লেবানন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হেজবুল্লাহর 

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ১০:০৬ এএম

লেবাননে নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ। একই সঙ্গে দেশটির দক্ষিণাঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার না করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

বৃহস্পতিবার হেজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাসেম যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন। সেই আলোচনায়ও হেজবুল্লাহ সরাসরি অংশ নেয়নি।

তিনি বলেন, “প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে”।

প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় লেবাননের সংঘাত বন্ধ করে তেহরানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। 

এর আগে ইরান জানিয়েছিল, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো শান্তি চুক্তির শর্ত হিসেবে লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রাখলে সরাসরি হস্তক্ষেপেরও ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।

এদিকে দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, ওই অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না এবং সামরিক অভিযানও বন্ধ হবে না। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর সময়ই মার্চে লেবাননে অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। 

অন্যদিকে ১৯৮২ সালে হেজবুল্লাহ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের এক কমান্ডার বলেছেন, অন্তত যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থানে ইসরায়েলি সেনাদের ফিরে যেতে হবে। 

লেবাননের পাশাপাশি গাজা, উত্তর ইসরায়েল ও কুয়েতেও চলতি সপ্তাহে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। যদিও এসব এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা।

বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পুরোপুরি যুদ্ধ বন্ধ না করলেও সংঘর্ষের মাত্রা আগের তুলনায় কমেছে। 

তার ভাষায়, যুদ্ধবিরতি মানে পুরোপুরি লড়াই থেমে যাওয়া নয়, বরং ‘অনেক কম মাত্রায় গোলাগুলি’ হওয়া। 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের হামলায় কুয়েতের একটি বিমানবন্দরে একজন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির কাছে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। 

যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের তেল রপ্তানি ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তবে লেবাননে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে।

এর মধ্যেই ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি খুব কাছাকাছি। তবে এখন পর্যন্ত কূটনৈতিক অগ্রগতির স্পষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেইনি বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষরা পরাজিত হয়ে এখন দেশটির অভ্যন্তরে বিভক্তি তৈরির চেষ্টা করছে।

জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা জানায়, তিন মাসের যুদ্ধ সত্ত্বেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।