প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএমআপডেট : ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
তুরস্কে নেটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে বিশ্বনেতাদের বিদায়ী উপহার হিসেবে ‘ভিনটেজ রিভলভার’ দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ‘অস্বাভাবিক’ এই উপহার নিয়ে দেশে ফেরার পর অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।
বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডে ওয়েভার তুরস্কে অনুষ্ঠিত নেটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফিরে ব্রাসেলস বিমানবন্দরে নিজের লাগেজে ‘হ্যান্ডগান ও গুলি’ আছে শুনে কিছু বিস্মিত হন। যদিও পরে অস্ত্রটি নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য ব্রাসেলস বিমানবন্দর পুলিশের কাছে জমা দেন তিনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, বুধবার আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত নেটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে প্রত্যেক নেতার হাতে একটি করে ‘গুমুসাই .৩৫৭ ম্যাগনাম’ মডেলের ‘রিভলভার’ উপহার হিসেবে তুলে দেন এরদোয়ান। সঙ্গে দেওয়া হয় গুলিও।
এরদোয়ানের উদ্দেশ্য ছিলো তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির অস্ত্রশিল্প গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাত এবং বৈদেশিক নীতির একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে উঠে এসেছে।
লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নাউসেদার কার্যালয় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, রিভলভারটি একটি কাঠের বক্সে রাখা ছিলো। বক্সে তুরস্কের জাতীয় পতাকা, নেটোর লোগো এবং তার্কিশ ও ইংরেজিতে লেখা ছিল, “গুমুসাই, আমাদের দেশে তৈরি প্রথম রিভলভার ধরনের হ্যান্ডগান।"
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের মুখপাত্র রয়টার্সকে জানান, সব নেতাকেই একই ধরনের রিভলভার দেওয়া হয়েছে। প্রতিটির রিভালভারে ব্যারেলের ওপর সংশ্লিষ্ট নেতার নাম খোদাই করে লেখা ছিলো।
পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাউরোৎস্কির এক সহযোগী জানান, তাদের রিভলভারটি ওয়ারশ বিমানবন্দরে কাস্টমস ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। পরে এটি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হবে। তিনি রসিকতা করে বলেন, “নিশ্চয়ই কেউ এটি দিয়ে গুলি চালাবে না।"
নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, তাদের রিভলভার নিজ নিজ দেশের আঙ্কারাস্থ দূতাবাসে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে ডাচ প্রধানমন্ত্রীর রিভলভারটি অকার্যকর করা হবে বলেও জানিয়েছে রয়টার্স। আর সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর উপহার এখনও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছে।
ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জন্য দেওয়া রিভলভারের সঙ্গে একটি ক্লিনিং কিট এবং ৫০০ রাউন্ড গুলিও ছিলো।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির রিভলভারটি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পালাৎজো কিজিতে অন্যান্য রাষ্ট্রীয় উপহারের সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
রয়টার্স আরও জানিয়েছে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন তার রিভলভারটি একটি সামরিক জাদুঘরে দান করার পরিকল্পনা করেছেন। একইভাবে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রীও এটি এথেন্সের যুদ্ধ জাদুঘরে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও জানিয়েছেন কানাডার জাতীয় জাদুঘরে রাখা হয়।
বর্তমানে তুরস্কের অস্ত্রশিল্প মূলত আধুনিক সেমি-অটোমেটিক পিস্তল উৎপাদন করে। ফলে ১৯৯০-এর দশকে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমকেই তৈরি করা গুমুসাই .৩৫৭ ম্যাগনাম এখন সংগ্রাহকদের কাছে বিরল একটি অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
জেনেভাভিত্তিক ‘স্মল আর্মস সার্ভের’ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের ছোট আগ্নেয়াস্ত্র রপ্তানি করে তুরস্ক বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ। এ তালিকায় তুরস্কের আগে আছে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালি।
