পদত্যাগের এক দিন আগে শেখ হাসিনা ছিলেন ক্ষমতার কেন্দ্রেই। কিন্তু গণভবনের ভেতরে তখন কী সিদ্ধান্ত হচ্ছিলো আর সেগুলো কতটা কার্যকর হয়েছিলো?
আলাপ রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৪ এএমআপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
ক্ষমতা ধরে রাখার শেষ রাতে কী হচ্ছিলো গণভবনে?
২০২৪ সালের ৪ঠা অগাস্ট সকাল। শেখ হাসিনা তখন ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে দেশ চালাচ্ছেন। তবে তার হাতে ক্ষমতা থাকার বাকি ছিল আর মোটামুটি ২৭ ঘণ্টা।
বাংলাদেশ তখন তিন সপ্তাহ ধরে ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে। কোটা সংস্কার দিয়ে শুরু, তারপর ধীরে ধীরে একটাই দাবিতে এসে ঠেকেছে, পদত্যাগ চাই। তেসরা অগাস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শাহবাগে শহীদ মিনারে সমাবেশ হয়, সেখান থেকে ঘোষণা আসে, পরদিন থেকে সারাদেশে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হবে। যা পরে দাঁড়ায়, পুরো আন্দোলনের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিনগুলোর একটায়, এমনটাই বলেছে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।
এক দিন আগে যা ঘটেছিলো
চৌঠা অগাস্ট শেখ হাসিনার সুর কিছুটা বদলে গিয়েছিল কেন, সেটা বুঝতে হলে একদিন পেছাতে হবে। তেসরা অগাস্ট, শনিবার, গণভবনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সেদিন তার সুর ছিলো নরম। গণভবনের দরজা খোলা, বলেছিলেন তিনি।
আন্দোলনকারীরা চাইলে বসতে রাজি। তাদের বাকি দাবিগুলো কী কী শুনতে চান, আর যতটুকু সাধ্যে কুলোয় মেটাতে চান। সংঘাত চান না, এই কথাটাও বলেছিলেন সেদিন।
সেদিনই শহীদ মিনারে জড়ো হচ্ছিলেন আন্দোলনের সমন্বয়করা তাদের পরের পদক্ষেপ জানাতে। সারাদেশে অসহযোগ, শুরু হবে ৪ঠা অগাস্ট থেকে। দাবি একটাই, 'আপস নেই, পদত্যাগ চাই।'
তেসরা অগাস্ট পর্যন্ত এই দুই অবস্থানের মাঝে একটা সামান্য ফারাক তখনও ছিল, অন্তত প্রকাশ্য কথাবার্তায়। পরের ২৪ ঘণ্টায় সেইটুকুও উবে যায়।
আর ২রা আগস্ট থেকেই শেখ হাসিনার কাছের আত্মীয়স্বজন দেশ ছাড়া শুরু করেছিলেন, যা পরে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসেছে।
সকালের বৈঠক, তারপর আরও একটি রক্তাক্ত দিন
তেসরা অগাস্ট সকাল ১১টায় গণভবনে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির বৈঠক ডাকেন শেখ হাসিনা। কোথাও কোথাও একে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক বলা হয়েছে। সেদিন বিকালে গণমাধ্যমে সেই বৈঠকে কারা উপস্থিতি ছিলেন তার তালিকাও এসেছিলো; মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সচিবরা, আর সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী প্রধান, বিজিবি, পুলিশ ও কোস্ট গার্ড প্রধান।
জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনকে পরে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানান, বৈঠকে মূল কথা ছিল কারফিউ, আর ঢাকামুখী মিছিল ঠেকানো নিয়ে।
নরম হননি শেখ হাসিনা, বরং আরও কড়া হন। যারা রাস্তায় নেমেছে, তারা ছাত্র নয়, সন্ত্রাসী, দেশ অস্থিতিশীল করতে চাইছে, এমনটাই বলেন তিনি বৈঠকে। শক্ত হাতে দমন করতে হবে এই কথাও বলেন। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য এসেছে।
