তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় পি‌বিআই হেফাজ‌তে সেই জুনিয়র বন্ধু দীপ

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৮ পিএম

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তার জুনিয়র বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপকে হেফাজতে নিয়েছে পু‌লিশ ব্যুরো অব ইন‌ভে‌স্টি‌গেশন (পি‌বিআই)।

বৃহস্পতিবার রাতে তাকে মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে দীপকে হেফাজ‌তে নেয় পি‌বিআই। দীপ ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।

শুক্রবার দীপকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানিয়ে পি‌বিআই প্রধান (অতিরিক্ত আইজি‌পি) মোস্তফা কামাল গণমাধ্যমকে জানান, “ঘটনার তদন্ত চল‌ছে। তদ‌ন্তের জন্য আমরা অ‌নেক‌কেই জিজ্ঞাসাবাদ কর‌ছি। এর মধ্যে দীপও র‌য়ে‌ছেন।"

পিবিআই-এর এক কর্মকর্তা আলাপ-কে জানান, তাহসিফ সাউরি মারা যাওয়ার আগে যেহেতু দীপ তার সঙ্গে ছিলেন, এসময় দুইজন মিলে কোথায় কোথায় গিয়েছিল সেই ঘটনাটির তথ্য সংগ্রহের জন্য তাকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরে নিয়ে আসা হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরি নিখোঁজ হওয়ার আগে ২৭এ অক্টোবর সন্ধ্যায় তার উত্তরার ১৮ নাম্বার সেক্টরের বাসা থেকে বন্ধু দীপের সঙ্গে শেষবারের মতো বের হয়।

তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিমের ভাষ্য, সেদিন সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে দীপ তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান।

এই ঘটনার পর দীপ গণমাধ্যমকে মুঠোফোনে জানিয়েছিলেন, তাহসিফ ভাইয়ের মোটরসাইকেলে সমস্যা থাকায় প্রথমে আমরা ওয়ার্কশপে যাই। মোটরসাইকেল ঠিক করানোর পরে আমরা আবার রুয়াপে ফিরে আসি। রুয়াপ কমপ্লেক্সের একটি রেস্টুরেন্টে ডিনার করি। ডিনার শেষে ভাই কোনো একটা কাজে চলে যান। আমিও বাসায় যাই। রাত তখন সাড়ে ১১টা হবে,” উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে, তুরাগ নদের যে স্থান থেকে তাহসিফের লাশ পাওয়া যায় ঠিক সেই স্থানের কাছেই টঙ্গীর পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকায় একটি মোটরসাইকেল পাওয়ার কথা জানায় পিবিআই, তবে মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কিনা সেই বিষয়ে যাচাই বাছাই চলছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

২৮এ অক্টোবর বিকালে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে সেই মরদেহ উদ্ধার করেন। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে মরদেহটি তাহসিফ সৌউরির বলে শনাক্ত করেন তারা।

পরদিন বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্তের কাজ শেষ হয়। বিকাল সাড়ে ৪টা ৩৫ মিনিটে উত্তরা ১৮ নাম্বার সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উত্তরা ১২ নাম্বার সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।