নেটো নেতাদের এরদোয়ানের ‘ভিনটেজ রিভলভার’ উপহার
তুরস্কে নেটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে বিশ্বনেতাদের বিদায়ী উপহার হিসেবে ‘ভিনটেজ রিভলভার’ দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ‘অস্বাভাবিক’ এই উপহার নিয়ে দেশে ফেরার পর অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।
বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডে ওয়েভার তুরস্কে অনুষ্ঠিত নেটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফিরে ব্রাসেলস বিমানবন্দরে নিজের লাগেজে ‘হ্যান্ডগান ও গুলি’ আছে শুনে কিছু বিস্মিত হন। যদিও পরে অস্ত্রটি নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য ব্রাসেলস বিমানবন্দর পুলিশের কাছে জমা দেন তিনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, বুধবার আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত নেটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে প্রত্যেক নেতার হাতে একটি করে ‘গুমুসাই .৩৫৭ ম্যাগনাম’ মডেলের ‘রিভলভার’ উপহার হিসেবে তুলে দেন এরদোয়ান। সঙ্গে দেওয়া হয় গুলিও।
এরদোয়ানের উদ্দেশ্য ছিলো তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির অস্ত্রশিল্প গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাত এবং বৈদেশিক নীতির একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে উঠে এসেছে।
লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নাউসেদার কার্যালয় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, রিভলভারটি একটি কাঠের বক্সে রাখা ছিলো। বক্সে তুরস্কের জাতীয় পতাকা, নেটোর লোগো এবং তার্কিশ ও ইংরেজিতে লেখা ছিল, “গুমুসাই, আমাদের দেশে তৈরি প্রথম রিভলভার ধরনের হ্যান্ডগান।"
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের মুখপাত্র রয়টার্সকে জানান, সব নেতাকেই একই ধরনের রিভলভার দেওয়া হয়েছে। প্রতিটির রিভালভারে ব্যারেলের ওপর সংশ্লিষ্ট নেতার নাম খোদাই করে লেখা ছিলো।
পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাউরোৎস্কির এক সহযোগী জানান, তাদের রিভলভারটি ওয়ারশ বিমানবন্দরে কাস্টমস ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। পরে এটি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হবে। তিনি রসিকতা করে বলেন, “নিশ্চয়ই কেউ এটি দিয়ে গুলি চালাবে না।"
নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, তাদের রিভলভার নিজ নিজ দেশের আঙ্কারাস্থ দূতাবাসে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে ডাচ প্রধানমন্ত্রীর রিভলভারটি অকার্যকর করা হবে বলেও জানিয়েছে রয়টার্স। আর সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর উপহার এখনও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছে।
ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জন্য দেওয়া রিভলভারের সঙ্গে একটি ক্লিনিং কিট এবং ৫০০ রাউন্ড গুলিও ছিলো।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির রিভলভারটি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পালাৎজো কিজিতে অন্যান্য রাষ্ট্রীয় উপহারের সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
রয়টার্স আরও জানিয়েছে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন তার রিভলভারটি একটি সামরিক জাদুঘরে দান করার পরিকল্পনা করেছেন। একইভাবে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রীও এটি এথেন্সের যুদ্ধ জাদুঘরে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও জানিয়েছেন কানাডার জাতীয় জাদুঘরে রাখা হয়।
বর্তমানে তুরস্কের অস্ত্রশিল্প মূলত আধুনিক সেমি-অটোমেটিক পিস্তল উৎপাদন করে। ফলে ১৯৯০-এর দশকে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমকেই তৈরি করা গুমুসাই .৩৫৭ ম্যাগনাম এখন সংগ্রাহকদের কাছে বিরল একটি অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
জেনেভাভিত্তিক ‘স্মল আর্মস সার্ভের’ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের ছোট আগ্নেয়াস্ত্র রপ্তানি করে তুরস্ক বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ। এ তালিকায় তুরস্কের আগে আছে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালি।
বিষয়: