তিন দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি রাশিয়া–ইউক্রেন, ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প 

আপডেট : ০৯ মে ২০২৬, ০১:৪০ পিএম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে তিন দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত আসে তখন, যখন দুই দেশই একে অপরকে আলাদা আলাদা যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ করছিল। বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এসব যুদ্ধবিরতি মূলত সোভিয়েত ইউনিয়নের নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে বিজয় দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে ঘোষণা করা হয়েছিল।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতির সময় সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং দুই দেশ ১ হাজার জন করে যুদ্ধবন্দিকে মুক্তি দেবে।

ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন এই প্রস্তাবে অংশ নেবে। একই সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও জানায়, মস্কো এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

এর আগে উভয় পক্ষই দাবি করে যে অন্য পক্ষ তাদের অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। এমনকি মস্কোর মেয়র জানান, রাতে শহরটি ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে।

ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই তিন দিনের যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছিলেন এবং পুতিন ও জেলেনস্কির সম্মতিকে তিনি স্বাগত জানান।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগে থেকেই ৮ই মে থেকে ৯ই মে বিজয় দিবস উপলক্ষে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন। অন্যদিকে কিয়েভ ৬ই মে থেকে অনির্দিষ্টকালীন যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায়।

রাশিয়া সতর্ক করে বলেছে, বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে হামলা হলে কিয়েভের কেন্দ্রস্থলে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে। পাশাপাশি বিদেশি কূটনীতিকদের ৯ই মে-এর আগে ইউক্রেনের রাজধানী ছাড়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এবারের বিজয় দিবস কুচকাওয়াজে প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো কোনো সামরিক সরঞ্জাম থাকবে না। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে, কারণ ইউক্রেন অনুষ্ঠানটি বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের বাসিন্দাদের মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপের কথাও জানানো হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার উভয় পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ করে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেন, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী কুর্স্ক ও বেলগোরোদ অঞ্চলে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে রুশ বাহিনীও পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে বলে জানানো হয়।

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, যুদ্ধবিরতির প্রথম দুই ঘণ্টার মধ্যেই শহরের কাছে প্রায় ২০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের হামলায় পার্ম, ইয়ারোস্লাভল, রোস্তভ এবং চেচেন রাজধানী গ্রোজনির বিভিন্ন শিল্প এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

ড্রোন হামলার পর দক্ষিণ রাশিয়ার ১৩টি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেনীয় অবস্থানে ১৪০টিরও বেশি হামলা এবং ৮৫০টিরও বেশি ড্রোন আক্রমণ হয়েছে। তিনি বলেন, এসব ঘটনার জবাবে ইউক্রেনও “উপযুক্ত ব্যবস্থা” নেবে।

অন্যদিকে ইউক্রেন দাবি করেছে, রাশিয়া ৬ই মে থেকে শুরু করার তাদের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করেছে।

এদিকে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভবিষ্যতে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে আলোচনার সম্ভাবনা দেখছে। তিনি জানান, ইইউ’র ২৭টি দেশের নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং সঠিক সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপ ভৌগোলিকভাবে রাশিয়ার প্রতিবেশী, তাই ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে ভবিষ্যতে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো রাশিয়া–ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। তবে তারা সতর্ক করেছে, অগ্রগতি না হলে সময় নষ্ট করা হবে না।

জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা কিয়েভ সফর করবেন।