গণভবনের বাইরে ততক্ষণে সেদিনটাই দাঁড়িয়ে গেছে সবচেয়ে রক্তাক্ত হিসেবে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের হিসাবে, সেদিন সারাদেশে অন্তত ৯৪ জন নিহত, শুধু সিরাজগঞ্জেই ১৩ জন পুলিশ সদস্য মারা যান। প্রথম আলোর নিজস্ব হিসাবে ৪ঠা থেকে ৬ই অগাস্ট মিলিয়ে মৃত্যু হয় ৩২৬ জনের, তার মধ্যে ৩৬ জন পুলিশ সদস্য।
সরকারি স্থাপনা, থানা, আক্রান্ত হয় বহু জেলায়। সন্ধ্যায় সরকার ঘোষণা দেয়, সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কারফিউ, সঙ্গে তিনদিনের সাধারণ ছুটি, আদালত বন্ধ।
জবাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কর্মসূচি এগিয়ে আনে। ছয়ই অগাস্টের জন্য ঠিক করা 'মার্চ টু ঢাকা' এগিয়ে নিয়ে আসা হয় একদিন অর্থাৎ পরদিন, ৫ই অগাস্টে।
দ্বিতীয় বৈঠক: জোর করে ঠেকানোর পরিকল্পনা
যেটা তখন প্রকাশ্যে আসেনি, কিন্তু পরে সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তা হলো সেই রাতেরই শেষ ভাগে আবার শেখ হাসিনার নিরাপত্তা বাহিনী দ্বিতীয় বৈঠকে বসে গণভবনে। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পরে জাতিসংঘ মিশনকে জানান, সেই বৈঠকে একটা পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়।
সেনাবাহিনী ও বিজিবি পুলিশের সঙ্গে মাঠে নামবে পরদিন সকালে ঢাকার সব প্রবেশ পথ আটকাতে। সেনা ও বিজিবি সদস্যরা সাঁজোয়া যান নিয়ে প্রবেশপথ বন্ধ করবে এবং মানুষের ভিড় সামলাবে পুলিশ।
জাতিসংঘ মিশনের তদন্ত অনুযায়ী, পুরো আন্দোলনের সময়জুড়ে শেখ হাসিনা আর তার কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে প্রায় সার্বক্ষণিক যোগাযোগে ছিলেন; সব অভিযান তারা নিজেরাই তদারকি করেন। কর্মকর্তাদের কল লিস্ট মিলিয়েই এই সিদ্ধান্তে আসে মিশন।
যে পরিকল্পনা টেকেনি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সেই রাতের একটা বর্ণনা দিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের ভাষ্যে, ৪ঠা ও ৫ই অগাস্ট মাঝরাতের পরপর, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক তিন বাহিনী প্রধানের সামনেই সরাসরি পদত্যাগের কথা তোলেন শেখ হাসিনার কাছে।
বলা হয় শেখ হাসিনা রেগে যান। যা হওয়ার হবে, ক্ষমতা ছাড়বেন না, এই কথা বলেন। সেনাপ্রধানকে বলেন কড়া হতে, শক্ত থাকতে, নরম না হতে।
প্রসিকিউটরের ভাষায়, সেই বৈঠক ছিল টানটান আর ভয়ংকর। শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ চারজন সেই রাতে তার পাশে ছিলেন একই সুরে; আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। সবাই তাকে বলেন, নরম হবেন না।
সংবাদমাধ্যমেও এই বিবরণ একইভাবে এসেছে।
চৌঠা অগাস্ট রাতে শেখ হাসিনার সরকার যে পরিকল্পনা অনুমোদন করেছিল, সেটা ৫ই অগাস্ট আর টেকেনি। ঢাকার কেন্দ্রে পৌঁছে যায় অনেক মানুষ।
বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম আর জাতিসংঘের তদন্ত, এই দুই পক্ষের তথ্য এক করলে যা বের হয়ে আসে তা হলো, ঘটনার মোড় ঘুরে যায় শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার একদিন আগেই, চৌঠা অগাস্টে হওয়া গণভবনের দুটো বৈঠকে। একটিতে প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে দমনের কথা বলছেন, আর অন্যটিতে এমন একটি পরিকল্পনার অনুমোদন দিয়েছিলেন, যেটা তার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেনি।
হাসিনা দেশ ছাড়ার আগের দিন কী কী ঘটেছে গণভবনে
পদত্যাগের এক দিন আগে শেখ হাসিনা ছিলেন ক্ষমতার কেন্দ্রেই। কিন্তু গণভবনের ভেতরে তখন কী সিদ্ধান্ত হচ্ছিলো আর সেগুলো কতটা কার্যকর হয়েছিলো?
