‘জয় তো জয়ই’, সরকার গঠনে ধৈর্য ধরার আহ্বান লাপিদের

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম

ইসরায়েলের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলেও নিজেদের জোটকে বিজয়ী দাবি করছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও ইয়েশ আতিদ পার্টির চেয়ারম্যান ইয়ার লাপিদ। তবে সরকার গঠনের পথ এখনো স্পষ্ট নয়। দেশটির রাজনৈতিক সমীকরণ মেলাতে পর্দার আড়ালে চলছে বিস্তর আলোচনা। এমন পরিস্থিতিতে জনসাধারণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে, ১২০টি আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ৬৭টি আসন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। তবে বিরোধী জোটের তিনটি দল ইয়াশার, বি’ইয়াচাদ ও ইসরায়েল বেইতেনু আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আমের সঙ্গে সরকার গঠনে একমত নয়। ফলে সম্মিলিত আসন বেশি থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণ এখনো জটিল অবস্থায় রয়েছে বলে দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ।

শুক্রবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লাপিদ বলেন, নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে, যা তার জন্য এক বড় ধাক্কা। এর মধ্যে অতি-ধর্মীয় দল শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের ১৩টি আসন রয়েছে। লাপিদের মতে, নেতানিয়াহুর নিজের রাজনৈতিক শক্তি মূলত ৪০টি আসনে সীমাবদ্ধ। তাই তিনি যাই করুক না কেন, তার পক্ষে সরকার গঠন সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন লাপিদ।

ইসরায়েলের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, “আমরা জিতেছি। এটি বড় ব্যবধানে জয় নয়, পয়েন্টের ব্যবধানে জয়। কিন্তু পয়েন্টের জয়ও জয়। জয় তো জয়ই।"

তবে বিরোধী জোটের সরকার গঠনের পথও সহজ নয় বলে স্বীকার করেছেন তিনি। গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে সরকার গঠনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে জানিয়ে লাপিদ বলেন, এ প্রক্রিয়ায় সফলতা নিশ্চিত নয়। তাই জনসাধারণকে ধৈর্য ধরতে হবে।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাপিদ মনে করেন, সরকার গঠনের আলোচনা নির্বাচনি প্রচারের মতো প্রকাশ্যে হয় না। বরং ছোট পরিসরে, ক্যামেরার আড়ালে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিতে হয় এসব আলোচনা। তার আশঙ্কা, সংবাদ শিরোনাম কিংবা তথ্য ফাঁসের তাড়াহুড়ায় যেন সরকার গঠনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ না হয়।

লাপিদ তার দেওয়া সেই পোস্টে দেশটির জনগণকে আরও জানান, “বাইরে নীরবতা থাকলেও পর্দার আড়ালে আলোচনা থেমে নেই। তবে শেষ পর্যন্ত বিরোধী জোট সরকার গঠন করতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।"

এদিকে, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ তুলে তার প্রধান বিরোধী বামপন্থি নেতা গাদি আইজেনকোটসহ আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর নেতারা।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনার পরই আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচন চুরির অভিযোগ তোলে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। দলটির দাবি, ভোটারদের ঘুষ দিয়ে আরব দলগুলোর পক্ষে ভোট নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কাতার ও তুরস্ক থেকে এসব দলের কাছে অবৈধ অর্থ এসেছে কি না, তা তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত।

বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদন্তের জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও শিন বেতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে আরব দলগুলো। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, দোহাকে ঘিরে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।