প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩২ পিএমআপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু আছে।
সঞ্চয় বা বিনিয়োগের জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হলো সঞ্চয়পত্র। এই স্কিমে মূলত সরকারকে ঋণ দেয় বিনিয়োগকারীরা। নির্দিষ্ট সময় পরপর পাওয়া যায় মুনাফা। সরকারি বিনিয়োগ স্কিম হওয়ায় অনেকেই একে নিরাপদ ভাবে।
নির্দিষ্ট মেয়াদের বিভিন্ন মূল্যের সঞ্চয়পত্র পাওয়া যায়। সবগুলোর মেয়াদ, মুনাফার হার কিংবা বিনিয়োগের অন্যান্য শর্ত এক নয়। তবে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রেই প্রতি বছর শেষে মুনাফার হারও বাড়তে থাকে। কিন্তু সাড়ে সাত লাখ টাকার উপরে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব সঞ্চয়পত্রেই মুনাফার হার সামান্য কমে যায়।
বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তর এই বিনিয়োগ স্কিমটি পরিচালনা করে।
বিনিয়োগকারীর বয়স, পেশা ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র কিনতে পাওয়া যায়। ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্র কেনা ও নগদায়নের জন্য পাঁচ ধরনের প্রতিষ্ঠান আছে। জেলা সঞ্চয় অফিস, জাতীয় সঞ্চয় বিশেষ ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা, বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং এমনকি ডাকঘর থেকেও সঞ্চয়পত্র কেনা যায়।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু আছে। এগুলো হলো পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র এবং পরিবার সঞ্চয়পত্র।
পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র
এটি সবচেয়ে প্রচলিত সঞ্চয়পত্র। সব শ্রেণি ও পেশার বাংলাদেশি নাগরিক এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবে। ১০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র কিনতে পাওয়া যায়। একজন বিনিয়োগকারী একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা এবং যৌথভাবে ৬০ লাখ টাকার পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবে। কোনো প্রতিষ্ঠান বা ফার্মের ক্ষেত্রে ক্রয়সীমা আরও বেশি।
নাম শুনেই বোঝা যায়, এই সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ ৫ বছর। প্রতি বছরই মুনাফার হার একটু একটু করে বাড়তে থাকে। প্রথম বছর শেষে সাড়ে সাত লাখ টাকার নিচে এই সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার ৯.৭৪ শতাংশ, ৫ বছর শেষে যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১.৮৩ শতাংশে।
তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই টাকা তুলে নেওয়ার সুযোগ আছে। সেক্ষেত্রে কত বছর পর সঞ্চয়পত্র ভাঙ্গানো হচ্ছে, সেসময়ের নির্ধারিত হারে মুনাফা পাওয়া যাবে।
তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র
এই সঞ্চয়পত্রে ৩ মাস পরপর মুনাফা তুলে নেওয়া যায়। ৩ বছর মেয়াদী এই সঞ্চয়পত্রের মূল্য ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা। প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিক একক বা যৌথ নামে এ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ এবং যৌথ নামে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা যায়।
৩ বছর শেষে এই সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগ করলে মুনাফার হার দাঁড়ায় ১১.৮২ শতাংশ। আর সাড়ে সাত লাখ টাকার উপর বিনিয়োগ করলে, মুনাফার হার হয় ১১.৭৭ শতাংশ।
পেনশনার সঞ্চয়পত্র
এই সঞ্চয়পত্র সবার জন্য না। অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীরা এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন। মূলত সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এই সঞ্চয়পত্র। এছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং মৃত চাকরিজীবীর পেনশন সুবিধাভোগী এ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন।
এর মেয়াদ ৫ বছর। ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা মূল্যের পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনতে পাওয়া যায়। একজন বিনিয়োগকারী গ্র্যাচুইটি ও ভবিষ্য তহবিলের চূড়ান্ত অর্থ মিলিয়ে একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকার পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন। এ সঞ্চয়পত্র যৌথ নামে কেনার সুযোগ নেই।
মেয়াদ শেষে এই সঞ্চয়পত্রে সবচেয়ে বেশি হারে মুনাফা পাওয়া যায়। সাড়ে সাত লাখ টাকার নিচে মুনাফার হার ১১.৯৮ শতাংশ এবং এর উপরে ১১.৮০ শতাংশ।
পরিবার সঞ্চয়পত্র
পরিবার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীর বয়স ও পরিচয়ের নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যেকোনো বাংলাদেশি নারী এ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। বিনিয়োগকারী প্রতিবন্ধী হলে বয়সের বাধা নেই। পুরুষদের এই সঞ্চয়পত্র কিনতে হলে ৬৫ বছরে পা দিতে হবে।
পরিবার সঞ্চয়পত্রের দাম ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ৫ বছর মেয়াদী এই সঞ্চয়পত্রে একক নামে সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা যায়। এ সঞ্চয়পত্রেও যৌথ নামে বিনিয়োগের সুযোগ নেই। বিনিয়োগকারীরা প্রতি মাসে মুনাফা তোলার সুযোগ পান।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রের পর পরিবার সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ হারে মুনাফা পাওয়া যায়। সাড়ে সাত লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগ করলে এখানে মেয়াদ শেষে ১১.৯৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাওয়া যায়, আর এর বেশি বিনিয়োগ করলে মুনাফার হার পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মতোই থাকে।
একাধিক সঞ্চয়পত্র কিনলে বিনিয়োগসীমা
পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র এবং পরিবার সঞ্চয়পত্রে একসঙ্গে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত সীমা রয়েছে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই ৩ ধরনের সঞ্চয়পত্র মিলিয়ে একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ এবং যৌথ নামে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা বিনিয়োগ করা যায়।
সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে উৎসে কর
সঞ্চয়পত্র থেকে পাওয়া মুনাফার ওপর উৎসে কর কাটা হয়। তবে বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী করের হার আলাদা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পেনশনার ছাড়া সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মোট পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হবে। মোট বিনিয়োগ ৫ লাখ টাকার বেশি হলে মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য হবে।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট বিনিয়োগে মুনাফার ওপর কোনো উৎসে কর কাটা হয় না। এ সীমা অতিক্রম করলে মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর দিতে হয়।
জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রের বিস্তারিত সব তথ্য দেওয়া আছে।
মানি ম্যাটার্স
জেনে নিন সঞ্চয়পত্রের আদ্যোপান্ত
সঞ্চয় বা বিনিয়োগের জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হলো সঞ্চয়পত্র। এই স্কিমে মূলত সরকারকে ঋণ দেয় বিনিয়োগকারীরা। নির্দিষ্ট সময় পরপর পাওয়া যায় মুনাফা। সরকারি বিনিয়োগ স্কিম হওয়ায় অনেকেই একে নিরাপদ ভাবে।
নির্দিষ্ট মেয়াদের বিভিন্ন মূল্যের সঞ্চয়পত্র পাওয়া যায়। সবগুলোর মেয়াদ, মুনাফার হার কিংবা বিনিয়োগের অন্যান্য শর্ত এক নয়। তবে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রেই প্রতি বছর শেষে মুনাফার হারও বাড়তে থাকে। কিন্তু সাড়ে সাত লাখ টাকার উপরে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব সঞ্চয়পত্রেই মুনাফার হার সামান্য কমে যায়।
বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তর এই বিনিয়োগ স্কিমটি পরিচালনা করে।
বিনিয়োগকারীর বয়স, পেশা ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র কিনতে পাওয়া যায়। ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্র কেনা ও নগদায়নের জন্য পাঁচ ধরনের প্রতিষ্ঠান আছে। জেলা সঞ্চয় অফিস, জাতীয় সঞ্চয় বিশেষ ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা, বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং এমনকি ডাকঘর থেকেও সঞ্চয়পত্র কেনা যায়।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু আছে। এগুলো হলো পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র এবং পরিবার সঞ্চয়পত্র।
পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র
এটি সবচেয়ে প্রচলিত সঞ্চয়পত্র। সব শ্রেণি ও পেশার বাংলাদেশি নাগরিক এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবে। ১০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র কিনতে পাওয়া যায়। একজন বিনিয়োগকারী একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা এবং যৌথভাবে ৬০ লাখ টাকার পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবে। কোনো প্রতিষ্ঠান বা ফার্মের ক্ষেত্রে ক্রয়সীমা আরও বেশি।
নাম শুনেই বোঝা যায়, এই সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ ৫ বছর। প্রতি বছরই মুনাফার হার একটু একটু করে বাড়তে থাকে। প্রথম বছর শেষে সাড়ে সাত লাখ টাকার নিচে এই সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার ৯.৭৪ শতাংশ, ৫ বছর শেষে যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১.৮৩ শতাংশে।
তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই টাকা তুলে নেওয়ার সুযোগ আছে। সেক্ষেত্রে কত বছর পর সঞ্চয়পত্র ভাঙ্গানো হচ্ছে, সেসময়ের নির্ধারিত হারে মুনাফা পাওয়া যাবে।
তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র
এই সঞ্চয়পত্রে ৩ মাস পরপর মুনাফা তুলে নেওয়া যায়। ৩ বছর মেয়াদী এই সঞ্চয়পত্রের মূল্য ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা। প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিক একক বা যৌথ নামে এ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ এবং যৌথ নামে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা যায়।
৩ বছর শেষে এই সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগ করলে মুনাফার হার দাঁড়ায় ১১.৮২ শতাংশ। আর সাড়ে সাত লাখ টাকার উপর বিনিয়োগ করলে, মুনাফার হার হয় ১১.৭৭ শতাংশ।
পেনশনার সঞ্চয়পত্র
এই সঞ্চয়পত্র সবার জন্য না। অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীরা এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন। মূলত সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এই সঞ্চয়পত্র। এছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং মৃত চাকরিজীবীর পেনশন সুবিধাভোগী এ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন।
এর মেয়াদ ৫ বছর। ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা মূল্যের পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনতে পাওয়া যায়। একজন বিনিয়োগকারী গ্র্যাচুইটি ও ভবিষ্য তহবিলের চূড়ান্ত অর্থ মিলিয়ে একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকার পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন। এ সঞ্চয়পত্র যৌথ নামে কেনার সুযোগ নেই।
মেয়াদ শেষে এই সঞ্চয়পত্রে সবচেয়ে বেশি হারে মুনাফা পাওয়া যায়। সাড়ে সাত লাখ টাকার নিচে মুনাফার হার ১১.৯৮ শতাংশ এবং এর উপরে ১১.৮০ শতাংশ।
পরিবার সঞ্চয়পত্র
পরিবার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীর বয়স ও পরিচয়ের নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যেকোনো বাংলাদেশি নারী এ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। বিনিয়োগকারী প্রতিবন্ধী হলে বয়সের বাধা নেই। পুরুষদের এই সঞ্চয়পত্র কিনতে হলে ৬৫ বছরে পা দিতে হবে।
পরিবার সঞ্চয়পত্রের দাম ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ৫ বছর মেয়াদী এই সঞ্চয়পত্রে একক নামে সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা যায়। এ সঞ্চয়পত্রেও যৌথ নামে বিনিয়োগের সুযোগ নেই। বিনিয়োগকারীরা প্রতি মাসে মুনাফা তোলার সুযোগ পান।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রের পর পরিবার সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ হারে মুনাফা পাওয়া যায়। সাড়ে সাত লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগ করলে এখানে মেয়াদ শেষে ১১.৯৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাওয়া যায়, আর এর বেশি বিনিয়োগ করলে মুনাফার হার পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মতোই থাকে।
একাধিক সঞ্চয়পত্র কিনলে বিনিয়োগসীমা
পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র এবং পরিবার সঞ্চয়পত্রে একসঙ্গে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত সীমা রয়েছে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই ৩ ধরনের সঞ্চয়পত্র মিলিয়ে একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ এবং যৌথ নামে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা বিনিয়োগ করা যায়।
সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে উৎসে কর
সঞ্চয়পত্র থেকে পাওয়া মুনাফার ওপর উৎসে কর কাটা হয়। তবে বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী করের হার আলাদা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পেনশনার ছাড়া সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মোট পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হবে। মোট বিনিয়োগ ৫ লাখ টাকার বেশি হলে মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য হবে।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট বিনিয়োগে মুনাফার ওপর কোনো উৎসে কর কাটা হয় না। এ সীমা অতিক্রম করলে মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর দিতে হয়।
জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রের বিস্তারিত সব তথ্য দেওয়া আছে।