নেপালের ফ্ল্যাশ ফ্লাড: সুড়ঙ্গে আটকে আছে ছয় শতাধিক মানুষ
আলাপ ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৬ পিএমআপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
সোমবার একটি সুড়ঙ্গে প্রবেশ করতে সক্ষম হলেও কাউকে না পেয়ে ফিরে আসে একটি দল।
নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজারে ছাড়িয়েছে। নিখোঁজ আছেন ৩ হাজার ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ।
এর মধ্যে ৬০০ জনের বেশি শ্রমিক ও প্রকৌশলী ত্রিশূলী নদীর তীরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাদায় ভরা সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিখোঁজদের উদ্ধারে সুড়ঙ্গের ভেতরে বাতাস ও অক্সিজেন সরবরাহের চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। সোমবার একটি সুড়ঙ্গে ঢুকতে পারলেও, কাউকে না পেয়ে ফিরে আসে একটি দল। এতে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। চীন ও নেপালের সামরিক সদস্যদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও তাদের সহায়তা করছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
তবে উদ্ধারকাজের ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নিখোঁজদের স্বজনেরা। তাদের অভিযোগ, আটকে পড়াদের জন্য সুড়ঙ্গে বাতাস সরবরাহের কাজ আরও আগে শুরু করা উচিত ছিলো। নিখোঁজ প্রকৌশলী অরুস ভান্ডারির স্ত্রী অনুশিলা ভান্ডারি বিবিসি নেপালিকে বলেন, স্বামীকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন তিনি।
উদ্ধার অভিযানে যুক্ত অস্ট্রেলিয়ার প্রকৌশলী আর্নল্ড ডিক্স জানিয়েছেন, বন্যার স্রোতে এলাকাটির চেহারা এতটাই বদলে গেছে যে অনেক সুড়ঙ্গ ও স্থাপনার অবস্থান শনাক্ত করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও বাড়ির চেয়েও বড় পাথর পড়ে থাকায় উদ্ধারকারীদের মাটি খুঁড়ে ও বিস্ফোরণের মাধ্যমে পথ তৈরি করতে হতে পারে।
তবে সুড়ঙ্গের ভেতরের পরিবেশ আটকে পড়াদের বন্যার পানির ভয়াবহ স্রোত থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন ডিক্স। তাই দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদেরকে জীবিত উদ্ধারের আশা পুরোপুরি ছাড়ছেন না তিনি।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোও। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, নির্মাণাধীন ও চালু থাকা অন্তত ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ি নদীভিত্তিক জলবিদ্যুৎ নেপালের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হওয়ায় এই ক্ষয়ক্ষতি দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
এদিকে উদ্ধার হওয়া প্রায় ৯০০ মরদেহের মাত্র ৪ শতাংশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া প্রায় ৩০০ মরদেহ চিতওয়ান জেলার নদীর তীরে পাওয়া গেছে। পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলো অস্থায়ীভাবে দাফন করা হচ্ছে। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হলে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তিব্বতের দিকেও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সীমান্তের একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় একটি পানির টাওয়ারের ভিত্তি ছাড়া প্রায় সব স্থাপনাই ধ্বংস হয়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী শাহ এই দুর্যোগকে ‘সাধারণ কোনো ঘটনা নয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
এদিকে নেপাল ও তিব্বতে উদ্ধার অভিযান চললেও নিখোঁজদের সংখ্যা এবং দুর্গম ভূপ্রকৃতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময় যত গড়াচ্ছে, সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকা শত শত মানুষের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়েও বাড়ছে শংকা।
নেপালের ফ্ল্যাশ ফ্লাড: সুড়ঙ্গে আটকে আছে ছয় শতাধিক মানুষ
নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজারে ছাড়িয়েছে। নিখোঁজ আছেন ৩ হাজার ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ।
এর মধ্যে ৬০০ জনের বেশি শ্রমিক ও প্রকৌশলী ত্রিশূলী নদীর তীরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাদায় ভরা সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিখোঁজদের উদ্ধারে সুড়ঙ্গের ভেতরে বাতাস ও অক্সিজেন সরবরাহের চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। সোমবার একটি সুড়ঙ্গে ঢুকতে পারলেও, কাউকে না পেয়ে ফিরে আসে একটি দল। এতে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। চীন ও নেপালের সামরিক সদস্যদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও তাদের সহায়তা করছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
তবে উদ্ধারকাজের ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নিখোঁজদের স্বজনেরা। তাদের অভিযোগ, আটকে পড়াদের জন্য সুড়ঙ্গে বাতাস সরবরাহের কাজ আরও আগে শুরু করা উচিত ছিলো। নিখোঁজ প্রকৌশলী অরুস ভান্ডারির স্ত্রী অনুশিলা ভান্ডারি বিবিসি নেপালিকে বলেন, স্বামীকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন তিনি।
উদ্ধার অভিযানে যুক্ত অস্ট্রেলিয়ার প্রকৌশলী আর্নল্ড ডিক্স জানিয়েছেন, বন্যার স্রোতে এলাকাটির চেহারা এতটাই বদলে গেছে যে অনেক সুড়ঙ্গ ও স্থাপনার অবস্থান শনাক্ত করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও বাড়ির চেয়েও বড় পাথর পড়ে থাকায় উদ্ধারকারীদের মাটি খুঁড়ে ও বিস্ফোরণের মাধ্যমে পথ তৈরি করতে হতে পারে।
তবে সুড়ঙ্গের ভেতরের পরিবেশ আটকে পড়াদের বন্যার পানির ভয়াবহ স্রোত থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন ডিক্স। তাই দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদেরকে জীবিত উদ্ধারের আশা পুরোপুরি ছাড়ছেন না তিনি।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোও। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, নির্মাণাধীন ও চালু থাকা অন্তত ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ি নদীভিত্তিক জলবিদ্যুৎ নেপালের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হওয়ায় এই ক্ষয়ক্ষতি দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
এদিকে উদ্ধার হওয়া প্রায় ৯০০ মরদেহের মাত্র ৪ শতাংশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া প্রায় ৩০০ মরদেহ চিতওয়ান জেলার নদীর তীরে পাওয়া গেছে। পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলো অস্থায়ীভাবে দাফন করা হচ্ছে। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হলে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তিব্বতের দিকেও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সীমান্তের একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় একটি পানির টাওয়ারের ভিত্তি ছাড়া প্রায় সব স্থাপনাই ধ্বংস হয়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী শাহ এই দুর্যোগকে ‘সাধারণ কোনো ঘটনা নয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
এদিকে নেপাল ও তিব্বতে উদ্ধার অভিযান চললেও নিখোঁজদের সংখ্যা এবং দুর্গম ভূপ্রকৃতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময় যত গড়াচ্ছে, সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকা শত শত মানুষের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়েও বাড়ছে শংকা।
বিষয়: