ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এই জ্ঞানেশ কুমার

একসময় তিনি আলোচিত হয়েছিলেন নির্বাচনি স্বচ্ছতার জন্য। আর এখন তিনিই জনতার কাঠগড়ায়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে উত্তাল পুরো ভারত। কেন তার পদত্যাগ চায় ককরোচ জনতা পার্টি ও 'ইন্ডিয়া' জোট? কোন কোন ঘটনায় বিতর্কে জড়ালেন জ্ঞানেশ কুমার?

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম

১৩ বছর আগে কেরালার এরনাকুলামের একটি উপনির্বাচনে নতুন এক ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। ভোট গণনার ক্ষেত্রে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যার ফলে সরাসরি ভোট গণনার তথ্য প্রকাশ হচ্ছিলো ইন্টারনেটে। সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষেরা সেখান থেকে সরাসরি দেখতে পাচ্ছিলেন ফলাফল। 

নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনার এই পুরো প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধান করছিলেন এরনাকুলামের তখনকার ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর জ্ঞানেশ কুমার। তিনিই এখন তিনি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

নির্বাচনি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার জন্য যাকে ঘিরে একসময় ব্যাপক আলোচনা ও উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছিলো, সেই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতার ঘাটতি নিয়ে। তার অপসারণের দাবির আন্দোলনে এখন উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারত।

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিরোধী রাজনৈতিক জোট (ইন্ডিয়া ব্লক) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে শুরু করেছে তীব্র আন্দোলন। 

অক্টোবর শুরু থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরসহ বিভিন্ন রাজ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। 

অবশ্য আরো কয়েকমাস ধরেই বিরাজ করছিলো উত্তেজনা। বিজেপি সরকার বনাম সিজেপি আন্দোলনে প্রথম দফায় পড়ে গেছে বিজেপির উইকেট। ভারতের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ২০২৬ সালের ২৫এ জুলাই পদত্যাগ করেন তিনি। 

আবার আন্দোলনে নেমেছে ককরোচ জনতা পার্টি ও তাদের সমর্থকরা। এবার পদত্যাগের দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের। 

তবে জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে এটাই যে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, বিষয়টা অবশ্য তেমন নয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হওয়ার আগে বেশ কয়েক বছর ধরেই ভারতে বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে কাজ করে এসেছেন এক সময়ে তুখোড় ছাত্র জ্ঞানেশ। কিন্তু সেখানেও কিছু কিছু বিতর্কের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। 

কে এই জ্ঞানেশ কুমার

১৯৬৪-তে উত্তর প্রদেশের আগ্রায় জন্ম জ্ঞানেশ কুমারের। ছোটবেলা থেকে তিনি পরিচয় দিয়ে এসেছেন প্রতিভার। ছিলেন উত্তর প্রদেশের বোর্ডের সেরা শিক্ষার্থী ছিলেন। 

১৯৮৫ সালে তিনি কানপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করেন। এরপর ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড ফাইন্যান্স অ্যানালিস্টস অফ ইন্ডিয়া থেকে নেন বিজনেস ফাইন্যান্সে ডিগ্রি। পরে যুক্তরাষ্ট্রে হার্ভার্ড ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টে এনভাইরনমেন্টাল ইকোনমিক্সে উচ্চতর ডিগ্রি নেন।

জ্ঞানেশ কুমার কাজ করেছেন বিভিন্ন সরকারি পোস্টিংয়ে। এরনাকুলামের ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারি ইন ডিফেন্স প্রোডাকশন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

একজন কন্ট্রাক্টরের আত্মহত্যা ও জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক

২০০৪ সাল পর্যন্ত এরনাকুলামের ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর থাকার সময় জ্ঞানেশ কুমার যেমন ভালো কাজের জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন, তেমনি প্রথমবারের মতো বিতর্কের মধ্যে পড়তে হয় সেখানেই। 

কেরালায় তখন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিলো একদল ‘স্যান্ড মাফিয়া’। বালু সরিয়ে ফেলার কারণে দুর্বল হয়ে যাচ্ছিলো নদীর তীর।

তখনকার সেখানে এমএলএ ছিলেন টিএইচ মুস্তাফা। বালুর মাফিয়াকে জ্ঞানেশ কুমারের মদদ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তোলেন এমএলএ। এই নিয়ে শুরু হয় প্রথম বিতর্ক। পরে কেরালার হাইকোর্টও বলে, স্যান্ড মাফিয়াকে আটকাতে প্রশাসনের গাফিলতি ছিলো।

দ্বিতীয় বিতর্ক হয় কেরালাতেই। ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টরের পর তিনি বিভিন্ন পদে কাজ করে ২০০৬ সালে কেরালার পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের সেক্রেটারি হন। 

তখন কেরালার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ প্রজেক্টের চুক্তি ছিলো মালায়শিয়ার এক কোম্পানির সাথে। কেরালায় ওই কোম্পানির সকল কার্যক্রমের ম্যানেজার ছিলেন লি সি বিন। ২১৬ কোটি রুপি মূল্যের চুক্তি ছিলো লি সি বিনের কোম্পানির সাথে।

লি সি বিনের কোম্পানি কেরালায় যে সড়ক প্রজেক্টগুলো নিয়েছিলেন, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিলো মেইন সেন্ট্রাল রোড প্রজেক্ট। হঠাৎ একদিন লি সি বিন আত্মহত্যা করে বসেন। তখন এই প্রজেক্টগুলো নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন সামনে আসে। 

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রকল্পের পেমেন্ট, জমি বরাদ্দ, চুক্তির শর্তপূরণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কেরালার প্রশাসনের গাফিলতির কারণে প্রজেক্টের কাজ এগোচ্ছিলো না। 

লি সি বিনের সুইসাইড নোটে কেরালার প্রশাসনের দ্বারা হয়রানি, দুর্নীতি এবং জ্ঞানেশ কুমারসহ পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের অফিসারদের দুর্নীতির কথা লেখা ছিলো বলে হিন্দুস্তান টাইস ও ভারতের অন্যান্য গণমাধ্যমের তথ্য থেকে জানা যায়।

তখন কেরালায় ক্ষমতাসীন লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট সরকার জ্ঞানেশ কুমারকে পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট থেকে সরিয়ে ফেলে এবং তার বিরুদ্ধে শুরু হয় তদন্ত।

তবে লি সি বিনের কোম্পানির অনিচ্ছার কারণে সেই তদন্ত আর বেশিদুর এগোয়নি। জ্ঞানেশ কুমারের ক্যারিয়ার নিজের গতিতে চলতে থাকে।

পরের বিতর্কগুলো হয় বিজেপির আমলে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ভারতের আর্টিকেল থ্রি সেভেন্টি সরানোর ঘটনা। আর্টিকেল থ্রি সেভেন্টির কারণে ভারতের অন্য রাজ্যগুলো থেকে তুলনামূলক বেশি সায়ত্তশাসনের সুযোগ পায় জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চল। অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় সেখানে আইনও ছিলো আলাদা।

২০১৯ সালে ভারতের সরকার এই ‘স্পেশাল অটোনমাস স্ট্যাটাস’ সরিয়ে নেয় এবং জম্মু ও কাশ্মিরকে ভেঙে লাদাখ ও জাম্মু-কাশ্মির নামে তৈরি করে দুইটি ইউনিয়ন টেরিটরি বা কেন্দ্র-শাসিত অঞ্চল। 

ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘স্ক্রোল ডট ইন’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি তখন বলেছিলেন, এটা ভারতের গণতন্ত্রের সবচেয়ে কালো দিন। 

এই একটি সিদ্ধান্তের কারণে ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্ব প্রত্যাখ্যান করে কাশ্মিরের ভারতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত ‘ব্যাকফায়ার’ করেছে বলেও তখন মন্তব্য করেন কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। 

আর্টিকেল থ্রি সেভেন্টি সরিয়ে যখন কাশ্মিরে ১৪৪ ধারা জারি, সেনা মোতায়েন এবং রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়, তখন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘জে অ্যান্ড কে অ্যান্ড লাদাখ ডিভিশন’ এর দায়িত্বে ছিলেন আমাদের জ্ঞানেশ কুমার।

সবকিছুর পর ২০২৪ সালের ৩১এ জানুয়ারি ইউনিয়ন কোঅপারেশন সেক্রেটারি হিসেবে পদত্যাগ করেন জ্ঞানেশ কুমার এবং একই বছরের ১৪ই মার্চ তিনি নিযুক্ত হন ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার। 

যেসব কারণে সিইসি হিসেবে জ্ঞানেশ কুমার বিতর্কিত

প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় তার নিয়োগের সময় থেকেই। কারণ তিনিই প্রথম সিইসি, যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো নতুন নিয়মে। 

ভারতে চিফ ইলেকশন কমিশনার নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি এবং তার কাছে নাম সুপারিশ করেন তিন সদস্যের একটি প্যানেল। 

আগের নিয়মে এই প্যানেলে থাকতেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা এবং দেশটির প্রধান বিচারপতি।

তবে ২০২৩ সালে নিয়ম করা হয়, এই প্যানেলে থাকবেন না প্রধান বিচারপতি। তার জায়গায় থাকবেন একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এই মন্ত্রী কে হবেন তা আবার নির্ধারণ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করতে গঠিত তিন সদস্যের প্যানেলে দুইজনই সরকারি পক্ষের।

এই নিয়মের বিরুদ্ধে পিটিশন করা হয় সুপ্রিম কোর্টে। তবে সুপ্রিম কোর্ট এই পিটিশনগুলো পর্যালোচনা করার আগেই নিয়োগ সম্পন্ন হয় নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। 

সুপারিশ প্যানেলে ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে জ্ঞানেশ কুমারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কমিশনে তার কাজ নিয়েও সৃষ্টি হয় বিতর্কের। 

আলোচিত বিতর্ক তৈরি হয় এসআইআর বা স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন নামের একটি পদ্ধতি নিয়ে। এটি এমন ব্যবস্থা, যার আওতায় ইলেকশন কমিশনার প্রতিটা রাজ্যে ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা করেন। একইসঙ্গে মৃত ভোটার, ডুপ্লিকেট ভোটারসহ নানা নাম তালিকা থেকে বাদ দেন।

তবে ভারতের সংবাদমাধ্যম সুপ্রিম কোর্ট অবজার্ভারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্ঞানেশ কুমারের ইলেকশন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে এসআইআর পদ্ধতিকে ব্যবহার করে অসমভাবে বিরোধী দলের সমর্থক, নারী ও মুসলমান ভোটারদের তালিকা থেকে সরানোর জন্য।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক অনুসন্ধানে জানা যায়, জ্ঞানেশ কুমারের অধীন দুই ইলেকশন কমিশনার সুখবির সিং সান্ধু ও বিবেক জোশি দশ মাসে চৌদ্দবার কমিশনের কাজকর্ম ও কাজের ধরন নিয়ে আপত্তি জানানোর পরও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

এই তথ্য প্রকাশের পরই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নামে ককরোচ জনতা পার্টি ও তার সমর্থকরা। তাদের দাবি, জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। কারণ মানুষের ভোটের অধিকারের ওপর হাত দেওয়া মানেই গণতন্ত্রের ওপর হাত দেওয়া।

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগের একটা তালিকাও প্রকাশ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। সেখানে বলা হয়েছে, জ্ঞানেশ কুমারের তত্ত্বাবধানে ভারতের ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি, বা প্রতি আটজনে একজন ভোটারের নাম মুছে ফেলা হয়। ভোটাররা তাদের নাম সরানো নিয়ে আপিল করলে সেই নাম আবার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে তা করা হয়েছে স্থানীয় নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার পর।

জ্ঞানেশ কুমারকে কি সরানো সম্ভব?

এখন প্রশ্ন হলো, প্রধান নির্বাচন কমিশনার যেহেতু কোনো দলের সদস্য না। তাই সরকার যদি আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে তাকে সরাতেও চায়, তাহলে সেই প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে?

সিইসিকে অপসারণ থেকে বেশকিছু সুরক্ষা দিয়েছে ভারতের সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ। সিইসিকে সরাতে হলে তার দ্বারা দায়িত্ব পালনের সময় দুর্ব্যবহার কিংবা দায়িত্ব পালনে অসক্ষমতার ভিত্তিতে সংসদে মোশন তুলতে হয়। 

এই মোশন লোকসভায় তোলার জন্য ১০০ জন এমপির স্বাক্ষর লাগে। আর রাজ্যসভায় তোলার জন্য লাগে ৫০ জনের স্বাক্ষর।

লোকসভার স্পিকার বা রাজ্যসভার চেয়ারপারসন এই মোশন গ্রহণ করতে পারেন, বা চাইলে প্রত্যাখ্যানও করতে পারেন। 

মোশন গ্রহণ করা হলে, তিন সদস্যের এক তদন্ত কমিটি এই অভিযোগ তদন্ত করে। তদন্ত চলাকালীন সিইসি নিজের পক্ষে সাফাই দেওয়ার একটা সুযোগ পান। এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের গাফিলতি প্রমাণ হলে আবার ভোট হয়। 

দুই-তৃতিয়াংশ ভোট তাকে অপসারণ করার পক্ষে গেলে, তারপর গিয়ে তা রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করা হয় এবং তখন সিইসিকে অপসারণ করা যায়।

আরেকটা উপায় আছে। তা হলো সিইসির স্বেচ্ছায় পদত্যাগ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক বিশ্লেষণ বলছে, জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর ক্ষমতা সরকার, প্রধানমন্ত্রী বা বিজেপির হাতে না থাকলেও, নরেন্দ্র মোদি বা বিজেপি চাইলে তিনি পদত্যাগ করবেন কোনো প্রশ্ন ছাড়াই।

সেখানে আরও বলা হয়েছে, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে সিজেপির আন্দোলন যতটা তীব্র ছিলো, বর্তমান আন্দোলন এখনও সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তাই বিজেপি এখনো কোণঠাসা হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিস্থিতিতে নেই।

সিপিজের আন্দোলনের মুখে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করতে না চাইলে, আন্দোলনকারীদের দাবি যদি সরকার মানতেও চায়, তাহলে কি এই দীর্ঘ, জটিল ও শর্তসাপেক্ষ পদ্ধতিতে আদৌ তাকে সরানো সম্ভব?