প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩০ পিএমআপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
হরমুজ পারাপারের অনুমতি পায়নি বাংলার জয়যাত্রা
ইরানের “পুরো সভ্যতা ধ্বংসের’ হুমকি দেওয়ার পরই দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
এরপরই বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে কেপটাউনের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে প্রায় ৪০ দিন আটকে ছিল সার বোঝাই জাহাজটি।
প্রায় ৪০ ঘণ্টা সমুদ্রপথ অতিক্রম করে শুক্রবার সকালে হরমুজ প্রণালিটির কাছাকাছি পৌঁছে যায় বাংলার জয়যাত্রা।
ইরানের ‘সুসম্পর্ক’ এবং বাংলাদেশের জাহাজ ছেড়ে দেওয়া হবে বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছিল দেশটি। এর সঙ্গে আশা তৈরি হয় ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা।
জয়যাত্রা থেকে রেডিওর মাধ্যমে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাওয়া হয় হরমুজ পারাপারের অনুমতি।
কিন্তু ইরানি কর্তৃপক্ষ বাংলার জয়যাত্রার ট্রানজিট ক্লিয়ারেন্সের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলে আলাপ-কে জানিয়েছেন বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক।
“হরমুজ ক্রস করতে গেলে মিসাইল মেরে উড়িয়ে দেবে,” এই ভাষায় হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
কেন বাংলাদেশের জাহাজকে হরমুজ পার হতে দেওয়া হবে না, তা নিয়ে ইরানের কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ দেখাননি বলে জানান বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
তিনি বলেন, “দে ডিডন্ট এক্সপ্লেইন এনিথিং, ওনলি সেইড দ্যাট।”
এখন কোথায় আছে বাংলার জয়যাত্রা?
যখন রেডিও বার্তায় অনুমতি চাওয়া হয়, তখন হরমুজ থেকে ৬০ নটিক্যাল মাইল বা প্রায় ১১১ কিলোমিটার দূরে ছিল বাংলার জয়যাত্রা।
এরপর অনুমতি না পাওয়ায় হরমুজ প্রণালির কাছাকাছিই রাখা হয়েছে জাহাজটিকে।
যুদ্ধবিরতির পর বুধবার থেকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বেশকিছু জাহাজ চলাচল করেছে বলে পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে।
তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এরপর প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার নিয়ন্ত্রিত করেছে ইরান।
“এখন হরমুজ থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে আমাদের জাহাজ,” বলেন মাহমুদুল মালেক।
জাহাজটি হরমুজ পার করতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
“পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আশাকরছি কাল-পরশুর মধ্যে ক্লিয়ারেন্স পাওয়া যাবে।”
কেমন আছেন ক্রুরা?
বাংলার জয়যাত্রায় রয়েছেন ৩১ জন নাবিক ও ক্রু। তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী রয়েছে বলে জানিয়েছে শিপিং করপোরেশন।
দীর্ঘ এই অপেক্ষায় জাহাজটির ক্রুদের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টাও করছে বিএসসি।
কর্তৃপক্ষ প্রত্যেকের দৈনিক খাবার ভাতা ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করেছে এবং মৌলিক বেতনের সমপরিমাণ অতিরিক্ত যুদ্ধ ভাতাও দেওয়া হচ্ছে।
কোথায় যাচ্ছিল, কী আছে?
বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজটি ভারত থেকে যাত্রা করে হরমুজ প্রণালি পার হয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে।
পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়।
এর ঠিক একদিন পরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালালে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। এর জবাবে পালটা হামলা শুরু হলে পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
গত ১১ মার্চ জাবেল আলীতে পণ্য খালাসের পর জাহাজটির কুয়েতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় জয়যাত্রাকে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি।
এরপর সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করা হয়।
জাহাজে এখন সেই এমএপি (মনো অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার রয়েছে বলে জানান বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
এই সার নেওয়া হবে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে।
১৮০ মিটার দৈর্ঘ্য ৩২ দশমিক ০৬ মিটার প্রস্থের 'বাংলার জয়যাত্রা' বিএসসির বহরে যুক্ত হওয়া অন্যতম নতুন জাহাজ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এটা যাত্রা শুরু করে।
এর আগে বাংলাদেশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি বহনকারী ছয়টি জাহাজ নিরাপদে চলাচলের অনুমোদন দিয়েছিল ইরান সরকার।
পহেলা এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদি বলেন, “হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশের জ্বালানি বহনকারী ছয়টি জাহাজের নিরাপদ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ।”
তবে পরে জানায়, বাংলাদেশ যে তালিকা পাঠিয়েছিল, তার মধ্যে পাঁচটি চালানই বাতিল করেছিল সরবরাহকারীরা।
এদিকে ডলার নয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ট্রানজিট ফি ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়ালে পরিশোধের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ইরানের একটি সংসদীয় প্রস্তাবের অধীনে এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে জানিয়ে মুম্বাইয়ে নিযুক্ত ইরানের কনস্যুলেট জেনারেলের এক্স হ্যান্ডেলে শুক্রবার পোস্ট করা হয়েছে।
জয়যাত্রার হরমুজ পার করতে ‘কূটনৈতিক’ তৎপরতা
হরমুজ প্রণালি পারাপারে ইরানের কড়া হুমকিতে অনিশ্চয়তায় ৩১ নাবিকসহ বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। ট্রানজিট ক্লিয়ারেন্স চাইতেই হুমকি। এখন কী করছে বাংলাদেশ?
ইরানের “পুরো সভ্যতা ধ্বংসের’ হুমকি দেওয়ার পরই দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
এরপরই বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে কেপটাউনের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে প্রায় ৪০ দিন আটকে ছিল সার বোঝাই জাহাজটি।
প্রায় ৪০ ঘণ্টা সমুদ্রপথ অতিক্রম করে শুক্রবার সকালে হরমুজ প্রণালিটির কাছাকাছি পৌঁছে যায় বাংলার জয়যাত্রা।
ইরানের ‘সুসম্পর্ক’ এবং বাংলাদেশের জাহাজ ছেড়ে দেওয়া হবে বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছিল দেশটি। এর সঙ্গে আশা তৈরি হয় ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা।
জয়যাত্রা থেকে রেডিওর মাধ্যমে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাওয়া হয় হরমুজ পারাপারের অনুমতি।
কিন্তু ইরানি কর্তৃপক্ষ বাংলার জয়যাত্রার ট্রানজিট ক্লিয়ারেন্সের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলে আলাপ-কে জানিয়েছেন বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক।
“হরমুজ ক্রস করতে গেলে মিসাইল মেরে উড়িয়ে দেবে,” এই ভাষায় হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
কেন বাংলাদেশের জাহাজকে হরমুজ পার হতে দেওয়া হবে না, তা নিয়ে ইরানের কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ দেখাননি বলে জানান বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
তিনি বলেন, “দে ডিডন্ট এক্সপ্লেইন এনিথিং, ওনলি সেইড দ্যাট।”
এখন কোথায় আছে বাংলার জয়যাত্রা?
যখন রেডিও বার্তায় অনুমতি চাওয়া হয়, তখন হরমুজ থেকে ৬০ নটিক্যাল মাইল বা প্রায় ১১১ কিলোমিটার দূরে ছিল বাংলার জয়যাত্রা।
এরপর অনুমতি না পাওয়ায় হরমুজ প্রণালির কাছাকাছিই রাখা হয়েছে জাহাজটিকে।
যুদ্ধবিরতির পর বুধবার থেকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বেশকিছু জাহাজ চলাচল করেছে বলে পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে।
তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এরপর প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার নিয়ন্ত্রিত করেছে ইরান।
“এখন হরমুজ থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে আমাদের জাহাজ,” বলেন মাহমুদুল মালেক।
জাহাজটি হরমুজ পার করতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
“পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আশাকরছি কাল-পরশুর মধ্যে ক্লিয়ারেন্স পাওয়া যাবে।”
কেমন আছেন ক্রুরা?
বাংলার জয়যাত্রায় রয়েছেন ৩১ জন নাবিক ও ক্রু। তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী রয়েছে বলে জানিয়েছে শিপিং করপোরেশন।
দীর্ঘ এই অপেক্ষায় জাহাজটির ক্রুদের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টাও করছে বিএসসি।
কর্তৃপক্ষ প্রত্যেকের দৈনিক খাবার ভাতা ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করেছে এবং মৌলিক বেতনের সমপরিমাণ অতিরিক্ত যুদ্ধ ভাতাও দেওয়া হচ্ছে।
কোথায় যাচ্ছিল, কী আছে?
বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজটি ভারত থেকে যাত্রা করে হরমুজ প্রণালি পার হয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে।
পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়।
এর ঠিক একদিন পরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালালে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। এর জবাবে পালটা হামলা শুরু হলে পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
গত ১১ মার্চ জাবেল আলীতে পণ্য খালাসের পর জাহাজটির কুয়েতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় জয়যাত্রাকে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি।
এরপর সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করা হয়।
জাহাজে এখন সেই এমএপি (মনো অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার রয়েছে বলে জানান বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
এই সার নেওয়া হবে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে।
১৮০ মিটার দৈর্ঘ্য ৩২ দশমিক ০৬ মিটার প্রস্থের 'বাংলার জয়যাত্রা' বিএসসির বহরে যুক্ত হওয়া অন্যতম নতুন জাহাজ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এটা যাত্রা শুরু করে।
ইরানের অনুমতি বাংলাদেশের গাফিলতি
এর আগে বাংলাদেশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি বহনকারী ছয়টি জাহাজ নিরাপদে চলাচলের অনুমোদন দিয়েছিল ইরান সরকার।
পহেলা এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদি বলেন, “হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশের জ্বালানি বহনকারী ছয়টি জাহাজের নিরাপদ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ।”
তবে পরে জানায়, বাংলাদেশ যে তালিকা পাঠিয়েছিল, তার মধ্যে পাঁচটি চালানই বাতিল করেছিল সরবরাহকারীরা।
এদিকে ডলার নয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ট্রানজিট ফি ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়ালে পরিশোধের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ইরানের একটি সংসদীয় প্রস্তাবের অধীনে এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে জানিয়ে মুম্বাইয়ে নিযুক্ত ইরানের কনস্যুলেট জেনারেলের এক্স হ্যান্ডেলে শুক্রবার পোস্ট করা হয়েছে।
বিষয়: