আবারও কমছে রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর খাদ্য সহায়তা ফের কমছে। পহেলা এপ্রিল থেকে নতুন নিয়মে খাদ্য সহায়তার অর্থ বরাদ্দ হবে বলে জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি)।

সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শ্রেণিবিন্যাস করেছে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি।

বর্তমানে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে একজন শরণার্থীর জন্য মাসিক বরাদ্দ ১২ ডলার। ভাসানচরে যা ১৩ ডলার।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্ধেকের বেশি শরণার্থীর খাদ্য সহায়তা কমে যাবে। অনেকের জন্য এ সহায়তা কমে ৭ ডলারে নামবে।

প্রতিটি পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তার মাত্রার ওপর ভিত্তি করে রেশনের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে রোহিঙ্গাদের ৩টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।

পরিবারে শিশু, বৃদ্ধ বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির উপস্থিতি অথবা আয়সমর্থ কেউ আছে কি-না, সেসবের ওপর নির্ভর করে শ্রেণিভিত্তিক খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।

প্রথম শ্রেণিতে আছে যারা তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তায় ভুগছেন। কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই শ্রেণির পরিবারগুলোতে জনপ্রতি মাসিক বরাদ্দ ১২ ডলার। তবে ভাসানচরে পণ্যের দাম বেশি হওয়ার কারণে তা হবে ১৩ ডলার।

মধ্যম মাত্রার অনিরাপদ পরিবারগুলোর জনপ্রতি সদস্য কক্সবাজারে থাকলে পাবেন ১০ ডলার ও ভাসানচরে বরাদ্দ হবে ১১ ডলার।

তৃতীয় শ্রেণি অর্থাৎ যাদের খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য কিছুটা সক্ষমতা আছে বলে মনে করা হচ্ছে, তারা কক্সবাজারে ৭ ডলার এবং ভাসানচরে ৮ ডলার করে পাবেন।

কোনো পরিবারে যদি শারীরিকভাবে সক্ষম পুরুষ সদস্য থাকে কিংবা এমন পরিবার যেখানে কোনো শিশু, প্রজননক্ষম নারী বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নেই, তারা শেষ শ্রেণিতে থাকবে।

১২ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে প্রায় ৩৩ শতাংশ প্রথম, ৫০ শতাংশ মধ্যম ও ১৭ শতাংশকে শেষ ভাগে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

প্রথম শ্রেণির রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বেশি অসহায় বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। যেসব পরিবারের মৌলিক খাদ্যের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বাধা বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তারাই এই শ্রেণিতে জায়গা পেয়েছে।

২০১৭ সালের সামরিক অভিযানের মুখে মিয়ানমারর থেকে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। প্রতি বছর ক্যাম্পে প্রায় ৩০ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করছে।

শেষ পর্যন্ত শরণার্থী সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ১২ লাখের ঘরে। ডব্লিউএফপির দাবি রোহিঙ্গা সংকট দিন দিন দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় খাদ্য সহায়তা যাতে পরিবারগুলোর প্রয়োজনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, এজন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালে তহবিল সংকটের কারণে সংস্থাটি প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য সহায়তা কমায়। ওই বছরের মার্চ মাসে জনপ্রতি মাসিক বরাদ্দ ১২ ডলার থেকে কমিয়ে ১০ ডলার এবং পরে জুন মাসে আবারও কমিয়ে ৮ ডলার করা হয়।

পরে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দাতা সংস্থাগুলোর সমর্থনে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে কক্সবাজারে খাদ্য সহায়তা বাড়িয়ে আবারও ১০ ডলার করা হয়, জুনে যা হয় ১১ ডলার। ২০২৪ সালের অগাস্টে এই ত্রানের পরিমাণ জনপ্রতি সাড়ে ১২ ডলার করা হয়েছিল। 

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী তহবিল কাটছাঁটের পর, ২০২৫ সালে ডব্লিউএফপি রোহিঙ্গাদের মাসিক রেশন কমিয়ে জনপ্রতি ৬ ডলারে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন ডব্লিউএফপি-র মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্য ৭৩ মিলিয়ন ডলারের নতুন সহায়তা ঘোষণা করার পর সেই রেশন কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল হয়।

পরে কক্সবাজারের শরণার্থীদের জন্য ১২ ডলার এবং ভাসানচরের জন্য ১৩ ডলার রেশন নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ২০২৬ সালের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এপ্রিল থেকে পরিবর্তন হতে যাচ্ছে।