২০২৪ সালের ৪ঠা অগাস্ট সকাল। শেখ হাসিনা তখন ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে দেশ চালাচ্ছেন। তবে তার হাতে ক্ষমতা থাকার বাকি ছিল আর মোটামুটি ২৭ ঘণ্টা।
বাংলাদেশ তখন তিন সপ্তাহ ধরে ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে। কোটা সংস্কার দিয়ে শুরু, তারপর ধীরে ধীরে একটাই দাবিতে এসে ঠেকেছে, পদত্যাগ চাই। তেসরা অগাস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শাহবাগে শহীদ মিনারে সমাবেশ হয়, সেখান থেকে ঘোষণা আসে, পরদিন থেকে সারাদেশে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হবে। যা পরে দাঁড়ায়, পুরো আন্দোলনের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিনগুলোর একটায়, এমনটাই বলেছে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।
এক দিন আগে যা ঘটেছিলো
চৌঠা অগাস্ট শেখ হাসিনার সুর কিছুটা বদলে গিয়েছিল কেন, সেটা বুঝতে হলে একদিন পেছাতে হবে। তেসরা অগাস্ট, শনিবার, গণভবনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সেদিন তার সুর ছিলো নরম। গণভবনের দরজা খোলা, বলেছিলেন তিনি।
আন্দোলনকারীরা চাইলে বসতে রাজি। তাদের বাকি দাবিগুলো কী কী শুনতে চান, আর যতটুকু সাধ্যে কুলোয় মেটাতে চান। সংঘাত চান না, এই কথাটাও বলেছিলেন সেদিন।
সেদিনই শহীদ মিনারে জড়ো হচ্ছিলেন আন্দোলনের সমন্বয়করা তাদের পরের পদক্ষেপ জানাতে। সারাদেশে অসহযোগ, শুরু হবে ৪ঠা অগাস্ট থেকে। দাবি একটাই, 'আপস নেই, পদত্যাগ চাই।'
তেসরা অগাস্ট পর্যন্ত এই দুই অবস্থানের মাঝে একটা সামান্য ফারাক তখনও ছিল, অন্তত প্রকাশ্য কথাবার্তায়। পরের ২৪ ঘণ্টায় সেইটুকুও উবে যায়।
আর ২রা আগস্ট থেকেই শেখ হাসিনার কাছের আত্মীয়স্বজন দেশ ছাড়া শুরু করেছিলেন, যা পরে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসেছে।
সকালের বৈঠক, তারপর আরও একটি রক্তাক্ত দিন
তেসরা অগাস্ট সকাল ১১টায় গণভবনে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির বৈঠক ডাকেন শেখ হাসিনা। কোথাও কোথাও একে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক বলা হয়েছে। সেদিন বিকালে গণমাধ্যমে সেই বৈঠকে কারা উপস্থিতি ছিলেন তার তালিকাও এসেছিলো; মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সচিবরা, আর সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী প্রধান, বিজিবি, পুলিশ ও কোস্ট গার্ড প্রধান।
জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনকে পরে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানান, বৈঠকে মূল কথা ছিল কারফিউ, আর ঢাকামুখী মিছিল ঠেকানো নিয়ে।
নরম হননি শেখ হাসিনা, বরং আরও কড়া হন। যারা রাস্তায় নেমেছে, তারা ছাত্র নয়, সন্ত্রাসী, দেশ অস্থিতিশীল করতে চাইছে, এমনটাই বলেন তিনি বৈঠকে। শক্ত হাতে দমন করতে হবে এই কথাও বলেন। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য এসেছে।
গণভবনের বাইরে ততক্ষণে সেদিনটাই দাঁড়িয়ে গেছে সবচেয়ে রক্তাক্ত হিসেবে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের হিসাবে, সেদিন সারাদেশে অন্তত ৯৪ জন নিহত, শুধু সিরাজগঞ্জেই ১৩ জন পুলিশ সদস্য মারা যান। প্রথম আলোর নিজস্ব হিসাবে ৪ঠা থেকে ৬ই অগাস্ট মিলিয়ে মৃত্যু হয় ৩২৬ জনের, তার মধ্যে ৩৬ জন পুলিশ সদস্য।
সরকারি স্থাপনা, থানা, আক্রান্ত হয় বহু জেলায়। সন্ধ্যায় সরকার ঘোষণা দেয়, সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কারফিউ, সঙ্গে তিনদিনের সাধারণ ছুটি, আদালত বন্ধ।
জবাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কর্মসূচি এগিয়ে আনে। ছয়ই অগাস্টের জন্য ঠিক করা 'মার্চ টু ঢাকা' এগিয়ে নিয়ে আসা হয় একদিন অর্থাৎ পরদিন, ৫ই অগাস্টে।
দ্বিতীয় বৈঠক: জোর করে ঠেকানোর পরিকল্পনা
যেটা তখন প্রকাশ্যে আসেনি, কিন্তু পরে সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তা হলো সেই রাতেরই শেষ ভাগে আবার শেখ হাসিনার নিরাপত্তা বাহিনী দ্বিতীয় বৈঠকে বসে গণভবনে। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পরে জাতিসংঘ মিশনকে জানান, সেই বৈঠকে একটা পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়।
সেনাবাহিনী ও বিজিবি পুলিশের সঙ্গে মাঠে নামবে পরদিন সকালে ঢাকার সব প্রবেশ পথ আটকাতে। সেনা ও বিজিবি সদস্যরা সাঁজোয়া যান নিয়ে প্রবেশপথ বন্ধ করবে এবং মানুষের ভিড় সামলাবে পুলিশ।
জাতিসংঘ মিশনের তদন্ত অনুযায়ী, পুরো আন্দোলনের সময়জুড়ে শেখ হাসিনা আর তার কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে প্রায় সার্বক্ষণিক যোগাযোগে ছিলেন; সব অভিযান তারা নিজেরাই তদারকি করেন। কর্মকর্তাদের কল লিস্ট মিলিয়েই এই সিদ্ধান্তে আসে মিশন।
যে পরিকল্পনা টেকেনি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সেই রাতের একটা বর্ণনা দিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের ভাষ্যে, ৪ঠা ও ৫ই অগাস্ট মাঝরাতের পরপর, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক তিন বাহিনী প্রধানের সামনেই সরাসরি পদত্যাগের কথা তোলেন শেখ হাসিনার কাছে।
বলা হয় শেখ হাসিনা রেগে যান। যা হওয়ার হবে, ক্ষমতা ছাড়বেন না, এই কথা বলেন। সেনাপ্রধানকে বলেন কড়া হতে, শক্ত থাকতে, নরম না হতে।
প্রসিকিউটরের ভাষায়, সেই বৈঠক ছিল টানটান আর ভয়ংকর। শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ চারজন সেই রাতে তার পাশে ছিলেন একই সুরে; আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। সবাই তাকে বলেন, নরম হবেন না।
সংবাদমাধ্যমেও এই বিবরণ একইভাবে এসেছে।
চৌঠা অগাস্ট রাতে শেখ হাসিনার সরকার যে পরিকল্পনা অনুমোদন করেছিল, সেটা ৫ই অগাস্ট আর টেকেনি। ঢাকার কেন্দ্রে পৌঁছে যায় অনেক মানুষ।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন বলছে, সেনাবাহিনী আর বিজিবি সেদিন 'বেশিরভাগ জায়গাতেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে', মানুষকে বাধা দেয়নি।
বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম আর জাতিসংঘের তদন্ত, এই দুই পক্ষের তথ্য এক করলে যা বের হয়ে আসে তা হলো, ঘটনার মোড় ঘুরে যায় শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার একদিন আগেই, চৌঠা অগাস্টে হওয়া গণভবনের দুটো বৈঠকে। একটিতে প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে দমনের কথা বলছেন, আর অন্যটিতে এমন একটি পরিকল্পনার অনুমোদন দিয়েছিলেন, যেটা তার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেনি।
বিষয়: