‘বিজিবি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাহিনী। রাজনৈতিক অবস্থান ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা কাজ করে। তাই সরকারের অবস্থানই সীমান্তে বিজিবির বডি ল্যাংগুয়েজ বা কার্যক্রমের পরিধি ঠিক করে দেয়।’
নাহিদ হোসেন
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:০৬ পিএমআপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিন পুশ-ইনের চেষ্টা হলেও প্রতিটি ক্ষেত্রেই তা ঠেকিয়ে দিয়েছে বিজিবি।
‘বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির গুলিতে ভারতীয় চোরাকারবারি আহত’, এটি ১৩ই জুন রাতের খবর।
দুটিই মৌলভীবাজার জেলার সীমান্ত এলাকা। দ্বিতীয় খবরটির ধরন নতুন নয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বলছে ২০২৫ সালেই ভারতীয় সীমান্তরক্ষীবাহিনী বিএসএফের হাতে ৩৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ২৪ জন গুলিতে এবং ১০ জন শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন।
চলতি বছর জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশি নিহতের সংখ্যা ৮জন। এর মধ্যে ৫ জন মারা গেছেন গুলিতে।
সীমান্তে বিএসএফের গুলির ব্যবহার নতুন খবর না হলেও, বিজিবির ক্ষেত্রে তা বিরল। তার মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে ‘ভারতীয় নাগরিক আহত’ হওয়ার খবর জানানো বিরলতম।
বিবৃতিতে বিজিবি জানিয়েছে, “নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনাকালে বিজিবি টহলদল দুইজন সন্দেহভাজন ভারতীয় চোরাকারবারিকে চ্যালেঞ্জ করলে তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে টহলদলের ওপর আক্রমণের করে। আত্মরক্ষার্থে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের জন্য বিজিবি সদস্যরা ফায়ার করলে একজন চোরাকারবারি আহত হয়। আহত ব্যক্তিসহ অপর চোরাকারবারি ভারতে পালিয়ে যায়।”
বিবৃতির ভাষা পরিচিত। কারণ বিএসএফ যখন বাংলাদেশি নাগরিককে গুলি করে হতাহত করে তখন ওই বাহিনীও ‘আক্রমনের শিকার’ হয়ে ‘আত্মরক্ষায়’ গুলি চালানোর কারণ দেখায়।
তবে ‘ভারতীয় নাগরিক আহত’ হওয়ার খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো চমকপ্রদ। সাধারণত বিজিবি এ ধরনের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিতো না। এমনকি জানতে চাইলেও সদর দপ্তর থেকে তা নিশ্চিত করা হতো না।
এ প্রসঙ্গে মনে করা যায়, ২০১৯ সালের ১৭ই অক্টোবর রাজশাহীর চারঘাটের পদ্মা নদীতে বিজিবি’র গুলিতে বিএসএফের একজন জওয়ান নিহত হন।
ওই খবর ভারতীয় গণমাধ্যমে সকাল থেকেই ফলাও করে প্রচার করলেও, বিজিবি তখন মুখে কুলুপ এঁটে ছিলো। সংবাদ না করতেও অনুরোধ করা হয়।
কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সয়লাব হয়ে যায় খবরে। পরে সন্ধ্যা নাগাদ বিজিবির রাজশাহী ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘পতাকা বৈঠকে বিএসএফ কম্যান্ড্যান্ট দাবি করেছে তাদের একজন সদস্য নিহত ও একজন সদস্য হয়েছেন’।
ওইদিন চারঘাটের পদ্মা নদীর সীমান্ত অঞ্চলের বাংলাদেশ অংশে চারজন ভারতীয় জেলে ঢুকে পড়ায় তাদের আটক করে বিজিবি। তাদের ছাড়িয়ে নিতে আসে বিএসএফের একটি দল।
বিজিবির অধিনায়ক জানান, পতাকা বৈঠকের সময় বিএসএফ সদস্যরা আটক চারজন জেলেকে ছিনিয়ে নিতে চায়। এ সময় তারা ফাঁকা গুলি করলে আত্মরক্ষায় বিজিবিও গুলি করে। পরে আহত-নিহতের খবর আসে।
সকালের ঘটনার এই খবরটি জানাতে বিজিবির অধিনায়ক রাত আটটার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে।
বিএসএফকে যখন ‘সীমান্ত হত্যা’ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তারাও ‘চোরাকারবারি’ ও ‘অপরাধী’দের আক্রমন থেকে বাঁচতে আত্মরক্ষায় গুলি করার কথা বলে। এমনকি ভারতীয় চোরাকারবারিও তাদের গুলিতে আহত-নিহত হওয়ার পরিসংখ্যান জানায় প্রায়শই।
বিজিবিও ১৩ই জুন জানালো ভারতীয় ‘চোরাকারবারি’দের আক্রমন থেকে বাঁচতে গুলি করা হয়। এতে আহত অবস্থায় সে পালিয়ে যায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ২রা জুন সাংবাদিকদের বলেছেন, “বর্ডার কিলিং হচ্ছে যদি অন্য দেশে বাহিনী কর্তৃক আমাদের সীমান্তে অথবা জিরো লাইনে এসে যদি কিলিং করে সেটাকে আমরা বর্ডার কিলিং বলতে পারি।”
“যদি তাদের সীমানার অভ্যন্তরে কোনোরকমের কোনো অপরাধে জড়িত থাকে কেউ, ইলিগ্যাল ট্রেসপাস করে যায় কেউ সেটা তারা কিভাবে অ্যাড্রেস করবে সেটা তাদের দেশীয় আইনে করবে। এটাকে বর্ডার কিলিং বরা ঠিক হবে না”, যোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
কূটনীতিতে ভাষা এবং শব্দের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। না বলেও, বলে ফেলা যায় অনেক কিছু। সীমান্তরক্ষা নিরাপত্তা ইস্যু হলেও যেহেতু আন্তদেশীয় ব্যবস্থাপনা, তাই কূটনীতিও এর অংশ বটে।
সম্প্রতি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শেষ হওয়া বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলনের পর ১১ই জুন রাতেই একটি যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিএসএফ।
একদিন পর ১২ই জুন আলাদা প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয় বিজিবি সদর দপ্তর। এই দুই বিজ্ঞপ্তির মধ্যে ভাষাগত পার্থক্য চোখে পড়ার মতো।
যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি উভয় পক্ষ ‘সীমান্ত মৃত্যু’ আলোচনা করেছে দুই বাহিনী। বিজিবি বলছে ‘সীমান্ত হত্যা’ নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।
বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “মহাপরিচালক সীমান্তে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের দ্বারা প্রাণঘাতী ও অপ্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ফলে নিরস্ত্র ও নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।”
সীমান্ত এলাকায় হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য বিএসএফ মহাপরিচালককে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিজিবি মহাপরিচালক।
যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে ‘অবৈধ, ভুলক্রমে ও জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রম’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তি বলছে, উদ্বেগ জানানো হয়েছে ‘পুশ-ইন’ নিয়ে।
সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার ইস্যু পুশ-ইন আর সীমান্তের দেড়শ গজের মধ্যে কাঁটাতার দেওয়া।
যৌথ বিবৃতিতে ‘সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আর বিজিবির বিবৃতিতে অনুযায়ী সীমান্তের ৩৯টি স্থানে দেড়শ গজের ভেতরে বেড়া নির্মাণের সুস্পষ্ট অভিযোগ জানানো হয়েছে।
এর বাইরেও যৌথ বিবৃতি আর বিজিবির নিজস্ব বিবৃতির ভাষার পার্থক্য সুস্পষ্ট। তিন পৃষ্ঠার যৌথ বিবৃতিতে ছয়টি অনুচ্ছেদে যাবতীয় বিষয় রেকর্ড হয়েছে।
তবে বিজিবির নিজস্ব প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ১১টি পয়েন্ট তুলে ধরা হয়েছে। মাদক ও চোরাচালান, অবৈধ অভিবাসন, মুদ্রা ও স্বর্ণ চোরাচালান, সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রমমহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।
তবে বিজ্ঞপ্তির শেষ অংশে ভাষার মিল আছে। দুই জায়গাতেই বলা হয়েছে, উভয়পক্ষ সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
প্রতি বছর দুইবার, দুই বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক বা সীমান্ত সম্মেলন হয়। একবার ঢাকায় একবার দিল্লিতে।
তবে যেখানেই হোক না কেন, আলোচনার পর একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন হয়। তবে এবার ছিলো ব্যতিক্রম। দিল্লিতে ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলনের পর সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়নি। যদিও বিজিবির পক্ষ থেকে তাতে কোনো আপত্তি ছিলো না।
বিজিবির একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংবাদ সম্মেলন আয়োজন না করে সংক্ষিপ্ত একটি প্রেস রিলিজ ইস্যু করা হয়। এজন্যই বিজিবি আলাদা করে বিস্তারিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
সম্মেলনের যেসব বিষয়ে আলোচনা হয় তা লিপিবদ্ধ করেই সই হয় জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশন বা জেআরডি।
বিজিবির উপমহাপরিচালক কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ আজম আলাপকে জানিয়েছেন জেআরডিতে যা আছে তার ভিত্তিতেই বিস্তারিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিজিবি।
“সম্মেলনের বিস্তারিত আলোচনা আড়াই পৃষ্ঠার যৌথ বিবৃতিতে তুলে ধরা সম্ভব নয়। তাই জেআরডি অনুযায়ী বিস্তারিত জানানোর জন্যই আলাদা করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিজিবি”, যোগ করেন কর্নেল মাহমুদ আজম।
তিনি বলেন, “যেসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, আমরা সম্মেলনে যা তুলে ধরেছি তাই বিস্তারিত জানানো হয়েছে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।”
‘আমরা কি চুড়ি পরে আছি’
অন্তবর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের মার্চ-এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে পুশ-ইন বা জোর করে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে এই চেষ্টা হয়েছে প্রায় প্রতিদিন। দেশের চারদিকের সীমান্তে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তা ঠেকিয়ে দিয়েছে বিজিবি। সাথে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গত ১০ই জুন জামালপুরের বকশীগঞ্জের রামরামপুর সীমান্তে ভারত থেকে এক বৃদ্ধকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। দুই বাহিনীই ওই ব্যক্তিকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়।
বাদানুবাদের এক পর্যায়ে বিএসএফের এক সদস্য গুলি করার কথা বললে প্রতিবাদ জানায় বিজিবি সদস্যরা।
একজন বলেন, “গুলি করার কথা কেন বললেন। কেন গুলি করার কথা বললেন? আমরা কি হাতে চুড়ি পড়ে আসছি? গুলি নাই আমাদের হাতে?”
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি দাবি করেছেন সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর হোল্ডিং সেন্টার থেকে প্রায় পাঁচ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আরও ৮৩৬ জন ফেরতের অপেক্ষায় আছেন।
কবে, কোন সীমান্ত দিয়ে এবং কীভাবে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য জানাননি শুভেন্দু অধিকারী। তাদের পরিচয় নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়েও ভারত সরকার কিংবা রাজ্য সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি।
বিজিবি সদর দপ্তর জানিয়েছে, শক্ত নজরদিারির কারণে গত এক মাসে একটি পুশ-ইনের ঘটনা ঘটেনি। ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, মেহেরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন সীমান্তে পুশ-ইনের চেষ্টা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
সবশেষ বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির গুলিতে ‘ভারতীয় চোরাকারবারি’ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা এবং তা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানোর ঘটনা ‘বডি ল্যাংগুয়েজ’ পরিবর্তন বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক অবস্থান প্রতিফলিত হয় সীমান্তে
কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দিন মনে করেন, রাষ্ট্র যেভাবে নির্দেশনা দেবে নিরাপত্তা বাহিনী ওইভাবেই কাজ করবে।
“বিজিবি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাহিনী। রাজনৈতিক অবস্থান ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা কাজ করে। তাই সরকারের অবস্থানই সীমান্তে বিজিবির বডি ল্যাংগুয়েজ বা কার্যক্রমের পরিধি ঠিক করে দেয়”, যোগ করেন কর্নেল শরীফ।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ মনে করেন সরকারে রাজনৈতিক নীতি পরিবর্তন হলে তার প্রভাব বাহিনীতে পড়বেই।
“আমরা নিকট অতীতে সীমান্তে বিজিবির এই শক্ত অবস্থান দেখিনি। আগের সরকারের সময়ে তাদের ওপর যেমন নির্দেশনা ছিলো তারা সেভাবেই কাজ করেছেন”, বলেন মেজর নাসির।
এই দুই নিরাপত্তা বিশ্লেষকই মনে করেন, সীমান্ত পরিস্থিতি ঠিক রাখতে বিজিবি কতোটা কঠোর ভূমিকা রাখতে পারবে তা নির্ভর করে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ওপর।
মেজর (অব.) নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, “আমরা আগে বিজিবিকে মাইকিং করে সতর্ক করা, অনুমোদনহীন কাঁটাতারের বেড়া তৈরি বন্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া বা সীমান্তে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেখিনি। যেটা এখন দেখা যাচ্ছে।”
তবে বাংলাদেশের ভেতরে ‘আত্মরক্ষায় গুলি’র ঘটনা ভারতের ভেতরে ‘আত্মরক্ষায় গুলি’র ঘটনাকে বৈধতা দেয় কি-না এমন প্রশ্নে কর্নেল শরীফ বলেন, “এটা বরং একটা বার্তা যে অপরাধ দমনে আমরা বসে থাকবো না।”
মন্তব্য প্রতিবেদন
সীমান্তের সমীকরণে বিজিবির ‘বডি ল্যাংগুয়েজ’
‘বিজিবি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাহিনী। রাজনৈতিক অবস্থান ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা কাজ করে। তাই সরকারের অবস্থানই সীমান্তে বিজিবির বডি ল্যাংগুয়েজ বা কার্যক্রমের পরিধি ঠিক করে দেয়।’
‘বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির গুলিতে ভারতীয় চোরাকারবারি আহত’, এটি ১৩ই জুন রাতের খবর।
‘কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি তরুণ নিহত’, এটি ১২ই জুনের খবর।
দুটিই মৌলভীবাজার জেলার সীমান্ত এলাকা। দ্বিতীয় খবরটির ধরন নতুন নয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বলছে ২০২৫ সালেই ভারতীয় সীমান্তরক্ষীবাহিনী বিএসএফের হাতে ৩৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ২৪ জন গুলিতে এবং ১০ জন শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন।
চলতি বছর জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশি নিহতের সংখ্যা ৮জন। এর মধ্যে ৫ জন মারা গেছেন গুলিতে।
সীমান্তে বিএসএফের গুলির ব্যবহার নতুন খবর না হলেও, বিজিবির ক্ষেত্রে তা বিরল। তার মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে ‘ভারতীয় নাগরিক আহত’ হওয়ার খবর জানানো বিরলতম।
বিবৃতিতে বিজিবি জানিয়েছে, “নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনাকালে বিজিবি টহলদল দুইজন সন্দেহভাজন ভারতীয় চোরাকারবারিকে চ্যালেঞ্জ করলে তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে টহলদলের ওপর আক্রমণের করে। আত্মরক্ষার্থে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের জন্য বিজিবি সদস্যরা ফায়ার করলে একজন চোরাকারবারি আহত হয়। আহত ব্যক্তিসহ অপর চোরাকারবারি ভারতে পালিয়ে যায়।”
বিবৃতির ভাষা পরিচিত। কারণ বিএসএফ যখন বাংলাদেশি নাগরিককে গুলি করে হতাহত করে তখন ওই বাহিনীও ‘আক্রমনের শিকার’ হয়ে ‘আত্মরক্ষায়’ গুলি চালানোর কারণ দেখায়।
তবে ‘ভারতীয় নাগরিক আহত’ হওয়ার খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো চমকপ্রদ। সাধারণত বিজিবি এ ধরনের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিতো না। এমনকি জানতে চাইলেও সদর দপ্তর থেকে তা নিশ্চিত করা হতো না।
এ প্রসঙ্গে মনে করা যায়, ২০১৯ সালের ১৭ই অক্টোবর রাজশাহীর চারঘাটের পদ্মা নদীতে বিজিবি’র গুলিতে বিএসএফের একজন জওয়ান নিহত হন।
ওই খবর ভারতীয় গণমাধ্যমে সকাল থেকেই ফলাও করে প্রচার করলেও, বিজিবি তখন মুখে কুলুপ এঁটে ছিলো। সংবাদ না করতেও অনুরোধ করা হয়।
কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সয়লাব হয়ে যায় খবরে। পরে সন্ধ্যা নাগাদ বিজিবির রাজশাহী ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘পতাকা বৈঠকে বিএসএফ কম্যান্ড্যান্ট দাবি করেছে তাদের একজন সদস্য নিহত ও একজন সদস্য হয়েছেন’।
ওইদিন চারঘাটের পদ্মা নদীর সীমান্ত অঞ্চলের বাংলাদেশ অংশে চারজন ভারতীয় জেলে ঢুকে পড়ায় তাদের আটক করে বিজিবি। তাদের ছাড়িয়ে নিতে আসে বিএসএফের একটি দল।
বিজিবির অধিনায়ক জানান, পতাকা বৈঠকের সময় বিএসএফ সদস্যরা আটক চারজন জেলেকে ছিনিয়ে নিতে চায়। এ সময় তারা ফাঁকা গুলি করলে আত্মরক্ষায় বিজিবিও গুলি করে। পরে আহত-নিহতের খবর আসে।
সকালের ঘটনার এই খবরটি জানাতে বিজিবির অধিনায়ক রাত আটটার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে।
বিএসএফকে যখন ‘সীমান্ত হত্যা’ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তারাও ‘চোরাকারবারি’ ও ‘অপরাধী’দের আক্রমন থেকে বাঁচতে আত্মরক্ষায় গুলি করার কথা বলে। এমনকি ভারতীয় চোরাকারবারিও তাদের গুলিতে আহত-নিহত হওয়ার পরিসংখ্যান জানায় প্রায়শই।
বিজিবিও ১৩ই জুন জানালো ভারতীয় ‘চোরাকারবারি’দের আক্রমন থেকে বাঁচতে গুলি করা হয়। এতে আহত অবস্থায় সে পালিয়ে যায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ২রা জুন সাংবাদিকদের বলেছেন, “বর্ডার কিলিং হচ্ছে যদি অন্য দেশে বাহিনী কর্তৃক আমাদের সীমান্তে অথবা জিরো লাইনে এসে যদি কিলিং করে সেটাকে আমরা বর্ডার কিলিং বলতে পারি।”
“যদি তাদের সীমানার অভ্যন্তরে কোনোরকমের কোনো অপরাধে জড়িত থাকে কেউ, ইলিগ্যাল ট্রেসপাস করে যায় কেউ সেটা তারা কিভাবে অ্যাড্রেস করবে সেটা তাদের দেশীয় আইনে করবে। এটাকে বর্ডার কিলিং বরা ঠিক হবে না”, যোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
পুশ-ইন বন্ধে যে বিজিবি সদা সতর্ক তাও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
‘যৌথ বিজ্ঞপ্তি’ বনাম ‘বিজ্ঞপ্তি’
কূটনীতিতে ভাষা এবং শব্দের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। না বলেও, বলে ফেলা যায় অনেক কিছু। সীমান্তরক্ষা নিরাপত্তা ইস্যু হলেও যেহেতু আন্তদেশীয় ব্যবস্থাপনা, তাই কূটনীতিও এর অংশ বটে।
সম্প্রতি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শেষ হওয়া বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলনের পর ১১ই জুন রাতেই একটি যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিএসএফ।
একদিন পর ১২ই জুন আলাদা প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয় বিজিবি সদর দপ্তর। এই দুই বিজ্ঞপ্তির মধ্যে ভাষাগত পার্থক্য চোখে পড়ার মতো।
যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি উভয় পক্ষ ‘সীমান্ত মৃত্যু’ আলোচনা করেছে দুই বাহিনী। বিজিবি বলছে ‘সীমান্ত হত্যা’ নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।
বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “মহাপরিচালক সীমান্তে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের দ্বারা প্রাণঘাতী ও অপ্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ফলে নিরস্ত্র ও নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।”
সীমান্ত এলাকায় হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য বিএসএফ মহাপরিচালককে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিজিবি মহাপরিচালক।
যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে ‘অবৈধ, ভুলক্রমে ও জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রম’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তি বলছে, উদ্বেগ জানানো হয়েছে ‘পুশ-ইন’ নিয়ে।
সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার ইস্যু পুশ-ইন আর সীমান্তের দেড়শ গজের মধ্যে কাঁটাতার দেওয়া।
যৌথ বিবৃতিতে ‘সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আর বিজিবির বিবৃতিতে অনুযায়ী সীমান্তের ৩৯টি স্থানে দেড়শ গজের ভেতরে বেড়া নির্মাণের সুস্পষ্ট অভিযোগ জানানো হয়েছে।
এর বাইরেও যৌথ বিবৃতি আর বিজিবির নিজস্ব বিবৃতির ভাষার পার্থক্য সুস্পষ্ট। তিন পৃষ্ঠার যৌথ বিবৃতিতে ছয়টি অনুচ্ছেদে যাবতীয় বিষয় রেকর্ড হয়েছে।
তবে বিজিবির নিজস্ব প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ১১টি পয়েন্ট তুলে ধরা হয়েছে। মাদক ও চোরাচালান, অবৈধ অভিবাসন, মুদ্রা ও স্বর্ণ চোরাচালান, সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রমমহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।
তবে বিজ্ঞপ্তির শেষ অংশে ভাষার মিল আছে। দুই জায়গাতেই বলা হয়েছে, উভয়পক্ষ সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
প্রতি বছর দুইবার, দুই বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক বা সীমান্ত সম্মেলন হয়। একবার ঢাকায় একবার দিল্লিতে।
তবে যেখানেই হোক না কেন, আলোচনার পর একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন হয়। তবে এবার ছিলো ব্যতিক্রম। দিল্লিতে ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলনের পর সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়নি। যদিও বিজিবির পক্ষ থেকে তাতে কোনো আপত্তি ছিলো না।
বিজিবির একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংবাদ সম্মেলন আয়োজন না করে সংক্ষিপ্ত একটি প্রেস রিলিজ ইস্যু করা হয়। এজন্যই বিজিবি আলাদা করে বিস্তারিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
সম্মেলনের যেসব বিষয়ে আলোচনা হয় তা লিপিবদ্ধ করেই সই হয় জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশন বা জেআরডি।
বিজিবির উপমহাপরিচালক কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ আজম আলাপকে জানিয়েছেন জেআরডিতে যা আছে তার ভিত্তিতেই বিস্তারিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিজিবি।
“সম্মেলনের বিস্তারিত আলোচনা আড়াই পৃষ্ঠার যৌথ বিবৃতিতে তুলে ধরা সম্ভব নয়। তাই জেআরডি অনুযায়ী বিস্তারিত জানানোর জন্যই আলাদা করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিজিবি”, যোগ করেন কর্নেল মাহমুদ আজম।
তিনি বলেন, “যেসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, আমরা সম্মেলনে যা তুলে ধরেছি তাই বিস্তারিত জানানো হয়েছে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।”
‘আমরা কি চুড়ি পরে আছি’
অন্তবর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের মার্চ-এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে পুশ-ইন বা জোর করে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে এই চেষ্টা হয়েছে প্রায় প্রতিদিন। দেশের চারদিকের সীমান্তে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তা ঠেকিয়ে দিয়েছে বিজিবি। সাথে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গত ১০ই জুন জামালপুরের বকশীগঞ্জের রামরামপুর সীমান্তে ভারত থেকে এক বৃদ্ধকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। দুই বাহিনীই ওই ব্যক্তিকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়।
বাদানুবাদের এক পর্যায়ে বিএসএফের এক সদস্য গুলি করার কথা বললে প্রতিবাদ জানায় বিজিবি সদস্যরা।
একজন বলেন, “গুলি করার কথা কেন বললেন। কেন গুলি করার কথা বললেন? আমরা কি হাতে চুড়ি পড়ে আসছি? গুলি নাই আমাদের হাতে?”
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি দাবি করেছেন সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর হোল্ডিং সেন্টার থেকে প্রায় পাঁচ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আরও ৮৩৬ জন ফেরতের অপেক্ষায় আছেন।
কবে, কোন সীমান্ত দিয়ে এবং কীভাবে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য জানাননি শুভেন্দু অধিকারী। তাদের পরিচয় নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়েও ভারত সরকার কিংবা রাজ্য সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি।
বিজিবি সদর দপ্তর জানিয়েছে, শক্ত নজরদিারির কারণে গত এক মাসে একটি পুশ-ইনের ঘটনা ঘটেনি। ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, মেহেরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন সীমান্তে পুশ-ইনের চেষ্টা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
সবশেষ বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির গুলিতে ‘ভারতীয় চোরাকারবারি’ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা এবং তা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানোর ঘটনা ‘বডি ল্যাংগুয়েজ’ পরিবর্তন বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক অবস্থান প্রতিফলিত হয় সীমান্তে
কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দিন মনে করেন, রাষ্ট্র যেভাবে নির্দেশনা দেবে নিরাপত্তা বাহিনী ওইভাবেই কাজ করবে।
“বিজিবি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাহিনী। রাজনৈতিক অবস্থান ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা কাজ করে। তাই সরকারের অবস্থানই সীমান্তে বিজিবির বডি ল্যাংগুয়েজ বা কার্যক্রমের পরিধি ঠিক করে দেয়”, যোগ করেন কর্নেল শরীফ।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ মনে করেন সরকারে রাজনৈতিক নীতি পরিবর্তন হলে তার প্রভাব বাহিনীতে পড়বেই।
“আমরা নিকট অতীতে সীমান্তে বিজিবির এই শক্ত অবস্থান দেখিনি। আগের সরকারের সময়ে তাদের ওপর যেমন নির্দেশনা ছিলো তারা সেভাবেই কাজ করেছেন”, বলেন মেজর নাসির।
এই দুই নিরাপত্তা বিশ্লেষকই মনে করেন, সীমান্ত পরিস্থিতি ঠিক রাখতে বিজিবি কতোটা কঠোর ভূমিকা রাখতে পারবে তা নির্ভর করে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ওপর।
মেজর (অব.) নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, “আমরা আগে বিজিবিকে মাইকিং করে সতর্ক করা, অনুমোদনহীন কাঁটাতারের বেড়া তৈরি বন্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া বা সীমান্তে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেখিনি। যেটা এখন দেখা যাচ্ছে।”
তবে বাংলাদেশের ভেতরে ‘আত্মরক্ষায় গুলি’র ঘটনা ভারতের ভেতরে ‘আত্মরক্ষায় গুলি’র ঘটনাকে বৈধতা দেয় কি-না এমন প্রশ্নে কর্নেল শরীফ বলেন, “এটা বরং একটা বার্তা যে অপরাধ দমনে আমরা বসে থাকবো না।”