সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা, মিডিয়া উদ্যোক্তা ও জনহিতৈষী টেড টার্নার ৮৭ বছর বয়সে মারা গেছেন। বুধবার টার্নার এন্টারপ্রাইজেসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে সিএনএন তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
২০১৮ সালে টার্নার প্রকাশ করেছিলেন যে তিনি অবক্ষয়জনিত স্নায়ুর রোগ লিউই বডি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত।
টেড টার্নার যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম জগতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বাবার বিলবোর্ড ব্যবসা থেকে যাত্রা শুরু করে তিনি ১৯৭০-এর দশকে একটি টেলিভিশন স্টেশন কিনে তা থেকে গড়ে তোলেন বিশাল মিডিয়া সাম্রাজ্য। ১৯৮০ সালে তিনি চালু করেন বিশ্বের প্রথম ২৪ ঘণ্টার কেবল সংবাদ চ্যানেল সিএনএন, যা পরে বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমে নতুন যুগের সূচনা করে।
১৯৩৮ সালের নভেম্বরে ওহাইওর সিনসিনাটিতে টেড টার্নারের জন্ম। তার নাম তৃতীয় রবার্ট এডওয়ার্ড টার্নার। পরে তিনি টেড টার্নার হিসেবে পরিচিতি পান। ব্যবসা, ক্রীড়া, নৌযান প্রতিযোগিতা ও পরিবেশবাদী কর্মকাণ্ডের জন্যও পরিচিতি ছিলেন তিনি। অভিনেত্রী জেন ফন্ডার সঙ্গে তার বিয়েও দীর্ঘদিন আলোচনায় ছিল।
তিনি বিশাল এক গণমাধ্যম সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৯০-৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে সিএনএন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীতে টার্নারের নেটওয়ার্কে টিবিএস, টিএনটি, কার্টুন নেটওয়ার্ক ও টার্নার ক্লাসিক মুভিজও যুক্ত হয়।
এর পাশাপাশি ‘আটলান্টা ব্রেভস’-এর মতো পেশাদার স্পোর্টস দলেরও মালিক ছিলেন তিনি।
১৯৯৬ সালে তিনি টার্নার ব্রডকাস্টিং সিস্টেমকে টাইম ওয়ার্নারের সঙ্গে একীভূত করেন। তবে কর্পোরেট কাঠামোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে ধীরে ধীরে নিজের নেটওয়ার্কগুলোর নিয়ন্ত্রণ হারান।
সিএনএন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের সিইও মার্ক থম্পসন এক বিবৃতিতে বলেন, “টেড ছিলেন নির্ভীক, দূরদর্শী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা। সিএনএন-এর চালিকাশক্তি ছিলেন তিনি, এবং তার প্রভাব চিরকাল অনুভূত হবে।”



