পার্থ-হাসনাত মুখোমুখি হওয়ায় জুলাই নিয়ে যেসব প্রশ্ন সামনে আসছে

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংসদ অধিবেশনে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়া জরুরি। কৃতিত্ব নিয়ে মুখোমুখি এমন অবস্থান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি করবে।

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধানের অবস্থান, গণভোটের বৈধতা এবং জুলাই অভ্যুত্থানে কার অবদান কতটুকু এই চার ইস্যুকে ঘিরে জাতীয় সংসদে বাকবিতণ্ডায় জড়ালেন সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ ও হাসনাত আব্দুল্লাহ।

পার্থের বক্তব্যের জবাবে প্রতিক্রিয়া জানান হাসনাত। দুজনের এই বাহাসের ভিডিও ঝড় তুলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংসদ অধিবেশনে আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়া জরুরি। কৃতিত্ব নিয়ে মুখোমুখি এমন অবস্থান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি করবে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) নেতা আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, তাদের আপত্তি জুলাই সনদের বিরুদ্ধে নয়, আপত্তি সেটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে।

তার ভাষায়, “উই হ্যাভ নো প্রবলেম ইন জুলাই সনদ। আমাদের প্রবলেম প্রক্রিয়া নিয়ে।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি সত্যিই একটি বিপ্লবী মুহূর্ত তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে তখন কেন একটি ‘ট্রানজিশনাল রেভল্যুশনারি গভর্নমেন্ট’ গঠন করা হলো না, কেন পুরোনো সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই থেকে নতুন পথের কথা বলা হচ্ছে।

জবাবে হাসনাত আব্দুল্লাহও জানায়, সংবিধানের সুবিধাজনক অংশ রাখতে চান পার্থরা। যেটা বিপক্ষে শুধু সেটাই বাদ দিতে চান। তাদের ‘অপরচুনিস্ট’ বলে আখ্যা দেন এনসিপির এই নেতা। 

সনদে নয়, আপত্তি ‘প্রক্রিয়া’ নিয়ে

আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, তাদের শুরু থেকেই ‘জুলাইয়ের বিরুদ্ধে’ ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

তার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেমন যে কোনো সমালোচনাকে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধিতা হিসেবে দেখানো হতো, এখন ঠিক তেমনভাবেই যে কেউ প্রক্রিয়াগত প্রশ্ন তুললেই তাকে জুলাইয়ের বিরোধী হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের কথা মনে পড়ে যায় যে, আমরা যদি কোন কথা বলতাম, যুদ্ধপরাধের বিচার চায় না।  আমরা বলতাম তেলের দাম কত, যুদ্ধপরাধের বিচার চায় না। আমি অনেকখানি ওই অ্যাটিচউডটা দেখতে পাচ্ছি।”

পার্থ বলেন, তাদের আপত্তি সনদের বিষয়বস্তুতে নয়; বরং কীভাবে, কোন সাংবিধানিক ভিত্তিতে, কোন বৈধ কাঠামোর মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা হবে, সেই জায়গায়।

পার্থর ভাষায়, “সংবিধানকেও রাখতে হবে, জুলাইয়ের স্পিরিটকেও সম্মান করতে হবে। এই ব্যালেন্স আমাদের করতে হবে।”

তিনি বলেন, তারা বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চান। তার মতে, সংবিধানকে পুরোপুরি ছুড়ে ফেলে দেওয়ার বদলে এর ভেতরে থেকেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের পথ খুঁজতে হবে।

জুলাই সনদের পক্ষে বিএনপির অবস্থান ‘স্ট্র্যাটেজিক’ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভ কিবরিয়া।

তিনি বলেন, জুলাই সনদে তারা সম্মতি দিয়েছে, এবং অনেক জায়গায় নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে।

“বিএনপি চায় সবকিছু সংসদে নিয়ে যেতে কারণ সংসদে নিয়ে যাওয়া মানে সে যা চাবে সেটাই হবে। কারণ তার মেজরিটি আছে।”

‘বিপ্লবী সরকার’ করা হলো না কেন

আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্যের তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল বিপ্লবী সরকার। তিনি বলেন, যারা এখন জুলাই-পরবর্তী রাষ্ট্রপরিবর্তনের কথা বলছেন, তারা তখন কেন ‘রেভল্যুশনারি গভর্নমেন্ট’ গঠন করেননি। যদি সত্যিই পুরোনো সাংবিধানিক কাঠামো বাতিল করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে তখনই নতুন সংবিধান প্রণয়ন, পুরোনো কাঠামো বাতিল এবং সম্পূর্ণ নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের পথে যাওয়া যেত।

তার মতে, বাস্তবে যা হয়েছে তা হলো, পুরোনো সংবিধানের ভেতরে দাঁড়িয়ে আবার সেই সংবিধানের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা।

তিনি এটিকে “ইউনিক” এবং একই সঙ্গে সাংবিধানিকভাবে জটিল পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেন।

আন্দালিব রহমান পার্থ

তার ভাষায়, একদিকে ‘ডকট্রিন অব নেসেসিটি’ ব্যবহার করে সংবিধানকে আংশিক মানা হয়েছে, অন্যদিকে আবার সেই সংবিধানকেই অগ্রাহ্য করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

পার্থ প্রশ্ন করেন,  “আপনারা সেই সময় রেভল্যুশনারি গভর্নমেন্ট করেন নাই কেন? নরমাল গভর্নমেন্টে গেলেন কেন?”

এই প্রশ্নের মধ্য দিয়েই তিনি আসলে বর্তমান প্রক্রিয়ার রাজনৈতিক ও আইনি ভিত্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।

গণভোটের চার প্রশ্ন নিয়ে আপত্তি

গণভোটের কাঠামো নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন আন্দালিব রহমান পার্থ। তার অভিযোগ, ব্যালটে চারটি প্রস্তাব একসঙ্গে এমনভাবে রাখা হয়েছে, যেখানে একজন ভোটার একটি বিষয়ে সম্মত না হলেও আলাদা করে আপত্তি জানানোর সুযোগ পাননি। তার মতে, এতে জনগণকে এক ধরনের বাধ্যতামূলক সম্মতির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি এত বড় সাংবিধানিক পরিবর্তনের কথা বলা হয়, তাহলে কেবল চারটি বিষয় নিয়ে জনগণের রায় নেওয়া হলো কেন? বাকি প্রস্তাবগুলোর অবস্থান কী? তিনি বলেন, এর ফলে নিজেরাই স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে যে আদেশের বা প্যাকেজের সবকিছুতে গণসমর্থন নেওয়া হয়নি।

পার্থর ভাষায়, যদি সত্যিই সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সব পরিবর্তন আনার কথা হতো, তাহলে সেটিও স্পষ্টভাবে গণভোটে থাকা উচিত ছিল।

তিনি বলেন, এখানেই একটি সাংবিধানিক ফাঁক রয়ে গেছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী মনে করেন গণভোট নিয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট নয়।

তিনি বলেন, “বিএনপি বলতো, আমরা গণভোট মেনে নিয়েছে। এখন বলছে নির্বাচন করার জন্য ছিল সেটা। এটা তো খেলার জিনিস না। আর এটা যদি অবৈধ হয়। তাহলে আপনার সরকার অবৈধ, এই পার্লামেন্ট অবৈধ।”

“আমি পলিটিকাল সায়েন্সের আন্ডারস্ট্যান্ডিং থেকে এটা বলছি। পুরা জিনিসটা অবৈধ।”

‘আমরাও জুলাইয়ের যোদ্ধা’

আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, এখন এমন একটা পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে যেন বিরোধী বেঞ্চে বসা লোকজনের জুলাইয়ে কোনো অবদানই ছিল না। অথচ এখানে যারা আছেন, তাদের কেউ জেল খেটেছেন, কেউ নির্বাসনে থেকেছেন, কেউ দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে ছিলেন।

তিনি বলেন, “আমরা সবাই জুলাই যোদ্ধা।”

তার মতে, ছাত্রদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক রং না দেওয়ার কৌশলগত সিদ্ধান্তকে এখন ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলনকে ছাত্র-জনতার জায়গায় থাকতে দেওয়া, দলীয় প্রতিযোগিতার মধ্যে টেনে না আনা।

এই অংশে তিনি একটি ক্রিকেটীয় উপমাও ব্যবহার করেন। বলেন, “আপনারা ছয় বলে ১২ রান করেছেন, কিন্তু এর আগের ৩০০ রান আমরা সবাই মিলে করেছি।”

“এই রেভলিউশনকে আমরা শ্রদ্ধা করি। ১৭ বছর আমরা কষ্ট করেছি, এখানে আমার ভাইয়েরা অনেক বেশি কষ্ট করেছে। আমরা জেলে গিয়েছি, আন্দোলনে ছিলাম, ২০ দলে ছিলাম, চার দলেছি ছিলাম অনেক আগে থেকে।”

হাসনাত আবদুল্লাহ

জুলাইয়ের কৃতিত্ব নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানকে দুঃখজনক মন্তব্য করেছেন দিলারা চৌধুরী।

তিনি বলেন, এই বিতর্ক কেন আসবে? মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও তো বিতর্ক হয়েছে। স্বাধীনতা বিরোধী স্বাধীনতার পক্ষে। এটা নিয়েতো তর্কের কিছু নাই।

সংসদে যে বিতর্কটা হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এখন বাংলাদশ আছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপট, জ্বালানি সবকিছু কিন্তু সেটা নিয়ে আলাপ জরুরি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভ কিবরিয়া বলেন, রাজনৈতিক দুটা পক্ষ এখন সুস্পষ্ট। একপক্ষের এজেন্ডা হচ্ছে জুলাইকে আপহোল্ড করা, আরেকজনের এজেন্ডা হচ্ছে নির্বাচনি যে ইশতেহার ছিল সেটা বাস্তবায়ন করা।

আলাপকে  তিনি বলেন, “একদল গণভোটে রায় পেয়েছে। আরেকদম টুথার্ড মেজরিটি পেয়েছে। ফলে একটা জটিল অবস্থা হয়েছে।”

শুভ কিবরিয়া মনে করেন, বিএনপি যদি টুথার্ড মেজরিটি না পেত তাহলে এ সংকট হতো না। 

সংবিধান ‘ছুড়ে ফেলার’ ভাষার বিরুদ্ধে পার্থ

পার্থ  প্রশ্ন তোলেন, কেন বারবার এমন ভাষা ব্যবহার করা হবে যাতে মনে হয় সংবিধানকে ‘ছুড়ে ফেলে’ দিতে হবে। 

তার মতে, সংবিধানে সমস্যাজনক ধারা থাকলে সেগুলো পরিবর্তন করা যেতে পারে, কিন্তু পুরো সংবিধানকে বাতিল করে দেওয়ার ভাষা রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক।

পার্থ বলেন, “আমি সংবিধান কেন ছুঁড়ে ফেলে দিব সংবিধান কি মনে করায়ে দেয় যেটা ৭১ এর পরাজয়ের দলিল। আমি সংবিধান কেন ছুড়ে ফেলে দিব। এই সংবিধান দিলে গাত্রদাহ কেন হবে। এত গায়ে লাগবে কেন।”

তিনি বলেন, সংবিধানের প্রাসঙ্গিক ধারা বদলানো যেতে পারে, কিন্তু এটিকে একেবারে অস্বীকার করার রাজনীতি তিনি মানেন না।

