পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু: সিলেটে বরখাস্ত এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

সিলেটে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বরখাস্তকৃত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরো দুই পুলিশ সদস্য কনস্টেবল হারুন অর রশিদ ও টিপু চন্দ্র দাসকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলায় ৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে প্রায় ছয় বছর পর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। 

মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার বাকি তিন আসামি সহকারী উপপরিদর্শক আশেক এলাহী, উপপরিদর্শক মো. হাসান উদ্দিন ও সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমানকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

২০২০ সালের ১০ই অক্টোবর রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয়। পরদিন সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। পরে তদন্তে নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া যায়।

ঘটনার পর তৎকালীন ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে কনস্টেবল হারুন অর রশিদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২০২০ সালের ৯ই নভেম্বর কানাইঘাট সীমান্ত থেকে প্রধান আসামি আকবরকে আটক করা হয়।

২০২১ সালের ৫ই মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পিবিআই। এতে ছয়জনকে আসামি করা হয়। তারা হলেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ আকবর হোসেন ভূঁইয়া, সহকারী উপপরিদর্শক আশেক এলাহী, কনস্টেবল হারুন অর রশিদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস, উপপরিদর্শক হাসান উদ্দিন এবং আকবরের আত্মীয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান। একই বছরের ৩০এ সেপ্টেম্বর মামলার বিচার শুরু হয়।