যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের আগেই আলোচনায় চার ইস্যু 

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম

পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে সামনে এসেছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বৈঠক সফল না ব্যর্থ হবে, তা ঘুরপাক খাচ্ছে এই চার প্রশ্নকেই ঘিরে।

ইসলামাবাদের বৈঠক নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে যেমন প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তেমনি তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগও। 

বিশ্লেষকদের ধারণা, আলোচনার ফলাফল শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, বরং পুরো বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎকেও প্রভাবিত করতে পারে। 

বৈঠক শুরুর আগেই যে চার প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা চলছে, সেগুলো হলো: 

  • আলোচনায় কারা থাকছেন?
  • পাকিস্তানের ভূমিকা কী?
  • কতক্ষণ চলবে আলোচনা? 
  • কোন বিষয়গুলোতে মতবিরোধ বেশি?

 

আলোচনায় কারা থাকছেন? 

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।

অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গভীর রাতে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঘালিবাফ ইরান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

পাকিস্তানের ভূমিকা কী?

বৈঠকে অংশ নিতে আসা উভয় পক্ষকে স্বাগত জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। 

কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনালাপ করেছেন।

গত কয়েক সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান। দেশ দুটির সঙ্গে অতীতে সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও বর্তমানে ইসলামাবাদের সঙ্গে দুই পক্ষেরই কার্যকর সম্পর্ক রয়েছে।

ইরানের পর বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শিয়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস পাকিস্তানে। এছাড়া ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের রয়েছে ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত।

বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের কাছে পাকিস্তানের গুরুত্ব বৃদ্ধির পেছনে এগুলো বড় কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশের মতো পাকিস্তানে কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নেই। আর এটাই ইরানের কাছে দেশটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। 

এছাড়া ২০০৪ সাল থেকে নেটোর বাইরের কোনো দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ হিসেবে পরিচিত হয়েছে পাকিস্তান।

ইরান ও আমেরিকার মতো দুই বৈরী পক্ষের মধ্যে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে দেশটির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছে। 

কতক্ষণ চলবে আলোচনা?

বৈঠক কতক্ষণ স্থায়ী হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ইরানের আইআরজিসির বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, আলোচনা একদিনব্যাপী হতে পারে এবং শনিবার সন্ধ্যায় তা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইরান ও মার্কিন কর্মকর্তারা কী নিয়ে আলোচনা করবেন তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। 

কোন বিষয়গুলোতে মতবিরোধ বেশি?

বৈঠকে দুই পক্ষের বিরোধের মূল কারণগুলো ছাড়াও আরও কয়েকটি বড় ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে।

হরমুজ প্রণালিল অবরোধ করে রাখা, লেবাননে চলমান সংঘাত এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ইস্যুগুলোতেই দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব বেশি। 

আলোচনা সফল না ব্যর্থ হবে, তা এই ইস্যুগুলোর ওপরই নির্ভর করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

(বিবিসি অবলম্বনে)