ মে শহরের পুরোনো কালেক্টরেট মসজিদে জুমার নামাজ পড়ে বের হওয়ার সময় পাটোয়ারীর ওপর অতর্কিত হামলা ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিপি ও ছাত্রদলের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। 

হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপির প্রায় ১৭ জন নেতাকর্মী আহত হন।

সিলেট বিভাগের তিন জেলায় হামলা

জাতীয় নাগরিক পার্টির ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ কর্মসূচি ঘিরে সিলেট বিভাগের একাধিক জেলায় টানা তিন দিন ধরে ব্যাপক উত্তেজনা, ভাঙচুর ও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে।

গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অস্থিরতা বুধবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও বৃহস্পতিবার সিলেটের গোলাপগঞ্জে গড়ায়।

মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জ শহরে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। এতে যোগ দিতে যান দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় এনসিপির নেতারা পৌঁছলে তাদের ওপর প্রথম হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। 

এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, জেলা ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে তাদের গাড়িবহরে হামলা চলায়। এতে সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং এক সাংবাদিকসহ এনসিপির অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন।

হামলার মুখে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দ্রুত স্থান ত্যাগ করে সার্কিট হাউসে আশ্রয় নেন এবং পরে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সারজিস আলমের গাড়িটি শহরের সোনালী ব্যাংক কার্যালয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে সারজিসকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে পৌঁছে দেয়।

মঙ্গলবারের হামলার প্রতিবাদে পরদিন বুধবার হবিগঞ্জে পালটা সমাবেশের ডাক দেয় এনসিপি। জেলা ছাত্রদলও একই সময়ে কর্মসূচির ঘোষণা দিলে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।

এদিকে হামলার প্রতিবাদে সমাবেশে যোগ দিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে এনসিপির গাড়িবহর হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। 

কিন্তু মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও চা-কন্যা ভাস্কর্যের সামনে আঞ্চলিক মহাসড়কে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। বাধা পেয়ে এনসিপি নেতাকর্মীরা মহাসড়কে বসে প্রতিবাদ জানান এবং পুলিশের সঙ্গে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের বাকবিতণ্ডা চলে।

ঘণ্টাখানেক অবস্থানের পর নেতারা ব্যারিকেড অতিক্রম করে হবিগঞ্জ মহাসড়কের বাহুবল সীমানার দিকে অগ্রসর হন। পুলিশের বাধার মুখে হবিগঞ্জ শহরে ঢুকতে না পেরে বাহুবলের কামাইছড়া এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।

বৃহস্পতিবার সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ৭ জন শহিদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও পথসভা করতে যান এনসিপি নেতারা।

গোলাপগঞ্জ পৌরসভা হলে এনসিপি নেতাদের সমাবেশ শেষে গাড়িবহর যখন কানাইঘাটের দিকে রওনা হয়, তখন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাংশ ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেওয়া শুরু করে এবং গাড়িবহর লক্ষ্য করে হঠাৎ ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে সারজিস আলমের গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়।

পৌর এলাকা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে পঞ্চমাইল বাজারে দুপুরের খাবারের জন্য এনসিপি নেতারা থামলে সেখানেও তাদের ওপর আবার ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং গাড়িবহর আটকে দেওয়ার চেষ্টা চলে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, দেশ আবারও একটি ‘মাফিয়া ব্যবস্থা ও পুরাতন স্বৈরাচারের পথে’ হাঁটছে। 

“আমরা বুঝতে পারছি, এই সরকার পুরোনো পথেই স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে। অগণতান্ত্রিকভাবে তারা ক্ষমতায় থেকে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তারা গণভোটের গণরায় মানে নাই। তারা স্বাধীন পুলিশ কমিশন করে নাই। অর্থাৎ তারা সন্ত্রাসনির্ভর একটি রাষ্ট্র তৈরি করতে চাচ্ছে, যেটা আগে ছিলো সেটাকে তারা অব্যাহত রাখছে,” মঙ্গলবারের ঘটনা নিয়ে নাহিদ ইসলাম একথা বলেছেন বলে প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   

এদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা ছাত্রদল নেতৃত্ব ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, এনসিপি নেতারা শান্ত এলাকায় এসে উসকানিমূলক ও আপত্তিকর বক্তব্য দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও কর্মী সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ছাত্রদল বা বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো হামলায় যুক্ত ছিলো না।

সহিংস ঘটনা বাড়তে থাকা এবং উভয়পক্ষের পারস্পরিক দোষারোপের মধ্যে “বাংলাদেশের রাজনীতি আবার পুরানা ধারায় ফিরে যাচ্ছে” মনে করছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী।   

আলাপ-কে তিনি বলেন, “আগে ছাত্রলীগ দেখেছিলাম, এখন ছাত্রদল দেখছি। এনসিপি মিছিল করছে, বাধা দেবে কেন? এটা তাদের পলিটিক্যাল রাইট তাই না?” 

যারা সরকারে বসেছে, তারা অপজিশনের প্রতি আগের মতো আচরণ করছে বলে মন্তব্য করেন সাবেক এই শিক্ষক। 

“আওয়ামী লীগ যা করতো, তারা তাই করছে। তাদের ছাত্র সংগঠনজনকে লেলিয়ে দিয়েছে যে, ওদেরকে রাস্তায় মার দিয়ে ঠিক করো,” যোগ করেন তিনি। 

দিলারা চৌধুরী বলেন, “আমরা সেই আগের রাজনীতিতে পুরোপুরিভাবেই ফেরত চলে যাচ্ছি।” 

বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এটা “খুবই নেতিবাচক” বলেও মত দেন এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। 

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক খান রবিউল আলম মনে করছেন, ‘এনসিপিকে থামানোর চেষ্টা’ হচ্ছে এবং এনসিপির নেতাদের বক্তব্যের ভেতরেও ‘অসহিঞ্চুতা’ প্রকাশ পাচ্ছে।  

সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে আলাপ-কে তিনি বলেন, “প্রথমত, এনসিপির গতি থামানোর চেষ্টা বলে মনে হয়। দ্বিতীয়ত, গণতান্ত্রিক স্পেস সংকুচিত হওয়ার আশংকা দেখছি। সভা-সমাবেশ, প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকার। এ রকম বাধা আসতে থাকলে তা রাজনৈতিক সংঘাত বাড়াবে।” 

“তবে এনসিপি বক্তব্যের ভেতর একধরনের অসহিষ্ণুতা, যা অনেক ক্ষেত্রে বেশ আক্রমণাত্মক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়,” যোগ করেন তিনি। 

তিনি আরও বলেন, “বিএনপি ও এনসিপি উভয়পক্ষ সহনশীলতার পরিচয় না দিলে দেশে রাজনৈতিক হানাহানির আশংকা দেখি। হানাহানি বাড়লে এর মূল্য দিনশেষে জনগণকেই দিতে হবে। আমরা চাই একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ।”