রাখঢাক ছাড়াই ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ, ‘রেজিম চেইঞ্জ’ নাকি ’ফ্লেক্সিবল রিয়েলিজম’

আন্তর্জাতিক পরিসরে এই ঘটনা সার্বভৌমত্ব বনাম নিরাপত্তা হস্তক্ষেপের পুরোনো বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা দখলদার নয়, সমালোচকেরা বলছেন, বাস্তব নিয়ন্ত্রণই শেষ পর্যন্ত দখলের সংজ্ঞা ঠিক করে।

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম

সেইফ হাউস আর সেইফ থাকেনি। শোওয়ার ঘরেই ছিলেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী। কিন্তু মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের নিখুঁত পরিকল্পনার কাছে তার সেইফ হাউসই হয়ে ওঠে আনসেইফ।

পরিকল্পনা এতটাই সূক্ষ ছিল যে সেইফ হাউসের সেইফ রুমে ঢোকার চেষ্টা করলেও দরজা লাগানোর সময় পাননি মাদুরো। ডনাল্ড ট্রাম্পের ভাষ্যে, “এত দ্রুত তার ওপর হামলে পড়া হয়েছিল যে তিনি সেই কক্ষে ঢুকতে পারেননি।”

যুক্তরাষ্ট্র যে ভেনেজুয়েলা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে তা বোঝাই যাচ্ছিল গত কয়েক সপ্তাহ ধরে। সেপ্টেম্বর মাস থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ভেনেজুয়েলা উপকূলের কাছাকাছি বিশাল নৌবহর মোতায়েন করে রেখেছিল।

এই সময়ের মধ্যে মাদক পাচারের অভিযোগে ক্যারিবীয় সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে বেশ কয়েকটি নৌযানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। জব্দ করে ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজ। এসব হামলায় অন্তত ১১০ জন নিহত হয়েছেন।

হামলা কি আইনসিদ্ধ

ভেনেজুয়েলায় হামলার পর যে প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে তা হলো এটি কি আইনসিদ্ধ? জাতিসংঘ সনদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও এই প্রশ্ন তুলছে।

জাতিসংঘ সনদের আর্টিকেল ২(৪)-এ বলা হয়েছে, “সব সদস্য রাষ্ট্র তাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনও রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের হুমকি কিংবা শক্তি প্রয়োগ অথবা জাতিসংঘের উদ্দেশ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনও আচরণ থেকে বিরত থাকবে।”

এই সনদের আর্টিকেল ৫১-তে বলা হয়ছে, “বর্তমান সনদের কোনও বিধানই জাতিসংঘের কোনও সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আক্রমণ হলে ব্যক্তিগত বা যৌথ আত্মরক্ষার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করবে না, যতক্ষণ না আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিরাপত্তা পরিষদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।”

এই আর্টিকেলেই আছে, “এই আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের অংশ হিসেবে সদস্য রাষ্ট্রসমূহ যে ব্যবস্থা নেবে, তা অবিলম্বে নিরাপত্তা পরিষদকে অবহিত করতে হবে। এ ধরনের ব্যবস্থা বর্তমান সনদের অধীনে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা বা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য যে কোনও সময় প্রয়োজন মনে করলে নিরাপত্তা পরিষদের ব্যবস্থা নেওয়ার কর্তৃত্ব ও দায়িত্বকে কোনোভাবেই প্রভাবিত করবে না।”

এই দুই আর্টিকেল অনুযায়ী ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা আইনবহির্ভূত, বিশেষজ্ঞদের বরাতে বলছে দ্য গার্ডিয়ান।

সিয়েরা লিওনের জাতিসংঘ যুদ্ধাপরাধ আদালতের সাবেক চেয়ারম্যান জেফ্রি রবার্টসন দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, “বাস্তবতা হলো যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন করেছে। আগ্রাসনের অপরাধ করেছে, যা ন্যুরেমবার্গ আদালত সর্বোচ্চ অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছিল। এটি সব ধরনের অপরাধের মধ্যে গুরুতর।”

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “স্পেন মাদুরোর শাসনামলকে সমর্থন করে না। তবে একইসাথে এমন হস্তক্ষেপও সমর্থন করে না যা আইন লঙ্ঘন করে এবং ওই অঞ্চলকে অনিশ্চয়তা ও আগ্রাসনের দিকে ঠেলে দেয়।”

জাতিসংঘ মহাসচিবও নিন্দা জানিয়ে বলেছেন এই ঘটনা ’বিপজ্জনক নজির’। তার মুখপাত্র জানিয়েছে, ‘জাতিসংঘ মহাসচিব সব পক্ষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে।”

চীন ও রাশিয়া একে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা বলে নিন্দা জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট সামরিক শক্তি দিয়ে সমাধান করা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে।

সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন নিরাপদে ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা করবে’ যুক্তরাষ্ট্র।

ভেনেজুয়েলা চালাবে হোয়াইট হাউস

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন নিরাপদে ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা ‘চালাবে’ যুক্তরাষ্ট্র।

অভিযানের প্রশংসা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “এটি আমেরিকার সামরিক ইতিহাসে শক্তি ও সক্ষমতার সবচেয়ে বিস্ময়কর, কার্যকর ও শক্তিশালী প্রদর্শনী।”

ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় “স্থিতিশীলতা ফেরাতে” এবং “নিরাপদ রাজনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত করতে” যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী সময়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে আটক করার দাবি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সামরিক উপস্থিতি এবং অন্তর্বর্তী রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার ইঙ্গিত, সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি কেবল নিরাপত্তাভিত্তিক অভিযান, নাকি কার্যত একটি রাষ্ট্রের ক্ষমতা দখলের সূচনা?

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বলছেন, “এটা খুবই ‘কমপ্লিকেটেড সিচুয়েশন’। ভেনেজুয়েলাতে যে ‘ইন্টারভেনশন’ করেছে যুক্তরাষ্ট্র এটা খুব ‘কমপ্লেক্স’, সহজে ব্যাখ্যা করা কঠিন। এখন যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে সেক্ষেত্রে যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশটা চালায়, সেটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য নেতিবাচক উদাহরণ তৈরি হবে। কারণ দেশটি ‘ফাংশনাল’ এবং তাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা বজায় আছে।”

এই বিশেষজ্ঞের মতে আরেকটু অপেক্ষা করে দেখতে হবে যে যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে করবে কাজটি। তিনি বলছেন, “এই জায়গায় যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে দেশটিকে চালাবে তা আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সাংঘর্ষিক কি-না তাও দেখার বিষয়।”

“যদি তারা সিভিল অ্যাডমিনস্ট্রেশন ইনস্টল করে তাহলে ট্রাম্প প্রশাসন যে বলেছিল যে তারা রেজিম চেঞ্জের সাথে জড়িত থাকবে না, সেখান থেকে সরে আসার একটা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে”, যোগ করেন প্রফেসর সাহাব এনাম খান।

এবার রাখঢাক নেই যুক্তরাষ্ট্রের

অন্যান্য সময় যুক্তরাষ্ট্র যখনই কোনও দেশের ওপর সামরিক হস্তক্ষেপ করেছে, তখন গণতন্ত্র বা অন্য কোনও কারণ দেখালেও তার পেছনে থাকতো বহু কারণ।

ইরাকে হামলার সময় ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ থাকার কথা বলা হলেও তা আর পরে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে এবার ভেনেজুয়েলায় হামলার ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র দেখা গেছে।

ট্রাম্প খুব স্পষ্টভাবেই ভেনেজুয়েলার তেলের মজুত এবং খনিগুলোর ওপর তার আগ্রহের কথা জানিয়েছে।

শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনা দ্বার খুলবে। যারা শিগগিরই দেশটির বিশাল জ্বালানি প্রকল্পগুলোতে কাজ শুর করবে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার তেলের ব্যবসা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল। তারা যতটা পারত, তার তুলনায় তারা প্রায় কিছুই উত্তোলন করতে পারছিল না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা আমাদের সবচেয়ে বড় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলো, যেগুলো বিশ্বের সবচেয়ে বড়, সেগুলোকে ভেনেজুয়েলায় পাঠাবো। তারা শত শত কোটি ডলার ব্যয় করবে, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত তেল অবকাঠামো মেরামত করবে এবং অর্থ উপার্জন শুরু করবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদ এই সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বিশ্বের মোট প্রমাণিত তেল মজুতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আছে দেশটিতে। নিষেধাজ্ঞার আগে দৈনিক কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন হলেও হালে তা কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

প্রফেসর সাহাব এনাম খান বলছেন, “ইরাক বা অন্যান্য ক্ষেত্রে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সেখানে অন্যান্য দেশের অংশগ্রহণ ছিল। কিন্তু ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে ঘটনাগুলো দ্বিপাক্ষিক। যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে এটা করেছে। অন্যান্য মিত্র দেশগুলো জড়িত না। যে কারণে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সাংঘর্ষিক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল অনুযায়ী অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্য এবং সম্ভব্যতা নিয়ে বাস্তববাদী নীতি অনুসরণ করবে দেশটি।

‘ফ্লেক্সিবল রিয়েলিজম’

২০২৫ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র তাদের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রকাশ করে, যেখানে চতুর্থ দফার একটি অনুচ্ছেদের শিরোনাম ‘ফ্লেক্সিবল রিয়েলিজম’।

এই কৌশলপত্রে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, শান্তিপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক চাইলেও কোনও দেশের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ গণতান্ত্রিক বা অন্যান্য সামাজিক পরিবর্তন চাপিয়ে দিবে না দেশটি।

তবে এতে বলা হয়েছে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্য এবং সম্ভব্যতা নিয়ে বাস্তববাদী নীতি অনুসরণ করবে দেশটি।

প্রফেসর সাহাব এনাম খান যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল বিবেচনায় বলছেন, “ট্রাম্প প্রশাসনের যে জাতীয় নিরাপত্তা নীতি প্রকাশ হয়েছে সেখানে কিন্তু তাদের জাতীয় স্বার্থ বা জাতীয় নিরাপত্তার ধারনা খুবই বিস্তৃত। যে কারণে মার্কিন প্রশাসনের একটা ফ্লেক্সিবিলিটি আছে যে তারা কিভাবে দ্বিপাক্ষিকভাবে একেকটি দেশের সাথে কাজ করবে। এটাকে তারা বলছে ফ্লেক্সিবল রিয়েলিজম।”

“এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পলিসিতো গ্লোবাল পুলিশম্যান না। এখানে ট্রাম্পতো তেলের নিয়ন্ত্রণের ইস্যুর কথা বলেছে। এটা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির সাথে জড়িত। এটা দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির জন্য যেমন মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যমূল্য ইত্যাদির জন্য সহায়ক হবে”, যোগ করেন তিনি।

প্রফেসর সাহাব এনাম খান বলছেন, “ট্রাম্প প্রশাসন এক্ষেত্রে কোনও রাখঢাক করেনি। কোনও হাইড অ্যান্ড সিক ছিল না। মার্কিন প্রশাসন ড্রাগের কথা যেমন বলেছে তেমনি তেলের বিষয়টিও স্পষ্ট করে বলেছে। ট্রাম্প প্রশাসন এখানে স্বচ্ছ্বভাবেই বলেছে যে শুধুমাত্র মাদক নিয়ে নয়, তেলের প্রতিও যে আগ্রহ আছে তা পরিষ্কারভাবে বলেছে। এখানে ট্রাম্প তাদের অবস্থান জনসম্মুখেই বলেছে।”

চাপে পড়বে জাতিসংঘ

যুক্তরাষ্ট্র বলছে এই অভিযানটি ছিল জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপ। ভেনেজুয়েলা এবং তার মিত্ররা বলছে, এটি সরাসরি আগ্রাসন এবং সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন।

মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় পরিকল্পিতভাবে সামরিক অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের পর প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়। তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার কথাও জানানো হয়েছে। মাদুরোর বিরুদ্ধে আগে থেকেই মাদক পাচারসংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি ওয়াশিংটনের।

ভেনেজুয়েলা সরকার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, এটি একটি অবৈধ সামরিক আগ্রাসন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি তুলবে।

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ এবং দেশ চালানোর ঘোষণার পর জাতিসংঘ নিন্দা জানিয়েছে। দুই পক্ষকেই আইন মানার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মাহসচিব।

নিন্দা জানালেও যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সংঘাত জাতিসংঘের মত পশ্চিমা প্রভাবিত সংস্থাগুলোর জন্য একটি ‘টেস্ট কেইস’ বলে মনে করেন প্রফেসর সাহাব এনাম খান। তিনি মনে করেন, এই ঘটনায় বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মগুলোর ভবিষ্যত পরীক্ষার মুখে পড়বে।

সাহাব এনাম খান বলছিলেন, “জাতিসংঘ যখনই যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমাদের সমালোচনা করতে যাবে তখনই তাদের উপর একটা আর্থিক চাপ তৈরি হবে। জাতিসংঘে একটা মেরকরুণও হবে। এটা জাতিসংঘকে ভীষণ চাপে ফেলবে এবং এই সংস্থার ভবিষ্যতের জন্যও ‘টেস্ট কেইস’ হবে।”

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে মার্কিনবিরোধী শিবির দ্রুততম সময়ে শক্তিশালী হবে বলেও মনে করেন প্রফেসর খান। 

তিনি বলেন, “এর মাধ্যমে চীন, রাশিয়া, ইরান, তুরস্ক, কিউবা, ভারত এদের মধ্যে একটা বড় রকমের ‘অ্যালায়েন্স’ তৈরির পথ তৈরি হলো। যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী জোটটি খুব দ্রুত শক্তিশালী হয়ে উঠবে। বিশ্বশক্তির মেরুকরণকে কৌশলগতভাবে জোরদার করবে যে, কে কার সাথে আছে।”

আন্তর্জাতিক পরিসরে এই ঘটনা সার্বভৌমত্ব বনাম নিরাপত্তা হস্তক্ষেপের পুরোনো বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা দখলদার নয়, সমালোচকেরা বলছেন, বাস্তব নিয়ন্ত্রণই শেষ পর্যন্ত দখলের সংজ্ঞা ঠিক করে।