ফেইসবুকে স্ক্রল করতে করতেই একটা মিমে চোখ আটকে গেলো। সাধারণ রান্নার ভিডিও। গরম তেলে মসলা-পাতি পড়ছে, ধোঁয়া উড়ছে, চারপাশে সবজি-ছুরি-ঢাকনা পাতিল ছড়ানো। ওপরে লেখা, এতদিনে বুঝলাম কেন আম্মা রান্নাঘর থেকে বের হয়ে কোনো কারণ ছাড়াই মাইর দিতো!
যারা প্রতিদিন রান্না করেন, তারা সম্ভবত এই হালকা মিমের পেছনের কঠিন বাস্তবতা বুঝে ফেলেছেন। গল্প-উপন্যাস কিংবা ইন্দুবালা ভাতের হোটেল সিনেমার নস্টালজিক রেসিপিতে ‘মায়ের রান্না’ এই বিষয়টাকে খুব মহিমান্বিত করি আমরা। মা মানেই আমাদের কাছে তার গন্ধ, কথা, স্পর্শ, রান্না, সবকিছু মিলিয়ে এক গভীর আবেগের নাম। প্রশ্ন হচ্ছে, এই আবেগের তোড়ে আমরা কী এটাও ভুলে যাই যে, মা’ও একজন সম্পূর্ণ, স্বতন্ত্র মানুষ? তারও শরীর খারাপ থাকলে রান্না করতে ইচ্ছা নাও করতে পারে, তারও মন খারাপ হলে চুপ করে বসে থাকতে ইচ্ছা করে, তারও ইচ্ছা করতেই পারে সব ছেড়ে কিছুদিন সমুদ্রের পাড়ে বসে ‘চিল’ করতে?
মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমরা ‘মা’-কে এতটাই পবিত্র একটা পরিচয়ে বসিয়ে ফেলেছি যে, অনেক সময় তার খুব সাধারণ মানবিক ইচ্ছাগুলোকেও আমাদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়। একজন মা যদি বলেন, ‘আজ রান্না করতে ভালো লাগছে না’, তখন কথাটা শুনে অনেক পরিবারে রীতিমতো বিস্ময় তৈরি হয়। অর্থাৎ সমস্যাটা ভালোবাসায় নয়। সমস্যাটা তখন শুরু হয়, যখন ভালোবাসা এবং মা নামক ‘রোলের’ সঙ্গে আমরা একটা নির্দিষ্ট সার্ভিস প্যাকেজও জুড়ে দিই।
আবার ধরুন, বউ।
আমাদের কাছে বউয়ের ছবিটা কেমন? শান্ত, সংসারী, হিসেব বোঝে, কথা শোনে, সবার যত্ন করে, সবার মন জুগিয়ে চলে, পরিবারের ‘ইমেজ’ ধরে রাখে। ‘ভালো ঘরের বউ’দের বিপদ আরেক কাঠি বাড়তি। হাজবেন্ড যদি কোনো কারণে মেরেও বসে, বা শ্বশুরপক্ষের আত্মীয়স্বজন তার জাতি-গোষ্ঠী উদ্ধার করে ফেললেও তিনি কাউকে কিছু বলবেন না। কারণ ‘ঘরের ভেজালের কথা বাইরে বলা যায় না’। নিজের কষ্ট চেপে রাখতে পারার মধ্যেও যেন একটা আভিজাত্য আছে। নিজেকে ধ্বংস করতে করতে যে যত দ্রুত এই মোল্ডে নিজেকে ফিট করতে পারবে, সে তত ভালো বউ।
ভালো ঘরের মেয়ে ও বৌ’রা কীভাবে তৈরি হয়? ওই যে, ভালো মায়েদের ট্রেনিং পেয়ে পেয়ে। ‘এত কথা বলিস না’, ‘মেয়েদের একটু সহ্য করতে হয়’, ‘শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে এসব চলবে না’, ‘সংসার করতে গেলে মানিয়ে নিতে হয়’ এসব কথা আমাদের সমাজে খুব পরিচিত। এগুলো সব সময় খারাপ উদ্দেশ্যে বলা হয় না। বরং অনেক মা নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই মেয়েকে বাঁচিয়ে রাখার কৌশল শেখান। কিন্তু একটা প্রজন্ম যে কৌশল দিয়ে টিকে ছিলো, পরের প্রজন্মের কাছে সেটাই কখনো কখনো নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়।
সমাজবিজ্ঞানে এটাকে বলা হয় ‘জেন্ডার সোশ্যালাইজেশন’। খুব ছোট বয়স থেকেই আমরা ছেলে আর মেয়েকে আলাদা পোশাকের পাশাপাশি আলাদা আবেগ, দায়িত্ব এবং আলাদা সহ্যক্ষমতার শিক্ষাও দিই। একটা মেয়েকে যত্ন করতে শেখানো হয়, একটা ছেলেকে দায়িত্ব নিতে শেখানো হয়। সমস্যা হলো, একসময় মেয়েটার ‘যত্ন করা’ আর ছেলেটার ‘দায়িত্ব নেওয়া’ দুটোকেই আমরা বাধ্যতামূলক চরিত্রে পরিণত করি। সমাজে ‘ভালো’র যে ‘ইমেজ’ আমরা তৈরি করে রেখেছি, এর পেছনের হিপোক্রেসিটা আমরা দেখি না। কারণ দেখলে বিবেকে একটু খোঁচা লাগতে পারে। আর সেই খোঁচায় যদি কেউ উঠে দাঁড়ায়ও, তাকে কিন্তু একটু কাজও করতে হয় তখন। মায়ের বা বউয়ের অসুস্থতার সময়ে নিজের খাবার নিজেকে ম্যানেজ করতে হয়, ঘরের আরাম, রান্নার স্বাদ স্যাক্রিফাইস করতে হয়। যে প্লেটটা এত দিন নিজে থেকেই রান্নাঘরে চলে যেতো, সেটাকে কে নিয়ে যেতো, সেটাও তখন চোখে পড়ে। যারা এই কাজটুকু করতে আগ্রহী হন, তাদেরও এই সমাজেরই আরেক দল দমিয়ে রাখে। বলে, ‘মেয়েলি কাজ’ ছেলেরা কেন করবে? হাঁড়ি-পাতিল-বাসন মাজা, কাপড় ধোয়া, পানির ফিল্টারটা পরিষ্কার করা, ফ্যানের ময়লা ঝাড়া, সবজি কাটা, শাক কুটাবাছা করা, মেয়েলি কাজের লিস্টের তো শেষ নেই।
খেয়াল করবেন, এখানে শুধু কাজের কথা হচ্ছে না। ঘরের কাজের একটা বড় অংশ হলো invisible labour বা অদৃশ্য শ্রম। বাজার শেষ হয়ে আসছে, স্কুলের টিফিনের জন্য কাল কী লাগবে, বাচ্চার ইউনিফর্ম ধোয়া হয়েছে কি না, শাশুড়ির ওষুধ শেষ হবে কবে, ঈদের আগে কোন পর্দাটা ধোয়া দরকার, এসব কাজ হাতে করার আগেই কারও মাথার মধ্যে চালু থাকে। এটাকে এখন অনেক আলোচনায় মেন্টাল লোড বলা হয়। অর্থাৎ আপনি হয়তো বাজারটা করে দিলেন, কিন্তু বাজারে কী কী আনতে হবে সেই তালিকাটা কে মাথায় রাখলো? আপনি হয়তো ডাক্তার দেখাতে নিয়ে গেলেন, কিন্তু অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া, রিপোর্ট মনে রাখা, ওষুধের নাম খেয়াল করা, এসব চিন্তার কাজটা কে করলো?
এই জন্যই কেউ যখন খুব আবেগ নিয়ে বলে, ‘মা অসুস্থ থাকলে সংসার থেমে যায়’, আমার মাঝে মাঝে হাসি পায়। কারণ বাক্যটার মধ্যে প্রশংসা আছে, আবার ভয়ংকর একটা স্বীকারোক্তিও আছে। একটা বাড়ির একজন মানুষ এক দিন অসুস্থ হলে যদি পুরো সংসারের চাকা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সেই মানুষটি কত মহান সেটাই কি শুধু প্রমাণ হয়? নাকি এটাও প্রমাণ হয় যে বাকি মানুষগুলো তার শ্রমের ওপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে যে, তাকে ছাড়া নিজেদের জীবন চালানোর ন্যূনতম ব্যবস্থাটুকুও শেখেনি? আর একটা মানুষকে যখন আমরা ‘চাকা’র সঙ্গে গুলিয়ে ফেলি, অবজেক্টিফাই করে ফেলি, তখন আমরাও কি আর মানুষ থাকি? চাকার তো জ্বর হয় না। চাকার মন খারাপ হয় না। চাকা বলে না, ‘আজকে আমার কিছু করতে ইচ্ছা করছে না।’ চাকার ছুটিও লাগে না। কিন্তু মানুষের তো লাগে।
তবু অনেক সংসার এভাবেই চলে। পুরুষরা আয় করবেন, যে নারীরা বাইরে কাজ করতে চান না তাঁরা সংসারের এই সমস্ত কাজ সামলাবেন, এই অলিখিত চুক্তিতেই তাদের সংসার চলে। এতে নিজে থেকে সমস্যা থাকার কথা না। দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী কাজ ভাগ করতেই পারেন। সমস্যা শুরু হয় সম্ভবত তখন, যখন এই ‘চুক্তি’ আর চুক্তি থাকে না, জন্মগত দায়িত্ব হয়ে যায়। এই যে বিভিন্ন রোলে আমরা নারী ও পুরুষকে বসিয়ে দিই, সমস্যার দানা কী সেখানেই বাঁধে না?
ভেবে দেখুন তো, বাইরে চাকরি করা মানুষের অন্তত অফিস শেষ হওয়ার একটা সময় আছে। সপ্তাহের কোনো একটা দিন ছুটি আছে। অসুস্থ হলে ‘সিক লিভ’ এর অপশন আছে। কারণ কর্মক্ষেত্রে আমরা অন্তত নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছি, যে মানুষ কাজ করে, তার বিশ্রামও প্রয়োজন। বাসার মা-খালা-বউদের ক্ষেত্রে এই সাধারণ নীতিটা কোথায় যায়? তাদের কর্মঘণ্টা কখন শেষ হয়? সকালের নাশতা বানিয়ে? দুপুরের রান্নার পরে? রাতে বাসন ধুয়ে? নাকি বাচ্চা রাত দুইটায় জেগে উঠলে আবার তার শিফট শুরু হয়? বাইরে কাজ করা পুরুষটি হয়তো ফুল ডেডিকেশন দিয়ে কোম্পানির উন্নয়নে কাজ করছেন। ঘরের নারীও হয়তো একইভাবে ফুল ডেডিকেশনে বাচ্চা, পরিবার, ঘর সব সামলাচ্ছেন। এরপরও কেন একজনের বিশ্রামকে অধিকার হিসেবে দেখা হয়, আর অন্যজনের বিশ্রামকে বিলাসিতা বা অজুহাত হিসেবে? এই প্রশ্নটাও সম্ভবত আমাদের করা দরকার।
সাইকোলজিতে একটা খুব পরিচিত ব্যাপার আছে, যে সুবিধা বা যত্ন আমরা নিয়মিত পেতে থাকি, খুব দ্রুত সেটার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যাই। শুরুতে কেউ প্রতিদিন সকালে আপনার জন্য চা বানিয়ে দিলে আপনি হয়তো বলবেন, ‘থ্যাংক ইউ।’ ছয় মাস পরে চা-টা টেবিলে থাকাই স্বাভাবিক মনে হবে। আর কোনো দিন না থাকলে হয়তো প্রশ্ন করবেন, ‘আজকে চা হলো না?’ খেয়াল করলে দেখবেন, পরিবর্তনটা খুব সূক্ষ্ম।
