ঢাকার তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন ঘিরে ঢাকার তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও আলিয়া মাদরাসায় দিনভর উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৭০ জন। জগন্নাথে গুরুতর আহত ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি। কেন একই দিনে তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুখোমুখি হলো দুই ছাত্র সংগঠন?
আলাপ রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৮ পিএমআপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা নিয়ে রাজধানী ঢাকার তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিনভর সংঘর্ষ হয়েছে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে।
মঙ্গলবার দুপুর থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশেপাশের এলাকা, ঢাকা কলেজ এবং বকশিবাজারে আলিয়া মাদরাসায় সংঘর্ষ চলে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
এদের মধ্যে গুরুতর আহত ছয়জনকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষে চলে বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তন, শহীদ মিনার ও বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল এলাকায়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল আলাপ-কে বলেন, “জুলাই গণ–অভ্যুত্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইউজিসির চেয়ারম্যান মামুন আহমেদকে অপমানিত করার জন্য ছাত্রশিবির ও তাদের সহযোগী সংগঠন প্রস্তুতি নিয়েছিল। তাদের সরে যেতে বলা হলেও তারা সরেননি। একপর্যায়ে এগিয়ে এলে মারামারি হয়।”
জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাহিন মিয়া ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করে আলাপ-কে বলেন, “ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ, জকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএসকে মারধর করেছে।”
জগন্নাথের ঘটনার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে। সেখানে শুরু হয় সংঘর্ষ।
দুপুর থেকেই আলিয়া মাদ্রাসার সামনে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। বেলা তিনটার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
বিকেল সোয়া ৫টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের সামনে আবারো দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।
দুই দফার সংঘর্ষে উভয় পক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ছাত্রদলের ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী সাদ চৌধুরী আলাপ-কে বলেন, “গতকাল রাতে ছাত্র শিবির বহিরাগতদের হলে এনে রাখে। আজ শিবিরের নেতা–কর্মীরা ছাত্রদলের একটি রুম তালাবন্ধ করে রাখে। এরপর ছাত্রদল বেশ কয়েকটি রুমে তালা লাগালে শিবিরের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।”
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের চকবাজার জোনের সহকারী কমিশনার মো. মাহফুজার রহমান বলেন, “উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ।”
এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের জের ধরে ঢাকা কলেজে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে বেলা তিনটার দিকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা।
ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা ক্যাম্পাসের বাইরে মূল সড়কে মিছিল করেছেন। আর ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীরা অবস্থান নেন ক্যাম্পাসের ভেতরে।
সংঘর্ষ চলাকালে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নিউমার্কেট এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম আলাপ-কে বলেন, “ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন আহত হয়েছেন। ক্যাম্পাসের ভেতরে পুলিশ থাকে না। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেছে।”
ঢাকার তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন ঘিরে ঢাকার তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও আলিয়া মাদরাসায় দিনভর উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৭০ জন। জগন্নাথে গুরুতর আহত ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি। কেন একই দিনে তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুখোমুখি হলো দুই ছাত্র সংগঠন?
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা নিয়ে রাজধানী ঢাকার তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিনভর সংঘর্ষ হয়েছে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে।
মঙ্গলবার দুপুর থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশেপাশের এলাকা, ঢাকা কলেজ এবং বকশিবাজারে আলিয়া মাদরাসায় সংঘর্ষ চলে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
এদের মধ্যে গুরুতর আহত ছয়জনকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষে চলে বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তন, শহীদ মিনার ও বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল এলাকায়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল আলাপ-কে বলেন, “জুলাই গণ–অভ্যুত্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইউজিসির চেয়ারম্যান মামুন আহমেদকে অপমানিত করার জন্য ছাত্রশিবির ও তাদের সহযোগী সংগঠন প্রস্তুতি নিয়েছিল। তাদের সরে যেতে বলা হলেও তারা সরেননি। একপর্যায়ে এগিয়ে এলে মারামারি হয়।”
জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাহিন মিয়া ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করে আলাপ-কে বলেন, “ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ, জকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএসকে মারধর করেছে।”
জগন্নাথের ঘটনার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে। সেখানে শুরু হয় সংঘর্ষ।
দুপুর থেকেই আলিয়া মাদ্রাসার সামনে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। বেলা তিনটার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
বিকেল সোয়া ৫টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের সামনে আবারো দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।
দুই দফার সংঘর্ষে উভয় পক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ছাত্রদলের ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী সাদ চৌধুরী আলাপ-কে বলেন, “গতকাল রাতে ছাত্র শিবির বহিরাগতদের হলে এনে রাখে। আজ শিবিরের নেতা–কর্মীরা ছাত্রদলের একটি রুম তালাবন্ধ করে রাখে। এরপর ছাত্রদল বেশ কয়েকটি রুমে তালা লাগালে শিবিরের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।”
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের চকবাজার জোনের সহকারী কমিশনার মো. মাহফুজার রহমান বলেন, “উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ।”
এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের জের ধরে ঢাকা কলেজে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে বেলা তিনটার দিকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা।
ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা ক্যাম্পাসের বাইরে মূল সড়কে মিছিল করেছেন। আর ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীরা অবস্থান নেন ক্যাম্পাসের ভেতরে।
সংঘর্ষ চলাকালে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নিউমার্কেট এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম আলাপ-কে বলেন, “ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন আহত হয়েছেন। ক্যাম্পাসের ভেতরে পুলিশ থাকে না। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেছে।”
বিষয়: