হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ, বিদেশে অর্থ পাচারের মামলা, ব্যাংকের এমডিকে বন্দুক ঠেকিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ, সব মিলিয়ে বিতর্ক যেন তার ছায়াসঙ্গী।
তিনি ছিলেন দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়ী পরিবার সিকদার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
সোমবার সেই রন হক সিকদারের মৃত্যু হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের মেডিক্লিনিক পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।
একসময় রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যাংকিং ক্ষমতা আর করপোরেট দাপটে আলোচিত সিকদার পরিবারের সদস্যরা এখন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছেন বিদেশে।
আর তাদের পেছনে পড়ে আছে দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বোঝা।
গত মাসে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা গেছে, ১৩ ও ১৪তম তালিকায় রয়েছে সিকদার গ্রুপের মালিকানাধীন পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড ও পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড।
প্রয়াত জয়নুল হক সিকদারের দুই পুত্র রন হক সিকদার ও রিক হক সিকদার এই দুই প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় আছেন।
ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে নিঃসঙ্গ
সিকদার পরিবারের উত্থান মূলত ২০০৯ সালের পর। ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির ওপর প্রায় একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে পরিবারটি। জয়নুল হক সিকদার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বসানো, প্রভাব খাটিয়ে ঋণ অনুমোদন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিপুল অঙ্কের অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। কিন্তু ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জয়নুল হক সিকদারের মৃত্যুর পর থেকেই ভাঙতে শুরু করে ক্ষমতার সেই বলয়।
একে একে পরিবারটির সদস্যরা দেশ ছাড়েন। স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান যুক্তরাষ্ট্রে।
তার মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে মারা গেলেন পরিবারের সবচেয়ে আলোচিত সদস্য রন হক সিকদার।
যেভাবে আলোচনায় রন
রন হক সিকদারের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ২০২০ সালের এক অপহরণ মামলায়।
গুলশান থানায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ, রন হক সিকদার ওই বছরের ৭ই মে ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ গুলশানে এক্সিম ব্যাংকে গিয়ে তাদের প্রস্তাবিত ঋণের টাকার বিপরীতে ‘কোলেটারেল' বা বন্ধকি হিসেবে সিকদার গ্রুপের রূপগঞ্জ কাঞ্চন প্রস্তাবিত আদি নওয়াব আসকারী জুট মিলটি পরিদর্শনের জন্য নিয়ে যান এমডি হায়দার আলী ও অতিরিক্ত এমডি ফিরোজকে ৷
পরিদর্শনের পরে জায়গাটির বর্তমান বাজার দরের সঙ্গে গ্রাহকের বন্ধকী মূল্যের বিশাল ব্যবধান হওয়ায় এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও অতিরিক্ত এমডি দ্বিমত পোষণ করেন৷
এর জের ধরে ‘কৌশলে’ এক্সিম ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পূর্বাচলে নিয়ে ‘হত্যার উদ্দেশে গুলিবর্ষণ’ এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সেখান থেকে বনানী ১১ নম্বরে সিকদার হাউজে নিয়ে ‘হেনস্তা করা হয়’ বলে অভিযোগ করা হয় এজাহারে।
এজাহারে বলা হয়, জমির দাম কম বলায় রন ও তার আরেক ভাই দিপু হক সিকদার এক্সিম ব্যাংকের এএমডি ফিরোজকে ‘মারতে উদ্যত হলে’ মাফ চেয়ে প্রাণে বাঁচেন তারা।
রন ও দিপু এক্সিম ব্যাংকের এমডিকে প্রজেক্টের সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী আছে দাবি করে তাদের সাথে থাকা অস্ত্র তাক করে জোরপূর্বক একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা জিম্মি থাকার পর মুক্তি পান ব্যাংক কর্মকর্তারা। ঘটনাটি তখন দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে দেশ ত্যাগ
