‘ব্ল্যাক অগাস্ট’-এর ছায়া, পুতিনের আশ্বাস: রাশিয়ায় আসলে কী হচ্ছে
জ্বালানি সংকট, বাড়তি দ্রব্যমূল্য আর দুর্বল রুবলের মধ্যেও প্রেসিডেন্ট পুতিনের দাবি, রাশিয়া কোনো ‘গুরুতর সংকটে’নেই। কিন্তু এই আশ্বাস আর সাধারণ রুশ নাগরিকের দৈনন্দিন বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট, আর সেটাই আবার জাগিয়ে তুলছে রাশিয়ার পুরনো এক আতঙ্ক, ‘ব্ল্যাক অগাস্ট’।
আলাপ ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৪ পিএমআপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
প্রেসিডেন্ট পুতিনের দাবি, রাশিয়া কোনো ‘গুরুতর সংকটে’নেই। ছবি: এআই
জ্বালানি সংকট, মুদ্রা পতন, উক্রেইন যুদ্ধ, সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের গরমকালটা রাশিয়ার জন্য বেশ কঠিন। তবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বার্তা একদম উল্টো। উক্রেইনের হামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’-এর গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও তার দাবি, এটি রাশিয়ার জন্য কোনো ‘গুরুতর সংকট’ না। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সরকারি খরচে পুনর্নির্মাণ হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
কিন্তু পেট্রল পাম্পের লম্বা লাইন, বাড়তে থাকা দ্রব্যমূল্য আর দুর্বল রুবল বলছে ভিন্ন কথা। আর এই ফারাকটাই রাশিয়ায় নতুন করে জাগিয়ে তুলছে পুরনো এক আতঙ্ক, রুশ সংবাদমাধ্যমে যাকে বলা হয় ‘ব্ল্যাক অগাস্ট’ অর্থাৎ অগাস্টের অভিশাপ। ইতিহাস বলে, এই মাসেই বারবার রাশিয়ায় আঘাত হেনেছে রাজনৈতিক অভ্যুত্থান, অর্থনৈতিক ধস কিংবা যুদ্ধ। ২০২৬ সালের অগাস্টেও সেই স্মৃতি ফিরে এসেছে, তবে এবার প্রশ্নটা শুধু ইতিহাসের কাকতালীয়তা নিয়ে নয়, বরং ক্রেমলিনের আশ্বাস আর বাস্তবতার মধ্যেকার স্পষ্ট দূরত্ব নিয়েও।
অগাস্ট নিয়ে রাশিয়ার এই আতঙ্কের একটা লম্বা ইতিহাস আছে।
১৯৯১ সালের অগাস্টে সোভিয়েত কট্টরপন্থীরা মিখাইল গর্বাচেভের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয় সেই চেষ্টা, কিন্তু রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর হয়, আর কয়েক মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন।
তার সাত বছর পর, ১৯৯৮ সালের অগাস্টে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে রাশিয়া। দেশটি ঋণখেলাপি হয়, রুবলের দর পড়ে যায় অনেকটাই। সেই ধাক্কার রেশ থেকে যায় বহু বছর।
১৯৯৯ সালের অগাস্টে শুরু হয় দ্বিতীয় চেচেন যুদ্ধ। যে যুদ্ধ প্রায় অপরিচিত এক সাবেক কেজিবি এজেন্টকে রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসে, তার নাম ভ্লাদিমির পুতিন। বছরের শেষ দিনে হঠাৎ ক্ষমতা ছেড়ে দেন বরিস ইয়েলৎসিন আর নেতৃত্বে আসেন পুতিন।
পুতিনের শাসনামালেও থামেনি অগাস্টের এই ধারা। ২০০০ সালে ডুবে যায় নিউক্লিয়ার সাবমেরিন 'কুর্স্ক', মারা যায় ১১৮ জন নাবিকে। ২০০৮ সালে জর্জিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়ায় রাশিয়া। প্রতিটা ঘটনাই আরেকটু করে দৃঢ় করেছে এই বিশ্বাস যে 'অগাস্ট মানেই বিপদ'।
এবার কেন আতঙ্ক
অতীতের ঘটনাগুলোর সঙ্গে এবারের পরিস্থিতির সরাসরি মিল না থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় একাধিক সংকটে এখন রাশিয়া। যুদ্ধক্ষেত্রে বড় কোনো অগ্রগতি নেই। বরং রাশিয়ার ভেতরে তেল শোধনাগার, গুদাম, সরবরাহকেন্দ্রে হামলা বাড়িয়েছে উক্রেইন।
জ্বালানি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ। পেট্রল পাম্পে লম্বা লাইন, দাম বাড়তি, সরবরাহ অনিশ্চিত। সঙ্গে দুর্বল রুবল আর বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার খরচ। যুদ্ধের হিসাব এখন আর শুধু সামরিক বাজেটে আটকে নেই, পৌঁছে গেছে সাধারণ মানুষের ঘরেও।
দুই বাস্তবতা, দুই ভাষ্য
অগাস্টকে ‘অভিশাপ’ ভাবার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, যা হয়েছে সব কাকতালীয় ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাসিত রুশ ভাষ্যকার ইলিয়া ভারলামভ। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, বহু রুশ জনগণ এই মাসটাকে উদ্বেগ নিয়েই দেখেন। জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য, মুদ্রা পতন, আসন্ন নির্বাচন, সব মিলিয়েই রয়েছে একধরনের অনিশ্চয়তা।
ভারলামভ রাশিয়ার এক শীর্ষ অর্থনীতিবিদের সতর্কবার্তার কথাও উল্লেখ করেছেন, যিনি মস্কোকে সম্ভাব্য ‘সামাজিক সংকট’ নিয়ে সতর্ক করেছেন। তার আশঙ্কা, প্রযুক্তি ও অর্থনীতিতে রাশিয়া পিছিয়ে পড়ছে, আর পশ্চিমা সমর্থন পাওয়া উক্রেইনের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জয় নিশ্চিত নয়।
তবে ভ্লাদিমির পুতিনের অবস্থান একদম বিপরীত। যা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নিয়ে তার বক্তব্যে স্পষ্ট।
একদিকে হামলা বাড়ছে, অন্যদিকে ক্রেমলিন বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। সরকারের বক্তব্য আর বাস্তবতা, বিশেষ করে, জ্বালানি আর দ্রব্যমূল্যের প্রশ্নে, মিলছে না।
বিরোধীদের ওপর চাপ
যুদ্ধবিরোধিতার কারণে সম্প্রতি রাশিয়া বিরোধীদলীয় রাজনীতিক লেভ শ্লোসবার্গকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট তার দল ইয়াব্লোকোকে আসছে নির্বাচনেও অংশ নিতে দেয়নি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিরোধী রাজনীতিক আর নাগরিকদের ওপর রাশিয়ার ক্রমাগত কঠোর নিয়ন্ত্রণের সর্বশেষ উদাহরণ এটি। তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল ২০২৪ সালে বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনির কারাগারে মৃত্যু।
নাভালনির জীবনের আরেকটা সংকটময় মুহূর্তও জড়িয়ে আছে অগাস্টের সঙ্গে, ২০২০ সালের অগাস্টে সাইবেরিয়া থেকে মস্কো ফেরার পথে নার্ভ এজেন্টে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
চাপে আছে উক্রেইনেও
দেশটির সদ্য অপসারিত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ যুদ্ধের মধ্যেই নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যা প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির জন্য এক নতুন রাজনৈতিক সমস্যা। জেলেনস্কির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে, কিন্তু ২০২২ সালে রুশ আগ্রাসনের পর জারি হওয়া সামরিক আইনের কারণে নির্বাচন এখনো স্থগিত। পুতিন দীর্ঘদিন ধরেই জেলেনস্কির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন।
তবে রাশিয়ার সাথে উক্রেইনের পার্থক্যও এই যে সেখানে সরকার পরিবর্তন, রাজনৈতিক বিতর্ক, বিক্ষোভ, এই ইঙ্গিত দেয় যে সেখানকার নাগরিক সমাজ সক্রিয়। রাশিয়ায় ক্ষেত্রে ব্যাপারটার একেবারেই তা না।
অভিশাপ, নাকি বাস্তবতা
ঐতিহাসিক কারণেই অগাস্ট মাসটি রুশ জনগণের জন্য অভিশাপ হয়ে আছে। তবে ২০২৬ সালের সংকটকে শুধুই অভিশাপ বলা যাচ্ছে না।
এবারের সংকটের কারণ লম্বা সময় ধরে চলে আসা যুদ্ধ আর তার খরচ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি সংকট, দুর্বল রুবল, বাড়তে থাকা দ্রব্যমূল্য সেই সাথে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ।
অগাস্ট হয়তো এই সময়টাকে প্রতীকী করে তুলেছে, কিন্তু সংকট তৈরি হয়েছে বছরের পর বছরের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেকে।
‘ব্ল্যাক অগাস্ট’-এর ছায়া, পুতিনের আশ্বাস: রাশিয়ায় আসলে কী হচ্ছে
জ্বালানি সংকট, বাড়তি দ্রব্যমূল্য আর দুর্বল রুবলের মধ্যেও প্রেসিডেন্ট পুতিনের দাবি, রাশিয়া কোনো ‘গুরুতর সংকটে’নেই। কিন্তু এই আশ্বাস আর সাধারণ রুশ নাগরিকের দৈনন্দিন বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট, আর সেটাই আবার জাগিয়ে তুলছে রাশিয়ার পুরনো এক আতঙ্ক, ‘ব্ল্যাক অগাস্ট’।
জ্বালানি সংকট, মুদ্রা পতন, উক্রেইন যুদ্ধ, সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের গরমকালটা রাশিয়ার জন্য বেশ কঠিন। তবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বার্তা একদম উল্টো। উক্রেইনের হামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’-এর গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও তার দাবি, এটি রাশিয়ার জন্য কোনো ‘গুরুতর সংকট’ না। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সরকারি খরচে পুনর্নির্মাণ হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
কিন্তু পেট্রল পাম্পের লম্বা লাইন, বাড়তে থাকা দ্রব্যমূল্য আর দুর্বল রুবল বলছে ভিন্ন কথা। আর এই ফারাকটাই রাশিয়ায় নতুন করে জাগিয়ে তুলছে পুরনো এক আতঙ্ক, রুশ সংবাদমাধ্যমে যাকে বলা হয় ‘ব্ল্যাক অগাস্ট’ অর্থাৎ অগাস্টের অভিশাপ। ইতিহাস বলে, এই মাসেই বারবার রাশিয়ায় আঘাত হেনেছে রাজনৈতিক অভ্যুত্থান, অর্থনৈতিক ধস কিংবা যুদ্ধ। ২০২৬ সালের অগাস্টেও সেই স্মৃতি ফিরে এসেছে, তবে এবার প্রশ্নটা শুধু ইতিহাসের কাকতালীয়তা নিয়ে নয়, বরং ক্রেমলিনের আশ্বাস আর বাস্তবতার মধ্যেকার স্পষ্ট দূরত্ব নিয়েও।
অগাস্ট নিয়ে রাশিয়ার এই আতঙ্কের একটা লম্বা ইতিহাস আছে।
১৯৯১ সালের অগাস্টে সোভিয়েত কট্টরপন্থীরা মিখাইল গর্বাচেভের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয় সেই চেষ্টা, কিন্তু রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর হয়, আর কয়েক মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন।
তার সাত বছর পর, ১৯৯৮ সালের অগাস্টে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে রাশিয়া। দেশটি ঋণখেলাপি হয়, রুবলের দর পড়ে যায় অনেকটাই। সেই ধাক্কার রেশ থেকে যায় বহু বছর।
১৯৯৯ সালের অগাস্টে শুরু হয় দ্বিতীয় চেচেন যুদ্ধ। যে যুদ্ধ প্রায় অপরিচিত এক সাবেক কেজিবি এজেন্টকে রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসে, তার নাম ভ্লাদিমির পুতিন। বছরের শেষ দিনে হঠাৎ ক্ষমতা ছেড়ে দেন বরিস ইয়েলৎসিন আর নেতৃত্বে আসেন পুতিন।
পুতিনের শাসনামালেও থামেনি অগাস্টের এই ধারা। ২০০০ সালে ডুবে যায় নিউক্লিয়ার সাবমেরিন 'কুর্স্ক', মারা যায় ১১৮ জন নাবিকে। ২০০৮ সালে জর্জিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়ায় রাশিয়া। প্রতিটা ঘটনাই আরেকটু করে দৃঢ় করেছে এই বিশ্বাস যে 'অগাস্ট মানেই বিপদ'।
এবার কেন আতঙ্ক
অতীতের ঘটনাগুলোর সঙ্গে এবারের পরিস্থিতির সরাসরি মিল না থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় একাধিক সংকটে এখন রাশিয়া। যুদ্ধক্ষেত্রে বড় কোনো অগ্রগতি নেই। বরং রাশিয়ার ভেতরে তেল শোধনাগার, গুদাম, সরবরাহকেন্দ্রে হামলা বাড়িয়েছে উক্রেইন।
জ্বালানি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ। পেট্রল পাম্পে লম্বা লাইন, দাম বাড়তি, সরবরাহ অনিশ্চিত। সঙ্গে দুর্বল রুবল আর বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার খরচ। যুদ্ধের হিসাব এখন আর শুধু সামরিক বাজেটে আটকে নেই, পৌঁছে গেছে সাধারণ মানুষের ঘরেও।
দুই বাস্তবতা, দুই ভাষ্য
অগাস্টকে ‘অভিশাপ’ ভাবার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, যা হয়েছে সব কাকতালীয় ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাসিত রুশ ভাষ্যকার ইলিয়া ভারলামভ। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, বহু রুশ জনগণ এই মাসটাকে উদ্বেগ নিয়েই দেখেন। জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য, মুদ্রা পতন, আসন্ন নির্বাচন, সব মিলিয়েই রয়েছে একধরনের অনিশ্চয়তা।
ভারলামভ রাশিয়ার এক শীর্ষ অর্থনীতিবিদের সতর্কবার্তার কথাও উল্লেখ করেছেন, যিনি মস্কোকে সম্ভাব্য ‘সামাজিক সংকট’ নিয়ে সতর্ক করেছেন। তার আশঙ্কা, প্রযুক্তি ও অর্থনীতিতে রাশিয়া পিছিয়ে পড়ছে, আর পশ্চিমা সমর্থন পাওয়া উক্রেইনের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জয় নিশ্চিত নয়।
তবে ভ্লাদিমির পুতিনের অবস্থান একদম বিপরীত। যা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নিয়ে তার বক্তব্যে স্পষ্ট।
একদিকে হামলা বাড়ছে, অন্যদিকে ক্রেমলিন বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। সরকারের বক্তব্য আর বাস্তবতা, বিশেষ করে, জ্বালানি আর দ্রব্যমূল্যের প্রশ্নে, মিলছে না।
বিরোধীদের ওপর চাপ
যুদ্ধবিরোধিতার কারণে সম্প্রতি রাশিয়া বিরোধীদলীয় রাজনীতিক লেভ শ্লোসবার্গকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট তার দল ইয়াব্লোকোকে আসছে নির্বাচনেও অংশ নিতে দেয়নি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিরোধী রাজনীতিক আর নাগরিকদের ওপর রাশিয়ার ক্রমাগত কঠোর নিয়ন্ত্রণের সর্বশেষ উদাহরণ এটি। তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল ২০২৪ সালে বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনির কারাগারে মৃত্যু।
নাভালনির জীবনের আরেকটা সংকটময় মুহূর্তও জড়িয়ে আছে অগাস্টের সঙ্গে, ২০২০ সালের অগাস্টে সাইবেরিয়া থেকে মস্কো ফেরার পথে নার্ভ এজেন্টে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
চাপে আছে উক্রেইনেও
দেশটির সদ্য অপসারিত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ যুদ্ধের মধ্যেই নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যা প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির জন্য এক নতুন রাজনৈতিক সমস্যা। জেলেনস্কির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে, কিন্তু ২০২২ সালে রুশ আগ্রাসনের পর জারি হওয়া সামরিক আইনের কারণে নির্বাচন এখনো স্থগিত। পুতিন দীর্ঘদিন ধরেই জেলেনস্কির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন।
তবে রাশিয়ার সাথে উক্রেইনের পার্থক্যও এই যে সেখানে সরকার পরিবর্তন, রাজনৈতিক বিতর্ক, বিক্ষোভ, এই ইঙ্গিত দেয় যে সেখানকার নাগরিক সমাজ সক্রিয়। রাশিয়ায় ক্ষেত্রে ব্যাপারটার একেবারেই তা না।
অভিশাপ, নাকি বাস্তবতা
ঐতিহাসিক কারণেই অগাস্ট মাসটি রুশ জনগণের জন্য অভিশাপ হয়ে আছে। তবে ২০২৬ সালের সংকটকে শুধুই অভিশাপ বলা যাচ্ছে না।
এবারের সংকটের কারণ লম্বা সময় ধরে চলে আসা যুদ্ধ আর তার খরচ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি সংকট, দুর্বল রুবল, বাড়তে থাকা দ্রব্যমূল্য সেই সাথে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ।
অগাস্ট হয়তো এই সময়টাকে প্রতীকী করে তুলেছে, কিন্তু সংকট তৈরি হয়েছে বছরের পর বছরের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেকে।
বিষয়: