যুদ্ধবিরতি শেষে আনুষ্ঠানিক চুক্তির অপেক্ষায় ওয়াশিংটন–তেহরান

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ০১:০৪ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসান শেষে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের প্রতিনিধিদের মাঝে, যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ শিথিল এবং বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি কাঠামোগত চুক্তি হয়েছে।

চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডকে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চুক্তি সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত এক পোস্টে দাবি করেন, “ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন।” এর কিছুক্ষণ আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, তার দেশের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। চুক্তিটিকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।

প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, সোমবার রাত থেকেই লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ হওয়ার কথা। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদও এক বিবৃতিতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে।

তবে সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় আরও বিস্তৃত আলোচনায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হবে।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ব্রেন্ট ক্রুড ও মার্কিন ডব্লিউটিআই তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সঙ্গে এশিয়ার বিভিন্ন শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণাও এসেছে ট্রাম্পের কাছ থেকে। বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ কয়েক মাস ধরে কার্যত অচল ছিল, যা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল।

এদিকে চুক্তি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে লেবানন ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের মতপার্থক্যের খবরও প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া সংঘাতে ইরান ও লেবাননে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটে। যুদ্ধ চলাকালে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের করা অবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়। এর পাল্টা জবাবে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র, যা দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।