বোমাতঙ্কে মেট্রোর এক স্টেশন বন্ধ দেড় ঘণ্টা, মিললো জর্দার কৌটা ও বস্তা

মিরপুর-১০ ও ফার্মগেইটে সন্দেহজনক বস্তু ঘিরে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০ স্টেশনে প্রায় দেড় ঘণ্টা থামেনি কোনো ট্রেন। কয়েকদিন আগেই মতিঝিলে উদ্ধার হয়েছিল অত্যাধুনিক দূরনিয়ন্ত্রিত আইইডি।

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

ঢাকার দুই মেট্রো স্টেশনে বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর এক স্টেশনে প্রায় দেড় ঘণ্টা মেট্রোরেল থামেনি।   

পুলিশ বলছে, শনিবার বেলা ১২টার পর বোমার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মিরপুর-১০ ও ফার্মগেইট স্টেশনে।

কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয় দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা জোরদার করে। কিন্তু তল্লাশি চালিয়ে সেখানে কোনো বোমা খুঁজে পায়নি তারা। 

এই ঘটনার জেরে মেট্রোরেলের মিরপুর-১০ স্টেশনে প্রায় দেড় ঘণ্টা কোনো ট্রেন থামেনি বলে আলাপ-কে জানান এমআরটি পুলিশের ডিআইজি সিদ্দিকী তাঞ্জিলুর রহমান। 

বেলা ২টা ৩৬ মিনিট থেকে মেট্রো চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছেন এমআরটি পুলিশের পরিদর্শক মো. সোহেল চৌধুরী। 

গত ২৪এ জুলাই রাজধানীর ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে এই আই একটি ‘দূর-নিয়ন্ত্রিত আইইডি’ বা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। 

পরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা দ্রুত মতিঝিলে পৌঁছে বিস্ফোরকটি নিষ্ক্রিয় করায় বড় ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন। 

শনিবার দুই স্টেশনে বোমার গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এ নিয়ে পোস্ট দিতে থাকেন সোশ্যাল মিডিয়াতে। আবার মিরপুরে-১০এ মেট্রো না থামায় উদ্বেগে পড়েন অনেকেই। 

‘মেট্রোরেল প্যাসেন্জারস কমিউনিটি-ঢাকা’ এবং ‘ঢাকা মেট্রোরেল প্যাসেন্জারস কমিউনিটি হেল্পলাইন’ নামের দুইটি ফেইসবুক পেইজ ও গ্রুপ থেকে কয়েকটি পোস্ট দেওয়া হয়। 

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ) নিয়াজ মেহেদী আলাপ-কে বলেন, “মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমা সদৃশ দুটি পরিত্যক্ত বস্তু পাওয়ার খবরে জনমনে সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

“খবর পেয়ে থানা পুলিশ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা জোরদার করে।” 

তিনি জানান, প্রথমে মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনে বোমাসদৃশ বস্তু রয়েছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। 

“সন্দেহজনক ব্যাগ এক্স-রে করলে এর ভেতরে কৌটার মতো ইমেজ দেখা যায়। পরে ব্যাগ পরীক্ষা করে একটি জর্দার কৌটা ও পান পাওয়া গেছে।”

ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে সন্দেহজনক পরে থাকা বস্তা দেখে যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। 

“কিন্তু তারা নিশ্চিত হন যে, বস্তার ভেতরে কোনো বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু নেই,” বলেন পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী। 

মতিঝিলের ঘটনা

রাজধানীর ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে গত ২৪এ জুলাই যে বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়, তা ‘ককটেল’ বা হাতে তৈরি ‘সাধারণ বোমা’ ছিলো না জানিয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বা সিটিটিসি।

ওই সময় তারা বলেন, সেটি ছিলো অত্যন্ত ‘দক্ষ’ কারিগরি কৌশলে তৈরি একটি ‘দূর-নিয়ন্ত্রিত আইইডি’ বা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস। 

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ‘যথাসময়ে’ বিস্ফোরকটি নিষ্ক্রিয় করায় ভেস্তে গেছে বড় ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক পরিকল্পনা।

আইইডি উদ্ধারের ঘটনায় মামলা বর্ণনা থেকে জানা যাচ্ছে, ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে শুরু হওয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী উলটো রথযাত্রার মিছিলটি জাতীয় প্রেস ক্লাব ও মতিঝিল হয়ে স্বামীবাগের দিকে যাওয়ার কথা ছিল। আর বিস্ফোরকটি রাখা হয়েছিলো সেই পথের সংবেদনশীল পয়েন্টেই। 

তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরক পাওয়ার জায়গাটি পুলিশ ঘিরে ফেলে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে রথযাত্রাকে নিরাপদ দূরত্ব দিয়ে অতিক্রম করানো হয়। 

খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে দ্রুত যায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। তারা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে আইইডিটি সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করে।

এতে বড় ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায় জনবহুল এলাকাটি। 

অতীতে বাংলাদেশে এ ধরনের আইইডির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, যার সঙ্গে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর সম্পৃক্ততা ছিলো বলে সিটিটিসি কর্তারা জানিয়েছেন।