ঘুমের ঘোরেও মশা খুঁজে বেড়াই

স্ত্রীর ডেঙ্গু, আট মাসের মেয়েকে নিয়ে উৎকণ্ঠা; এটা আমার, বা কোনো একটা পরিবারের গল্প না। কেবল রাজধানী ঢাকার গল্পও না। প্রতি বছর, সবটা সময় পুরো দেশ এখন এই আতঙ্ক আর সংকট মাথায় নিয়ে চলে। পত্রিকায় বা টেলিভিশনে বা মোবাইলের নিউজফিডে আমরা শুধু সংখ্যাটা দেখতে পাই, আতঙ্কটা দেখা যায় না। 

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

মাঝরাত। দরজা-জানালা সব বন্ধ। মশারিটাও ঠিকঠাক টানানো। তারপরও বাংলাদেশের অনেক বাবার মতো আমার এখন রাত কাটে নির্ঘুম। মাত্র আট মাস বয়সী মেয়েটার মুখ, হাত, পায়ে বারবার তীক্ষ্ণ নজরে খোঁজ চালাই। বারবার উঠে ডিমলাইটের আলতো আলোতে মশারির ভেতরটায় হাতড়ে বেড়াই। কোনো মশা ঢুকে গেছে কি? আতিপাতি করে খুঁজি। কখনো মসকিউটো ব্যাট হাতে মশারির ভেতরেই এদিক ওদিক হাত চালাই। এমনকি কখনো ঘুমের ঘোরেও। 

আট মাসের এই শিশুটি পৃথিবীকে এখনো চিনতেই শেখেনি, কিন্তু তার বাবা জানে একটা ছোট্ট মশার কামড়ও কখনো কখনো শুধু শিশু নয়, বড়দের জন্যও কতটা ভয়ের হয়ে উঠতে পারে।

মশা পেলেই তাই মনে হয়, এই মশাটাই বুঝি আমার পরিবারের কাছে পৌঁছে যাবে। খালি হাতে মশা মারি পথ-ঘাট-রাস্তায়ও।

এটাই শেষ নয়, ডেঙ্গু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুলে নিয়েছি নিজের হাতেই। মশার অ্যারোসল ছিটাই। মশার ক্রিম লাগাই। পুরো গায়ে মসকিউটো রেপেলেন্ট মাখি। ঘরে চালু থাকে ইলেকট্রিক মশার ভেপোরাইজারও। তারপরও পাহাড়া দেই মসকিউটো ব্যাট হাতে। ছোটোবেলায় পড়েছিলাম, মশা মারতে কামান দাগার কথা। সত্যি বলতে, কামান যদি জোটাতে পারতাম, সেটাও হয়তো ব্যবহার করতে দ্বিধা করতাম না।

এই ট্রমার মধ্যে দিয়ে জীবনযাপনে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। জানি, যে কোনো সময় আমি নিজেও স্রেফ একটা সংখ্যা হয়ে যেতে পারি। কারণ, গত দুই যুগ ধরে এই সংখ্যার কলেবর বাড়তে থাকাই নিয়মিত ঘটনা। ডেঙ্গু বারবার ফিরে আসছে। একেকবার, আগেরবারের চেয়েও ভয়াবহ চেহারা নিয়ে। এত বছর ধরে নানা উদ্যোগের পরও ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে না আসায় প্রশ্ন উঠছে- কোথায় ঘাটতি থেকে যাচ্ছে?

কারণ ডেঙ্গু আমার কাছে এখন আর শুধু একটা রোগের নাম নয়। এটা আমার নিজের শরীরের ভয়াবহ একটা স্মৃতি। আমার স্ত্রীর সাম্প্রতিক অসুস্থতার আতঙ্ক। আর এখন আট মাসের মেয়েটাকে নিয়ে প্রতিদিনের উৎকণ্ঠা।

ডেঙ্গু যখন পিকে তখন কতটা অসহায় আমরা

গত মাসের শেষ দিকে আমার স্ত্রী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেন। ঢাকায় আমাদের ছোট্ট একটা পরিবার। পাশে এমন কেউ নেই, যাকে ফোন করে বলা যায়- ‘তুমি একটু বাচ্চাটাকে দেখতে পারবে? আমি একা ঠিক পেরে উঠছি না।’

হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়নি। কিন্তু কয়েকটা দিন কীভাবে কেটেছে, সেটা এখনো মনে করলে বুকটা ভার হয়ে আসে। একদিকে অসুস্থ স্ত্রী। অন্যদিকে আট মাসের শিশু।

একদিকে ডাক্তার দেখানো, পরীক্ষা করানো, সেটা নিয়ে আবার ডাক্তারের চেম্বারে প্রতিটা দিন ঘন্টার পর ঘন্টার প্রতীক্ষা। জ্বর কমছে কী না, প্রেসারটা ঠিক ঠাক রয়েছে কী না হিসাব রাখতে হয়েছে। স্ত্রীর ওষুধ, খাবারের সঙ্গে ছোট্ট শিশুর খাবার ও যত্ন নেওয়াটা কঠিন ছিলো।

তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটা ছিলো মেয়েটাকে কীভাবে মশার হাত থেকে বাঁচাব? কারণ স্ত্রী যখন ডেঙ্গু আক্রান্ত তখন ঘরের প্রতিটা মশাই ভয়ানক। মনে হয়, এই বুঝি কিছু একটা হলো।

বছরের শুরুতে যে ডেঙ্গুকে দূরের কোনো সমস্যা মনে হচ্ছিল, কয়েক মাসের মধ্যেই সেটা এসে দাঁড়িয়েছে ঘরের দরজায়।

গত ২৬ বছরের ধারাবাহিকতায় ঢাকার ছোট পরিবারগুলোর জন্য ডেঙ্গু রীতিমতো দুঃস্বপ্ন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এখন ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে দ্রুতগতিতে। ৬ই সেপ্টেম্বরের হিসাবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৫৮ জন। এক দিনে এত রোগী আগে এই বছর দেখা যায়নি।

রবিবার এক দিনেই ডেঙ্গুতে মারা গেছেন চারজন। আর এই বছর এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১১৭ জনের।

আর ৬ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে সাড়ে ৪২ হাজার। 

বলে রাখা ভালো এটা শুধু ভর্তি রোগীর সংখ্যা, মোট আক্রান্তের সংখ্যা নয়।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ বলছে, ভয়ংকর হচ্ছে সংক্রমণের গতি। শুধু জানুয়ারিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ হাজার ৮১ জন। ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিল ৬৪০ এবং মে মাসে ৭১৪ জন।

এরপর জুনে সে সংখ্যা লাফ দিয়ে চার গুণের বেশি হয়েছে। ২ হাজার ৯০৭ জন।

জুলাইয়ে আবার বেড়েছে তিনগুণের বেশি। এক লাফে হয়েছে ৯ হাজার ২০৬।

আর অগাস্টের এক মাসে এই সংখ্যা ছিলো ২০ হাজার ৫৩৬ জন।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এই রোগীর মধ্যে অগাস্টেই মারা গেছেন ৪৩ জন।

আমরা প্রতিদিন এই সংখ্যাগুলো দেখি। কখনো টিভিতে, কখনো পত্রিকায়, কখনো অনলাইনে। ফেসবুক বা ইউটিউবেও দেখি। কিন্তু এগুলো শুধু সংখ্যা নয়। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে এক একটি পরিবারের আর্থিক-মানসিক চাপের দুর্বিসহ সব গল্প।

কেউ হয়তো অফিস থেকে ছুটি নিয়েছেন। কেউ হাসপাতালের করিডরে রাত কাটাচ্ছেন। কেউ হয়তো আমার মতো ঘরে বা অফিসে বসেই ভাবছেন ‘আমার বাচ্চাটার কিছু হবে না তো?’

অর্থাৎ বছরের শুরুতে যে ডেঙ্গুকে দূরের কোনো সমস্যা মনে হচ্ছিল, কয়েক মাসের মধ্যেই সেটা এসে দাঁড়িয়েছে আপনার আমার ঘরের দরজা কিংবা জানালায়।

ভয়টা আরও পুরোনো

২০২৪ সালেও আমি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলাম। সেবার পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছিল যে আমার প্লাটিলেট নেমে গিয়েছিলো মাত্র ২০ হাজারে।

হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিলো। চিকিৎসা নিতে হয়েছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে।

সে সময়ের অভিজ্ঞতা আমার কাছে এখনো খুব তীব্র। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা, রক্তের রিপোর্টের দিকে তাকানো, প্লাটিলেট কত নামলো সেটা নিয়ে উৎকণ্ঠা; এসব খুব সহজে ভুলে যাওয়া যায় না। যদিও সেবা পেয়েছি বেশ ভালো। 

তাই নিজের শরীরে ডেঙ্গু হওয়ার পর যখন এবার আমার স্ত্রী আক্রান্ত হলো, ভয়টা শুধু স্ত্রীর জন্য ছিলো না। ভয়টা ছিল মেয়েটার জন্যও। কারণ আট মাস বয়সী একটা শিশুকে আপনি যুক্তি দিয়ে বোঝাতে পারবেন না যে মশার কামড় থেকে দূরে থাকতে হবে। সে জানে না ডেঙ্গু কী। সে জানে না এডিস কী।

সে শুধু জানে, বাবার কোলে উঠতে হবে, মেঝেতে খেলতে হবে, জানালার কাছে যেতে হবে, হাত-পা ছুড়তে হবে।

আর একজন বাবা হিসেবে আমার কাজ হয়ে গেলো তার চারপাশে অদৃশ্য একটা নিরাপত্তার দেয়াল তৈরি করা। কিন্তু একটা পরিবারের পক্ষে সেই দেয়াল কতটা শক্ত করা সম্ভব?

কারণ আমার ঘরের এই ভয় আসলে ঢাকার বড় সংকটের ছোট ছবি। ডেঙ্গু এখন আর শুধু এডিস মশার মৌসুমি সমস্যা নয়।

আসলে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর সঙ্গে পরিচয় নতুন নয়। ১৯৬০-এর দশকেই এ রোগের উপস্থিতি ধরা পড়ে, তখন এটি পরিচিত ছিলো ‘ঢাকা ফিভার’ নামে। তবে বড় আকারে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব শুরু হয় ২০০০ সালে। ওই বছর হাসপাতালে ভর্তি হন ৫ হাজার ৫৫১ জন, মারা যান ৯৩ জন। 

এরপর ধীরে ধীরে ডেঙ্গু বাংলাদেশের স্থায়ী জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়। ২০১৮ সালে বড় সতর্কসংকেতের পর ২০১৯ সালে এক লাখের বেশি রোগী নিয়ে ডেঙ্গু জাতীয় আতঙ্ক তৈরি করে।

২০২৩ সালে সেই আতঙ্ক ভয়াবহ রূপ নেয়। ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ রোগী এবং ১ হাজার ৭০৫ মৃত্যু নিয়ে সেটি হয়ে ওঠে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব। 

এরপর ২০২৪ ও ২০২৫। পরপর দুই বছরই রোগী এক লাখের ওপরে। অর্থাৎ ডেঙ্গু এখন আর শুধু বর্ষার কয়েক মাসের আতঙ্ক নয়; এটি বাংলাদেশের নগর ও জনস্বাস্থ্যের স্থায়ী সংকটে পরিণত হয়েছে।

কারণ ডেঙ্গু শুধু ঢাকার গল্প হয়ে নেই।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে ৩৩৪ জন, বরিশালে ১৩৭, চট্টগ্রামে ১৬৯, ময়মনসিংহে ৮৪, রাজশাহীতে ১১২ এবং রংপুরে ৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

অর্থাৎ মশা শহরের সীমানা মানছে না। রোগও মানছে না।

ডেঙ্গু এখন শুধু ঢাকার গল্প হয়ে নেই।

সেপ্টেম্বরের ভয়, সরকারের ভাবনা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার সতর্ক করেছেন, “সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে।”

তার মডেল বলছে, সেপ্টেম্বরের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হতে পারে। আর অক্টোবরেও থাকবে ঝুঁকি।

৬ই সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

জমে থাকা পানি সরানো, বর্জ্য ঠিকভাবে ফেলা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে মানুষকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এমনকি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবক, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যদেরও এই কাজে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানো এবং হাসপাতালে আক্রান্ত রোগীদের জন্য মশারি ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। অর্থাৎ সরকারও বুঝতে পারছে শুধু হাসপাতালে রোগী সামলালে হবে না। ঠেকাতে হবে এডিস মশার জন্ম ও বিস্তার।

কিন্তু এত উদ্যোগের পরও যদি প্রতি বছর মশার জন্মের জায়গাগুলো আবার তৈরি হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে আমরা আসলে মশার সঙ্গে লড়ছি, নাকি এমন একটি নগর ব্যবস্থার সঙ্গে, যেখানে মশার জন্ম নেওয়ার জায়গাগুলো বারবার তৈরি হচ্ছে?

এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা আসে। কেন?

কারণ সরকার অভিযান চালাচ্ছে, সিটি করপোরেশন মশক নিধন করছে, ছিটানো হচ্ছে লার্ভিসাইড, ফগিং হচ্ছে, সচেতনতা বাড়ানোর কর্মসূচিও হচ্ছে; বাসাবাড়ি পরিষ্কার করার কথা বলা হচ্ছে- তাহলে ডেঙ্গু কমছে না কেন? বিশেষজ্ঞ মত হচ্ছে, এগুলোয় আসলে কোনো ‘কাজের কাজ’ হচ্ছে না।

কবিরুল বাশার আলাপ-কে বলেন, “সরকার যেটা করছে সেটা লোক দেখানো। ফগিং দিয়ে এডিস মশা কমানো সম্ভব নয়।”

তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু উড়ন্ত মশা মারলে ডেঙ্গু থামে না। ডেঙ্গুর আসল যুদ্ধটা অনেকটা আমাদের চোখের আড়ালে। খেয়াল করতে হবে, এডিস মশা কোথায় জন্মাচ্ছে? ফেলে রাখা প্লাস্টিকের পাত্রে? ফুলের টবে? ছাদে? নির্মাণাধীন ভবনে? ড্রেনের পাশে? ফেলে রাখা বোতল বা ডাবের খোসায়? নাকি এমন কোনো জায়গায়, যেখানে আমরা নিজেরাই খেয়াল করছি না? সরকারকে তাই সার্ভে করে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রমাণ সাপেক্ষে যে সব যায়গায় লার্ভা জন্ম নিচ্ছে সেখানে টার্গেট করতে হবে।

কিন্তু ডেঙ্গুর দায় কি শুধু সিটি করপোরেশনের? নাকি বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি জমে থাকা জায়গা সব মিলিয়ে এটি একটি নগর ব্যবস্থাপনার সমস্যা?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সাম্প্রতিক এক আলোচনায় বলা হয়েছে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের কাজ নয়। তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন, দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ন, ঘনবসতি, মানুষের চলাচল, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার ঘাটতি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা- সবকিছু মিলে এডিস মশার বিস্তারের পরিবেশ তৈরি করে। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

একটি সংখ্যা নয়, একটি পরিবার

প্রতিটা বছর বর্ষা এলেই ডেঙ্গু নতুন করে মাথা তোলে, তাহলে প্রশ্নটা আমাদের করতেই হবে- ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এত কিছু করার পরও আমরা আসলে কোন জায়গাটায় বারবার ব্যর্থ হচ্ছি?

কারণ শেষ পর্যন্ত ডেঙ্গুর পরিসংখ্যান শুধু ৪২ হাজার ৫৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি রোগী নয়। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে আছে একটি পরিবার, আছে উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, আর্থিক চাপ আর মানসিক লড়াই। আর ১১৭টি পরিবারের জন্য এই সংখ্যা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়। এই শোক কেবল তিনিই বুঝতে পারবেন যিনি কাউকে এভাবে হারিয়েছেন। 

আর আমার মতো অসংখ্য বাবার কাছে ডেঙ্গু মানে এখন শুধু জ্বর বা একটা রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট নয়। রাতের ঘুম ভেঙে মশারি ঠিক আছে কি না দেখা। মেয়ের মুখের কাছে মশা আছে কি না খোঁজা। মসকিউটো ব্যাট হাতে ঘর তন্নতন্ন করে দেখা। ঘুমের ঘোরেও মশা খোঁজা।

তারপরও মনে হওয়া “সবকিছু করার পরও কি সত্যিই সন্তানকে নিরাপদ রাখতে পারছি?”

কারণ ডেঙ্গুর ভয় শুধু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ভয় নয়। আপনার প্রিয় মানুষটির ঘুমের পাশে দাঁড়িয়ে থেকেও তাকে পুরোপুরি নিরাপদ রাখতে না পারার ভয়।

এই ভয় থেকে আমাদের একটুখানি স্বস্তি, নিরাপত্তা কি আমরা কোনোদিনই পাবো না?