নয় দিন আগেও চাঁদপুর শহরেই ছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস। ১৯এ অগাস্ট এক পাওনাদারকে কিছু টাকা পরিশোধও করেছিলেন তিনি। পরদিন পুরো পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিলো তার। ২০এ অগাস্ট ওই পাওনাদার আবারো তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান। তবে পিন্টুর দেখা পাননি। কয়েকদিন পর তার ভাড়া বাসায়ও খোঁজ নিতে যান ওই পাওনাদার। সেখানে গিয়ে দেখেন ফ্ল্যাট তালাবদ্ধ। ফোনও বন্ধ।
আলাপ রিপোর্ট
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫২ পিএমআপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এই ব্যবসায়ী পরিবারটির নিখোঁজ থাকার কারণ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। পিন্টু কি বন্ধকি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করে সপরিবার পালিয়ে গেছেন, না-কি নেপথ্যে অন্যকোনো ঘটনা আছে তার সুরাহা হয়নি এখনো।
পিন্টুর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে আত্মীয়-স্বজনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত পুলিশের কাছে কেউ অভিযোগ করা হয়নি। ১৯এ অগাস্ট রাতে উধাও হলেও পিন্টুর বিষয়ে আলোচনা শুরু হয় বুধবার।
যেভাবে সপরিবারে নিখোঁজ
চাঁদপুর শহরের কুমিল্লা রোডের আখন্দ মার্কেটে ‘এস কে জুয়েলার্স অ্যান্ড শিল্পালয়’ নামে একটি দোকান আছে পিন্টু দাসের। শহরের কালীবাড়ি এলাকায় মদিনা মার্কেট মহল্লায় আবদুল গফুর খানের সৌর ভিলার চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন তিনি। সেখানে আট মাস ধরে ভাড়া ছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নয় দিন আগেও চাঁদপুর শহরেই ছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস। ১৯এ অগাস্ট এক পাওনাদারকে কিছু টাকা পরিশোধও করেছিলেন তিনি। পরদিন পুরো পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিলো তার।
২০এ অগাস্ট ওই পাওনাদার আবারো তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান। তবে পিন্টুর দেখা পাননি। কয়েকদিন পর তার ভাড়া বাসায়ও খোঁজ নিতে যান ওই পাওনাদার। সেখানে গিয়ে দেখেন ফ্ল্যাট তালাবদ্ধ। ফোনও বন্ধ।
ভবন মালিকের ছেলে মোহাম্মদ রাসেল খান আলাপ-কে বলেন, “ফ্ল্যাটের দরজায় তালা দেওয়া ছিলো। আমরা ভেবেছিলাম পিন্টু দাস হয়তো অন্য কোথাও বেড়াতে গেছেন।“
“গত কয়েকদিন কিছু লোক এসে পিন্টু দাসের কাছে টাকা ও স্বর্ণালংকার পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। পুলিশও এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে এসেছিলো” বলেন, রাসেল খান ।
তিনি জানান, পিন্টু দাস নিখোঁজ হওয়ার পর তার তালাবদ্ধ ভাড়া ফ্ল্যাট খুলে দেখেছে পুলিশ। ফ্ল্যাটে টিভি-ফ্রিজসহ মূল্যবান কিছুই নেই।
রাসেল জানান, মূলত ১৯এ অগাস্ট রাত থেকেই পিন্টু দাস, তার স্ত্রী রিমি দাস ও দুই ছেলে প্রিয়ম দাস ও রূপম দাসের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তদের ফোনও বন্ধ রয়েছে।
প্রতারণার অভিযোগ
চাঁদপুর শহরের জোড়পুকুর পাড়, নিউমার্কেট এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে জুয়েলারির দোকান চালানোর পর সবশেষ আখন্দ মার্কেটে দোকান দেন পিন্টু। পিন্টু আখন্দ মার্কেটে প্রায় ছয় মাস আগে দোকান দিয়েছেন। এর আগে জোরপুকুরপাড় এলাকায় পাঁচ-ছয় বছর এবং নিউমার্কেটে প্রায় তিন বছর তিনি স্বর্ণের ব্যবসা করেন।
প্রতিটি এলাকাতেই তার বিরুদ্ধে আছে স্বর্ণ ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। বেশকিছুদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক রাখার পর সময়মতো ফেরত দিতে পারছিলেন না পিন্টু। বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার নামে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়েছিলেন তিনি।
রাসেল নামের এক ব্যক্তি পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। সম্প্রতি টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে যান রাসেল। এ সময় পিন্টু তাকে পরে যোগাযোগ করতে বলেন। এর মধ্যেই পিন্টু দাসের সপরিবার নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়েছেন রাসেল। স্বর্ণালংকার না পাওয়ায় ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগও করেছেন। তবে পিন্টুর সন্ধান না মিললে স্বর্ণালংকার ফিরে পাবেন না বলে মনে করেন তিনি।
স্থানীয় আরেক ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, এক বছর আগে পিন্টু দাসের কাছে কিছু স্বর্ণ বিক্রির জন্য দিয়েছিলেন নতুন বাজারের পাটোয়ারী বাড়ির এক ব্যক্তি। ওই স্বর্ণের দাম প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা। কিন্তু পিন্টু টাকা দিতে নানা টালবাহানা করেন। পরে সালিসে সিদ্ধান্ত হয় ওই ব্যক্তিকে তিনটি চেকের মাধ্যমে ছয় লাখ টাকা দেবেন পিন্টু। ২০এ অগাস্টের মধ্যে টাকা দেওয়ার কথা ছিল।
ইচলি এলাকার বাসিন্দা আবুল বারাকাত পাটওয়ারী দাবি করেন, পিন্টুর কাছে তার ছয় লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। সোনার গহনা তৈরি বাবদ লেনদেনের কারণে তিনি ওই টাকা পান।
পিন্টুর বিরুদ্ধে স্বর্ণ ও টাকা আত্মসাতের এমন অভিযোগ বেশ পুরনো। এ নিয়ে একাধিকবার সালিস-বৈঠকও হয়েছে বলে জানিয়েছে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ। স্বর্ণ বা টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও বিভিন্নজনকে দিয়েছিলেন পিন্টু। তবে শেষ পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি।
মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদ বলেন, “পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জনের স্বর্ণ ও টাকাপয়সা আত্মসাতের অভিযোগ আছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে প্রতারণার কারণেই পালিয়ে গেছে তিনি। তবে স্বেচ্ছায় আত্মগোপন নাকি অন্য কোনো ঘটনা আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন,“প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ঋণের বোঝা থেকে বাঁচতে তিনি সপরিবারে আত্মগোপনে থাকতে পারেন। তার অবস্থান খুঁজে বের করতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।”
টাকা আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা কতটুকু খতিয়ে দেখা জরুরী বলে মনে করেন চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বিনয় ভূষণ মজুমদার।
ব্যাবসায়ী হিসাবে পিন্টুর কাছে যেমন অনেকের পাওনা আছে, তেমনি পিন্টুও অনেকের কাছে টাকা পান-অতএব স্বচ্ছ তদন্ত না হলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে না-মনে করেন বিনয় ভূষণ মজুমদার।
তবে জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব অজিত সাহা মনে করেন, পিন্টু দাস ঋণে জর্জরিত ছিলেন। ধারদেনার কারণেই স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হয়েছেন তিনি।
অজিত সাহা বলেন, “পিন্টুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সাথে সাম্প্রদায়িক কোনো বিষয় নেই বলেই জানি। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্মানহানি হয়েছে।”
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মানিক পোদ্দার বলেন, “পিন্টুকে বিভিন্ন সময় অভাব-অনটনের কথা বলতে শুনেছি। তার সঙ্গে অন্য ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদেরও লেনদেন ছিল বলে শুনেছি।”
পিন্টু কেন নিখোঁজ হয়েছেন, তদন্তের পর পুলিশ বলতে পারবে বলে মন্তব্য করেন মানিক।
পিন্টু দাসের মাসতুতো বোন উপমা দে বলেন, “পিন্টু দাস পরিবার নিয়ে চাঁদপুর শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার ওপর ‘ঋণের চাপ’ ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি।”
পিন্টু দাসের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়। আত্মীয়তার সূত্র ধরে বেশ কয়েকবছর আগে চাঁদপুরে বসবাস শুরু করেন। তিনি প্রথমে সোনার দোকানে কাজ করতেন। পরে নিজেই দোকান দেন।
চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু ‘নিখোঁজ’ নাকি ‘আত্মগোপনে’
নয় দিন আগেও চাঁদপুর শহরেই ছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস। ১৯এ অগাস্ট এক পাওনাদারকে কিছু টাকা পরিশোধও করেছিলেন তিনি। পরদিন পুরো পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিলো তার। ২০এ অগাস্ট ওই পাওনাদার আবারো তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান। তবে পিন্টুর দেখা পাননি। কয়েকদিন পর তার ভাড়া বাসায়ও খোঁজ নিতে যান ওই পাওনাদার। সেখানে গিয়ে দেখেন ফ্ল্যাট তালাবদ্ধ। ফোনও বন্ধ।
চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এই ব্যবসায়ী পরিবারটির নিখোঁজ থাকার কারণ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। পিন্টু কি বন্ধকি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করে সপরিবার পালিয়ে গেছেন, না-কি নেপথ্যে অন্যকোনো ঘটনা আছে তার সুরাহা হয়নি এখনো।
পিন্টুর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে আত্মীয়-স্বজনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত পুলিশের কাছে কেউ অভিযোগ করা হয়নি। ১৯এ অগাস্ট রাতে উধাও হলেও পিন্টুর বিষয়ে আলোচনা শুরু হয় বুধবার।
যেভাবে সপরিবারে নিখোঁজ
চাঁদপুর শহরের কুমিল্লা রোডের আখন্দ মার্কেটে ‘এস কে জুয়েলার্স অ্যান্ড শিল্পালয়’ নামে একটি দোকান আছে পিন্টু দাসের। শহরের কালীবাড়ি এলাকায় মদিনা মার্কেট মহল্লায় আবদুল গফুর খানের সৌর ভিলার চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন তিনি। সেখানে আট মাস ধরে ভাড়া ছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নয় দিন আগেও চাঁদপুর শহরেই ছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস। ১৯এ অগাস্ট এক পাওনাদারকে কিছু টাকা পরিশোধও করেছিলেন তিনি। পরদিন পুরো পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিলো তার।
২০এ অগাস্ট ওই পাওনাদার আবারো তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান। তবে পিন্টুর দেখা পাননি। কয়েকদিন পর তার ভাড়া বাসায়ও খোঁজ নিতে যান ওই পাওনাদার। সেখানে গিয়ে দেখেন ফ্ল্যাট তালাবদ্ধ। ফোনও বন্ধ।
ভবন মালিকের ছেলে মোহাম্মদ রাসেল খান আলাপ-কে বলেন, “ফ্ল্যাটের দরজায় তালা দেওয়া ছিলো। আমরা ভেবেছিলাম পিন্টু দাস হয়তো অন্য কোথাও বেড়াতে গেছেন।“
“গত কয়েকদিন কিছু লোক এসে পিন্টু দাসের কাছে টাকা ও স্বর্ণালংকার পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। পুলিশও এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে এসেছিলো” বলেন, রাসেল খান ।
তিনি জানান, পিন্টু দাস নিখোঁজ হওয়ার পর তার তালাবদ্ধ ভাড়া ফ্ল্যাট খুলে দেখেছে পুলিশ। ফ্ল্যাটে টিভি-ফ্রিজসহ মূল্যবান কিছুই নেই।
রাসেল জানান, মূলত ১৯এ অগাস্ট রাত থেকেই পিন্টু দাস, তার স্ত্রী রিমি দাস ও দুই ছেলে প্রিয়ম দাস ও রূপম দাসের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তদের ফোনও বন্ধ রয়েছে।
প্রতারণার অভিযোগ
চাঁদপুর শহরের জোড়পুকুর পাড়, নিউমার্কেট এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে জুয়েলারির দোকান চালানোর পর সবশেষ আখন্দ মার্কেটে দোকান দেন পিন্টু। পিন্টু আখন্দ মার্কেটে প্রায় ছয় মাস আগে দোকান দিয়েছেন। এর আগে জোরপুকুরপাড় এলাকায় পাঁচ-ছয় বছর এবং নিউমার্কেটে প্রায় তিন বছর তিনি স্বর্ণের ব্যবসা করেন।
প্রতিটি এলাকাতেই তার বিরুদ্ধে আছে স্বর্ণ ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। বেশকিছুদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক রাখার পর সময়মতো ফেরত দিতে পারছিলেন না পিন্টু। বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার নামে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়েছিলেন তিনি।
রাসেল নামের এক ব্যক্তি পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। সম্প্রতি টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে যান রাসেল। এ সময় পিন্টু তাকে পরে যোগাযোগ করতে বলেন। এর মধ্যেই পিন্টু দাসের সপরিবার নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়েছেন রাসেল। স্বর্ণালংকার না পাওয়ায় ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগও করেছেন। তবে পিন্টুর সন্ধান না মিললে স্বর্ণালংকার ফিরে পাবেন না বলে মনে করেন তিনি।
স্থানীয় আরেক ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, এক বছর আগে পিন্টু দাসের কাছে কিছু স্বর্ণ বিক্রির জন্য দিয়েছিলেন নতুন বাজারের পাটোয়ারী বাড়ির এক ব্যক্তি। ওই স্বর্ণের দাম প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা। কিন্তু পিন্টু টাকা দিতে নানা টালবাহানা করেন। পরে সালিসে সিদ্ধান্ত হয় ওই ব্যক্তিকে তিনটি চেকের মাধ্যমে ছয় লাখ টাকা দেবেন পিন্টু। ২০এ অগাস্টের মধ্যে টাকা দেওয়ার কথা ছিল।
ইচলি এলাকার বাসিন্দা আবুল বারাকাত পাটওয়ারী দাবি করেন, পিন্টুর কাছে তার ছয় লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। সোনার গহনা তৈরি বাবদ লেনদেনের কারণে তিনি ওই টাকা পান।
পিন্টুর বিরুদ্ধে স্বর্ণ ও টাকা আত্মসাতের এমন অভিযোগ বেশ পুরনো। এ নিয়ে একাধিকবার সালিস-বৈঠকও হয়েছে বলে জানিয়েছে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ। স্বর্ণ বা টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও বিভিন্নজনকে দিয়েছিলেন পিন্টু। তবে শেষ পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি।
মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদ বলেন, “পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জনের স্বর্ণ ও টাকাপয়সা আত্মসাতের অভিযোগ আছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে প্রতারণার কারণেই পালিয়ে গেছে তিনি। তবে স্বেচ্ছায় আত্মগোপন নাকি অন্য কোনো ঘটনা আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন,“প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ঋণের বোঝা থেকে বাঁচতে তিনি সপরিবারে আত্মগোপনে থাকতে পারেন। তার অবস্থান খুঁজে বের করতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।”
টাকা আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা কতটুকু খতিয়ে দেখা জরুরী বলে মনে করেন চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বিনয় ভূষণ মজুমদার।
ব্যাবসায়ী হিসাবে পিন্টুর কাছে যেমন অনেকের পাওনা আছে, তেমনি পিন্টুও অনেকের কাছে টাকা পান-অতএব স্বচ্ছ তদন্ত না হলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে না-মনে করেন বিনয় ভূষণ মজুমদার।
তবে জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব অজিত সাহা মনে করেন, পিন্টু দাস ঋণে জর্জরিত ছিলেন। ধারদেনার কারণেই স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হয়েছেন তিনি।
অজিত সাহা বলেন, “পিন্টুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সাথে সাম্প্রদায়িক কোনো বিষয় নেই বলেই জানি। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্মানহানি হয়েছে।”
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মানিক পোদ্দার বলেন, “পিন্টুকে বিভিন্ন সময় অভাব-অনটনের কথা বলতে শুনেছি। তার সঙ্গে অন্য ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদেরও লেনদেন ছিল বলে শুনেছি।”
পিন্টু কেন নিখোঁজ হয়েছেন, তদন্তের পর পুলিশ বলতে পারবে বলে মন্তব্য করেন মানিক।
পিন্টু দাসের মাসতুতো বোন উপমা দে বলেন, “পিন্টু দাস পরিবার নিয়ে চাঁদপুর শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার ওপর ‘ঋণের চাপ’ ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি।”
পিন্টু দাসের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়। আত্মীয়তার সূত্র ধরে বেশ কয়েকবছর আগে চাঁদপুরে বসবাস শুরু করেন। তিনি প্রথমে সোনার দোকানে কাজ করতেন। পরে নিজেই দোকান দেন।