যত্ন ধীরে ধীরে ‘expectation’ বা প্রত্যাশায় রূপ নিচ্ছে, প্রত্যাশা থেকে নিজ থেকেই তৈরি হওয়া অধিকারবোধ বা ‘entitlement’। কাছের মানুষের যত্নের ক্ষেত্রেও অনেক সময় তেমনটাই ঘটে। যেটা একসময় বাড়তি ভালোবাসা ছিলো, নিয়মিত পেতে পেতে সেটাই ‘স্বাভাবিক’ হয়ে যায়। তার সঙ্গে যদি সামাজিক ভূমিকার শিক্ষা যোগ হয় যেমন ‘বউ তো করবেই’, ‘মা তো করবেই’ তাহলে কৃতজ্ঞতার জায়গাটা খুব সহজেই অধিকারের জায়গায় চলে যায়। সোজা বাংলায় এর মানে হলো, কারও মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খেতে খেতে একসময় তা নিজের অধিকার বলে মনে হওয়া।
এই জন্য রাত ৪টায় বউ ১০২ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে পরোটা বানাচ্ছে, এটা আমাদের কাছে খুব সহজেই ‘ও আমাকে কত ভালোবাসে’–এর উদাহরণ হয়ে যায়। ভালোবাসা নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু গল্পটার আরেক পাশও আছে। ১০২ ডিগ্রি জ্বরে থাকা একজন মানুষকে ভোর চারটায় পরোটা বানাতে বলা যায়, এটা মনে হলো কেন? উনার বৌ নাহয় পরোটা বানিয়ে নিজের ভালোবাসার প্রমাণ দিলো, উনি নিজেকে কী হিসেবে উপস্থাপন করলেন? উনি কী আদতেই নিজের বৌকে ভালোবাসেন? ভালোবাসলে তো অসুস্থ বৌয়ের কাছে পরোটা-সার্ভিস আশা করতেন না। আরও ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো, ঘটনাটা যে মানুষ বলছেন, তিনি হয়তো তাঁর স্ত্রীর মহত্ব বোঝাতেই বলছেন। অর্থাৎ নিজের কাছে ঘটনাটা নিষ্ঠুরতার নয়, ভালোবাসার গল্প হিসেবেই জমা হয়েছে।
এই জায়গাটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি ভাবায়। কারণ এতে ব্যক্তির চেয়ে বড় একটা সামাজিক মনস্তত্ত্ব ধরা পড়ে। আমরা এমন একটা সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছি, যেখানে সম্পর্কের খাতিরে কারও আত্মত্যাগ এতটাই স্বাভাবিক যে, যে মানুষটি সেই ত্যাগের সুবিধা পাচ্ছেন তিনিও বুঝতে পারেন না, গল্পটির মধ্যে তাঁর নিজের জন্যও একটি প্রশ্ন লুকিয়ে আছে। আর এখানেই ভালোবাসা আর ‘entitlement’ বা অধিকারের সীমারেখাটা গুরুত্বপূর্ণ। কেউ ভালোবেসে আমার জন্য কিছু করতেই পারেন। কিন্তু সেই ভালোবাসা আমাকে তার কষ্টের প্রতি অন্ধ হওয়ার লাইসেন্স দিয়ে দেয় না। বরং উল্টোটা হওয়ার কথা। যত বেশি ভালোবাসি, তত বেশি তো খেয়াল করার কথা যে, আমার জন্য কিছু করতে গিয়ে মানুষটা নিজেকে কষ্ট দিচ্ছে কি না।
সম্পর্ক মানেই কিছু রোল বা ভূমিকা, বা পরিচয় থাকবে, কিছু দায়িত্ব থাকবে। সমস্যা রোলে নয়। সমস্যা তখন, যখন রোলটা এত বড় হয়ে যায় যে তার নিচে মানুষটাকেই আর দেখা যায় না। মা মানেই সেবা করবে। বউ মানেই মানিয়ে নেবে। মেয়ে মানেই পরিবারের সম্মান রাখবে। একইভাবে বাবা মানেই টাকা আনবে। স্বামী মানেই সব বিপদ সামলাবে। পুরুষ মানেই শক্ত থাকবে। এই জায়গাতেই গল্পটা শুধু নারীর আর থাকে না। অনেক পুরুষকেও বলতে শোনা যায়, সংসারের ঘানি টানতে টানতে তিনি আর মানুষ নেই; শুধু ইনকামের মেশিন। তার টাকা আছে মানে দাম আছে। আয় কমে গেলে নিজের কাছেও নিজের মূল্য কমে যাচ্ছে বলে মনে হয়। এটাও একই সমস্যার আরেক দিক। আমরা একদিকে নারীকে কেয়ারগিভার বানিয়ে ফেলেছি, অন্যদিকে পুরুষকে প্রোভাইডার। তারপর দুজনেরই একটা নির্দিষ্ট কাজের বাইরে মানুষ হিসেবে যে অস্তিত্ব আছে, সেটা ভুলে গেছি। জীবনের কোনো একটা ভূমিকা মানুষের পুরো পরিচয়কেই গিলে খাচ্ছে। একজন নারীর আর নিজের নাম থাকে না, তিনি হয়ে যান ‘অমুকের মা বা বৌ’। একজন পুরুষেরও নিজের নাম হারিয়ে যায়, তিনি হয়ে যান অমুক অফিসের তমুক কর্মকর্তা। তাঁদের ভয়, ক্লান্তি, শখ, অপূর্ণতা, আলস্য, ব্যক্তিগত স্বপ্ন, এসব যেন ওই পরিচয়ের পাশে ছোট হয়ে যায়।
কিন্তু মানুষ তো কোনো একটা রোল না। একজন মানুষ একই সঙ্গে মা হতে পারেন, বন্ধু হতে পারেন, প্রেমিকা হতে পারেন, বই পড়তে ভালোবাসতে পারেন, একা থাকতে চাইতে পারেন, দায়িত্বশীল হতে পারেন, আবার কোনো কোনো দিন একেবারেই দায়িত্ব নিতে ইচ্ছা না-ও করতে পারে। একজন বাবা একই সঙ্গে উপার্জনকারী হতে পারেন, আবার ভয় পেতে পারেন, ব্যর্থ হতে পারেন, কাঁদতে পারেন, বিশ্রাম চাইতে পারেন। এসবের কোনোটাই তাঁদের সম্পর্কের পরিচয়গুলোকে ছোট করে না। বরং মানুষ থাকার জায়গাটা যতটুকু থাকবে, সম্পর্কও সম্ভবত ততটাই সুস্থ থাকবে। যতদিন পর্যন্ত আমরা সমাজের এই টক্সিক ট্রেইটগুলো আইডেন্টিফাই করতে না পারছি, ততদিন না নিজেরা শান্তি পাব, না অন্য কাউকে শান্তিতে রাখতে পারব।
কারণ সমস্যা শুধু কে রান্না করছে বা কে টাকা আয় করছে, সেটা নয়। সমস্যা হলো, আমরা কাছের মানুষটির কাজটাকে তাঁর স্বভাব, দায়িত্ব, এবং নিজের অধিকার মনে করতে শুরু করছি কি না। ভোরবেলায় পরোটার আবদার না করে, দুটো ডিমসেদ্ধ করে খেয়ে নিয়ে বৌকে রেস্ট করতে দিচ্ছি কীনা। ভালোবাসা আর অধিকারবোধের এই সীমারেখাটা বুঝতে পারাই সম্ভবত সবচেয়ে জরুরি। আর তার চেয়েও জরুরি, কাছের মানুষটাকে মানুষ হিসেবে দেখতে পারা।
লেখক: কনটেন্ট এবং কমিউনিকেশন বিষয়ক পেশায় কাজ করছেন



