জকসু নির্বাচনে ছাত্রী হেনস্তার বিষয়ে যা জানা যাচ্ছে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে, হিজাবের কারণে হয়রানির শিকার হয়েছেন মাহিমা আক্তার নামে ওই নারী। এমনকি মব করে তাকে হিজাব ও নিকাব খুলতে বাধ্য করা হয়েছে। ঘটনার এক পর্যায়ে পুলিশ এসে তাদের তুলে নিয়ে যায়।
রুকাইয়া ইসলাম
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএমআপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে এক নারীকে হেনস্তার ঘটনায় আলোচনার ঝড় উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে, হিজাবের কারণে হয়রানির শিকার হয়েছেন মাহিমা আক্তার নামে ওই নারী।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং শিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থীর স্ত্রী। মাহিমার দাবি এজন্য তাকে হেনস্তা করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলা হচ্ছে মব করে তাকে হিজাব ও নিকাব খুলতে বাধ্য করা হয়েছে। ঘটনার এক পর্যায়ে পুলিশ এসে মাহিমা ও তার সাথে থাকা আরেক নারীকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়।
২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষিত হওয়ার পর প্রথমবারের মত হওয়া এই শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনে ভোট হয় মঙ্গলবার। সেদিন সকাল ১০টার দিকে ক্যাম্পাস গেটে নির্বাচনের কার্ড বিলি করতে যান মাহিমা।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় তার সঙ্গে একজন নারী সহকর্মী দেখা করতে যান। কিন্তু ছাত্রদলের কর্মীদের কাছে হয়রানির শিকার হন তিনি।
এ ঘটনাটি নিয়ে এক গণমাধ্যমে মাহিমা বলেন, “আমি ঢাকা জজ কোর্টে শিক্ষানবিস হিসেবে আছি। ওইখানকার আমার এক আপু ও কলিগের সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। উনি আমার সাথে দেখা করতে আসেন।”
তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘ছাত্রদলের কিছু কর্মী একটা আখ্যা দিয়ে উনাকে হয়রানি করতে যায়। তখন আমি কাছে গিয়ে আপুকে নিয়ে আসতে চাই। আমাকেও হয়রানি করে। এক পর্যায়ে মবের সৃষ্টি হয়।”
“আমি শিবির প্রার্থীর ওয়াইফ সেজন্য কি আমি মবের শিকার হব?”, প্রশ্ন করেন মাহিমা ।
এ প্রসঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শী জবি শিক্ষার্থী হাসান সজিব আলাপকে জানান, নির্বাচনের দিন সকালে প্রথমে মাঝবয়সী এক নারী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে ছাত্ররা আটকে দেয়। তিনি নিজেকে নির্বাচন কমিশনের সদস্য এবং একজন আইনজীবী দাবি করেন।
পরবর্তীতে ছাত্ররা পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি বলে জানান সজিব।
তিনি বলেন, ‘‘একপর্যায়ে তিনি (ওই নারী) জামায়াতের মহিলা শাখার সদস্য বলে স্বীকার করেন। সেখানে মাহিমা আক্তার তাকে উদ্ধার করতে আসেন। তখন হট্টগোল বেঁধে যায়। পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে দুইজনকে তুলে নিয়ে যান।”
ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভিক জবিয়ান প্যানেলের ভিপি প্রার্থী একেএম রাকিবকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি ঘটনাটি শুনেছেন তবে বিস্তারিত জানেন না বলে দাবি করেন।
মাহিমা ও তার সহকর্মীকে পুলিশ যখন ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছিল সেই সময়ের একটা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওতে দেখা যায় পুলিশ ভ্যানে বসে আছেন মাহিমা ও আরেকজন নারী। মাহিমা তাকে দেখিয়ে বলছেন “এইটা আমার বোন, আমার সাথে দেখা করতে আসছেন, উনি ভুলে ভেতরে চলে গেছেন।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী এবং মাহিমার স্বামী রিয়াজুল ইসলাম বলছেন, মাহিমা হয়রানির শিকার হয়েছেন। আলাপকে তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি আমাদের প্যানেলের হয়ে কার্ড বিলি করছিলেন। তখন সেখানে ছাত্রদলের ভাইরা এসে চিল্লাপাল্লা শুরু করে।”
জটিলতা তৈরি হলে পুলিশ সদস্যরা মাহিমাকে উদ্ধার করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় বলে জানান রিয়াজুল। তবে পুলিশ ভ্যানে থাকা নারীকে মাহিমা আগে থেকে চিনতেন না বলে দাবি করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক আলাপকে বলেন, ‘‘ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় গেটের বাইরে ঘটেছে। যেহেতু জকসুকে কেন্দ্র করে সেহেতু আমরা দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাই। তারা ব্যবস্থা নিয়ে দুইজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেন এবং পরবর্তীতে ছেড়ে দেন।”
এ ছাড়া নিবার্চনের দিন ক্যাম্পাসে ভোটার ছাড়া অন্য সবার প্রবেশ বন্ধ ছিল বলে জানান ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক।
জকসু নির্বাচনে ছাত্রী হেনস্তার বিষয়ে যা জানা যাচ্ছে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে, হিজাবের কারণে হয়রানির শিকার হয়েছেন মাহিমা আক্তার নামে ওই নারী। এমনকি মব করে তাকে হিজাব ও নিকাব খুলতে বাধ্য করা হয়েছে। ঘটনার এক পর্যায়ে পুলিশ এসে তাদের তুলে নিয়ে যায়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে এক নারীকে হেনস্তার ঘটনায় আলোচনার ঝড় উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে, হিজাবের কারণে হয়রানির শিকার হয়েছেন মাহিমা আক্তার নামে ওই নারী।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং শিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থীর স্ত্রী। মাহিমার দাবি এজন্য তাকে হেনস্তা করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলা হচ্ছে মব করে তাকে হিজাব ও নিকাব খুলতে বাধ্য করা হয়েছে। ঘটনার এক পর্যায়ে পুলিশ এসে মাহিমা ও তার সাথে থাকা আরেক নারীকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়।
২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষিত হওয়ার পর প্রথমবারের মত হওয়া এই শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনে ভোট হয় মঙ্গলবার। সেদিন সকাল ১০টার দিকে ক্যাম্পাস গেটে নির্বাচনের কার্ড বিলি করতে যান মাহিমা।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় তার সঙ্গে একজন নারী সহকর্মী দেখা করতে যান। কিন্তু ছাত্রদলের কর্মীদের কাছে হয়রানির শিকার হন তিনি।
এ ঘটনাটি নিয়ে এক গণমাধ্যমে মাহিমা বলেন, “আমি ঢাকা জজ কোর্টে শিক্ষানবিস হিসেবে আছি। ওইখানকার আমার এক আপু ও কলিগের সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। উনি আমার সাথে দেখা করতে আসেন।”
তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘ছাত্রদলের কিছু কর্মী একটা আখ্যা দিয়ে উনাকে হয়রানি করতে যায়। তখন আমি কাছে গিয়ে আপুকে নিয়ে আসতে চাই। আমাকেও হয়রানি করে। এক পর্যায়ে মবের সৃষ্টি হয়।”
“আমি শিবির প্রার্থীর ওয়াইফ সেজন্য কি আমি মবের শিকার হব?”, প্রশ্ন করেন মাহিমা ।
এ প্রসঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শী জবি শিক্ষার্থী হাসান সজিব আলাপকে জানান, নির্বাচনের দিন সকালে প্রথমে মাঝবয়সী এক নারী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে ছাত্ররা আটকে দেয়। তিনি নিজেকে নির্বাচন কমিশনের সদস্য এবং একজন আইনজীবী দাবি করেন।
পরবর্তীতে ছাত্ররা পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি বলে জানান সজিব।
তিনি বলেন, ‘‘একপর্যায়ে তিনি (ওই নারী) জামায়াতের মহিলা শাখার সদস্য বলে স্বীকার করেন। সেখানে মাহিমা আক্তার তাকে উদ্ধার করতে আসেন। তখন হট্টগোল বেঁধে যায়। পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে দুইজনকে তুলে নিয়ে যান।”
ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভিক জবিয়ান প্যানেলের ভিপি প্রার্থী একেএম রাকিবকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি ঘটনাটি শুনেছেন তবে বিস্তারিত জানেন না বলে দাবি করেন।
মাহিমা ও তার সহকর্মীকে পুলিশ যখন ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছিল সেই সময়ের একটা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওতে দেখা যায় পুলিশ ভ্যানে বসে আছেন মাহিমা ও আরেকজন নারী। মাহিমা তাকে দেখিয়ে বলছেন “এইটা আমার বোন, আমার সাথে দেখা করতে আসছেন, উনি ভুলে ভেতরে চলে গেছেন।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী এবং মাহিমার স্বামী রিয়াজুল ইসলাম বলছেন, মাহিমা হয়রানির শিকার হয়েছেন। আলাপকে তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি আমাদের প্যানেলের হয়ে কার্ড বিলি করছিলেন। তখন সেখানে ছাত্রদলের ভাইরা এসে চিল্লাপাল্লা শুরু করে।”
জটিলতা তৈরি হলে পুলিশ সদস্যরা মাহিমাকে উদ্ধার করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় বলে জানান রিয়াজুল। তবে পুলিশ ভ্যানে থাকা নারীকে মাহিমা আগে থেকে চিনতেন না বলে দাবি করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক আলাপকে বলেন, ‘‘ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় গেটের বাইরে ঘটেছে। যেহেতু জকসুকে কেন্দ্র করে সেহেতু আমরা দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাই। তারা ব্যবস্থা নিয়ে দুইজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেন এবং পরবর্তীতে ছেড়ে দেন।”
এ ছাড়া নিবার্চনের দিন ক্যাম্পাসে ভোটার ছাড়া অন্য সবার প্রবেশ বন্ধ ছিল বলে জানান ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক।