ইশরাকের পিস্তল এবং সরকারের রাজনৈতিক সীমারেখা

আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী মন্ত্রীদেরও পদত্যাগ করতে বাধ্য করা সম্ভব। খালেদা জিয়ার সরকার করেছে, শেখ হাসিনার সরকারও করেছে। কিন্তু শুধু একজন মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বললেই জবাবদিহিমূলক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় না। সেটি প্রতিষ্ঠা করতে হলে দেখতে হবে, পদত্যাগের পর আইন নিজের পথে চলছে কি না এবং একই ধরনের ঘটনায় অন্যদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না।

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

গত দুই দিনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন কি পদত্যাগ করছেন, নাকি করছেন না?

ঘটনার শুরু গত ১৭ অক্টোবর, শনিবার। রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর এলাকায় একটি কথিত মাদকের আস্তানায় অভিযান চালান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পরে নিজের ফেসবুক পেজে অভিযানের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটির শিরোনাম ছিল, ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ।’ সেখানে দেখা যায়, প্রতিমন্ত্রী হাতে পিস্তল নিয়ে কয়েকজন মানুষকে ধাওয়া করছেন। তার সঙ্গে থাকা সশস্ত্র ব্যক্তিরাও অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। একপর্যায়ে একজন নিরাপত্তারক্ষীকে এক ব্যক্তিকে লাথি মারতে দেখা যায়। পরে কয়েকজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশের হিসাবে, সেদিন ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

ইশরাকের বক্তব্য হলো, এলাকাটিতে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার অভিযোগ করলেও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। তার দাবি, বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ বার বৈঠক করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, অভিযানের সময় আক্রমণের আশঙ্কা ছিল। সে কারণে আত্মরক্ষার জন্য নিজের লাইসেন্স করা অস্ত্র বের করেছিলেন। কাউকে ভয় দেখাননি, গুলিও করেননি। তবে পুলিশের বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন। গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ১১ অক্টোবরও ওই এলাকায় প্রায় ৩০০ পুলিশ সদস্য নিয়ে অভিযান চালানো হয়েছিল। অর্থাৎ পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ইশরাক যে দাবি করছেন, তার সঙ্গে পুলিশের বক্তব্যের পার্থক্য রয়েছে।

ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ১৮ অক্টোবর রাতে প্রথম আলো সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইশরাককে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে বলেছেন। কিন্তু ইশরাক প্রথমে একটি অডিও বার্তায় এই খবরকে গুজব বলে উড়িয়ে দেন। পরে মধ্যরাতে আরেকটি পোস্টে জানান, প্রধানমন্ত্রীর কোনো নির্দেশ এলে তা পালন করা তার দায়িত্ব। এমন সিদ্ধান্ত হলে সংবাদ সম্মেলন করে জানাবেন। এরপর ১৯ অক্টোবর সকালে তিনি ঘোষণা করেন, দুপুর দুইটায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন।

এখন প্রশ্ন হলো, ইশরাকের ঘটনাটিকে আমরা কীভাবে দেখব? বিষয়টি শুধু একজন প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর কয়েক সপ্তাহ আগেই মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের আরেক সংসদ সদস্যকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। সেই ঘটনাটিও বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

গত ২৫এ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট এবং ভবন ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় আলোচনায় আসে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম। ঘটনার তদন্ত চলার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেন। ১ অক্টোবর তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার। এই ঘটনায় তার ব্যক্তিগত অপরাধমূলক ভূমিকা আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এই দুটি ঘটনার মধ্যে কিছু মিল আছে। ইশরাক ও মিষ্টি দুজনই ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য। দুজনের কর্মকাণ্ড ঘিরেই আইন ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুজনের ক্ষেত্রেই সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পদ ছাড়ার চাপের খবর এসেছে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নিয়েছে। অর্থাৎ আট মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে এই দুটি ঘটনা ঘটল। ক্ষমতাসীন দলের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এমন ব্যবস্থা নেওয়া নিঃসন্দেহে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সরকার যখন নিজের দলের নেতাদের জন্য কিছু সীমারেখা নির্ধারণের চেষ্টা করছে।

তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রীদের পদত্যাগের ঘটনা নতুন নয়। অতীতের দিকে তাকালে আমরা এমন বেশ কয়েকটি উদাহরণ পাই।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ও একাধিক মন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ২০০৪ সালের ২৫এ মার্চ তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করেন। তবে রিয়াজ রহমানকে পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা করা হয়। অর্থাৎ তিনি মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও সরকারের বাইরে চলে যাননি। পরের বছর, ১৮ জুন ২০০৫, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন পদত্যাগ করেন। কানাডীয় জ্বালানি কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহারের ঘটনায় বিতর্ক তৈরি হলে খালেদা জিয়া তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেন। এরপর ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে বিদ্যুৎসংকট ও জনবিক্ষোভের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আনোয়ারুল কবির তালুকদারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

শেখ হাসিনার ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শাসনকালেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০১২ সালের এপ্রিলে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহকারীর গাড়ি থেকে বিপুল অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় বিতর্ক তৈরি হয়। সেই বিতর্কের মুখে সুরঞ্জিত পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তবে তাঁকে পরে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে রাখা হয়। একই বছরের ২৩ জুলাই পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নসংক্রান্ত জটিলতার মধ্যে সৈয়দ আবুল হোসেন মন্ত্রিত্ব ছাড়েন।

২০১৪ সালের অক্টোবরে হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার ক্ষেত্রে অবশ্য পদত্যাগের ঘটনা ঘটেনি। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে তার মন্ত্রিত্বের অবসান ঘটানো হয়। এরপর ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর নারীদের নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য এবং ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিং ঘিরে বিতর্কের পর তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান পদত্যাগ করেন।

অর্থাৎ আমরা দেখছি, বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রিত্ব ছাড়ার ইতিহাস রয়েছে। তবে সব ঘটনার কারণ এক ছিল না। কোথাও জনসমালোচনা, কোথাও প্রশাসনিক ব্যর্থতা, কোথাও মন্ত্রীর ব্যক্তিগত আচরণ, আবার কোথাও সরকারের রাজনৈতিক স্বার্থ কিংবা আন্তর্জাতিক চাপ কাজ করেছে। এমনও হয়েছে, কোনো মন্ত্রী পদ হারিয়েছেন, কিন্তু তার রাজনৈতিক প্রভাব অক্ষত থেকেছে। আবার পদত্যাগের পর সংশ্লিষ্ট অভিযোগের তদন্ত সব ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব পায়নি।

এই ইতিহাস মাথায় রেখে বর্তমান সরকারের দুটি ঘটনাকে দেখা দরকার।

আমার কাছে মনে হচ্ছে, সরকার তার মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের জন্য কিছু রাজনৈতিক সীমারেখা তৈরি করার চেষ্টা করছে। সেই সীমারেখার একটি দিক হলো, আপনি ক্ষমতাসীন দলের সদস্য হতে পারেন, জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা হতে পারেন, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে আপনার কর্মকাণ্ড নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হলে সরকার আপনাকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করবে।

বিষয়টিকে ইংরেজিতে এভাবে বলা যায়, Everyone is expendable except the government. অর্থাৎ সরকারের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা রক্ষার প্রয়োজনে যে কাউকে তার পদ ছাড়তে হতে পারে। সরকার সম্ভবত এই বার্তাটিই দিতে চাইছে যে, কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক অবস্থান সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থানের চেয়ে বড় নয়।

ইশরাকের ঘটনায় আরেকটি বিষয়ও আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। আমাদের দেশে জনপ্রতিনিধিদের নানা ধরনের অভিযান, তদারকি কিংবা তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ জনপ্রিয়। এসব ভিডিওতে দেখা যায়, জনপ্রতিনিধি নিজেই ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন, মানুষকে ধমক দিচ্ছেন, কাউকে ধরছেন কিংবা সরাসরি সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন। সাধারণ মানুষের একটি অংশের কাছে এসব কাজ বেশ আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। তারা ভাবতে পারেন, অন্তত একজন জনপ্রতিনিধি তো কাজ করছেন।

কিন্তু সমস্যা হলো, প্রশাসনিক কাজ যখন একজন ব্যক্তির সাহস, উপস্থিতি কিংবা তাৎক্ষণিক ক্ষমতা দেখানোর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, তখন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

একজন জনপ্রতিনিধির কাজ সব সময় নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া নয়। তার কাজ হলো, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান যেন ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করে, সেটি নিশ্চিত করা। মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে হলে পুলিশকে কার্যকর করতে হবে। মাদকের অর্থ কোথা থেকে আসছে, কারা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে, সেই নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করতে হবে। ব্যক্তিগত অস্ত্র হাতে অভিযান চালিয়ে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব নয়।

ইশরাককে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটি শুধু পদত্যাগের মধ্য দিয়ে শেষ করে দেওয়া উচিত হবে না। এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছিল, সেটি দেখা দরকার। যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, সেটিও পরিষ্কার হওয়া দরকার।

সরকারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, কে পদত্যাগ করলেন, তার চেয়ে পদত্যাগের পরে কী ঘটছে। দুজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্য দিয়ে সরকার তার দলের অন্যদের একটি বার্তা দিতে পারে। কিন্তু সেই বার্তা কতটা বিশ্বাসযোগ্য হবে, তা নির্ভর করবে সরকার একই নিয়ম সবার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করছে কি না, তার ওপর। রাজনৈতিক পরিচয় যেন কাউকে আইনি দায়িত্ব থেকে রক্ষা করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী মন্ত্রীদেরও পদত্যাগ করতে বাধ্য করা সম্ভব। খালেদা জিয়ার সরকার করেছে, শেখ হাসিনার সরকারও করেছে। কিন্তু শুধু একজন মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বললেই জবাবদিহিমূলক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় না। সেটি প্রতিষ্ঠা করতে হলে দেখতে হবে, পদত্যাগের পর আইন নিজের পথে চলছে কি না এবং একই ধরনের ঘটনায় অন্যদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না।


লেখক: ডক্টরাল ফেলো, জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র  

[মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব]