যুদ্ধ ও জলবায়ু সংকটের মধ্যেও তেল কোম্পানিগুলো যেভাবে মুনাফা করলো 

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ ও জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তায় বেড়ে যায় তেলের দাম। আর তাতেই বাড়ে বড় তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফা। এপ্রিল থেকে জুন, মাত্র তিন মাসে সৌদি আরামকো, শেভরন, এক্সনমোবিলসহ আট কোম্পানি আয় করেছে প্রায় ৯৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ প্রতি মিনিটে তাদের আয় ৭ লাখ ডলারের বেশি। তেলের দাম বৃদ্ধি, শোধনাগার ব্যবসার বাড়তি আয়সহ কীভাবে এই বিপুল মুনাফা করলো কোম্পানিগুলো?

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম

বিশ্বের এক প্রান্তে যুদ্ধ, অন্য প্রান্তে তীব্র তাপপ্রবাহ, দাবানল, খরা ও বন্যা। জলবায়ু সংকটের প্রভাব যখন মানুষের জীবন ও জীবিকাকে ক্রমেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে, ঠিক সেই সময়েই বিশ্বের বড় বড় তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোর মুনাফা বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তীব্র তাপদাহ ও পরিবেশগত বিপর্যয় বেড়েছে। যাতে প্রতি মিনিটে একজন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। অথচ এই সংকটের সঙ্গে সম্পর্কিত জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবসায় বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা দেখা যায়নি। বরং যুদ্ধের কারণে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিশ্বের বড় কয়েকটি তেল কোম্পানি বিপুল মুনাফা করেছে।

দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদন বলছে, এই বছরের এপ্রিল থেকে জুনের তিন মাসে বিশ্বের আটটি বড় তেল ও গ্যাস কোম্পানি প্রায় ৯৩ বিলিয়ন ডলার নিট মুনাফা করেছে। কোম্পানিগুলো হলো সৌদি আরবের আরামকো, যুক্তরাজ্যের বিপি ও শেল, নরওয়ের ইকুইনর, ফ্রান্সের টোটালএনার্জিস, ইতালির এনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের শেভরন ও এক্সনমোবিল।

গেল বছরের অর্থাৎ ২০২৫ সালের একই সময়ে এই আট কোম্পানির মোট মুনাফা ছিলো ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও কম। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, যুদ্ধ ও সরবরাহ-অনিশ্চয়তার মধ্যে তারা এত বেশি মুনাফা করলো কীভাবে?

যুদ্ধ কীভাবে তেলের দাম বাড়ালো

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র- ইসরায়েলের মিলিত হামলা শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল। ফলে সেখানে সামরিক সংঘাত শুরু হলে তেলের সরবরাহ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল। সেখানে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশংকা তৈরি হলে ক্রেতারা ভবিষ্যত ঘাটতির কথা মাথায় রেখে বেশি দামে তেল কিনতে আগ্রহী হয়।

এর প্রভাব পড়ে অপরিশোধিত তেলের দামে। যুদ্ধের একপর্যায়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলারেরও বেশি হয়ে যায়।

এখানেই বড় তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়ার মূল কারণটি বোঝা যায়।

ধরা যাক, কোনো কোম্পানি এক ব্যারেল তেল উৎপাদনে ৪০ ডলার খরচ করে। তেলের বাজারদর যদি ৭০ ডলার হয়, তাহলে অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার আগে প্রতি ব্যারেলে তার ব্যবধান ৩০ ডলার। কিন্তু বাজারদর বেড়ে ১০০ ডলার হলে উৎপাদন খরচ একই থাকলে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৬০ ডলার।

অর্থাৎ, তেলের বাজারদর দ্রুত বেড়ে গেলে উৎপাদন খরচ একই হারে না বাড়ায় প্রতি ব্যারেলে মুনাফার ব্যবধান বাড়তে পারে। এবার সেটিই বড় বড় তেল কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে ঘটেছে।

তেলের দাম কতটা বেড়েছিলো

বৈশ্বিক পণ্যবাজারের তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক মুইউ শু আলজাজিরাকে বলেন, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইন্টারকনটিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক দামের গড় ছিলো ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৬৮ ডলার।

২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে এই দাম ছিলো ৭৮ দশমিক ৩৮ ডলার। আর ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিলো ৬৬ দশমিক ৭১ ডলার।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয় প্রান্তিকে তেলের গড় দাম বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ।

মুইউ শুর মতে, হরমুজ প্রণালির সংকটে যেসব তেল উৎপাদনকারীর রপ্তানি সরাসরি বাধাগ্রস্ত হয়নি, তারা বাড়তি দামের সুবিধা পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেলের বিকল্প খুঁজতে বিভিন্ন দেশ ও তেল শোধনাগারের চাহিদাও বেড়েছিলো। ফলে এসব উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বেশি দামে তেল বিক্রির সুযোগ পায়।

শুধু তেল বিক্রি নয়, শোধনাগার ব্যবসাও বাড়িয়েছে মুনাফা

সাউদি আরামকো, শেভরন বা এক্সনমোবিলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু তেল উৎপাদক নয়। এসব বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলো তেল ও গ্যাস উৎপাদনের পাশাপাশি শোধনাগার, এলএনজি ও জ্বালানি বিক্রি ও সরবরাহের বাণিজ্যও রয়েছে।

তাই যুদ্ধের সময় তাদের মুনাফা বাড়ার আরেকটি কারণ ছিলো শোধনাগার।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটায় কিছু অঞ্চলে পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ কমে যায়। একই সময়ে এসব জ্বালানির দামও বেড়ে যায়।

ফলে যেসব বড় কোম্পানির পশ্চিমা দেশগুলোতে উল্লেখযোগ্য শোধনাগার রয়েছে, তারা বাড়তি সুবিধা পায়। কম সরবরাহের বাজারে বেশি দামে পেট্রোল, ডিজেলসহ পরিশোধিত জ্বালানি বিক্রি করে তারা বেশি মুনাফা করতে পারে।

মুইউ শুর মতে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি শোধনাগার ব্যবসার এই বাড়তি মার্জিনও কয়েকটি কোম্পানির মুনাফা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

সবচেয়ে বেশি লাভ সাউদি আরামকোর

এই মুনাফার সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সাউদি আরামকো থেকে।

এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে তাদের নিট আয় ৩৪ শতাংশ বেড়ে ৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। 

ইরান ও হুথি বাহিনীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরামকোর কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো। তবে এতে কোম্পানিটির মুনাফায় বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়ে নাই।

কার্বন মেজরস ডেটাবেজের তথ্য অনুযায়ী, কার্বন নিঃসরণের দিক থেকেও সাউদি আরামকোর অবস্থান শীর্ষে। এরপর রয়েছে আমেরিকার শেভরন ও এক্সনমোবিল। শীর্ষ দশে রয়েছে ব্রিটিশ কোম্পানি শেল আর বিপি।

মুনাফা বেড়েছে অন্য কোম্পানিগুলোরও

শুধু আরামকো নয়, অন্যান্য বড় তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোর মুনাফাতেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে।

যুক্তরাজ্যের বিপি এপ্রিল থেকে জুনে ৫ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে। আগের তিন মাসে কোম্পানিটির মুনাফা ছিলো ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে মুনাফা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।

শেলের নিট আয় হয়েছে ৯ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার। কাতারে যুদ্ধের কারণে তাদের গ্যাস উৎপাদন কমে গেলেও কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শেভরন ১২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং এক্সনমোবিল ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে। এক্সনমোবিলের এই মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে।

অন্যদিকে নরওয়ের ইকুইনরের মুনাফা ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

সব মিলিয়ে আটটি কোম্পানি তিন মাসে প্রায় ৯৩ বিলিয়ন ডলার নিট মুনাফা করেছে।

এপ্রিল থেকে জুন, এই তিন মাসে কোম্পানিগুলো সম্মিলিতভাবে গড়ে প্রতি মিনিটে ৭ লাখ ডলারের বেশি নিট মুনাফা করেছে। 

সংকট কার জন্য, লাভ কার

যুদ্ধের কারণে যখন জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তখন তেলের দাম বাড়ে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার খরচ পর্যন্ত বাড়তে পারে। আর এর প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে।

আর এই জন্যই যুদ্ধের সময় বড় তেল কোম্পানিগুলোর বাড়তি মুনাফা নিয়ে সমালোচনা করছেন পরিবেশবাদীরা।

মানবাধিকারভিত্তিক সংগঠন গ্লোবাল উইটনেসের জীবাশ্ম জ্বালানিবিষয়ক প্রধান প্যাট্রিক গ্যালি গার্ডিয়ানকে বলেন, “বিপির বিপুল মুনাফা দেখিয়ে দিচ্ছে, সংকটের মধ্যেও কারা লাভবান হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে মানুষ যখন দাবানল, খরা ও বাড়তি জ্বালানি খরচের চাপে রয়েছে, তখন তেল কোম্পানিগুলো সাধারণ মানুষের কথা না ভেবে শেয়ারহোল্ডারদের সম্পদ বাড়ানোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।”

গ্যালির মতে, জলবায়ু সংকটের ক্ষতি মোকাবিলায় বড় বড় তেল কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আরও বেশি অর্থ নেওয়া উচিত। এই অর্থ দিয়ে বন্যা ও দাবানল মোকাবিলার অবকাঠামো তৈরি এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করা সম্ভব।

আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থের প্রতিনিধি রোজি ডাউন্সও বিপির সমালোচনা করেন। তিনি গার্ডিয়ানকে বলেন, বিপি যখন বিপুল মুনাফা করছে, তখন সাধারণ মানুষকে বাড়তি জ্বালানি বিল দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে জলবায়ু সংকটও আরও তীব্র হচ্ছে।

তবে এসব সমালোচনা নাকচ করেন বিপির প্রধান নির্বাহী মেগ ও’নিল। তার ভাষ্যে, জ্বালানির ঘাটতি মেটাতে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই ছিলো তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

শেভরন ও এক্সনমোবিলের মুনাফা নিয়েও সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থেকে এই দুই কোম্পানি অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করছে। প্রয়োজনে এই অর্থ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে তাদের বাধ্য করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

জ্বালানি ব্যবহারে জলবায়ু সংকট 

তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফার বিষয়টি শুধু যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এর সঙ্গে জলবায়ু সংকটেরও একটি বড় যোগ রয়েছে। 

যে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবসা থেকে এসব কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে আয় করছে, সেই তেল, গ্যাস ও কয়লা পোড়ানোর ফলে বিপুল পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হয়। যা বাড়িয়ে দিচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। ফলে তাপপ্রবাহ, খরা, অতিবৃষ্টি ও দাবানলের মতো ঘটনা আরও তীব্র হচ্ছে।

এই বছর গ্রীষ্মেই ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। খরার কারণে কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল ও গ্রিসে ছড়িয়ে পড়েছে দাবানল।  দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে তাপমাত্রা উঠেছে ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। 

দক্ষিণ এশিয়াতেও জলবায়ু সংকটের প্রভাব স্পষ্ট। বাংলাদেশের চট্টগ্রামে জুলাইয়ের শুরুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪০ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। ভারত ও পাকিস্তানেও বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ঘটেছে।

অর্থাৎ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে কোম্পানিগুলো বিপুল মুনাফা করছে, কিন্তু সেই জ্বালানি ব্যবহারের পরিবেশগত ক্ষতির অর্থনৈতিক বোঝা বহন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও রাষ্ট্রকে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ কি কমছে

বিপি একসময় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে গিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বলেছিলো। কিন্তু পরে সেই পরিকল্পনা থেকে অনেকটাই সরে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যাওয়ার জন্য বিপির বার্ষিক বরাদ্দ ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৫ থেকে ২ বিলিয়ন ডলারে এনেছে। একই সঙ্গে তাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবসার কিছু অংশ অন্য কোম্পানির কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনাও করেছে।

অর্থাৎ একদিকে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বিপুল মুনাফা আসছে, অন্যদিকে সেই ব্যবসা থেকে পাওয়া অর্থের তুলনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের পরিমাণ কমছে।

তাই বিতর্কটা শুধু তেল কোম্পানিগুলো কত টাকা আয় করেছে, তা নিয়ে নয়। পরিবেশবাদীরা তাই প্রশ্ন তুলছেন, যে ব্যবসা থেকে কোম্পানিগুলো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করছে, সেই ব্যবসার পরিবেশগত ও সামাজিক ক্ষতির দায় কে নেবে?

যুদ্ধ শেষ হয়ে যেতে পারে, তেলের দামও একসময় কমতে পারে। কিন্তু জলবায়ুর ক্ষতি একবার বাড়লে তার প্রভাব সামলাতে সময় লাগে বহু বছর। আর সেই ক্ষতির সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকেই। 

(তথ্যসূত্র- দ্য গার্ডিয়ান, আলজাজিরা)