গ্রেপ্তার এড়াতে বরিশালের মাদক কারবারীদের স্লিপিং কোচে কক্সবাজার ভ্রমণ

গ্রেপ্তার হওয়া মাদক কারবারীরা বরিশাল শহরের কেডিসি বস্তি এলাকার বাসিন্দা, যেটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য সবসময়ই আলোচিত। মাঝে মাঝে মাইকে ঘোষণা দিয়ে এক পক্ষ আরেক পক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় সেখানে। ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাজা, মদের কারবার চলে এই বস্তিতে।

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

পাঁচদিনের কক্সবাজার ভ্রমণ শেষে সোমবার বরিশাল ফিরছেন তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীরা এমন খবর আগেই পেয়েছিলো মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বিমানবন্দর এলাকায় টিম নিয়ে ওত পেতে বসেছিলো ডিবির একটি টিম। দুপুর নাগাদ ইউরো কোচ সার্ভিসের একটি বাস সেখানে পৌঁছায়। এরপর বাস থামিয়ে অভিযান শুরু হয়।

বরিশাল মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেলের উপপরিদর্শক তানজিল আহমেদ জানান, সম্প্রতি বরিশালে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। ওই অভিযান ফাঁকি দিতেই মাদক কারবারীরা কক্সবাজার ভ্রমণের উদ্যোগ নেয়। সেই অনুযায়ি ২৯এ সেপ্টেম্বর দুই লাখ টাকায় ভাড়া করা স্লিপিং কোচে কক্সবাজার যায় বরিশালের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা।

তানজিল আহমেদ আরো জানান, শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে তাদের পরিবারের সদস্যরাও কক্সবাজার ভ্রমণের সঙ্গী হয়েছিলো।  

ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, স্লিপিং কোচে ছিলেন ৩০ জন। এদের নেতৃত্বে ছিলেন বরিশালের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের নয় মামলার আসামি তেত্রিশ বয়র বয়সী নিলুফা বেগম ও তার স্বামী রাসেল হাওলাদার। চৌত্রিশ বছর বয়সী রাসেলের নামেও দু’টি মামলা রয়েছে।

নিলুফা-রাসেলের পাঁচ সহযোগী গিয়েছিলেন কক্সবাজার ভ্রমণে। তাদের মধ্যে মো. সোহেল চারটি, মো. মিঠু দুইটি ও আসমা বেগম তিনটি মামলার আসামি। অন্য দু’জন হলো মো. সাগর ও  মো. শাওন।

গ্রেপ্তার হওয়া মাদক কারবারীরা বরিশাল শহরের কোতোয়ালী মডেল থানা কেডিসি বস্তি এলাকার বাসিন্দা বলে জানান ডিবির আরেক কর্মকর্তা। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য সবসময়ই আলোচিত এই বস্তি। মাঝে মাঝে মাইকে ঘোষণা দিয়ে এক পক্ষ আরেক পক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় সেখানে। ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাজা, মদের বিশাল কারবার চলে এই বস্তিতে।

৫ দশমিক ৮৬ একের বস্তিটি ‘মাদকের হাট’ নামে পরিচিত। ৭৫০টি পরিবারে প্রায় ১০ হাজার সদস্য বসবাস করে সেখানে। প্রায় প্রতিটি পরিবারেরই মূল পেশা মাদক ব্যবসা।

কে এই নিলুফা বেগম

বরিশালের শীর্ষ মাদক কারবারীদের একজন হলেন নিলুফা। ২০১৯ সালের ৮ই অগাস্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে এক বন্দুক যুদ্ধে নিহত হন নিলুফার প্রথম স্বামী মালেক। পনের মামলার আসামি মালেকের মৃত্যুর পর মাদক ব্যবসার হাল ধরেন তিনি। পরে রাসেল হাওলাদারের সাথে দ্বিতীয় বিয়ে হয় তার। গত বছরের অগাস্টে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন নিলুফা। ‘মাদক নির্মূল কমিটি’র এই ঘোষণা এসেছিলো।

সে সময় সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিলেন, “স্বামীর মৃত্যুর পর কেউ কাজ দেয়নি। অভাবের তাড়নায় বাধ্য হয়েই ইয়াবা বিক্রিতে নেমেছিলাম। তবে নির্মূল কমিটির উদ্যোগে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিলাম।”

নিলুফা অবশ্য খুব বেশিদিন মাদক ব্যবসার বাইরে থাকেননি। বরং মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণার আড়ালে আরো শক্তিশালী করেছিলেন মাদক নেটওয়ার্ক।

গত ৯ জুন কেডিসি বস্তিতে অভিযান চালিয়ে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে ডিবি। ৩৯ লাখ টাকার গাঁজার এই চালানটির মালিক ছেলেন নিলুফা ও সাইদুল ইসলাম নামে আরেক মাদক ব্যবসায়ী।

আদালত সূত্র জানায়, নিলুফা ও তার সহযোগীদের মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়। ইউরো কোচ তল্লশীর সময় কোনো মাদক না পাওয়ায় পুরোনো মামলাতেই গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাদের। আদালত সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে নিলুফাসহ পাঁচজনকে ২ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড, ২ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০০ টাকা জরিমানা করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড, ৩ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয় মো. সাগর ও মো. শাওনকে।