কড়া জবাব হাসনাতের

পার্থের বক্তব্য শেষ হতেই প্রতিক্রিয়া জানান হাসনাত আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, পার্থ যখন সংবিধান ছুড়ে ফেলার কথাকে স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখালেন, তখন তিনি শুধু একটি রাজনৈতিক অবস্থান নেননি, বরং বিএনপির দীর্ঘদিনের বক্তব্যকেও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছেন।

তার দাবি, খালেদা জিয়াও একসময় বলেছিলেন জনতার সরকার এলে এই সংবিধানকে ছুড়ে ফেলা হবে।

হাসনাত বলেন, ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে যারা হাততালি দিয়েছেন, তারা আসলে নিজেদের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গেও সংঘর্ষে গেছেন। এখানেই সংসদ কক্ষ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পার্থের বক্তব্যকে তিনি “ক্লাস এইট-নাইনের ডিবেট” ধরনের বলে ব্যঙ্গও করেন। 

‘কখনো সাংবিধানিক, কখনো অসাংবিধানিক’

হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ ছিল, পার্থ এবং তার মতো রাজনীতিকেরা সংবিধানের প্রশ্নে সুবিধাবাদী অবস্থান নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, পার্থ নিজেই স্বীকার করেছেন সংবিধানের কিছু অংশ মানছেন, কিছু অংশ মানছেন না। তার মতে, এ ধরনের রাজনীতি আসলে “কখনো কনফরমিস্ট, কখনো রিফর্মিস্ট অর্থাৎ অপরচুনিস্ট।”

তিনি যুক্তি দেন, যদি বর্তমান সংবিধানকেই একমাত্র বৈধ কাঠামো হিসেবে মানা হয়, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন, অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ, এমনকি ৬ আগস্টের পর নেওয়া বহু সিদ্ধান্তই তখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, সেই বাস্তবতাকে তো কেউ অস্বীকার করতে পারেন না।

এই জায়গায় এসে হাসনাত মূলত বলতে চান, জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা এমন ছিল যেখানে জনরায় অনেক কিছু নির্ধারণ করেছে। সেই বাস্তবতায় পুরো ঘটনাকে পুরোনো সাংবিধানিক ব্যাখ্যায় মাপা যাবে না।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরীও মনে করেন সাংবিধানিক একটা সংকট তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, “ আন্দালিব যে বলেছেন ৭২ এর কনস্টিটিউশন। তাহলে নির্বাচন হওয়ার কথা ২৯-এ। সংবিধান যদি আপনি ধরে রাখেন, শেখ হাসিনাই তো প্রাইম মিনিস্টার। এগুলো কনস্টিটিউশনাল ক্রাইসিস তৈরি করে।”

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও জনরায়ের প্রশ্ন

আন্দালিব পার্থের জবাবে এক পর্যায়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ৬ আগস্ট ছাত্র-জনতার চাপে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হয়েছিল। যদি পুরোনো সংবিধানকেই ‘গসপেল’ বা বাইবেলের মতো ধরা হয়, তাহলে সেই মুক্তিও সম্ভব ছিল না। তার মতে, সেখানে কাজ করেছে অভ্যুত্থানের জনরায়।

এই যুক্তি টেনে তিনি বোঝাতে চান, জুলাই-পরবর্তী রাষ্ট্রিক সিদ্ধান্তগুলোকে কেবল কাগুজে সাংবিধানিক কাঠামো দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না।

বরং সেখানে জনতার রাজনৈতিক ইচ্ছা ও আন্দোলনের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ।

শুভ কিবরিয়াও অন্তবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বলতে চান না।

তিনি বলেন, “মনে রাখতে হবে যে, যে সরকার তৈরি হয়েছে, এ সরকার কোনো স্বাভাবিক অবস্থার সরকার না। যে প্রক্রিয়ায় মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হয়েছে, সেই প্রক্রিয়াটাও কিন্তু স্বাভাবিক না।”  