কোভিড লকডাউনের সময় যখন বিমান চলাচল বন্ধ ছিল, তখন ২০২০ সালের ২৫এ মে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ভাই দিপুকে নিয়ে ব্যাংককে চলে যান রন। তার ঠিক ছয়দিন আগে এক্সিম ব্যাংক দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা করে।
সে সময় দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়, রন ও দিপু ‘মুমূর্ষু রোগী’ হিসেবে দেশ ছাড়েন কোভিডের সেই সময়ে। এর আগে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটিকে ব্যাংককে অবতরণের অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ২৩এ মে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দেয় থাইল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাস৷
ওই দিনই অনুমোদন দেওয়া হলে ঢাকায় থাই দূতাবাসে একটি চিঠি দিয়ে দুই জনকে মেডিকেল ভিসা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়, বলে জানিয়েছিলো দ্য ডেইলি স্টার।
পরের দিন, ২৪এ মে তাদের ভিসা দেওয়া হয়৷ আর ২৫এ মে তারা দেশ ছেড়ে চলে যায় দুই ভাই।
জনতা ব্যাংকেই প্রায় ১২’শ কোটি টাকার ঋণ রন সিকদারের
রনের মালিকানাধীন জেডএইচ সিকদার শপিং কমপ্লেক্স নামে সাততলা ভবন নির্মাণের জন্য ২০১৫ সালে ঋণ দেয় সরকারি জনতা ব্যাংক।
ব্যাংকটি অভিযোগ, ভবন না করে রন সেই টাকা অন্যত্র সরিয়ে ফেলেন। গেল বছরের অক্টোবর মাসে ঢাকার একটি আদালত জনতা ব্যাংকের পাওনা ২২২ কোটি টাকা ফেরতের নির্দেশ দেয়।
সব মিলিয়ে শুধু জনতা ব্যাংকেই রন সিকদারের মোট ঋণ প্রায় এক হাজার ১৬৬ কোটি টাকা।
সিকদার গ্রুপ ও রনের যত ঋণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সিকদার গ্রুপের মোট ঋণ ছিল ৬ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রুপের ১৪ প্রতিষ্ঠানের ঋণ ছিল ৫ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা।
রনের ব্যক্তিগত ঋণ ছিল ৬৮১ কোটি টাকা এবং তার ভাই রিকের নামে ১৯৩ কোটি টাকা ঋণ।
সুদ ও অনাদায়ী কিস্তি মিলিয়ে এ ঋণের পরিমাণ এখন প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যার পুরোটাই খেলাপি।
সিকদার গ্রুপের সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিগুলোর জন্য। পাওয়ার প্যাক মতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্লান্টের নামে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২২১ কোটি টাকা।আর পাওয়ার প্যাক মতিয়ারা কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্লান্ট লিমিটেডের নামে ছিল ১ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা।
এছাড়া সিকদার রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের নামে ৬৯৫ কোটি টাকা এবং বিইএল কনস্ট্রাকশন এসডিএন বিএইচডি লিমিটেডের নামে ৫৬৯ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, এভিয়েশন ও শিক্ষা খাতেও ছিল তাদের বিস্তৃত ঋণ দায়।
সব মিলে সিকদার গ্রুপকে ঋণ দেওয়া ব্যাংকের সংখ্যা ১১টি।
ব্যাংকগুলো হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক , প্রিমিয়ার ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক ।
ক্রেডিট কার্ডেই বিদেশে কোটি টাকা পাচার
রন ও রিক, এই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদকের) আরেকটি আলোচিত অভিযোগ ছিল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার।
মামলায় অভিযোগ আনা হয়, দুই ভাই ন্যাশনাল ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বিদেশে ৭১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয় ও পাচার করেছেন।
ওই টাকা ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে থাইল্যান্ডে থাকা ২০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়, যা দিয়ে দুই ভাইয়ের ক্রেডিট কার্ডের ঋণ পরিশোধ করা হয়।
অন্তবর্তী সরকারের সময় গত বছরের অক্টোবরে দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, রন হক সিকদার ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে পাঁচবার বিদেশে গিয়ে ক্রেডিট কার্ডে ৬১ লাখ ৫২ হাজার ২২৫ ডলার খরচ করেন।
অথচ তার সর্বোচ্চ অনুমোদিত সীমা ছিল ৬০ হাজার ডলার; অর্থাৎ তিনি সীমার অতিরিক্ত ৬০ লাখ ৯২ হাজার ২২৫ ডলার (প্রায় ৫০ কোটি টাকা) খরচ করেন।
আর রিক হক সিকদার একই সময়ে পাঁচবার বিদেশ ভ্রমণে ক্রেডিট কার্ডে ২৬ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৯ ডলার খরচ করেন, যেখানে তার সীমা ছিল ৬০ হাজার ডলার। ফলে তিনি অতিরিক্ত ২৬ লাখ ২২ হাজার ৪৯৯ ডলার খরচ করেন এবং সেই অর্থ পাচার করে কার্ডের ঋণ পরিশোধ করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ক্রেডিট কার্ডে জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং জামানতসহ ২৫ লাখ টাকার সীমা থাকার কথা।
দুদকের তদন্তে আরও উঠে আসে, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে তাদের নামে ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হচ্ছিলো।
অর্থ উদ্ধারের চেষ্টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক
যে কয়টি শিল্পগোষ্ঠীর অর্থ পাচার নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক তার মধ্যে রয়েছে সিকদার গ্রুপও।
গত ১০ই মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ‘আপডেট অব সিভিল অ্যাসেট রিকভারি স্ট্যাটাস’ শীর্ষক সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এ নিয়ে নির্দেশনা দেন।
এখানে সিকদার গ্রুপের জন্য লিড ব্যাংক হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আইএফআইসি, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকে।
বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ বর্তমানে দুটি আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করছে ক্রিমিনাল প্রসিডিংস এবং সিভিল প্রসিডিংস।
ক্রিমিনাল প্রসিডিংস মূলত সরকার টু সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় অপরাধমূলক কার্যক্রমের তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, সিভিল প্রসিডিংসের ক্ষেত্রে বিদেশে ঋণের অর্থ পাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো সরাসরি উদ্যোগ নিচ্ছে। তারা আন্তর্জাতিক অ্যাসেট রিকভারি প্রতিষ্ঠান ও লিটিগেশন ফান্ডার নিয়োগের মাধ্যমে বিদেশি আদালতে মামলা করে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার চেষ্টা করছে।
বিদেশে ছড়িয়ে থাকা পরিবার, ভেঙে পড়া সাম্রাজ্য
একসময় যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, দুবাই ও ঢাকার মধ্যে চলাচল করা সিকদার পরিবারের জীবন এখন অনেকটাই পর্দার আড়ালে।
প্রয়াত জয়নুল হক সিকদার সপরিবারে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে থিতু হয়েছিলেন আশির দশকের শুরুতে। যদিও আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত ছিল তার।
জয়নুল হক সিকদার ও তার স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার উভয়েই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। পাশাপাশি এই দম্পতির আট সন্তানের প্রায় সবার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব রয়েছে। এই দম্পতির তিন মেয়ে নাসিম হক সিকদার, পারভীন হক সিকদার এবং ফাতেমা হক সিকদার।
এর মধ্যে কেবল পারভীন হক সিকদার বাংলাদেশে বসবাস করেছেন। তিনি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জাতীয় সংসদ সদস্যও ছিলেন।
বাকি দুই কন্যা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। জয়নুল হক সিকদারের পাঁচ ছেলের মধ্যে সবার বড় মমতাজুল হক সিকদার।
অন্য ছেলেরা হলেন নিক হক সিকদার, দিপু হক সিকদার, রিক হক সিকদার ও রন হক সিকদার। দেশের বাইরে অবস্থান করলেও এ দম্পতির সব সন্তানই সিকদার গ্রুপের পরিচালক।
পাশাপাশি জয়নুল হক সিকদারের নাতি-নাতনিদের মধ্যে মনিকা সিকদার, মেন্ডি সিকদার, জেফরি সিকদার, জোনাস সিকদার, শন হক সিকদার, জন হক সিকদারও শিল্প গ্রুপটির পরিচালক হিসেবে রয়েছেন।
ন্যাশনাল ব্যাংক যেটি একসময় দেশের প্রথম প্রজন্মের শক্তিশালী বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ছিল, এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে।
আর সেই পতনের কেন্দ্রীয় চরিত্রদের একজন রন হক সিকদার শেষ পর্যন্ত দেশের বাইরে বিদায় নিলেন ঋণ, মামলা আর বিতর্ক নিয়ে।