যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো বৈরুতে ইসরায়েলের হামলা

আপডেট : ০৭ মে ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

লেবাননের সশস্ত্র বাহিনি হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বৈরুতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে চুক্তির ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে, যা সংঘাত থামাতে ব্যর্থ হয়েছে।

বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর দাহিয়েহ এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়। ওই এলাকায় হিজবুল্লাহর ঘাঁটি আছে। অনলাইনে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে বড় আগুনের শিখা এবং অন্তত একটি ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই হামলার অনুমোদন দিয়েছেন। তার মতে, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর রাদওয়ান ফোর্সের এক কমান্ডার।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৮টার দিকে (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা) হামলার সময় ইউনিটটির সদস্যরা বৈঠকে ছিলেন। এ ঘটনায় এখনো হিজবুল্লাহর কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।।

গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর দাহিয়েহ এলাকায় এটিই প্রথম হামলা।

চুক্তি সত্ত্বেও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইসরায়েলের বেশিরভাগ বিমান হামলা হয়েছে দক্ষিণ লেবাননে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি যে তারা ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া ও রাজনৈতিক দল হিজবুল্লাহর সাথে যুক্ত অবকাঠামো এবং লোকজনের ওপর হামলা চালাচ্ছে। 

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহেই দেশজুড়ে এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ ১২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে মন্ত্রণালয় যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিকদের আলাদা করে উল্লেখ করেনি।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সীমান্ত বরাবর লেবাননের একটি ভূখণ্ডও দখল করে রেখেছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের জনপদগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে তারা হিজবুল্লাহমুক্ত একটি নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরি করতে চায়।

এসব এলাকায় পুরো গ্রাম ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, যা গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের সঙ্গে মিল রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, কিছু ঘটনা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে।

অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ লেবানন এবং উত্তর ইসরায়েলে, ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ লেবাননে একটি খননযন্ত্র পরিচালনার সময় ড্রোন হামলায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক ঠিকাদার নিহত হন।

যুদ্ধবিরতি আলোচনায় সরাসরি অংশ না নেওয়া হিজবুল্লাহ শুরুতে ইঙ্গিত দিয়েছিল, ইসরায়েল চুক্তি মেনে চললে তারাও তা মানবে।

একসময় প্রাণচঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা দাহিয়েহ যুদ্ধবিরতির পর থেকে অনেকটাই ফাঁকা পড়ে আছে। বাসিন্দাদের ভাষ্য, ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় তারা ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।

নেতানিয়াহু বলেন, যাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, তিনি ইসরায়েলি জনপদ ও সেনাদের ওপর হামলার জন্য দায়ী ছিলেন। 

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “কোনো সন্ত্রাসীই নিরাপদ নয়, ইসরায়েলের লম্বা হাত প্রতিটি শত্রু ও হত্যাকারীর কাছ পর্যন্ত পৌঁছবে।”

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, তবে তা মূলত রাষ্ট্রদূত পর্যায়েই সীমাবদ্ধ। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন শিগগিরই নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের ১৬ সেনা ও একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া উত্তর ইসরায়েলে নিহত হয়েছেন আরও দুই বেসামরিক ব্যক্তি।