‘এক পাতা ওলটালেই পেয়ে যেতেন’

সংবিধান সংস্কার পরিষদের কথা আদেশে নেই, পার্থের এই অভিযোগও নাকচ করেন হাসনাত। তিনি বলেন, পার্থ যদি “একটা পাতা উলটাইতেন”, তাহলেই দেখতে পেতেন সেখানে পরিষদ গঠনের বিষয়টি উল্লেখ আছে। 

তার বক্তব্যে বিদ্রুপ যেমন ছিল, তেমনি একটি সরাসরি চ্যালেঞ্জও ছিল যে অভিযোগ করার আগে নথি ভালোভাবে পড়া হয়েছে কি না।

কী বার্তা দিচ্ছে ‘এই বাহাস’

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী মনে, গণঅভুত্থানের পরে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন তার জন্য সংবিধানে সংস্কার আনা, প্রয়োজন। তবে এই মুহূর্তে এটাকে খুব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু মনে করেন না তিনি। 

তিনি বলেন, “ইরানে যুদ্ধ হচ্ছে, বাংলাদেশ  নানা সমস্যার সম্মুখীণ। পার্লামেন্টে তো সে ধরনের কোনো আলোচনা নেই।”

আলাপকে তিনি বলেন, “সংসদে প্রাইম মিনিস্টার যখন প্রথম এড্রেস করে তখন সরকারের পাঁচ বছর রূপরেখা প্রণয়ন করে। এবং নেক্সট ১০০ দিনের মধ্যে তারা সেই রূপরেখা অনুযায়ী কাজ করে। আমি সেরকম কিছু দেখলাম না।”

অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী

বাংলাদেশে বহুজনের বহু মত উল্লেখ করে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই অধ্যাপক বলেন, “অভ্যুত্থানের পরে আমরা আশা করেছিলাম যে একটা সম্মিলিত প্রচেষ্টা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু সংসদের এই দৃশ্যে আমি হতাশ।”

সংসদে যে বিতর্কটা হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এখন বাংলাদশ আছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপট, জ্বালানি সবকিছু কিন্তু সেটা নিয়ে আলাপ জরুরি। 

আর শুভ কিবরিয়া মনে করেন বিএনপি যদি টুথার্ড মেজরিটি না পেত তাহলে এ সংকট হতো না। 

“এই ইগো যদি চলতে থাকে, রাজনৈতিক বিপর্যয়ের আরেকটা নমুনা হতে পারে,”- বলেন শুভ কিবরিয়া

তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে এই অবস্থা চলতে থাকলে আদালতে অনেক কিছু গড়াবে এবং একদিন আদালত পুরো সংসদকে বাতিল করতে পারবে।

শুভ কিবরিয়া বলেন, সেই বাতিল চুক্তিও আদালতের হাতে আছে। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে আইনি যুক্তি দেখান, ওরকম যুক্তি সরকার বাতিলের সময় এক দেখিয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার এস্টাবলিশমেন্টে একদল দেখিয়েছি। 

অতীতে যে রাজনৈতিক বিপর্যয় ঘটেছে তা ইগো থেকেই ঘটেছে মত দিয়ে শুভ কিবরিয়া বলেন, এটা সংসদের টুথার্ড মেজরিটির ডেঞ্জার। এটা বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের মধ্যে এটা আছে।

“ফলে রাজনীতিবিদ যারা আছেন তারা আরেকটা রাজনৈতিক ক্ষতির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন বলে আমাদের মনে হয়।”

সংবিধান ও সংস্কার নিয়ে ঐক্যমত প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঐকমত্য যদি না হয় তবে দুর্নীতির ব্যাপারে, বা জ্বালানির ব্যাপারে যে ঐক্যমত হবে তা আমার মনে হয় না। 

‘একটা জটিল অবস্থা সামনে অপেক্ষা করছে।’